মেজর মোহিত শর্মা - ভারতের সবচেয়ে সাহসী স্পাই
ভারতের সামরিক ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যা শুনলে আজও শত্রুর হৃদকম্প শুরু হয়। যার নাম শুনলে আজও পাকিস্তানি ও কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদীদের বুকে কাঁপন ধরে, আর প্রতিটি দেশপ্রেমিকের বুক গর্বে ভরে ওঠে। তেমনই একজন কিংবদন্তি হলেন মেজর মোহিত শর্মা (AC)। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইতিহাসে তিনি কেবল একজন দক্ষ অফিসার ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন ছদ্মবেশে শত্রু নিধনের এক জাদুকর।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর এলিট ‘১ প্যারা স্পেশাল ফোর্সেস’ (1 Para SF)-এর এই কমান্ডোকে বলা হতো ‘The Spy in Uniform’। আজকের এই বিস্তারিত ব্লগে আমরা আলোকপাত করব এই মহান বীরের জীবন, তাঁর রোমহর্ষক গোপন মিশন এবং সেই শেষ লড়াইয়ের ওপর, যা তাঁকে অমর করে রেখেছে।
মেজর মোহিত শর্মা
১৯৭৮ সালের ১৩ জানুয়ারি হরিয়ানার রোহতকে জন্ম নেন মোহিত শর্মা। ছোটবেলা থেকেই তাঁর দুচোখে ছিল আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন আর বুকে ছিল হিমালয়ের মতো অটল দেশপ্রেম। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় গাজিয়াবাদের ডিএভি পাবলিক স্কুল থেকে। কিন্তু পাঠ্যবইয়ের পাতায় মোহিতের মন যতটা না বসত, তার চেয়ে বেশি তাঁর চোখ খুঁজে বেড়াতো তেরঙা পতাকার মর্যাদা রক্ষার উপায়।
মোহিতের বন্ধুরা তাকে 'মাইক' নামে ডাকতেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে ছিল এক অদম্য জেদ যে কাজ একবার ধরবেন, তা শেষ না করে ছাড়বেন না। এই জেদই তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল ভারতের সবচেয়ে সম্মানিত সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমি (NDA)-তে। ১৯৯৫ সালে তিনি এনডিএ-তে যোগ দেন এবং সেখান থেকে শুরু হয় এক কিংবদন্তির পথচলা।
১৯৯৯ সালে মোহিত শর্মা এনডিএ থেকে পাস করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর '৫ মাদ্রাজ' (5 Madras) রেজিমেন্টে কমিশনড অফিসার হিসেবে যোগ দেন। তাঁর প্রথম পোস্টিং ছিল হায়দ্রাবাদে। কিন্তু মোহিত জানতেন, তাঁর গন্তব্য আরও কঠিন, আরও রোমাঞ্চকর। সাধারণ ডিউটি করে সময় পার করার চেয়ে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়াই ছিল তাঁর স্বভাব।
১ প্যারা (স্পেশাল ফোর্সেস) - ছায়ার মতো শত্রু নিধন
ভারতীয় সেনাবাহিনীর এলিট ফোর্স হিসেবে পরিচিত ১ প্যারা (স্পেশাল ফোর্সেস)। এই ইউনিটের অংশ হওয়া যে কোনো সেনার জন্য সর্বোচ্চ সম্মানের। মেজর মোহিত শর্মার লক্ষ্য ছিল এই 'স্পেশাল গ্রুপ'-এ নিজেকে প্রমাণ করা। ২০০০ সালে তিনি প্যারা স্পেশাল ফোর্সে যোগ দেন।
প্যারা এসএফ-এর প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা। এখানে কেবল শারীরিক সক্ষমতাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন হয় ইস্পাত কঠিন মানসিক শক্তি। মোহিত শর্মা কেবল সেই প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করেননি, বরং নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন যেখানে সাহসিকতার সংজ্ঞা প্রতিদিন নতুন করে লেখা হতো।
১ প্যারা (স্পেশাল ফোর্সেস)-এর অফিসার হিসেবে মোহিত শর্মা 'ছায়ার যুদ্ধ' বা আনকনভেনশনাল ওয়ারফেয়ারে দক্ষ হয়ে ওঠেন। এই ইউনিটের কাজ হলো অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে, গভীর জঙ্গলে কিংবা তুষারাবৃত পাহাড়ে শত্রুর সীমানার ভেতরে ঢুকে নিঃশব্দে অপারেশন পরিচালনা করা। মেজর মোহিত শর্মা দ্রুতই এই ইউনিটের একজন স্তম্ভ হয়ে উঠেছিলেন।

'ইফতিখার ভাট' - যখন মেজর নিজেই হলেন জঙ্গি
কাশ্মীর উপত্যকার রক্তঝরা দিনগুলোর ইতিহাসে এমন অনেক কাহিনী লুকিয়ে আছে যা কোনো থ্রিলার সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর রেকর্ডে তিনি যতটা বীর হিসেবে পরিচিত, জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন এক রহস্যময় এবং ভয়ঙ্কর নাম হিসেবে ইফতিখার ভাট।
মেজর মোহিত শর্মা বুঝতে পেরেছিলেন যে, কেবল সামনাসামনি যুদ্ধ করে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা সম্ভব নয়। শত্রু যখন ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থাকে, তখন তাদের নির্মূল করতে হলে তাদেরই একজন হয়ে উঠতে হয়। এই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় ‘ইফতিখার ভাট’।
ইফতিখার ভাট হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। মেজর মোহিত তাঁর লম্বা দাড়ি বাড়াতে শুরু করেন। চুল অবিন্যস্ত করে রাখেন এবং স্থানীয় কাশ্মীরি যুবকদের মতো ঢিলেঢালা ‘পিরান’ ও টুপি পরা শুরু করেন। কিন্তু কেবল পোশাকে তো আর মানুষকে ভোলানো যায় না, প্রয়োজন ছিল আরও গভীর প্রস্তুতির।

মেজর মোহিত জানতেন, যদি উচ্চারণে সামান্যতম ভুল হয়, তবে জঙ্গিরা মুহূর্তেই তাকে চিনে ফেলবে। তাই তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাশ্মীরি ভাষা এবং সেখানকার স্থানীয় উপভাষাগুলো রপ্ত করেন। তিনি এতটাই সাবলীলভাবে কথা বলতে পারতেন যে, খোদ স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁকে কাশ্মীরের বাইরের কেউ বলে সন্দেহ করতে পারত না।
লস্কর ও হিজবুলের ডেরায় অনুপ্রবেশ
ইফতিখার ভাট ছদ্মবেশে তিনি সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন লস্কর-ই-তইবা (LeT) এবং হিজবুল মুজাহিদিনের মতো কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্কে। এটি ছিল সিংহের গুহায় ঢুকে শিকার করার মতো এক দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা।
মেজর মোহিত শর্মা ওরফে ‘ইফতিখার ভাট’ এতটাই নিখুঁত ছিলেন যে, তিনি ওইসব জঙ্গি নেতাদের সাথে একই থালায় বসে খাবার খেয়েছেন। তাদের সাথে বসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছেন। অথচ তাঁর পাশেই বসে থাকা জঙ্গিরা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে, যাকে তারা নিজেদের বিশ্বস্ত সঙ্গী ভাবছে, তিনি আসলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক দুর্ধর্ষ অফিসার।
ইন্টেলিজেন্স সংগ্রহ ও হাই-ভ্যালু টার্গেট
তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল এই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা জানা এবং তাদের ‘হাই-ভ্যালু টার্গেট’ বা শীর্ষ নেতাদের অবস্থান শনাক্ত করা। তিনি দিনের পর দিন তাদের সাথে থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে হেডকোয়ার্টারে পাঠিয়ে দিতেন। তাঁর দেওয়া নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতেই ভারতীয় সেনাবাহিনী একের পর এক সফল অপারেশন পরিচালনা করে অসংখ্য শীর্ষস্থানীয় জঙ্গিকে খতম করতে সক্ষম হয়।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই
মেজর মোহিত শর্মা মূলত লস্কর-ই-তইবা এবং জইশ-ই-মুহাম্মদের মতো পাকিস্তান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, সন্ত্রাসবাদ একটি বিষবৃক্ষ, যার কেবল ডালপালা কাটলে হবে না, আঘাত করতে হবে একেবারে মূলে।
মোহিত শর্মার প্রতিটি অপারেশন ছিল ‘সার্জিক্যাল প্রিসিশন’ সমৃদ্ধ। তিনি সবসময় খেয়াল রাখতেন যেন সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়। তাঁর লক্ষ্য ছিল কেবল সেই সশস্ত্র জঙ্গিরা, যারা কাশ্মীরের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছিল। আন্ডারকভার মিশনে থাকার সময় তিনি এমনভাবে ছক সাজাতেন যাতে অপারেশন চলাকালীন কোনো নিরীহ মানুষ যেন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না হয়।
কুপওয়ারা অপারেশন ২০০৯ - জীবনের শেষ রক্তিম লড়াই
২০০৯ সালের মার্চ মাস। উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার হফুরুদা জঙ্গল তখন ঘন বরফে ঢাকা। অত্যন্ত দুর্গম এবং পাহাড়ি এই এলাকাটি সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশের জন্য একটি ট্রানজিট রুট হিসেবে পরিচিত ছিল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে খবর আসে যে, লস্কর-ই-তৈয়বার একদল ভারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সেই জঙ্গলের গভীরে আস্তানা গেড়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল উপত্যকায় বড় ধরনের নাশকতা চালানো। এই জঙ্গলটি তার দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং ঘন ঝোপঝাড়ের জন্য পরিচিত, যা জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার জন্য আদর্শ জায়গা ছিল।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ভারতীয় সেনাবাহিনী অবিলম্বে একটি চিরুনি অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়। সেনাবাহিনীর ১ প্যারা (স্পেশাল ফোর্সেস) ইউনিটের ওপর দায়িত্ব পড়ে এই জঙ্গিদের খুঁজে বের করে নির্মূল করার। এই অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করা হয় ১ প্যারা এসএফ-এর দক্ষ অফিসার মেজর মোহিত শর্মার ওপর। যিনি এর আগেও বহুবার নিজের অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
তিনি কেবল একজন দক্ষ অফিসারই ছিলেন না, বরং ছদ্মবেশে জঙ্গি আস্তানায় ঢুকে পড়ার মতো দুঃসাহসিক কাজেও ছিলেন পারদর্শী (যা তাঁকে সামরিক মহলে 'ইফতিখার ভাট' নামে পরিচিত করেছিল)।
সম্মুখ যুদ্ধ
২১ মার্চ ২০০৯। ভোরবেলা থেকেই পুরো হাফুরুদা জঙ্গল ঢাকা ছিল ঘন কুয়াশায়। দৃশ্যমানতা ছিল প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে মেজর মোহিত শর্মা তাঁর ছোট কমান্ডো দলটি নিয়ে নিঃশব্দে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁরা জানতেন না যে, পাহাড়ের ওপর সুবিধাজনক অবস্থানে জঙ্গিরা আগে থেকেই অ্যাম্বুশ বা ওত পেতে বসে আছে।
হঠাৎ করেই নিস্তব্ধতা ভেঙে গর্জে ওঠে জঙ্গিদের স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। পাহাড়ের ওপর থেকে বৃষ্টির মতো গুলি ধেয়ে আসতে থাকে মেজর মোহিতের দলের ওপর। প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর দলের বেশ কয়েকজন জওয়ান গুরুতর আহত হন। ভৌগোলিক অবস্থান এবং আকস্মিকতার কারণে সেনাবাহিনী কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। একদিকে পাহাড়ের প্রতিকূলতা, অন্যদিকে আড়াল থেকে ধেয়ে আসা গুলি। কিন্তু মেজর মোহিত শর্মা জানতেন, এই মুহূর্তে পিছু হটা মানেই আরও বেশি প্রাণহানি। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার।
নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তিনি পজিশন ছেড়ে জঙ্গিদের দিকে ধেয়ে যান। তাঁর লক্ষ্য ছিল জঙ্গিদের মনোযোগ নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া যাতে তাঁর আহত জওয়ানরা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে। অত্যন্ত কাছ থেকে লড়াই (Close Quarter Battle) করে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দুজন জঙ্গিকে খতম করেন।
লড়াই চলাকালীন একটি বুলেট মেজর মোহিতের বুকে বিঁধে যায়। রক্তে ভিজে ওঠে তাঁর ইউনিফর্ম। কিন্তু শরীরের ক্ষত তাঁর মনের জোরকে টলাতে পারেনি। তিনি জানতেন, তাঁর সামান্য বিচ্যুতি মানেই পুরো টিমের বিনাশ। প্রচণ্ড যন্ত্রণার মধ্যেও তিনি লড়াই চালিয়ে যান এবং তাঁর অসামান্য রণকৌশলে আরও একজন জঙ্গিকে নিকেশ করেন।
বীরের মহাপ্রয়াণ ও আত্মত্যাগ
মেজর মোহিত শর্মা গুরুতর আহত অবস্থায়ও কমান্ড দিতে থাকেন এবং নিজের দলের জওয়ানদের কভারিং ফায়ার দিয়ে নিরাপদ অবস্থানে সরিয়ে নিতে সাহায্য করেন। তাঁর এই অভাবনীয় পাল্টা আক্রমণে জঙ্গিরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন যেন তাঁর দল এই ঘেরাও থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।
অবশেষে, প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে এই মহানায়ক ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে। শহীদ হন দেশের এক অকুতোভয় সন্তান। তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ফলে সেই অভিযানে চারজন শীর্ষ জঙ্গি খতম হয় এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়।
মরণোত্তর অশোক চক্র
মেজর মোহিত শর্মার এই নজিরবিহীন সাহসিকতার জন্য ভারত সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন বীরত্ব পদক 'অশোক চক্র' প্রদান করে। তাঁর বীরত্বগাঁথা কেবল পদক বা স্বীকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি হয়ে উঠেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক চিরন্তন অনুপ্রেরণা।
গাজিয়াবাদের একটি রাজপথ এবং একটি মেট্রো স্টেশনের নাম তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে। কিন্তু তাঁর আসল স্মৃতি সংরক্ষিত আছে প্যারা স্পেশাল ফোর্সের প্রতিটি জওয়ানের হৃদয়ে।
কেন মেজর মোহিত শর্মা আজও অনন্য?
অনেকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন দায়িত্ব পালনের জন্য, কিন্তু মোহিত শর্মা যোগ দিয়েছিলেন দেশপ্রেমের এক উন্মাদনা নিয়ে।
অসাধারণ সাহসিকতা: সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে লড়তে ভয় পান না অনেকেই, কিন্তু শত্রুর ডেরায় একা ছদ্মবেশে থাকাটা যে মানসিক শক্তির পরিচয় দেয়, তা বিরল।
নেতৃত্বের উদাহরণ: কুপওয়ারা মিশনে তিনি চাইলে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে পারতেন, কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছিলেন সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়াকে।
আদর্শ সৈনিক: তিনি শিখিয়েছেন যে একজন সৈনিকের সবচেয়ে বড় অস্ত্র কেবল তার বন্দুক নয়, তার বুদ্ধি এবং ধৈর্য।
অমর শহীদ মেজর মোহিত শর্মা
মেজর মোহিত শর্মা আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ ও বীরত্ব প্রতিটি ভারতবাসীর মনে বেঁচে থাকবে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া কেবল আবেগের বিষয় নয়, এটি সর্বোচ্চ ত্যাগের এক পরম প্রাপ্তি। তাঁর জীবন কাহিনী আমাদের শেখায় কীভাবে প্রতিকূলতার মাঝেও মাথা উঁচু করে লড়তে হয়।
তিনি ছিলেন সেই 'স্পাই ইন ইউনিফর্ম', যিনি অন্ধকারে থেকে আমাদের আলো দিয়েছিলেন। আজ আমরা যখন শান্তিতে ঘুমানোর সুযোগ পাই, তখন মনে রাখা উচিত যে সীমান্তের ওপাড়ে বা জঙ্গলের গভীরে মোহিত শর্মার মতো কেউ একজন নিজের জীবন বাজি রেখে আমাদের রক্ষা করছেন।


















