বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দ্বীপসমৃদ্ধ ১০টি দেশ

Aug 5, 2025

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য দ্বীপ প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময়। দ্বীপ বলতে আমরা সাধারণত সমুদ্রের মাঝে বিচ্ছিন্ন ভূমিখণ্ড বুঝি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দ্বীপ হতে পারে হিমবাহে ঘেরা, হ্রদের মাঝে ভাসমান কিংবা ফিয়র্ডে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট ভূখণ্ড। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্বীপের সংখ্যা নির্ধারণে ব্যবহৃত মানদণ্ড ভিন্ন হওয়ায় দ্বীপের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা সহজ নয়। কেউ ২৫ বর্গমিটারের ছোট দ্বীপকেও গণনায় রাখে, আবার কেউ ১০০ মিটার উপকূল রেখার নিচে দ্বীপ হিসেবে গণ্য করে না। কোন দেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দ্বীপ রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর এতটা সহজ নয়। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দ্বীপসমৃদ্ধ ১০টি দেশ নিয়ে আজকে আলোচনা করবো।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্যাটেলাইট ম্যাপিং প্রযুক্তির উন্নতির ফলে অনেক দেশ তাদের দ্বীপের সংখ্যা পুনঃগণনা করেছে। কিছু দেশ তাদের ভৌগোলিক গঠন এবং উপকূলরেখার জটিলতার কারণে হাজার হাজার দ্বীপের আবাসস্থল। ২০২৫ সালের সর্বশেষ তথ্য এবং উপগ্রহ ম্যাপিং প্রযুক্তির উন্নতির ফলে দ্বীপ গণনার সংখ্যা বেড়েছে। দ্বীপ গণনার পদ্ধতি দেশভেদে ভিন্ন হয় – কেউ শুধু বড় দ্বীপগুলো গণনা করে, আবার কেউ জোয়ারের সময় ডুবে না যায় এমন সব ক্ষুদ্র ভূমিখণ্ডকেও দ্বীপ হিসেবে বিবেচনা করে।

দ্বীপ গণনার পদ্ধতি

পৃথিবীর প্রতিটি দ্বীপ যেন একেকটি রহস্যময় ভূখণ্ড। দ্বীপ গণনা একটি জটিল প্রক্রিয়া। দ্বীপ গণনার পদ্ধতি একেক দেশে একেকরকম। উদাহরণস্বরূপ, সুইডেন ২৫ বর্গমিটারের বেশি আয়তনের যেকোনো ভূখণ্ডকে দ্বীপ হিসেবে গণনা করে, যেখানে জাপান ২০২৩ সালে ১০০ মিটারের বেশি উপকূলরেখা বিশিষ্ট দ্বীপগুলোকে গণনা করেছে। আধুনিক উপগ্রহ ম্যাপিং প্রযুক্তি, যেমন উচ্চ-রেজোলিউশন ইমেজিং, এই গণনার সংখ্যাকে আরও বাড়িয়েছে। কৃত্রিম দ্বীপ, জোয়ারে ডুবে যাওয়া বালুচর বা সমুদ্রের শিলাগুলো সাধারণত এই গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দ্বীপসমৃদ্ধ ১০টি দেশ

নিচের তালিকাগুলো WorldAtlas এবং World Population Review (2025) এর তথ্য অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে। যা জাতীয় জরিপ এবং উপগ্রহ তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি।

১. সুইডেন – ২,৬৭,৫৭০টি দ্বীপ

পৃথিবীর আর কোনো দেশ দ্বীপের সংখ্যায় সুইডেনের ধারেকাছেও নেই। বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে দ্বীপের সংখ্যা ২ লাখেরও বেশি। সুইডেনের বাল্টিক সাগরের উপকূলরেখা এবং হাজারো হ্রদজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য দ্বীপ। যদিও এর মধ্যে মাত্র ১,০০০ এর কম দ্বীপে মানুষ বাস করে।

স্টকহোম আর্কিপেলাগো, যেখানে ৩০,০০০-এরও বেশি দ্বীপ রয়েছে, পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই দ্বীপগুলোর বেশিরভাগ ছোট এবং বনাচ্ছাদিত, যা সুইডেনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে। সুইডেনের কিছু দ্বীপ এত ছোট যে সেগুলোতে একটি মাত্র বাড়ি রয়েছে, এবং অনেক দ্বীপে কোনো স্থায়ী বাসিন্দা নেই।

২. নরওয়ে – ২,৩৯,০৫৭টি দ্বীপ

নরওয়ের ফিওর্ড ও পর্বতঘেরা উপকূলরেখা সৃষ্ট করেছে হাজার হাজার দ্বীপ। উত্তরের আর্কটিক অঞ্চলের স্পিট্সবার্গেন দ্বীপপুঞ্জ থেকে শুরু করে দক্ষিণের স্কেরি দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত। নরওয়ের দ্বীপগুলোর বেশিরভাগ অবসবাসযোগ্য এবং প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য আদর্শ। মাত্র ৫০০০+ দ্বীপে মানুষের বসতি রয়েছে। নরওয়ের ভূপৃষ্ঠের ভাঙনের কারণে দ্বীপের সংখ্যা বেশি।

লোফোটেন দ্বীপপুঞ্জ ও নর্দার্ন লাইটস পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ। নরওয়ের স্ভালবার্ড দ্বীপে বিশ্বের একমাত্র বৈশ্বিক বীজ ভাণ্ডার (Global Seed Vault) রয়েছে, যা বিশ্বের ফসলের বীজ সংরক্ষণ করে।

৩. ফিনল্যান্ড – ১,৭৮,৯৪৭টি দ্বীপ

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলজুড়ে থাকা হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদ এবং বাল্টিক সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলের জটিল ভূপৃষ্ঠ ফিনল্যান্ডকে পরিণত করেছে বিশ্বের তৃতীয় দ্বীপ-সমৃদ্ধ দেশে। ফিনল্যান্ডের ভূ-প্রকৃতিও গভীরভাবে বিভক্ত, বিশেষ করে এর দ্বীপপুঞ্জ এবং হ্রদ অঞ্চলগুলোতে। হ্রদ ও উপকূলীয় অঞ্চল দ্বীপে ভরপুর, মাত্র ৭৮০টি দ্বীপে বসতি রয়েছে।

ফিনল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমে আল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ এবং ফিনিশ আর্কিপেলাগো সমুদ্র পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। অধিকাংশ দ্বীপ অবাসযোগ্য ও প্রাকৃতিক সংরক্ষণস্থল। ফিনল্যান্ডের আল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যেখানে সুইডিশ ভাষা সরকারি ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৪. কানাডা – ৫২,৪৫৫টি দ্বীপ

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ কানাডা। কানাডার আর্কটিক এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলগুলো ছোট-বড় অসংখ্য দ্বীপে পূর্ণ। এদের মধ্যে যার মধ্যে ব্যাফিন দ্বীপ, ভ্যাঙ্কুভার দ্বীপ এবং নিউফাউন্ডল্যান্ড উল্লেখযোগ্য। এই দ্বীপগুলোর বেশিরভাগই জনবসতিহীন, সম্পূর্ণ বরফে ঢাকা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। ব্যাফিন দ্বীপ বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দ্বীপ, যার আয়তন ৫০৭,৪৫১ বর্গকিলোমিটার।

৫. যুক্তরাষ্ট্র – ১৮,৬১৭টি দ্বীপ

আলাস্কা, হাওয়াই, ফ্লোরিডা কিস এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় কিছু অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বীপসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলেছে। আলাস্কায় ২,৬৭০টি দ্বীপ রয়েছে। হাওয়াইয়ের দ্বীপগুলো পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। অনেক দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক, গবেষণা এবং পর্যটন কাজে ব্যবহৃত হয়। হাওয়াইয়ের মাউই দ্বীপে বিশ্বের বৃহত্তম সুপ্ত আগ্নেয়গিরি হালেকালা রয়েছে।

৬. ইন্দোনেশিয়া – ১৭,৫০৪টি দ্বীপ

পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ইন্দোনেশিয়া। ইন্দোনেশিয়া ৫,০০০ কিলোমিটারের বেশি অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত এবং হাজার হাজার জনবসতিপূর্ণ ও জনবসতিহীন দ্বীপ নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে অনেকগুলোই আগ্নেয়গিরির উৎপত্তিস্থল। এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মাঝামাঝি প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে বিস্তৃত এই দেশের প্রায় ১১,০০০+ দ্বীপে মানব বসতি রয়েছে। জাভা, সুমাত্রা, বালি এবং বোর্নিও দ্বীপগুলো পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। ইন্দোনেশিয়ার কোমোডো দ্বীপে বিশ্বের বৃহত্তম টিকটিকি, কোমোডো ড্রাগন, পাওয়া যায়।

৭. জাপান – ১৪,১২৫টি দ্বীপ

জাপান বহু বছর ধরে ৬৮৫২টি দ্বীপ থাকার কথা দাবী করতো। কিন্তু ২০২৩ সালে উপগ্রহ চিত্রের সাহায্যে দ্বিগুণেরও বেশি দ্বীপ শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে জাপানের দ্বীপের সংখ্যা ১৪,১২৫টি দ্বীপ। জাপানের দ্বীপগুলোর বেশিরভাগই জনবসতিহীন, পাহাড়ি ও বনভূমি পরিবেষ্টিত। ওকিনাওয়ার দ্বীপপুঞ্জ তার গ্রীষ্মমন্ডলীয় সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। জাপানের আওগাশিমা দ্বীপ একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির ক্যালডেরার মধ্যে অবস্থিত, যেখানে মাত্র ২০০ জন বাসিন্দা রয়েছে।

৮. অস্ট্রেলিয়া – ৮,২২২টি দ্বীপ

অনেকে অস্ট্রেলিয়াকে একটি মহাদেশীয় ভূখণ্ড হিসেবে মনে করেন, কিন্তু এর অন্তর্ভুক্ত দ্বীপগুলোর সংখ্যাও বিশাল। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় দ্বীপ তাসমানিয়া। অস্ট্রেলিয়ার ফ্রেজার দ্বীপ বিশ্বের বৃহত্তম বালির দ্বীপ এবং ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। গ্রেট ব্যারিয়ার রীফের ৯০০+ দ্বীপপুঞ্জ পর্যটকদের কাছে প্রবাল দ্বীপের স্বর্গরাজ্য।

৯. ফিলিপাইন – ৭,৬৪১টি দ্বীপ

প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে ফিলিপাইন হলো দ্বীপের রাজ্য। প্রায় ২০০০টিরও বেশি জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ নিয়ে ফিলিপাইন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দ্বীপপুঞ্জের দেশ। ফিলিপাইনের দ্বীপগুলো আগ্নেয়গিরি, সৈকত এবং জলজ জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। পালাওয়ান এবং বোরাকের মতো দ্বীপগুলো তাদের সমুদ্রতট এবং জৈব বৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত। ফিলিপাইনের চকোলেট হিলস (বোহল দ্বীপ) বিশ্বের একমাত্র ভূতাত্ত্বিক গঠন, যেখানে ১,২০০টিরও বেশি শঙ্কু আকৃতির পাহাড় রয়েছে।

১০. চিলি – ৫,০০০টি দ্বীপ

দক্ষিণ আমেরিকার দীর্ঘতম উপকূলরেখাসমৃদ্ধ দেশ চিলি, যার দক্ষিণাংশে প্যাটাগোনিয়া এবং দীর্ঘ প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল হাজার হাজার দ্বীপ লুকিয়ে রেখেছে। প্রায় ২,৩২৪টি দ্বীপে মানব বসতি রয়েছে। বরফাবৃত পর্বত, হিমবাহ ও ফিওর্ড পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

চিলো দ্বীপ এবং ইস্টার আইল্যান্ড (রাপা নুই) এর প্রধান আকর্ষণ। ইস্টার আইল্যান্ড – মোয়াই মূর্তির দ্বীপ নামে পরিচিত। ইস্টার দ্বীপের মোয়াই মূর্তিগুলোর ওজন ৮০ টন পর্যন্ত হতে পারে এবং এগুলো খ্রিস্টপূর্ব ১২৫০-১৫০০ সালের মধ্যে তৈরি।

দ্বীপ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

  • “দ্বীপ” এর নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। প্রতিটি দেশ তাদের মতো করে দ্বীপের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।

  • উপগ্রহ প্রযুক্তির উন্নতিতে দ্বীপের সংখ্যা বাড়ছে। ছোট ছোট দ্বীপ যা আগে শনাক্ত হয়নি, এখন স্যাটেলাইট ম্যাপে ধরা পড়ছে।

  • বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড (২.১৬ মিলিয়ন বর্গকিমি), নিউ গিনি (৭৮৫,৭৫৩ বর্গকিমি) ও বোর্নিও (৭৪৮,১৬৮ বর্গকিমি)।

  • বেশিরভাগ দ্বীপে মানুষ বাস করে না। পৃথিবীর অধিকাংশ দ্বীপ এখনো অব্যবহৃত ও প্রাকৃতিক অবস্থায় রয়েছে।

  • কিছু দ্বীপ বছরে একাধিকবার জোয়ারে ডুবে যায়। যেমন- মালদ্বীপ ও টুভালুর কিছু দ্বীপ।

  • বালির দ্বীপ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। বালির পরিবর্তনশীল প্রকৃতির কারণে অনেক ছোট দ্বীপ সময়ের সাথে সাথে গায়েব হয়ে যায়।

  • উষ্ণমণ্ডলীয় দেশ নয়, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর দ্বীপ সবচেয়ে বেশি।

  • কিছু দ্বীপ কৃত্রিমভাবে তৈরি। যেমন- দুবাইয়ের “The Palm”।

  • রাশিয়ার দ্বীপ সংখ্যা প্রচুর হলেও নিশ্চিত সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়।

  • অনেক দ্বীপে এখনো অজানা প্রজাতির প্রাণী পাওয়া যায়।

  • গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে অনেক দ্বীপ সমুদ্রে বিলীন হচ্ছে।

  • দ্বীপের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। গ্লোবাল দ্বীপ পর্যটন বাজার $৮৫০ বিলিয়নেরও অধিক।

  • সেন্টিনেল দ্বীপে রয়েছে পৃথিবীর মানব সভ্যতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী।

পরিশেষে

বিশ্বের সবচেয়ে দ্বীপসম্পন্ন দেশগুলো আমাদেরকে শেখায় প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য কতটা বিস্ময়কর হতে পারে। এই দ্বীপগুলো শুধু পর্যটনের জন্য নয়, বরং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ভূরাজনীতি, পরিবেশ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭ লাখের বেশি দ্বীপ ছড়িয়ে আছে, যার অনেকগুলোই এখনো অনাবিষ্কৃত।

Related Posts

More Article by Moynamoti

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.