বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ১০ শহরে আছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

Aug 1, 2025

আপনি কি জানেন, ২০২৫ সালে বিশ্বের কোন শহরগুলো বসবাসের জন্য সবচেয়ে বেশি নিরাপদ? ক্রাইম রেট শূন্যের কাছাকাছি, উন্নত টেকনোলজি আর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যেখানে রাতের অন্ধকারেও নিশ্চিন্তে হেঁটে বেড়ানো যায়! বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ১০ শহরে আছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, যেখানে নাগরিকরা নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারে। আজ আমরা জানব বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ১০টি শহরের নাম, যেখানে নিরাপত্তা শুধু পুলিশের হাতে নয়, বরং গড়ে উঠেছে এক আধুনিক, স্মার্ট, এবং মানবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তার মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ফোর্বস এবং বৈশ্বিক তথ্যভাণ্ডার Numbeo Safety Index এর সূত্র মতে একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এই গবেষণায় অপরাধের হার, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা এই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই সমন্বিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মোট ৬০টি শহরকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলুন, দেখে নিই কোন ১০টি শহর উঠে এসেছে তালিকার শীর্ষস্থানগুলোতে।

প্রশ্ন উঠতে পারে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ শহর কোনটি? কেউ হয়তো বলবেন প্যারিস, কেউবা লন্ডন বা ভারতের কোনো প্রধান শহর। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে শহরটি এক নম্বরে অবস্থান করছে, সেটি টানা ৯ বছর ধরে এই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও নাগরিক সন্তুষ্টির নিরিখে একেবারে সবার উপরে।

১. আবু ধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত

আবু ধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী এবং দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল শহর। এটি পারস্য উপসাগরের একটি ত্রিভুজাকৃতি দ্বীপে অবস্থিত। এটি দেশের বৃহত্তম আমিরাত এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র। ১৯৫৮ সালে তেল সম্পদ আবিষ্কারের পর এই শহরটি দ্রুত আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে যায়, যার ফলে আধুনিক অট্টালিকা, উন্নত অবকাঠামো এবং বিলাসবহুল জীবনযাত্রার সমন্বয় ঘটে। আবু ধাবির প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ, ল্যুভর আবু ধাবি এবং এমিরেটস প্যালেস। শহরটি তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার মিশ্রণের জন্য বিখ্যাত।

Numbeo, CEOWORLD এবং Economist Intelligence Unit (EIU)-এর তথ্য অনুযায়ী আবু ধাবিতে গুরুতর অপরাধ যেমন খুন, ছিনতাই, ধর্ষণ বা অস্ত্রধারী ডাকাতির হার অত্যন্ত কম। আবু ধাবিতে আইন ভঙ্গের জন্য কঠোর ও দ্রুত বিচার ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে। বিশেষ করে মাদক, যৌন অপরাধ, গার্হস্থ্য হিংসা ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।

Abu Dhabi Police বিশ্বমানের নিরাপত্তা সংস্থা হিসেবে পরিচিত, যাদের কর্মদক্ষতা, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নত। শহরজুড়ে উচ্চমানের CCTV ক্যামেরা, AI-নির্ভর নজরদারি, ও স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং সিস্টেম চালু রয়েছে। তাছাড়া ইসলাম ধর্ম ও আরব সংস্কৃতির কারণে সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ দৃঢ়ভাবে কাজ করে।

২০২৫ সালের Numbeo–র তথ্য অনুযায়ী, আবু ধাবি পায় ৮৮.৮ স্কোর, যা বিশ্বের যেকোনো শহরের মধ্যে সর্বোচ্চ। CEOWORLD ২০২৫ সালে তাদের “Safest Cities” তালিকায় আবু ধাবিকে প্রথম স্থানে রেখেছে। EIU তাদের Global Liveability Index‑এ আবু ধাবিকে বারবার শীর্ষ নিরাপদ শহর হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।

২. দোহার, কাতার

মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশ কাতারের রাজধানী দোহা পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত একটি আধুনিক মহানগরী। এটি কাতারের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। দোহার উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে মিউজিয়াম অফ ইসলামিক আর্ট, সৌক ওয়াকিফ, এবং দ্য পার্ল-কাতার। ২০২২ সালে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে দোহা বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসে। শহরটি তার ঐতিহ্যবাহী আরবি সংস্কৃতি এবং আধুনিক জীবনযাত্রার সমন্বয়ের জন্য পরিচিত।

দোহাতে সহিংস অপরাধ (যেমন হত্যা, ডাকাতি, সন্ত্রাস) প্রায় নেই বললেই চলে। Numbeo Crime Index 2025 অনুযায়ী দোহার অপরাধ সূচক (Crime Index) মাত্র ১৫–১৭, যা অত্যন্ত কম। কাতারে শরিয়া আইন ও আধুনিক নাগরিক আইন একত্রে প্রয়োগ হয়, যা অপরাধ দমনে সহায়ক। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত কার্যকর, শহরজুড়ে রয়েছে অত্যাধুনিক CCTV নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে।

দোহাতে বসবাসরত মানুষ সাধারণত আর্থিকভাবে স্বচ্ছল, ফলে অপরাধ প্রবণতা কম। দোহা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ শহর হিসেবে পরিচিত, বিশেষত মহিলাদের জন্য। দোহা ২০২৫ সালের Numbeo Safety Index-এ ২য় স্থান অর্জন করেছে। NDTV ২০২৫ সালের মার্চে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে যেখানে দোহাকে বিশ্বের ২য় নিরাপদ শহর হিসেবে ঘোষণা করে, স্কোর ছিল ~৮৪.৩।

৩. দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত

দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবচেয়ে জনবহুল শহর এবং আমিরাতের রাজধানী, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। এটি বিশ্বের প্রধান ব্যবসায়িক কেন্দ্র এবং পর্যটন গন্তব্য। দুবাইয়ের আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে বুর্জ খলিফা, পাম জুমেইরা, দুবাই মল এবং দুবাই ফাউন্টেন। শহরটি তার বিলাসবহুল জীবনযাত্রা, আকাশচুম্বী অট্টালিকা এবং কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জের জন্য বিখ্যাত। ২০২৫ সালে দুবাইয়ের জনসংখ্যা ৪ মিলিয়ন, যার ৯২% প্রবাসী।

UAE তে আইন অমান্যকারীদের জন্য শাস্তি অত্যন্ত কঠোর ও দ্রুত কার্যকর। দুবাই পুলিশ বিশ্বের অন্যতম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যেমন AI, Face Recognition, Smart Surveillance Drone, Predictive Policing Software। পুলিশের সাড়া পাওয়া যায় অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে। ইসলামী নীতিনৈতিকতার কঠোরভাবে পালিত হয়। অশ্লীলতা, প্রকাশ্যে মাতলামি, প্রকাশ্যে চুম্বন ইত্যাদি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

Numbeo 2025 Safety Index অনুযায়ী, দুবাইয়ের Crime Index মাত্র ১৬.১ এবং Safety Index ৮৩.৯, যা একে বিশ্বের শীর্ষ ৫ নিরাপদ শহরের তালিকায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ সংস্থাগুলোর তথ্য মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুবাইয়ে সহিংস অপরাধ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। CEOWorld Magazine 2025 Safest Cities List এ দুবাইকে বিশ্বের সেরা নিরাপদ শহরের মধ্যে তৃতীয় স্থান দেওয়া হয়েছে। Global Residence Index এর মতে উচ্চ বিত্তের অভিবাসীদের জন্য অন্যতম নিরাপদ শহরের মধ্যে দুবাই শীর্ষে।

৪. শারজাহ, সংযুক্ত আমিরাত

শারজাহ, দুবাইয়ের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত, সংযুক্ত আরব আমিরাতের তৃতীয় বৃহত্তম আমিরাত। এটি শিল্প, সংস্কৃতি এবং ইসলামি ঐতিহ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শারজাহ মিউজিয়াম অফ ইসলামিক সিভিলাইজেশন, আল নুর মসজিদ এবং শারজাহ হেরিটেজ এরিয়া এর প্রধান আকর্ষণ। শহরটি তার পরিবারবান্ধব পরিবেশ এবং ঐতিহ্যবাহী আরবি সংস্কৃতির জন্য পরিচিত।

শারজাহ-সহ পুরো UAE-তে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর রয়েছে: মাদক, সহিংসতা, চুরি বা যৌন হয়রানির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। পুরো শহরে CCTV ক্যামেরার নেটওয়ার্ক স্থাপিত রয়েছে। AI প্রযুক্তি ও স্মার্ট পুলিশিং ব্যবহার করা হয়। অধিকাংশ নাগরিক ও অভিবাসী শিক্ষিত ও কর্মসংস্থানে নিয়োজিত। শারজাহ ইসলামিক সংস্কৃতিতে রক্ষণশীল হওয়ায় সামাজিক নিয়ম-কানুন অনেক শক্তিশালীভাবে মানা হয়।

Numbeo Safety Index 2025 অনুযায়ী শারজাহ বিশ্বের শীর্ষ ৫ নিরাপদ শহরের তালিকায় রয়েছে (প্রায় ৮৩.৭+ স্কোর)। NDTV Travel ও CEOWorld.biz রিপোর্ট (২০২৫) এ শারজাহকে ২০২৫ সালের মধ্যপ্রাচ্যের তৃতীয় নিরাপদ শহর হিসেবে স্বীকৃতি দেয় (আবু ধাবি ও দুবাইয়ের পরেই)। শারজাহ বিশেষভাবে নারীদের জন্য নিরাপদ শহর হিসেবে পরিচিত।

৫. তাইপেই, তাইওয়ান

তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেই একটি প্রাণবন্ত মহানগরী, যা প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের মিশ্রণ। তাইপেই ১০১, চিয়াং কাই-শেক মেমোরিয়াল হল এবং নাইট মার্কেটগুলো এর প্রধান আকর্ষণ। শহরটি তার আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত গণপরিবহন এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। তাইপেই এশিয়ার প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এ শহরে শক্তিশালী আইন প্রয়োগ (Strong Law Enforcement) রয়েছে, পুলিশ বাহিনী প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল এবং দ্রুত সাড়া দেয়। সরকার দুর্নীতি ও সহিংস অপরাধের বিরুদ্ধে “Zero Tolerance” নীতি পালন করে। তাইওয়ানের নাগরিকরা আইনের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল এবং সামাজিক আচরণে ভদ্র।

Numbeo 2025 অনুযায়ী, তাইপেইয়ের Safety Index প্রায় ৮৩.৬ যা এ শহরকে বিশ্বের ৫ম নিরাপদ শহর হিসেবে স্থান দিয়েছে। অপরাধ সূচক (Crime Index) মাত্র ১৬.৪, যা অত্যন্ত কম এবং উন্নত বিশ্বের শহরগুলোর চেয়েও ভালো। Economist Intelligence Unit (EIU) – Safe Cities Index এ ডিজিটাল, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিশ্লেষণে তাইপেই শীর্ষ দশ শহরের মধ্যে রয়েছে।

৬. মানামা, বাহরাইন

মানামা, বাহরাইনের রাজধানী এবং প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র, পারস্য উপসাগরের উত্তর-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। এই শহরটি তার আধুনিক অট্টালিকা, ঐতিহ্যবাহী সৌক (বাজার) এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। মানামার প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহরাইন ন্যাশনাল মিউজিয়াম, আল ফাতিহ গ্র্যান্ড মসজিদ এবং মানামা সৌক। শহরটি আর্থিক খাত, পর্যটন এবং তেল শিল্পের উপর নির্ভরশীল।

বাহরাইনের আইনি কাঠামো অত্যন্ত কড়া এবং তা দৃঢ়ভাবে প্রয়োগ করা হয়। ছোটখাটো অপরাধের জন্যও কঠোর শাস্তি থাকায় অপরাধের প্রবণতা অনেক কম। সিসিটিভি এবং পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার শহরজুড়ে ব্যাপকভাবে রয়েছে। মানামা একটি কসমোপলিটান শহর যেখানে বহু জাতি ও ধর্মের মানুষ বসবাস করে, কিন্তু সামাজিক সহনশীলতা বজায় থাকে।

Numbeo Safety Index (2025) অনুযায়ী মানামা পেয়েছে ~৮১.৩ স্কোর, যা পৃথিবীর অনেক উন্নত শহরের চেয়েও ভালো। NDTV‑র আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী মানামা বিশ্বের শীর্ষ ১০ নিরাপদ শহরের মধ্যে রয়েছে। Economy Middle East Report (2025) অনুযায়ী মানামা-কে শীর্ষ নিরাপদ শহর হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।

৭. মাসকাট, ওমান

মাসকাট, ওমানের রাজধানী এবং বৃহত্তম শহর, আরব সাগরের উপকূলে অবস্থিত। এটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য এবং আধুনিক অবকাঠামোর জন্য বিখ্যাত। মাসকাটের প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মসজিদ, মুত্রাহ সৌক এবং রয়্যাল ওপেরা হাউস। শহরটি ওমানের বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক কেন্দ্র। ২০২৫ সালে মাসকাটের জনসংখ্যা প্রায় ১.৫ মিলিয়ন।

ওমানের আইনি কাঠামো অত্যন্ত কঠোর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। ইসলামী অনুশাসন থাকায় এই শহরে প্রকাশ্যে মাদক সেবন, অস্ত্র বহন, দুর্নীতি বা অশ্লীলতা এখানে অত্যন্ত বিরল। মাসকাটে চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, সহিংসতা বা অস্ত্রধারী অপরাধের হার বিশ্বের অনেক শহরের তুলনায় অত্যন্ত কম। Numbeo’s 2025 Safety Index অনুযায়ী, মাসকাটের নিরাপত্তা সূচক ৮১.১, যা তাকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ নিরাপদ শহরের মধ্যে স্থান দিয়েছে। NDTV – World’s Safest Cities 2025 রিপোর্টে মাসকাট বিশ্বের শীর্ষ নিরাপত্তর শহরে রয়েছে।

৮. দি হেগ (The Hague), নেদারল্যান্ডস

দি হেগ, নেদারল্যান্ডসের রাজনৈতিক রাজধানী, দক্ষিণ হল্যান্ড প্রদেশে অবস্থিত। এটি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ), আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) এবং নেদারল্যান্ডসের পার্লামেন্টের আসন। দি হেগের উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে বিংনহফ, মাদুরোদাম এবং শেভেনিংগেন সমুদ্র সৈকত। শহরটি তার শান্ত পরিবেশ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য পরিচিত।

দি হেগ শহরটিতে অত্যন্ত প্রশিক্ষিত ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ বাহিনী রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পুলিশ প্যাট্রোল এবং পাবলিক প্লেসে সিসিটিভি সুরক্ষা কার্যকর। দি হেগে অবস্থিত রয়েছে International Court of Justice (ICJ), International Criminal Court (ICC), Europol, OPCW, ইত্যাদি। তাই শহরের নিরাপত্তা অবকাঠামো অত্যন্ত কঠোর ও মানসম্পন্ন।

Numbeo Safety Index 2025 অনুযায়ী ২০২৫ সালের সূচকে দি হেগের Safety Index প্রায় ৮০ (out of 100), যা একে শীর্ষ ১০ নিরাপদ শহরের তালিকায় নিয়ে এসেছে। CEOWorld Magazine (2025 Global Safety Ranking) বিশ্বের 172টি শহরের উপর বিশ্লেষণ করে দি হেগকে ইউরোপের অন্যতম নিরাপদ শহর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। The Economist Intelligence Unit (EIU) – Safe Cities Index অনুযায়ী দি হেগকে ২০২১ সাল থেকেই নিয়মিত “Highly Safe City” হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

৯. ট্রনহেইম, নরওয়ে

ট্রনহেইম, নরওয়ের তৃতীয় বৃহত্তম শহর, নিদেলভা নদীর তীরে অবস্থিত। এটি নরওয়ের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। নিদারোস ক্যাথেড্রাল, স্টিফটসগার্ডেন (রাজকীয় প্রাসাদ) এবং ট্রনহেইম ফজর্ড এর প্রধান আকর্ষণ। শহরটি তার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণার জন্যও বিখ্যাত, বিশেষ করে নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কারণে।

Numbeo Safety Index 2025 অনুযায়ী 79.31 (Crime Index: 20.69) এই স্কোর ট্রনহেইমকে বিশ্বের শীর্ষ নিরাপদ শহরগুলোর তালিকায় নিয়ে আসে। অপরাধ হার অত্যন্ত কম এবং চুরি, লুটতরাজ বা সহিংস অপরাধ সবই খুবই কম। মুগিং ~12.9, গাড়ি চুরি ~13.1, পাম্পিং ও ভাঙচুর ~25.5; এগুলো সবই খুব নিম্ন মাত্রায়। কম দূর্নীতি, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং শক্তিশালী সামাজিক ও ‍পুলিশি কাঠামো অপরাধ কমিয়েছে। স্থানীয়রা একে অপরকে খেয়াল রাখে এবং স্ট্রং কমিউনিটি স্পিরিট বজায় রয়েছে।

১০. আইনডহোভেন, নেদারল্যান্ডস

আইনডহোভেন, নেদারল্যান্ডসের দক্ষিণে অবস্থিত, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এটি ফিলিপস এবং এএসএমএল-এর মতো প্রযুক্তি কোম্পানির সদর দফতরের আবাস। আইনডহোভেনের আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ভ্যান অ্যাবে মিউজিয়াম, স্ট্রিজপ-এস এবং ডাচ ডিজাইন উইক। শহরটি তার প্রাণবন্ত ছাত্র জনগোষ্ঠী এবং আধুনিক জীবনযাত্রার জন্য বিখ্যাত। এ শহরটি বর্তমানে ‘City of Light’ ও ‘City of Design’ হিসেবে বিখ্যাত।

Numbeo অনুসারে আইনডহোভেনের Crime Index ≈ 20.93 অর্থাৎ অপরাধ খুবই কম হয় এবং Safety Index ≈ 79.07 অর্থাৎ উচ্চ নিরাপত্তা বজায় রয়েছে। ExploreCity.life অনুসারে ২০২৪ সালে অপরাধ, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান যাচাই করে আইনডহোভেনকে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং একটি নিরাপদ শহর হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

আইনডহোভেন পুলিশ কমিউনিটি পুলিশিং ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধ প্রতিরোধ করে। নিয়মিত পুলিশের টহল ও নগর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম বজায় থাকে সবসময়। শহরটিকে সুচিন্তিত নগর পরিকল্পনা ও ইকো-সিস্টেমে ১৫-মিনিট সিটি হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সেবা মাত্র ১৫ মিনিটে পৌঁছনো যায়।

পরিশেষে

উপরোক্ত তথ্যগুলো Numbeo Safety Index এর প্রতিটি শহরের অপরাধভিত্তিক জরিপ (Crime Index) থেকে Safety Index থেকে নেয়া হয়েছে। যা নির্ভর করে নাগরিকদের নিরাপত্তা অনুভূতি, দিনের ও রাতে নিরাপত্তা, সহিংস অপরাধের অভিজ্ঞতা ইত্যাদির উপর। কঠোর আইনশৃঙ্খলা, উন্নত প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কারণে উপরে উল্লেখিত শহরগুলো বিশ্বের শীর্ষ নিরাপদ শহর হিসেবে স্বীকৃত। এই শহরগুলোতে পর্যটক, বিনিয়োগকারী এবং বাসিন্দাদের জন্য একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে। আপনার প্রিয় কোন শহর কমেন্টে জানান।

Related Posts

More Article by Moynamoti

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.