রাজপুত থেকে ভুট্টো - দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও বংশপরিক্রমা

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও আধুনিক ইতিবৃত্ত নিয়ে যখনই কোনো গভীর আলোচনা হয়, তখন কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রভাবশালী পরিবারের নাম অনিবার্যভাবে সামনে চলে আসে। এর মধ্যে পাকিস্তানের রাজনীতিতে ‘ভুট্টো পরিবার’ (Bhutto Family) কেবল একটি রাজনৈতিক বংশানুক্রম নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু, ষড়যন্ত্র, সুফি ঐতিহ্য এবং রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডির এক জটিল সংমিশ্রণ।
গবেষক ও লেখক আলতাফ পারভেজ তাঁর রচিত ‘জুলফিকার আলী ভুট্টো: দক্ষিণ এশিয়ার কুলীন রাজনীতির এক অধ্যায়’ (প্রকাশক: বাতিঘর) গ্রন্থে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও প্রামাণিক উপায়ে এই ভুট্টো রাজবংশের দীর্ঘ পরিক্রমা বর্ণনা করেছেন। এই বইয়ের প্রাথমিক অধ্যায়গুলোতে উঠে এসেছে এক বিস্ময়কর রূপান্তর কীভাবে প্রাচীন ভারতবর্ষের যোদ্ধা জাতি ‘রাজপুত’ থেকে উদ্ভূত হয়ে ভুট্টোরা পরবর্তীতে সিন্ধুর সামন্তীয় ক্ষমতার শিখর স্পর্শ করেছিল এবং পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভাগ্যনিয়ন্তা হয়ে উঠেছিল।
এই বিস্তৃত নিবন্ধে আলতাফ পারভেজের বইয়ের বিশ্লেষণকে ভিত্তি করে এবং ঐতিহাসিক পটভূমির গভীর অনুসন্ধানের মাধ্যমে রাজপুত জাতির উৎপত্তির ইতিহাস, মোগল ও দারা শিকোহর সাথে তাদের সম্পর্ক, সিন্ধুতে ভুট্টো বংশের রাজনৈতিক বিকাশ, জুলফিকার আলী ভুট্টোর বর্ণাঢ্য-বিতর্কিত ব্যক্তিগত জীবন এবং পরিশেষে তাঁর করুণ ট্র্যাজিক পরিণতি পর্যন্ত সবিস্তারে আলোচনা করা হলো।
ভারতীয় উপমহাদেশের অদ্ভুত মানচিত্র ও রাজপুতদের উত্থান
ভারতবর্ষ এক আশ্চর্য সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের ভূখণ্ড। যুগ যুগ ধরে নানা বর্ণ, ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর সমাগমে গড়ে উঠেছে এই উপমহাদেশের সংস্কৃতি। প্রাচীন ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় 'ক্ষত্রিয়' অর্থাৎ যোদ্ধা শ্রেণী হিসেবে যাদের প্রতিপত্তি ছিল সবচেয়ে বেশি, তাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান জাতিগোষ্ঠী হলো 'রাজপুত'।
রাজপুতদের উৎস ও সমাজব্যবস্থা
'রাজপুত' শব্দটি মূলত সংস্কৃত 'রাজপুত্র' (রাজার পুত্র) শব্দ থেকে উৎসারিত। প্রাক-মধ্যযুগ থেকে শুরু করে মধ্যযুগ পর্যন্ত উত্তর ও পশ্চিম ভারতের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল শাসন করত বিভিন্ন রাজপুত রাজবংশ। রাজপুত জাতি নিজেদের সৌর, চন্দ্র কিংবা অগ্নি থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে বলে বিশ্বাস করে। তারা নিজেদের পরম বীরত্ব, দুর্ভেদ্য দুর্গ নির্মাণ, অশ্বারোহণে দক্ষতা এবং সম্মানের জন্য আত্মত্যাগের (যেমন: জৌহর ব্রত) জন্য ইতিহাসে বিখ্যাত ছিল।
তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ও রাজপুত সাম্রাজ্যের পতন
খ্রিষ্টপূর্ব ও মধ্যযুগের সন্ধিক্ষণে রাজপুত রাজারা ছোট ছোট খণ্ডরাজ্যে বিভক্ত হয়ে শাসন পরিচালনা করতেন। ১১৯২ সালে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে ঘুরি সাম্রাজ্যের শাসক মুইজউদ্দীন মুহাম্মদ ঘুরি শেষ শক্তিশালী রাজপুত রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান-কে পরাজিত করেন। এর মাধ্যমে উত্তর ভারতে একক রাজপুত রাজনৈতিক আধিপত্যের পতন ঘটে এবং সূচনা হয় দিল্লি সুলতানি আমলের।
তবে সাম্রাজ্য ভাঙলেও রাজপুতদের সামাজিক ও সামরিক প্রভাব শেষ হয়ে যায়নি। বিভিন্ন মুসলিম শাসক ও পরবর্তীকালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির সাথে সমঝোতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে রাজপুত রাজন্যবর্গ নিজেদের প্রভাব বজায় রেখেছিল।
মোগল রাজবংশ ও রাজপুতদের সুগভীর সম্পর্ক
মুসলিম শাসকদের মধ্যে রাজপুতদের সাথে সবচেয়ে দূরদর্শী, রাজনৈতিক ও পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন মোগল সম্রাটরা। বিশেষ করে সম্রাট আকবর অনুধাবন করেছিলেন যে, স্থানীয় রাজপুতদের সমর্থন ছাড়া বিশাল ভারত উপমহাদেশে মোগল রাজত্ব স্থায়ী করা সম্ভব নয়।
আকবরের দরবারে রাজপুতদের প্রভাব
আকবরের নবরত্ন সভায় শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের উল্লেখযোগ্য অংশই ছিলেন রাজপুত।
রাজা মানসিংহ: মোগল রাজকীয় সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি বা মনসবদার ছিলেন অ্যাম্বারের (জয়পুর) এই রাজপুত শাসক।
রাজা টোডরমল: আকবরের বিখ্যাত রাজস্ব ব্যবস্থা ও অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন রাজপুত বংশোদ্ভূত টোডরমল।
ভগবান দাস ও বীরবল: রাজকীয় নীতি নির্ধারণ ও সভাসদ হিসেবে তাঁরা ছিলেন সম্রাটের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
মোগল রক্তের সাথে রক্তমিশ্রণ
মোগল ও রাজপুতদের বৈবাহিক সম্পর্ক তৎকালীন রাজনীতির এক নতুন মাত্রা উন্মোচন করে। আকবরের প্রধান স্ত্রী এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের মা যোধাবাই (মরিয়ম-উজ-জমানি) ছিলেন রাজপুত রাজকন্যা। একইভাবে, সম্রাট শাহজাহানের মা জগৎ গোসাইনি (বিলকিস বেগম)-ও ছিলেন রাজপুত বংশোদ্ভূত।
এই সুদৃঢ় সম্পর্কের সুবাদেই মোগলরা অনেক প্রভাবশালী রাজপুত পরিবারকে স্বীয় ক্ষমতায়িত করতে 'খান' উপাধিতে ভূষিত করে। রাজপুতরাও তৎকালীন সামাজিক কাঠামোর শীর্ষে থাকা এই 'খান' উপাধি নিয়ে প্রবল গর্ববোধ করত।
দারা শিকোহ, শাহজাহানের উত্তরাধিকার যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন
মোগল ও রাজপুতদের সুবর্ণ সম্পর্কের এই ধারা বেশ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছিল। কিন্তু ঐতিহাসিক বাঁক পরিবর্তন ঘটে সম্রাট শাহজাহানের জীবনের শেষভাগে, যখন তাঁর পুত্রদের মধ্যে সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে এক রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়।
দারা শিকোহ: সুফিচেতনা ও উদার সাহিত্যিক মন
শাহজাহানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শাহজাদা দারা শিকোহ ছিলেন অত্যন্ত সুফিভাবাপন্ন, ধর্মীয় উদারপন্থী ও মেধাভিত্তিক চিন্তার অনুসারী। তিনি খুব অল্প বয়সেই সুফিবাদের গভীরে প্রবেশ করেন এবং প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত মিয়া মীর (লাহোরের কাদিরিয়া তরিকার সুফি)-এর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।
সাহিত্যিক অবদান: দারা শিকোহ সুফি সাধকদের জীবনী নিয়ে লিখেছেন ‘সাফিনাতুল আউলিয়া’ এবং কবিতার বই ‘তরিকৎ-উল-হকিকৎ’। উপরন্তু তিনি উপনিষদকে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন, যার নাম ছিল ‘সের্র-ই-আকবর’ (মহা রহস্য)।
উত্তরাধিকার যুদ্ধের পরিণতি ও ভুট্টোদের স্থানচ্যুতি
উত্তরাধিকারের এই যুদ্ধে দারা শিকোহর পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয় রাজপুতদের একটি বিশেষ গোত্র যারা ইতিহাসে ভুট্টো বা ভাট্টি নামে পরিচিত ছিল। যুদ্ধে ছোট ভাই আওরঙ্গজেব চরম সামরিক কৌশল ও চতুরতার মাধ্যমে দারা শিকোহকে পরাজিত করেন। খ্রিষ্টাব্দ ১৬৫৯ সালে দারা শিকোহর করুণ মৃত্যুদণ্ড ঘটে।
দারা শিকোহর পরাজয়ের সাথে সাথে তাঁকে সমর্থন জানানো রাজপুতদের ভুট্টো গোষ্ঠী চরম রাজনৈতিক সংকট ও কোণঠাসা অবস্থায় পড়ে। আওরঙ্গজেবের সম্ভাব্য ক্ষোভ ও প্রতিশোধের হাত থেকে বাঁচতে রাজপুতানার (রাজস্থান) জয়সলমের অঞ্চল থেকে এই ভুট্টো গোষ্ঠী পশ্চিম পাকিস্তানের সিন্ধু (Sindh) অঞ্চলের দিকে পাড়ি জমায়।
রাজপুত থেকে 'ভুট্টো': বংশ পরিক্রমা ও ইসলামের সংমিশ্রণ
রাজপুত একটি একক জাতি হলেও এটি তিনটি প্রধান ধারায় বিভক্ত সূর্যবংশী, চন্দ্রবংশী এবং অগ্নিবংশী। এই তিন প্রধান বংশের অধীনে মোট ৩৬টি ঐতিহ্যবাহী গোত্র বা কুল রয়েছে।
চন্দ্রবংশীয় ঐতিহ্য ও জয়সলমের
ভুট্টোরা মূলত চন্দ্রবংশীয় রাজপুত। রাজস্থানের ঐতিহাসিক মরু শহর জয়সলমের ছিল তাদের প্রধান বাসভূমি ও দুর্গ রক্ষা কেন্দ্র। প্রাচীনকালে ভারত থেকে মধ্য এশিয়া ও পারস্যে বাণিজ্যের প্রধান কাফেলা পথটি ছিল এই জয়সলমের শহরের ওপর দিয়ে। ভুট্টোরা তাদের অশ্বারোহণ এবং তলোয়ার চালনার দক্ষতার কারণে এই বাণিজ্যিক পথ ও দুর্গের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। লাহোরের ঐতিহাসিক প্রাচীরবেষ্টিত শহরের বিখ্যাত 'ভাটিয়া গেট' (Bhati Gate) তাদের ঐতিহ্য ও প্রদীপ্ত উপস্থিতির স্মৃতি বহন করে।
সিন্ধুতে ইসলাম গ্রহণ ও সাংস্কৃতিক রূপান্তর
রাজস্থান থেকে সিন্ধুতে হিজরতের পর দারা শিকোহর রেখে যাওয়া সুফি দর্শনের ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ধীরে ধীরে ভুট্টো পরিবার ইসলামের সান্নিধ্যে আসে।
মোগল আমল থেকেই মুসলিম ও রাজপুত রাজপরিবারগুলোর মধ্যে একটি বিরল সামাজিক চুক্তি প্রচলিত ছিল রাজপুত নারীরা নিজেদের সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস বজায় রেখেও মুসলিম রাজপুরুষদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারতেন। সিন্ধুতে বসতি স্থাপনের পর ভুট্টোরা নিজস্ব ক্ষত্রিয় ঐতিহ্য, সুফি দরবেশদের প্রতি ভক্তি এবং ইসলামী সংস্কৃতির এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটিয়ে নতুন এক 'কুলীন মুসলিম সামন্তীয় আভিজাত্য' তৈরি করে।
দোদা খান থেকে আধুনিক ভুট্টো রাজবংশ
সিন্ধুর মাটিতে পা রাখার পর ভুট্টোরা তাদের সামরিক ও তলোয়ারের দক্ষতাকে রূপান্তরিত করে জমিদারি ও রাজনৈতিক কূটকৌশলে।
ভুট্টো সামন্তীয় রাজবংশের বংশানুক্রম
│
দোদা খান
(অঢেল সম্পত্তির মূল প্রতিষ্ঠাতা)
│
...
│
শাহনেওয়াজ ভুট্টো
(সিন্ধুর প্রভাবশালী নেতা, নাইট উপাধি প্রাপ্ত)
│
জুলফিকার আলী ভুট্টো
(পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী)
│
┌────────┴──────────────┐
▼ ▼
বেনজীর ভুট্টো মুর্তজা ভুট্টো
(পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী) (রাজনীতিবিদ ও আল-জুলফিকারের নেতা)
│ │
বিলাওয়াল ভুট্টো ফাতিমা ভুট্টো
(আধুনিক পিপিপি নেতা) (প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও কবি)
দোদা খান: ভূসম্পত্তির ভিত্তিপ্রস্তর
জুলফিকার আলী ভুট্টো নিজে অত্যন্ত অনুসন্ধিৎসু মনের অধিকারী ছিলেন এবং নিজের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস অনুসন্ধান করে তাদের বারো বংশ পর্যন্ত খতিয়ান বের করেছিলেন। ভুট্টোর তথ্য মতে, তাদের বংশের দোদা খান নামক এক পূর্বপুরুষ সিন্ধুতে গিয়ে স্থানীয় জমির বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেন। ধীরে ধীরে দোদা খান অঢেল ভূসম্পত্তির মালিক হন এবং সিন্ধুর বিখ্যাত 'ওয়াদেরা' বা জমিদারি ব্যবস্থার অন্যতম শীর্ষে উঠে আসেন। এই দোদা খানের নাতির নাতিই ছিলেন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব জুলফিকার আলী ভুট্টো।
স্যার শাহনেওয়াজ ভুট্টো: আধুনিক রাজনীতির প্রবেশদ্বার
দোদা খানের পর তাদের উত্তরসূরিদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন জুলফিকারের পিতা স্যার শাহনেওয়াজ ভুট্টো। তিনি ছিলেন সিন্ধুর এক পরাক্রান্ত রাজনীতিবিদ, যিনি ব্রিটিশ আমলেই বোম্বে প্রেসিডেন্সি থেকে সিন্ধুকে আলাদা করার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জুনাগড় স্টেটের দেওয়ান (প্রধানমন্ত্রী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মুসলিম লীগের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী কণ্ঠস্বরে পরিণত হন।
জুলফিকার আলী ভুট্টো: ব্যক্তিগত জীবন, বিবাহ এবং বহুমাত্রিক সংকট
জুলফিকার আলী ভুট্টো (১৯২৮–১৯৭৯) ছিলেন পরিবারের এমন এক সদস্য, যাঁর মধ্যে রাজপুত বীরত্ব, সামন্তীয় দাম্ভিকতা, পশ্চিমা উচ্চশিক্ষা এবং প্রাচ্যের রাজনীতি এসে মিশেছিল। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বার্কলে) এবং অক্সফোর্ড থেকে আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে তিনি রাজনীতিতে পা রাখেন।
তিনটি বিয়ে ও জটিল পারিবারিক সমীকরণ
সামন্তীয় অভিজাত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় জুলফিকার আলী ভুট্টো একাধিক বিয়ে করেছিলেন, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনেও নানা সময় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে:
শিরিন আমির (প্রথম স্ত্রী): পারিবারিক জমিদারি এবং সম্পত্তি রক্ষা করার উদ্দেশ্যে মাত্র ১২ বছর বয়সে জুলফিকারের চেয়ে ১০ বছরের বড় দূরসম্পর্কের আত্মীয় শিরিন আমিরের সাথে তাঁর প্রথম বিয়ে দেওয়া হয়। এই বিয়েটি ছিল নিছক সামন্তীয় সমঝোতা।
নুসরাত ইস্পাহানী (দ্বিতীয় স্ত্রী): বোম্বেতে অবস্থানকালে জুলফিকারের পরিচয় হয় কুর্দি-ইরানি বংশোদ্ভূত সম্ভ্রান্ত শিয়া পরিবারের মেয়ে নুসরাত ইস্পাহানী-র সাথে। নুসরাত ছিলেন অত্যন্ত আধুনিক, উচ্চশিক্ষিতা এবং তীব্র রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন নারী। ভুট্টোকে পরবর্তীকালে পাকিস্তানের ক্ষমতার শীর্ষে তুলতে নুসরাতের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। ভুট্টো যখন জিয়াউল হকের কারাগারে বন্দী হন, তখন নুসরাত ভুট্টোই পাকিস্তান পিপলস পার্টি (PPP)-র হাল ধরেছিলেন।
হুসনা শেখ (তৃতীয় স্ত্রী): ঢাকার অধিবাসী আব্দুল আহাদের স্ত্রী হুসনা শেখের সাথে ভুট্টোর দীর্ঘ বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক পরবর্তীতে বিয়েতে রূপ নেয়। হুসনা শেখ নিজের দুটি সন্তান রেখে ভুট্টোর প্রেমে ঢাকা ছেড়ে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন।
মায়ের পরিচয় ও সামাজিক মানসিক সংকট
ভুট্টোর পিতা শাহনেওয়াজ ভুট্টোর দ্বিতীয় স্ত্রী অর্থাৎ জুলফিকারের মা লক্ষ্মীবাঈ (বিয়ের পর নাম খুরশীদ বেগম) ছিলেন জন্মসূত্রে জোধপুরের সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী। ফলে ভুট্টোর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা (বিশেষ করে কট্টর ইসলামী দলগুলো) তাঁকে প্রায়ই 'অ-মুসলিম নারীর সন্তান' বলে কটূক্তি ও রাজনৈতিক আক্রমণ করত। এই পরিচয়গত সংকট জুলফিকারকে সারাজীবন এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক হীনম্মন্যতা ও একই সাথে নিজের মুসলিম পরিচয় প্রমাণে অতিরিক্ত আগ্রাসী করে তুলেছিল।
ইস্কান্দর মির্জা, আইয়ুব খান ও পিপিপির জন্ম: ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ
পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার পর সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হতে থাকে। ব্রিটিশদের পলিটিক্যাল এজেন্ট ইস্কান্দর মির্জা পাকিস্তানের প্রথম বেসামরিক গভর্নর জেনারেল ও পরবর্তীতে প্রথম রাষ্ট্রপতি হন।
তরুণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইস্কান্দর মির্জা ও পরবর্তীতে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান-এর প্রিয়পাত্র হয়ে তরুণ বয়সেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন জুলফিকার আলী ভুট্টো। ১৯৫৮ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তানের ক্যাবিনেট মন্ত্রী হন এবং ১৯৬৩ সালে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। আইয়ুব খানের আমলে চীনের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন এবং ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর তাসখন্দ চুক্তি নিয়ে মতভেদের কারণে তিনি আইয়ুব মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
পিপিপি গঠন ও ‘ইসলামী সমাজতন্ত্র’
১৯৬৭ সালের ৩০ নভেম্বর লাহোরে জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তান পিপলস পার্টি (PPP) গঠন করেন। তিনি এক চতুর রাজনৈতিক স্লোগান উপস্থাপন করেন:
"ইসলাম আমাদের ধর্ম, সমাজতন্ত্র আমাদের অর্থনীতি, গণতন্ত্র আমাদের রাজনীতি এবং সমস্ত ক্ষমতা জনগণের হাতে।"
পশ্চিম পাকিস্তানের মেহনতি মানুষ, কৃষক, শ্রমিক এবং তরুণদের কাছে ভুট্টো এক জাদুকরী জননেতা (Populist Leader) হিসেবে আবির্ভূত হন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের অভ্যুদয় এবং ভুট্টোর ভূমিকা
১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পশ্চিম পাকিস্তানের সেনাশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান এবং পিপিপি প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টো ক্ষমতা হস্তান্তরে ঘোর ষড়যন্ত্র শুরু করেন।
"ইধার তুম, উদার হাম" এবং ৬ দফার বিরোধিতা
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৬ দফার চরম বিরোধী ছিলেন ভুট্টো। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শেখ মুজিবের হাতে ক্ষমতা দেওয়া মানে পশ্চিম পাকিস্তানের ওপর পূর্ব পাকিস্তানের আধিপত্য মেনে নেওয়া। লাহোরের এক পত্রিকায় ভুট্টোর বক্তব্যকে সংক্ষেপ করে শিরোনাম করা হয়েছিল "ইধার তুম, উদার হাম" (এদিকে তোমরা, ওদিকে আমরা)।
১৯৭১-এর গণহত্যা ও পরবর্তী পাকিস্তানের মসনদ
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর তাণ্ডব চলাকালে ভুট্টো ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অবস্থান করছিলেন। পরদিন সকালে ঢাকা ছাড়ার সময় তিনি মন্তব্য করেছিলেন, "আল্লাহকে ধন্যবাদ, পাকিস্তান বেঁচে গেল।"
কিন্তু তাঁর এই উক্তি মিথ্যা প্রমাণিত করে বাঙালি জাতি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র চার দিন পর, ২০ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে, চরম অপমানিত ও পর্যদুস্ত পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক জান্তা জেনারেল ইয়াহিয়ার কাছ থেকে জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের সিভিলিয়ান মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালের সংবিধানের অধীনে তিনি দেশটির প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হন।
রাজবংশীয় ট্র্যাজেডি: সেনা অভ্যুত্থান, ফাঁসি এবং পরবর্তী প্রজন্ম
রাজপুতদের রক্ত যাঁর ধমনীতে প্রবাহিত ছিল, সেই ক্ষমতাশালী জুলফিকার আলী ভুট্টোর শেষ পরিণতি হয়েছিল অত্যন্ত নির্মম ও করুণ।
জিয়াউল হকের উত্থান ও ফাঁসির মঞ্চ
জুলফিকার আলী ভুট্টো নিজের অনুগত ভেবে জেনারেল মোহাম্মদ জিয়াউল হক-কে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এটিই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। ১৯৭৭ সালে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে জিয়াউল হক এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ভুট্টোকে উৎখাত করেন।
এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের আষাঢ়ে ষড়যন্ত্রের মামলায় জিয়াউল হকের আদেশের সামরিক আদালত ১৯৭৯ সালের ৪ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডির জেলে জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলায়। রাজপুতদের এক গৌরবময় বংশধরের জীবনপ্রদীপ এভাবে অন্ধকার কারাগারে নিভে যায়।
অভিশপ্ত এক পরিবারের উত্তরসূরিগণ
ভুট্টোর ফাঁসির পরও এই পরিবারের ট্র্যাজেডি শেষ হয়নি:
শাহনেওয়াজ ও মুর্তজা ভুট্টো: ভুট্টোর দুই পুত্রই নির্মম পরিণতির শিকার হন। ছোট ছেলে শাহনেওয়াজ ফ্রান্সের প্যারাডাইসে রহস্যজনক বিষক্রিয়ায় মারা যান। বড় ছেলে মুর্তজা ভুট্টো ১৯৯৬ সালে নিজের বোন বেনজীর ভুট্টোর শাসনকালেই করাচিতে পুলিশের রহস্যজনক গুলিতে নিহত হন।
বেনজীর ভুট্টো: পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়া বেনজীর ভুট্টো ২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডির লিয়াকত বাগে এক নির্বাচনী জনসভা শেষে সন্ত্রাসী বোমা ও গুলি বর্ষণে নিহত হন।
ফাতিমা ভুট্টো (পরবর্তী প্রজন্ম): মুর্তজা ভুট্টোর কন্যা ফাতিমা ভুট্টো (জুলফিকার আলী ভুট্টোর নাতনি) রাজনীতির এই রক্তাক্ত পথ এড়িয়ে নিজেকে একজন প্রখ্যাত কবি, কলামিস্ট ও বিশ্বখ্যাত লেখিকায় রূপান্তরিত করেছেন। 'দারা শিকোহর সুফি ও কবি মন' যেন আবার ফিরে এসেছে ফাতিমা ভুট্টোর সাহিত্যকর্মে।
এক নজরে রাজপুত থেকে ভুট্টো রাজবংশের ক্রমবিকাশ
পাঠকদের সুবিধার জন্য রাজপুতদের সূচনা থেকে শুরু করে ভুট্টো পরিবারের ইতিহাস নিচে স্বসংগঠিত সারণীতে তুলে ধরা হলো:
ঐতিহাসিক পর্যায় / বিষয় | প্রধান বৈশিষ্ট্য ও বিবরণ | রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব |
উৎস ও জাতিগত পরিচয় | চন্দ্রবংশীয় 'রাজপুত' (ক্ষত্রিয় যোদ্ধা গোষ্ঠী); জয়সলমের, রাজস্থান | তলোয়ারচালনা, অশ্বারোহন ও বাণিজ্যিক পথ প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত |
মোগল সংযোগ ও খেতাব | আকবর-জাহাঙ্গীর-শাহজাহানের রাজত্বকাল; 'খান' উপাধি লাভ | মোগল দরবারে উচ্চ মর্যাদা ও রাজকীয় বিবাহের মাধ্যমে সামাজিক সমঝোতা |
দারা শিকোহর যুদ্ধ (১৬৫৯) | আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে শাহজাদা দারা শিকোহর পক্ষে অবস্থান | যুদ্ধে দারা শিকোহর পরাজয়ের পর রাজস্থান ছেড়ে সিন্ধুতে স্থানান্তর |
ইসলামী ধর্মান্তর ও সংস্কৃতি | সিন্ধুর সুফি সাধকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ | রাজপুত আভিজাত্য ও সুফি দর্শনের অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ |
সিন্ধুতে ভূসম্পত্তি (দোদা খান) | সিন্ধুতে জমিজমার বিরোধ নিষ্পত্তি ও অঢেল সম্পদের মালিকানা | সিন্ধুর সামন্তীয় 'ওয়াদেরা' ব্যবস্থার শীর্ষে আরোহণ |
ব্রিটিশ আমল (স্যার শাহনেওয়াজ) | জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, বোম্বে থেকে সিন্ধুকে আলাদা করার কারিগর | সর্বভারতীয় রাজনীতিতে ভুট্টো পরিবারের শক্তিশালী প্রবেশদ্বার |
জুলফিকার আলী ভুট্টো (১৯২৮–১৯৭৯) | পিপিপি (PPP)-র প্রতিষ্ঠাতা; পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী | ১৯৭১-এর বাংলাদেশে গণহত্যায় মদদ এবং পরবর্তীতে জিয়াউল হক কর্তৃক ফাঁসি |
ট্র্যাজিক উত্তরসূরিগণ | বেনজীর ভুট্টো, মুর্তজা ভুট্টো, শাহনেওয়াজ ভুট্টো | রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সামরিক ষড়যন্ত্র ও মর্মান্তিক মৃত্যুর পুনরাবৃত্তি |
আধুনিক যুগ (ফাতিমা ও বিলাওয়াল) | ফাতিমা ভুট্টো (সাহিত্যিক ও কবি) এবং বিলাওয়াল ভুট্টো (পিপিপি প্রধান) | সুফি-সাহিত্য ধারা এবং আধুনিক পাকিস্তান রাজনীতির দ্বিমুখী রূপায়ন |
আলতাফ পারভেজের বইয়ের আলোকে মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক বার্তা
লেখক আলতাফ পারভেজ তাঁর ‘জুলফিকার আলী ভুট্টো: দক্ষিণ এশিয়ার কুলীন রাজনীতির এক অধ্যায়’ গ্রন্থে অতি চমৎকারভাবে দেখিয়েছেন কীভাবে দক্ষিণ এশিয়ার সামন্ততন্ত্র নিজেকে আধুনিক গণতন্ত্রের মোড়কে পুনরুজ্জীবিত করে।
ভুট্টো পরিবারের এই রূপান্তর আমাদের শিক্ষা দেয়:
সামন্ততন্ত্র ও আধুনিকতার দ্বৈততা: জুলিফকার আলী ভুট্টো একাধারে অক্সফোর্ডের সুশীল গণতান্ত্রিক ভাষায় কথা বলতেন, আবার নিজের দেশে তিনি আচরণ করতেন সিন্ধুর চরম একচ্ছত্র সামন্তপ্রভুর মতো।
ইতিহাসের বিচার: যে ভুট্টো ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের গণতান্ত্রিক জয়ের তোয়াক্কা না করে পাকিস্তান ভাঙার অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিলেন, ইতিহাস তাঁকে অত্যন্ত নির্মমভাবে বিচার করেছে। নিজেরই হাতে গড়া সেনাপ্রধানের ফাঁসির দড়িতে তাঁকে জীবন দিতে হয়েছে।
উপসংহার
রাজস্থানের তপ্ত বালুকাবেলা থেকে শুরু হওয়া চন্দ্রবংশীয় রাজপুতদের এক যোদ্ধাগোষ্ঠী যে একদিন সিন্ধুর জলবায়ু পেরিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের শাসনদণ্ড হাতে নেবে তা হয়তো খ্রিষ্টপূর্ব বা মধ্যযুগের কোনো ইতিহাসবিদও কল্পনা করতে পারেননি। 'রাজপুত থেকে ভুট্টো' হয়ে ওঠার এই পরিক্রমা কেবল একটি পরিবারের গল্প নয়; এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ধর্ম, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, ক্ষমতা এবং রক্তাক্ত ট্র্যাজেডির এক জীবন্ত ইতিহাস।
জুলফিকার আলী ভুট্টো আজ আর বেঁচে নেই, কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসের পাতায় তাঁর স্থান চিরকাল বিতর্কিত ও আলোচিত হয়ে থাকবে। একদিকে তাঁর অসামান্য কূটনৈতিক দক্ষতা ও জনমোহিনী নেতৃত্ব, আর অন্যদিকে তাঁর সামন্তীয় অহংকার, স্বৈরাচারী মনোভাব এবং ১৯৭১-এ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অমানবিক ষড়যন্ত্র এই দুই মিলিয়েই তৈরি হয়েছে 'ভুট্টো' নামক ঐতিহাসিক চরিত্রটি। আলতাফ পারভেজের এই আখ্যান আমাদের শেখায় যে, ক্ষমতার শীর্ষে ওঠা কুলীন অভিজাতরাও যদি ইতিহাসের বিচার ও জনমতকে অস্বীকার করে, তবে প্রকৃতির নিয়মেই তাদের পতন হয় অত্যন্ত নির্মম ও ঐতিহাসিক।



















