স্ট্রিট ফাইটার (Street Fighter) মহাকাব্য – রিউয়ের সাধনা ও শ্যাডালুর সাম্রাজ্য

ভিডিও গেমের ইতিহাসে এমন কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়েছে যা কেবল একটি নির্দিষ্ট ঘরানাকে সংজ্ঞায়িত করে না, বরং বিশ্বজুড়ে গেমিং সংস্কৃতিকেই আমূল বদলে দেয়। ক্যাফকম (Capcom)-এর কালজয়ী সৃষ্টি ‘স্ট্রিট ফাইটার’ (Street Fighter) ঠিক তেমনই এক ঐতিহাসিক নাম। ১৯৮৭ সালের একটি সাধারণ আর্কেড গেম থেকে শুরু হয়ে কীভাবে ‘স্ট্রিট ফাইটার’ বিশ্বজুড়ে এক কালজয়ী গেমিং কালচারে পরিণত হলো? প্রথম দর্শনে এটিকে কেবল দুটি ফাইটারের মুখোমুখি লড়াই মনে হলেও, এর নেপথ্যে লুকিয়ে আছে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত এক মহাকাব্যিক কাহিনীর জটিল নেটওয়ার্ক।
থাইল্যান্ডের রিংয়ে সাগাতের বুকে রিউয়ের অনিয়ন্ত্রিত ‘সাতসুই নো হাদো’র মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ সংস্থা ‘শ্যাডালু’র উত্থান, এম. বাইসনের ধ্বংসাত্মক ‘সাইকো পাওয়ার’ এবং গোপন সংগঠন ‘ইলুমিনাতি’র বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের ছক স্ট্রিট ফাইটারের পৃথিবী প্রতিনিয়ত বদলেছে আলো ও অন্ধকারের চিরন্তন দ্বন্দ্বে। রিউয়ের আত্মিক সন্ধান, কেনের আনুগত্য, চুন-লির প্রতিশোধের আগুন কিংবা নতুন প্রজন্মের লুক ও জেমিদের আত্মপ্রকাশ প্রতিটি চরিত্রের লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে সুগভীর জীবনদর্শন।
১৯৮৭ সালের ‘ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড ওয়ারিয়র টুর্নামেন্ট’ থেকে শুরু করে মেট্রো সিটির সাম্প্রতিকতম যুগ পর্যন্ত স্ট্রিট ফাইটার ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিটি অধ্যায়, কালানুক্রমিক ঘটনা প্রবাহ এবং আইকনিক চরিত্রগুলোর আদি ও অন্ত নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের এই পোস্ট। চলুন, জেনে নেওয়া যাক বিশ্বসেরা মার্শাল আর্টিস্টদের এই রোমাঞ্চকর ইতিহাস।
Street Fighter (১৯৮৭): ওয়ার্ল্ড ওয়ারিয়র টুর্নামেন্টের সূচনা ও সাগাতের ক্ষত
১৯৮৭ সালের প্রথম ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ারিয়র টুর্নামেন্ট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল বিশ্ব মার্শাল আর্ট জগতের অশুভ রাজনৈতিক প্রভাব এবং আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা থেকে। মার্শাল আর্ট বিশারদ মাস্টার গোউকেন (Gouken)-এর দুই প্রধান শিষ্য—জাপানের রিউ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন মাস্টার্স তাদের গুরুপ্রদত্ত ‘আনসাতসুকেন’ (Ansatsuken বা Assassin's Fist) শৈলীকে বাস্তব লড়াইয়ে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে এতে অংশ নেয়। আনসাতসুকেন মূলত একটি প্রাচীন ও মরণঘাতী কৌশল হলেও গোউকেন এটিকে পরিবর্তন করে অহিংস ও আত্মরক্ষামূলক রূপ দিয়েছিলেন। টুর্নামেন্টে রিউ ও কেন একে একে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শক্তিশালী যোদ্ধাদের পরাজিত করে।
লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় রিউ মুখোমুখি হয় পরাস্ত করে জাপানের সাবেক শিন্টো সাধু রেতসু (Retsu), রহস্যময় নিনজা জেকি (Geki), আমেরিকান কিকবক্সার জো (Joe), বহিষ্কৃত পেশাদার বক্সার মাইক (Mike) এবং চীনা মার্শাল আর্টিস্ট লি (Lee)-কে। চূড়ান্ত লড়াইয়ে রিউ মুখোমুখি হয় তৎকালীন থাইল্যান্ডের অপরাজেয় মুয়ে থাই সম্রাট এবং টুর্নামেন্টের মূল আয়োজক সাগাতের।
সাগাতের অপ্রতিরোধ্য গতি ও প্রকাণ্ড শারীরিক শক্তির সামনে রিউ প্রায় পরাস্ত হতে চলেছিল। লড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে সাগাত রিউকে মাটিতে ফেলে বিজয়ী ভেবে দয়ার হাত বাড়িয়ে দেয়। তবে রিউয়ের মনের ভেতরে থাকা পরাজয়ের তীব্র ভয় ও দুর্বলতা তার ভেতরের সুপ্ত শয়তানি শক্তি ‘সাতসুই নো হাদো’ (Satsui no Hado)-কে জাগ্রত করে তোলে। এই অন্ধ শক্তির প্রভাবে মানসিক সচেতনতা হারিয়ে রিউ এক ঘাতক ‘মেতসু শো রিউকেন’ প্রহার করে সাগাতের বুকে। সাগাতের ছাতি চিরে রক্ত গড়িয়ে পড়ে এবং এক গভীর, স্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়। এই বিজয়ের মাধ্যমে রিউ প্রথম ওয়ার্ল্ড ওয়ারিয়র চ্যাম্পিয়ন নির্বাচিত হলেও, নিজের ভেতরের এই অনিয়ন্ত্রিত অন্ধকার সত্তা তার মনে চিরস্থায়ী অনুশোচনা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের এক কঠিন যুদ্ধের জন্ম দেয়।
এই যুগের বিস্তৃত চরিত্রসমূহ
রিউ (Ryu): অরিজিন-জাপান। রিউ কোনো নির্দিষ্ট ঘর বা অর্থসম্পদের পেছনে ছোটে না। মাস্টার গোউকেনের অধীনে শৈশব থেকে প্রশিক্ষিত রিউ আনসাতসুকেনের তিনটি মূল কৌশল হাদোকেন (Hadoken), শোরিউকেন (Shoryuken) এবং সাতসুমাকি সেনপুকিয়াকু (Tatsumaki Senpukyaku) নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করেছে। সাগাতকে পরাজিত করার পর থেকে রিউয়ের জীবনের প্রধান লক্ষ্য কেবল বিশ্বসেরা হওয়া নয়, বরং নিজের আত্মাকে ‘সাতসুই নো হাদো’-র অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখা। সে প্রতিনিয়ত বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করে এবং নিজের ভিতরের কালচে অন্ধকার শক্তিকে জয় করার সাধনা চালায়।
কেন মাস্টার্স (Ken Masters): অরিজিন-যুক্তরাষ্ট্র। কেন বিলাসবহুল ও প্রভাবশালী মাস্টার্স পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তার বাবা তাকে শৃঙ্খলা শেখানোর জন্য গোউকেনের আশ্রয়ে পাঠান। রিউয়ের সাথে কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কেন তার ভাইতুল্য বন্ধু এবং জীবনের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। রিউয়ের মতো শান্ত ও গম্ভীর না হয়ে কেন অত্যন্ত চঞ্চল, নাটকীয় ও আত্মবিশ্বাসী। তার আনসাতসুকেন শৈলী রিউয়ের চেয়ে অধিক আক্রমণাত্মক ও গতিশীল, যা পরবর্তীতে তার বিশেষ ‘ফ্লেমিং শোরিউকেন’ কৌশলে রূপ নেয়। টুর্নামেন্টের পর কেন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গিয়ে তার প্রেমিকা এলাইজা (Eliza)-কে বিয়ে করে এবং পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি লড়াই অব্যাহত রাখে।
সাগাত (Sagat): অরিজিন-থাইল্যান্ড। "কিং অব মুয়ে থাই" নামে পরিচিত সাগাত তার দীর্ঘাকায় শরীর এবং নিখুঁত আঘাতের জন্য খ্যাত ছিল। রিউয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত পরাজয় এবং বুকে স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন তৈরি হওয়া তার অগাধ অহংকারে প্রচণ্ড আঘাত হানেন। রিউকে পরাস্ত করার নেশায় সাগাত পরবর্তীতে নিজের মুয়ে থাই কৌশলে পরিবর্তন এনে আবিষ্কার করে ‘টাইগার শট’ (Tiger Shot) ও ‘টাইগার আপারকাট’ (Tiger Uppercut)। এই প্রতিশোধের অন্ধ মানসিকতা তাকে পরবর্তীতে এম. বাইসন (M. Bison)-এর আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র ‘শ্যাডালু’ (Shadaloo)-তে যোগ দিতে বাধ্য করে।
অ্যাডন (Adon): অরিজিন-থাইল্যান্ড। সাগাতের প্রধান শিষ্য হিসেবে অ্যাডন তার গুরুর মতো মুয়ে থাই শিখলেও তার লড়াইয়ের ধরন ছিল অনেক বেশি চপল, দ্রুত এবং প্রাণঘাতী। সে নিজের তৈরি ‘জাগুয়ার কিক’ (Jaguar Kick) ও ‘জাগুয়ার টুথ’ (Jaguar Tooth) কৌশলের জন্য পরিচিত। সাগাতের কাছে রিউয়ের পরাজয়কে অ্যাডন গুরুর চরম দুর্বলতা বলে গণ্য করে। সাগাতের প্রতি তীব্র ক্ষোভ থেকে সে গুরুর আনুগত্য ত্যাগ করে এবং নিজেকে আসল ‘মুয়ে থাই কিং’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে নিজস্ব পথে চলা শুরু করে।
জেন (Gen): অরিজিন-চীন। চীনা মার্শাল আর্টের কিংবদন্তি এবং সাবেক পেশাদার আততায়ী জেন দুটি পৃথক মরণঘাতী কৌশল ব্যবহার করে সো রিউ (Souryu বা Mantis Style) এবং জা রিউ (Jaryu বা Crane Style)। জেন ইন্টারপোলের গোয়েন্দা ও চুন-লি (Chun-Li)-র পিতা ডোরাই (Dorai)-এর পুরনো পরিচিত ছিল। জীবনসন্ধ্যায় প্রাণঘাতী ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে জেন বুঝতে পারে তার জীবন প্রদীপ নিভে আসছে। সাধারণ কোনো বিছানায় মৃত্যু গ্রহণ না করে, সমকক্ষ কোনো শক্তিশালী যোদ্ধার সাথে মুখোমুখি মৃত্যুর লড়াইয়ে (Fight to the death) প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে টুর্নামেন্টে অংশ নেয়।
বার্ডি (Birdie): অরিজিন-যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের আন্ডারওয়ার্ল্ডের বার্ডি প্রথমে একজন পেশাদার রেসলার ছিল। পরবর্তীতে সহিংস আচরণের কারণে রেসলিং থেকে বহিষ্কৃত হয়ে সে অপরাধ জগতের বাউন্সার হিসেবে কাজ শুরু করে। প্রকাণ্ড দেহের অধিকারী এই যোদ্ধা তার ধাতব শিকল ও পৈশাচিক শক্তি ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে কাবু করে। সে মূলত অর্থ, ক্ষমতা ও খাবারের লোভে আন্তর্জাতিক অপরাধ সংস্থা শ্যাডালুর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিল।
ঈগল (Eagle): অরিজিন-যুক্তরাজ্য। অত্যন্ত সুমার্জিত পোশাক ও মার্জিত আচরণের অধিকারী ঈগল একজন অভিজ্ঞ ব্রিটিশ সিক্রেট এজেন্ট ও বডিগার্ড। ডাবল এসক্রিমা স্টিক (Escrima Sticks বা জোড়া লাঠি) চালনায় সে অনন্য। সাগাতের পৃষ্ঠপোষকতায় চলা সিন্ডিকেটের গোপন তথ্য উন্মোচন করা এবং ধনকুবের ক্লায়েন্টদের স্বার্থ রক্ষা করার একটি বিশেষ মিশনে সে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়।
রেতসু (Retsu): অরিজিন-জাপান। সাবেক শিন্টো সন্ন্যাসী রেতসু নিষিদ্ধ ও হিংসাত্মক ‘শোয়েরিনজি কেম্পো’ (Shorinji Kempo) কৌশল অনুশীলনের কারণে আশ্রম থেকে বিতাড়িত হয়েছিল। মাস্টার গোউকেনের প্রাচীন পরিচিত হওয়ায় সে রিউয়ের আনসাতসুকেন শৈলীর শক্তি ও রিউয়ের মানসিক পরিপক্বতা যাচাই করার জন্য লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়।
জেকি (Geki): অরিজিন-জাপান। রহস্যময় নিনজুৎসু (Ninjutsu) কৌশলে পারদর্শী এই নিনজা তার হাতে থাকা ধাতব থাবা (Claw), শুরিকেন এবং নিমিষেই গায়েব হয়ে যাওয়ার কৌশলের জন্য পরিচিত। টুর্নামেন্টের অন্যতম নীরব কিন্তু প্রাণঘাতী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সে রিউয়ের মুখোমুখি হয়েছিল।
মাইক (Mike): অরিজিন-যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক হেভিওয়েট পেশাদার প্রফেশনাল বক্সার মাইক রিংয়ের ভেতরে প্রতিপক্ষকে মারাত্মক জখম করার অপরাধে অফিশিয়াল বক্সিং সার্কিট থেকে নিষিদ্ধ হয়। নিজের বিধ্বংসী মুষ্টির জোর পরীক্ষা করতে এবং অর্থের সংস্থান করতে সে প্রথম টুর্নামেন্টে অংশ নেয়।
লি (Lee): অরিজিন-চীন। চীনের ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্টে দক্ষ প্রবীণ যোদ্ধা লি পরবর্তীতে স্ট্রিট ফাইটারের বিখ্যাত চরিত্র ইউন (Yun) ও ইয়াং (Yang)-এর জেঠা হিসেবে পরিচিত। সে মূলত নিজের চীনা ট্র্যাডিশনাল কুনফু কৌশলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের উদ্দেশ্যে সাগাতের টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিল।
Street Fighter Alpha Series (Zero): শ্যাডালুর উত্থান ও অন্ধকারের সাথে সংগ্রাম
কালানুক্রমিকভাবে (Chronologically) ‘স্ট্রিট ফাইটার আলফা’ (Zero) সিরিজের কাহিনীটি প্রথম গেম এবং দ্বিতীয় গেমের মধ্যবর্তী সময়ে ঘটেছিল। প্রথম টুর্নামেন্টের পর বিশ্বজুড়ে এক নতুন হুমকির সূচনা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধমূলক সিন্ডিকেট ‘শ্যাডালু’ (Shadaloo)-এর প্রধান এম. বাইসন তার ধ্বংসাত্মক ‘সাইকো পাওয়ার’ (Psycho Power) আরও বাড়ানোর জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তথ্য ও জৈব-রসদ জোগাড় করতে শুরু করে।
একদিকে এম. বাইসনের ক্ষমতা বৃদ্ধির সূচনা ও তার বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর চার্লি ন্যাশ এবং চীনের ইন্টারপোল অফিসার চুন-লির প্রাথমিক গোপন অভিযান, অন্যদিকে রিউয়ের নিজস্ব মানসিক সংগ্রাম এই দুই ধারা এখানে একত্রিত হয়। রিউ তার ওস্তাদ গোউকেনের ভাই আকুমা (Akuma)-র মুখোমুখি হয়, যিনি সম্পূর্ণভাবে ‘সাতসুই নো হাদো’ গ্রহণ করেছেন। আকুমা রিউকে বোঝাতে চায় যে বিশুদ্ধ শক্তির একমাত্র পথ হলো নিজের মানবতা ত্যাগ করে অন্ধকারের শক্তিকে আলিঙ্গন করা। এই যুগটি মূলত আলো ও অন্ধকারের দ্বন্দ্ব, চার্লি ন্যাশের আত্মত্যাগ এবং শ্যাডালুর বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক বিস্তারের পটভূমি।
এই যুগের প্রধান চরিত্রসমূহ
আকুমা / গোউকি (Akuma / Gouki): অরিজিন-জাপান। রিউ ও কেনের ওস্তাদ গোউকেনের ছোট ভাই। সম্পূর্ণ মানবতা বিসর্জন দিয়ে সে ‘সাতসুই নো হাদো’ অর্জন করে এবং ‘শুন গোকু সাতসু’ (Raging Demon)-র মতো প্রাণঘাতী কৌশল আয়ত্ত করে। সে তার ভাই গোউকে হত্যা করে এবং রিউয়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার শক্তিকে উস্কে দিয়ে তাকে এক চূড়ান্ত যুদ্ধক্ষেত্রে টেনে আনতে চায়। আলফা যুগে প্রাচীন শারীরিক ব্যাধিতে আক্রান্ত মোটা চালের যোদ্ধা জেন (Gen)-এর সাথেও আকুমার এক রক্তক্ষয়ী লড়াই সংঘটিত হয়।
চার্লি ন্যাশ (Charlie Nash): অরিজিন-যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমান বাহিনীর ফার্স্ট ল্যাফটেনেন্ট এবং গেইলের (Guile) সামরিক গুরু ও পরম বন্ধু। ন্যাশ শ্যাডালুর দুর্নীতি ও সামরিক প্রভাব উদ্ঘাটনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাইসনের মুখোমুখি হতে একা শ্যাডালু ঘাঁটিতে হামলা চালান এবং 'সাইকো ড্রাইভ' ধ্বংস করার অভিযানে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। তার ব্যবহৃত কৌশলগুলোর উপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে গেইল তার ফাইটিং স্টাইল গড়ে তোলেন।
এম. বাইসন / ভেগা (M. Bison): অরিজিন-অজানা। শ্যাডালুর নির্মম একনায়ক। নিজের শক্তি অসীম করতে সে মন থেকে সমস্ত ইতিবাচকতা বের করে দেয়। বাইসন ‘ডল’ (Dolls) প্রজেক্টের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণীদের অপহরণ করে মগজ ধোলাই করত, যাতে তার বর্তমান শরীর ধ্বংস হলে সে তাদের মধ্যে কোনো একজনের শরীরে নতুন করে প্রাণ ধারণ করতে পারে।
রিউ (Ryu): অরিজিন-জাপান। প্রথম টুর্নামেন্টে সাগাতকে হারানোর পর রিউ বুঝতে পারে যে সে অজান্তেই ‘সাতসুই নো হাদো’-র শিকার হয়েছিল। আলফা যুগে রিউ তার ভেতরের অন্ধকার রূপ (Evil Ryu)-কে দমন করতে বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ায়। এই যাত্রায় কেন তাকে তার লাল রিবনটি উপহার দেয়, যা রিউকে সবসময় মানসিক সংযম বজায় রাখতে স্মরণ করিয়ে দেয়।
কেন মাস্টার্স (Ken Masters): অরিজিন-যুক্তরাষ্ট্র। রিউয়ের সতীর্থ এবং সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। রিউয়ের মানসিক অস্থিরতা দেখে কেন তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে এবং আলফা ২-এ তাদের লড়াইয়ের পর নিজের মাথার লাল ব্যান্ডানাটি রিউকে বেঁধে দেয়, যা পরবর্তীতে রিউয়ের আইকনিক পোশাকের অংশে পরিণত হয়।
চুন-লি (Chun-Li): অরিজিন-চীন। ইন্টারপোলের একজন তরুণ ও দক্ষ তদন্তকারী কর্মকর্তা। তার বাবা ডোরাই (Dorai)-এর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে শ্যাডালুর হাত রয়েছে জানতে পেরে সে বাইসনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ ও বিচারের লড়াইয়ে নামে।
রোজ (Rose): অরিজিন-ইতালি। ইতালির জেনোয়ার ভাগ্যগণনাকারী। এম. বাইসন যখন তার ভেতর থেকে সমস্ত দয়া ও মানবিকতা বের করে ফেলেছিল, সেই ইতিবাচক অবশিষ্টাংশ থেকে জন্ম নেয় ‘সোল পাওয়ার’ সমৃদ্ধ রোজ। বাইসনকে ধ্বংস করার একমাত্র উপায় যে নিজের আত্মত্যাগের মধ্যেই নিহিত, তা রোজ উপলব্ধি করতে পেরেছিল।
সাকুরা কাসুগানো (Sakura Kasugano): অরিজিন-জাপান। একজন দুরন্ত হাইস্কুল ছাত্রী, যে প্রথম টুর্নামেন্টের লড়াই দেখে রিউয়ের ভক্ত হয়ে যায়। সে ভিডিও টেপ দেখে রিউয়ের লড়াইয়ের কৌশল অনুকরণ করে ‘শৌওকেন’ ও ‘হাদোকেন’-এর নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করে এবং রিউকে খুঁজে বের করার অভিযানে নেমে পড়ে।
কারিন কানজুকি (Karin Kanzuki): অরিজিন-জাপান। বিশ্বখ্যাত 'কানজুকি কর্পোরেশন'-এর উত্তরাধিকারী এবং সাকুরার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। সে নিজের পারিবারিক কম্ব্যাট আর্ট ‘কানজুকি-রিউ’ তৈরি করে। সাকুরার কাছে এক লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর সে সাকুরাকে নিজের একমাত্র উপযুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে এবং তাকে টেক্কা দেওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যায়।
ডান হিবিকি (Dan Hibiki): অরিজিন-হংকং / জাপান। সাগাতের হাতে বাবা গো হিবিকি নিহত হওয়ার পর ডান প্রতিশোধের নেশায় উন্মাদ হয়ে যায়। তবে দুর্বল কমব্যাট স্কিলের কারণে তাকে গোউকেন তার দো জো থেকে বের করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সে নিজস্ব ‘সাইকিও-রিউ’ (সর্বোত্তম স্টাইল) প্রতিষ্ঠা করে, যা মূলত আত্মপ্রচারের এক অদ্ভুত ও হাস্যরসাত্মক প্রয়াস।
কোডি ট্রাভার্স (Cody Travers): অরিজিন-যুক্তরাষ্ট্র। মেট্রো সিটির সাবেক নায়ক, যে একসময় ম্যাড গিয়ার গ্যাং ধ্বংস করেছিল। শান্তির সময়ে স্ট্রিট ফাইটিংয়ের নেশা ছাড়তে না পেরে সে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে এবং জেলখানায় বন্দি হয়। সে জেলের বন্দিশালা থেকে যখন-তখন পালিয়ে হাতে হাতকড়া পরা অবস্থাতেই লড়াইয়ে মেতে ওঠে।
গাই (Guy): অরিজিন-জাপান। বুশিনরিউ নিঞ্জিৎসুর ৩৯তম গ্র্যান্ডমাস্টার। মেট্রো সিটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার পর সে বিশ্বজুড়ে শ্যাডালুর অশুভ শক্তির বিস্তার রুখতে ছায়ের মতো নিঃশব্দে লড়াই চালিয়ে যায়।
সডোম (Sodom): অরিজিন-যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক ‘ম্যাড গিয়ার’ গ্যাংয়ের প্রভাবশালী নেতা। জাপানি সংস্কৃতির প্রতি তীব্র অনুরাগ থাকলেও সে প্রায়শই ভুল জাপানি পরিভাষা ও বেশভূষা ব্যবহার করে। সে শ্যাডালুর সহযোগিতায় নিজের পুরনো গ্যাং পুনর্গঠন করতে চেয়েছিল।
জুলিয়েট ও জুনি (Juli & Juni): অরিজিন-জার্মানি (জুলিয়েট) ও অস্ট্রিয়া (জুনি)। এম. বাইসনের 'ডলস' (Dolls) প্রজেক্টের অধীনস্থ মগজধোলাই করা দুই ঘাতক। সাইকো পাওয়ারের সুতায় বাঁধা পড়ে তারা বাইসনের যেকোনো অন্ধ নির্দেশ পালন করতে প্রস্তুত ছিল।
ক্যামি / কিলার বি (Cammy / Killer Bee): অরিজিন-যুক্তরাজ্য। শ্যাডালুর ল্যাবরেটরিতে তৈরি বাইসনের এক ক্লোন ও ডল প্রজেক্টের সদস্য। আলফা ৩-এ ক্যামি তার হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি ফিরে পেতে শুরু করে এবং বাইসনের নিয়ন্ত্রণ থেকে নিজেকে ও অন্যান্য 'ডল'দের মুক্ত করার লড়াইয়ে নেমে পড়ে।
সাগাত (Sagat): অরিজিন-থাইল্যান্ড। মুয়ে থাইয়ের সম্রাট। প্রথম টুর্নামেন্টে রিউয়ের 'সাতসুই নো হাদো' চালিত ড্রাগন পাঞ্চে বুকে বিশাল ক্ষতচিহ্ন নিয়ে সাগাত প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছিল। শ্যাডালুতে যোগ দিলেও পরবর্তীতে বাইসনের অশুভ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে সে নিজের আত্মসম্মান ও একজন সত্যিকারের যোদ্ধার মর্যাদা ফিরে পাওয়ার সংগ্রাম শুরু করে।
Street Fighter II Series (১৯৯১): শ্যাডালু সাম্রাজ্য, সাইকো পাওয়ার ও বৈশ্বিক বিপ্লব
প্রথম টুর্নামেন্টের অভূতপূর্ব সাফল্য এবং আলফা যুগের বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ও সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট ‘শ্যাডালু’ (Shadaloo)-এর একচ্ছত্র অধিপতি এম. বাইসন তার অলৌকিক ও নেতিবাচক মানস-শক্তি ‘সাইকো পাওয়ার’ (Psycho Power)-এর চূড়ান্ত প্রয়োগ ঘটাতে ‘দ্বিতীয় বিশ্ব স্ট্রিট ফাইটিং টুর্নামেন্ট’ (The Second World Warrior Tournament)-এর আয়োজন করে। গেমিং ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এই প্রতিযোগিতাটি কেবল কোনো খেলাধুলা বা সম্মান অর্জনের মঞ্চ ছিল না, বরং এর পেছনে ছিল এম. বাইসনের এক গভীর ও ভয়াবহ রাজনৈতিক-সামরিক ভূ-কৌশলগত চক্রান্ত:
নতুন অশুভ বাজারের বিস্তার: শ্যাডালুর ল্যাবরেটরিতে তৈরি রাসায়নিক মারণাস্ত্র, বায়ো-ওয়েপন, ক্ষতিকর ড্রাগস এবং ব্ল্যাক মার্কেটের অবৈধ সমরাস্ত্র বিক্রির জন্য বিশ্বব্যাপী একটি নতুন ও নিয়ন্ত্রিত বাজার তৈরি করা।
সাইকো পাওয়ারের দাস বানানো: পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মার্শাল আর্টিস্টদের একই টুর্নামেন্টে বন্দি করে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি শোষণের মাধ্যমে বাইসনের নিজস্ব 'সাইকো ড্রাইভ' ডিভাইসকে চার্জ করা এবং তাদের মগজ ধোলাই (Brainwashing) করে নিজস্ব ব্যক্তিগত সেনা বা ডল (Dolls) স্কোয়াডে রূপান্তর করা।
প্রতিরোধ নির্মূল করা: যেসব রাজনৈতিক নেতা, সামরিক কর্মকর্তা বা স্বাধীন যোদ্ধা শ্যাডালুর একচ্ছত্র আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, টুর্নামেন্টের আন্তর্জাতিক রিংয়েই কোনো ধরনের আইনি জটিলতা ছাড়া তাদের চিরতরে হত্যা করা।
বাইসনের এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও হিংস্র চক্রান্ত পরিচালিত হতো তার চার শীর্ষ সেনাপতি বা 'ফোর হেভেনলি কিংস' (Four Heavenly Kings) বাইসন নিজে, স্প্যানিশ আততায়ী ভেগা, হিংস্র বক্সার বালরোগ এবং মুয়ে থাই সম্রাট সাগাট-এর মাধ্যমে। তবে বাইসনের এই অশুভ নকশা টের পেয়ে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্ত থেকে বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধারা নিজস্ব ব্যক্তিগত লক্ষ্য, আদর্শ ও প্রতিশোধের আগুন নিয়ে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
এই যুগের প্রধান চরিত্রসমূহ
রিউ (Ryu): অরিজিন-জাপান। স্ট্রিট ফাইটার সিরিজের মূল নায়ক ও পরিব্রাজক মার্শাল আর্টিস্ট। সে প্রাচীন বিপজ্জনক যুদ্ধরীতি 'আনসাতসুকেন' (Ansatsuken)-এর ধারক। পূর্ববর্তী টুর্নামেন্টে সাগাটকে পরাস্ত করার পর সে কোনো ধন-সম্পদ বা খ্যাতির পেছনে না ছুটে কেবল যুদ্ধবিদ্যার মূল সত্য অনুসন্ধানে বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ায়। সে নিজের ভেতরের সুপ্ত অন্ধকার শক্তি 'সাতসুই নো হাডো' (Satsui no Hado)-কে সংবরণ করার জন্য ক্রমাগত আত্মসংযম ও সাধনা চালিয়ে যাচ্ছে। তার তৈরি 'হাডোকেন' (Hadoken) ও 'শোরিউকেন' (Shoryuken) যুদ্ধকৌশলের বৈশ্বিক মানদণ্ড।
কেন মাস্টার্স (Ken Masters): অরিজিন-যুক্তরাষ্ট্র। রিউয়ের গুরুভাই, নিকটতম বন্ধু এবং চিরন্তন প্রতিদ্বন্দ্বী। আমেরিকার অত্যন্ত ধনী মাস্টার্স পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও সে আনসাতসুকেন শৈলীতে অত্যন্ত পারদর্শী। রিউয়ের স্থির ও গম্ভীর স্বভাবের বিপরীতে কেন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী, দ্রুতগামী এবং তার 'ফ্লেমিং শোরিউকেন' বা আগুনে ভরপুর আপারকাটের জন্য খ্যাত। পরিবারের দায়িত্ব ও প্রিয়তমা স্ত্রী এলিজার প্রতি ভালোবাসা থাকলেও নিজের যুদ্ধদক্ষতা প্রমাণের টানে সে আবারও রিংয়ে ফিরে আসে।
এম. বাইসন (M. Bison): অরিজিন-অজানা (সম্ভবত পূর্ব ইউরোপীয়)। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী 'শ্যাডালু'-এর নিষ্ঠুর, স্বৈরাচারী ও আধিপত্যকামী প্রধান। সে 'সাইকো পাওয়ার' নামক এক ভয়াল নেতিবাচক শক্তি ব্যবহার করে, যা মানুষের ঘৃণা, ভয় ও অন্ধকার আবেগ থেকে চালিত হয়। এই শক্তি ধারণ করতে গিয়ে সে তার নিজস্ব মানবীয় অনুভূতির ইতিবাচক অংশগুলোকে আত্মাহুতি দিয়েছে। পৃথিবীর সমস্ত দেশের সামরিক, গোয়েন্দা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধসিয়ে দিয়ে নিজের বৈশ্বিক শাসন প্রতিষ্ঠা করাই তার মূল উদ্দেশ্য।
চুন-লি (Chun-Li): অরিজিন-চীন। ইন্টারপোলের (Interpol) একজন দক্ষ স্পেশাল এজেন্ট এবং গেমিং ইতিহাসের প্রথম প্রধান নারী যুদ্ধ চরিত্র। তার বাবা ডোরিন ছিলেন একজন সম্মানীয় আইসিপিও পুলিশ অফিসার, যিনি শ্যাডালুর রহস্য তদন্ত করতে গিয়ে এম. বাইসনের হাতে গুম ও নিহত হন। চুন-লি তার বাবার হত্যার চরম প্রতিশোধ নিতে, পরিবারের বিচার নিশ্চিত করতে এবং শ্যাডালুকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে লড়াই করে। তার দ্রুতগতির পা চালনা এবং আইকনিক 'হাইকুশো কিক' (Hyakuretsukyaku) শ্যাডালু বাহিনীকে কাঁপিয়ে তোলে।
গাইল (Guile): অরিজিন-যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমান বাহিনীর (US Air Force) একজন নিষ্ঠাবান ও কঠোর মানসিকতার মেজর। তার ঘনিষ্ঠ মিত্র, সহযোদ্ধা ও সামরিক গুরু চার্লি ন্যাশকে এম. বাইসন নৃশংসভাবে হত্যা করায় গাইল প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে ওঠে। বাইসনকে নিজ হাতে খতম করার শপথে সে তার শান্তিকামী পরিবারকেও পেছনে ফেলে আসে। তার সিগনেচার 'সোনিক বুশ' (Sonic Boom) এবং 'ফ্ল্যাশ কিক' শ্যাডালুর বিরুদ্ধে বিমান বাহিনীর সবচেয়ে মারাত্মক অস্ত্র।
জ্যাঙ্গিফ (Zangief): অরিজিন-রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন)। 'দ্য রেড সাইক্লোন' নামে পরিচিত বিশাল আকৃতির একজন বিশ্বমানের রেসলার। সে সাইবেরিয়ার প্রচণ্ড মাইনাস ডিগ্রির বরফাবৃত জঙ্গলে বিশাল আকৃতির বুনো ভাল্লুকের সাথে মল্লযুদ্ধ করে নিজের পেশী ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করেছে। সে কোনো নিজস্ব অর্থ বা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য লড়াই করে না; রাশিয়া ও তার দেশের মানুষের মর্যাদা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা এবং বাইসনের মতো অত্যাচারীর হাত থেকে বিশ্বকে রক্ষা করাই তার লক্ষ্য। তার ঘূর্ণায়মান 'স্পিনিং পিলড্রাইভার' প্রতিপক্ষের হাড়গোড় চূর্ণ করে দেয়।
ব্ল্যাঙ্কা (Blanka): অরিজিন-ব্রাজিল। আসল নাম জিমি। শৈশবে এক রহস্যময় বিমান দুর্ঘটনায় আমাজনের বুনো জঙ্গলে বিচ্যুত হয়ে পড়ে এবং বন্য হিংস্র পরিবেশেই বেড়ে ওঠে। অনবরত আমাজন নদীর বৈদ্যুতিক ইলের সাথে যুদ্ধ করা ও বুনো গাছপালার রাসায়নিক ক্রিয়ায় তার গায়ের চামড়া সবুজ রং ধারণ করে এবং সে শরীরে উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাকৃতিক ক্ষমতা অর্জন করে। সে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে যাতে তার হিংস্র আক্রমণের খবর টিভিতে দেখে তার হারিয়ে যাওয়া মা তাকে চিনতে পারেন।
ধালসিম (Dhalsim): অরিজিন-ভারত। ভারতের এক অতি দরিদ্র গ্রামের অহিংস ও শান্তিকামী যোগ গুরু। অত্যন্ত আধ্যাত্মিক ও সহিংসতাবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও নিজ গ্রামের শিশু ও মানুষদের চরম দারিদ্র্য, সুপেয় পানির হাহাকার এবং মারাত্মক মহামারীর ওষুধের খরচ জোগাতে সে টুর্নামেন্টের প্রাইজ মানির তাগিদে রিংয়ে নামতে বাধ্য হয়। কঠোর যোগ সাধনার মাধ্যমে সে তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অস্বাভাবিক দূরত্বের অনায়াসে প্রসারিত করতে পারে এবং অগ্নিদেবতার কৃপায় মুখ দিয়ে জ্বলন্ত 'যোগ ফায়ার' নিঃসরণ করতে সক্ষম।
ই. হোন্ডা (E. Honda): অরিজিন-জাপান। পূর্ণ নাম এডমন্ড হোন্ডা, একজন পেশাদার র্যাংকপ্রাপ্ত সুমো পালোয়ান যিনি 'ওজেকি' উপাধিতে ভূষিত। জাপানের ঐতিহ্যবাহী সুমো কুস্তিকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং বৈশ্বিক অলিম্পিক-মানের মার্শাল আর্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য। টুর্নামেন্টের বিশ্বমঞ্চকে সে সুমোর অসীম শারীরিক শক্তি ও নিখুঁত টেকনিক প্রমাণের সেরা মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়। তার অতি দ্রুতগতির 'হান্ড্রেড হ্যান্ড স্ল্যাপ' যেকোনো শক্ত প্রতিরক্ষাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
বালরোগ (Balrog): অরিজিন-যুক্তরাষ্ট্র। পেশাদার বিশ্ব হেভিওয়েট বক্সিং রিঙে তার প্রতিপক্ষকে ইচ্ছাকৃতভাবে স্থায়ী পঙ্গুত্ব প্রদান এবং রিংয়ের নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ হওয়া এক হিংস্র বক্সার। অঢেল অর্থ, নারীদের সান্নিধ্য এবং বিলাসী জীবনের চরম লোভে সে শ্যাডালু সংস্থায় যোগ দেয় এবং এম. বাইসনের প্রধান বলপ্রয়োগকারী এক্সিকিউটিভ ও বডিগার্ড হিসেবে কাজ শুরু করে।
ভেগা (Vega): অরিজিন-স্পেন। স্প্যানিশ আভিজাত্যের উত্তরাধিকারী, একজন মাস্ক পরা নিঞ্জা ও টোরেডোর (ষাঁড়ের লড়াইয়ের দক্ষ যোদ্ধা)। সে নিজের শারীরিক চেহারা ও রূপকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্প মনে করে। যুদ্ধের সময় রক্ত ছিটকে এসে যেন তার রূপ নষ্ট না হয়, সেজন্য সে মুখে বিশেষ ধাতব মাস্ক এবং হাতে মারাত্মক থ্রি-প্রংড স্টিল ক্ল (নখ) পরিধান করে। চরম সৌন্দর্যপূজারি ও সাইকোপ্যাথিক স্বভাবের হওয়ায় সে কুৎসিত মনে করা ব্যক্তিদের হত্যা করা উপভোগ করে এবং শ্যাডালুর উচ্চপদস্থ আততায়ী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
সাগাট (Sagat): অরিজিন-থাইল্যান্ড। 'কিং অফ মুয়ে থাই' বা মুয়ে থাইয়ের অপরাজেয় সম্রাট। প্রথম টুর্নামেন্টে রিউয়ের আনসাতসুকেন চালিত 'শোরিউকেন'-এর আঘাতে বুকে এক বিশাল স্থায়ী দাগ এবং অহংকারে চরম আঘাত পাওয়ার পর সে রিউয়ের ওপর অন্ধ প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়ে পড়ে। এই প্রতিশোধের সুযোগ নিতে সে বাইসনের শ্যাডালু সংগঠনে যোগ দিয়ে তার শীর্ষ সেনাপতি হয়। পরবর্তীতে সে উপলব্ধি করতে পারে যে বাইসন তাকে কেবল দাবার গুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে, যা তাকে আবার নিজস্ব সম্মান ও প্রকৃত যোদ্ধার আদর্শে ফিরিয়ে আনে।
ক্যামি (Cammy): অরিজিন-যুক্তরাজ্য। গোপন কোডনেম 'কিলার বি' (Killer Bee)। শ্যাডালুর ল্যাবরেটরিতে এম. বাইসনের ডিএনএ ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা ক্লোন স্কোয়াডের (Dolls) অন্যতম ঘাতক সদস্য ছিল সে। পরবর্তীতে এক অভিযানে মারাত্মক দুর্ঘটনায় স্মৃতিভ্রম (Memory loss) হয়ে সে শ্যাডালুর নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়। এরপর ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা MI6-এর বিশেষ শাখা 'ডেল্টা রেড' (Delta Red)-এ যোগ দিয়ে নিজের বিস্মৃত অতীতের প্রকৃত সত্য অনুসন্ধান এবং বাইসনের দাসত্ব থেকে অন্যান্য ক্লোনদের মুক্ত করতে টুর্নামেন্টে অংশ নেয়।
ফেই লং (Fei Long): অরিজিন-হংকং। হংকংয়ের একজন উঠতি ও অত্যন্ত জনপ্রিয় মার্শাল আর্ট সিনেমা তারকা (ব্রুস লির অনুসরণে তৈরি)। সিনেমার কৃত্রিম সেট, সাজানো ফাইট সিন এবং স্ট্যান্টম্যানদের সাথে ভুয়া মারামারিতে বিরক্ত হয়ে সে নিজের আবিষ্কৃত 'রেতসুকেন' ও গতিময় লাথি মারার আসল দক্ষতা বাস্তব জীবনের রক্তক্ষয়ী রিংয়ে পরীক্ষা করতে টুর্নামেন্টে অংশ নেয়।
ডি জে (Dee Jay): অরিজিন-জামাইকা। একজন আন্তর্জাতিক মানের কিকবক্সার এবং একই সাথে প্রখ্যাত মিউজিক কম্পোজার। তার মতে, রিংয়ের পেশী চালনা, ফাইটিং রিদম এবং মিউজিকের বিট একই সূত্রে গাঁথা। সে তার গানে নতুন রিদম, আনন্দের তরঙ্গ এবং বিশ্বের সেরা যোদ্ধাদের বিরুদ্ধের লড়াইয়ের আসল থ্রিল খুঁজে পেতে এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে যোগ দেয়।
টি. হক (T. Hawk): অরিজিন-মেক্সিকো। থান্ডারফুট (Thunderfoot) উপজাতির একজন সুবিশাল, অসীম সাহসী ও শক্তিশালী আদিবাসী যোদ্ধা। শ্যাডালু বাহিনী তাদের পবিত্র উপজাতীয় ভূমিতে জোরপূর্বক রাসায়নিক কারখানা ও ল্যাবরেটরি তৈরি করার জন্য তাদের জমি দখল করে নেয় এবং বহু গ্রামবাসীকে নিখোঁজ করে ফেলে। টি. হক তার পূর্বপুরুষের পবিত্র মাটি উদ্ধার, অপহৃত স্বজাতিকে মুক্ত করা এবং উপজাতির সম্মান রক্ষার জন্য শ্যাডালুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
আকুমা / গুকি (Akuma / Gouki): অরিজিন-জাপান। আনসাতসুকেন বিদ্যার মূল ও অন্ধকার দিক 'সাতসুই নো হাডো' (Satsui no Hado)-এর রূপকার। সে নিজের মানবতা ও নৈতিকতা সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়ে চরম ধ্বংসাত্মক শক্তি অর্জন করেছে। এম. বাইসনের সাইকো পাওয়ার ও দুর্বল আত্মঅহংকারকে তুচ্ছ জ্ঞান করে সে টুর্নামেন্টের একদম শেষ মুহূর্তে হঠাৎ আবির্ভূত হয় এবং তার ভয়াল নিষিদ্ধ কৌশল 'শুন গোকু সাতসু' (Shun Goku Satsu / Raging Demon) প্রয়োগ করে বাইসনকে মুহূর্তের মধ্যে খতম করে ফেলে। সে কেবল সেইসব যোদ্ধাদের খোঁজে থাকে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত।
Street Fighter IV Series: S.I.N.-এর চক্রান্ত, কৃত্রিম সত্তা ও গুরুর প্রত্যাবর্তন
'স্ট্রিট ফাইটার ২'-এর বিশ্ব টুর্নামেন্টে আকুমার প্রাণঘাতী আক্রমণের মুখে এম. বাইসনের আপাত পতনের পর বিশ্ব ধারণা করেছিল অপরাধী চক্র শ্যাডালু (Shadaloo) চিরতরে নির্মূল হয়ে গেছে। কিন্তু পর্দার আড়ালে শ্যাডালুর গোপন সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তি গবেষণা শাখা S.I.N. (Shadaloo Intimidation Network) নিজস্ব এজেন্ডা নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
S.I.N.-এর প্রধান নির্বাহী সেথ (Seth), যে নিজে শ্যাডালু ল্যাবে তৈরি এক কৃত্রিম বায়ো-মেকানিক্যাল হিউম্যানয়েড (Body No. 15), তার সৃষ্টিকর্তা বাইসনকে মৃত ভেবে বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের নিজস্ব ষড়যুদ্ধে লিপ্ত হয়। সেথ একটি নতুন বিশ্বব্যাপী স্ট্রিট ফাইটিং টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। এই টুর্নামেন্টের মূল উদ্দেশ্য বিজয়ী ঘোষণা করা ছিল না; বরং রিউয়ের ভেতরের সুপ্ত ধ্বংসাত্মক ‘সাতসুই নো হাদো’ এবং বিশ্বের শীর্ষ যোদ্ধাদের কমব্যাট ডাটা (BLECE Data - Biotechnology Energy Living-body Control Engine) সংগ্রহ করা। এই সংগৃহীত ডাটা সেথের পেটে থাকা ‘ট্যান্ডেন ইঞ্জিন’-এ সংরক্ষণ করে একটি নিখুঁত, অপরাজেয় কৃত্রিম সৈন্যবাহিনী গড়ে তোলাই ছিল S.I.N.-এর চক্রান্ত। তবে বাইসন গোপনে বেঁচে ছিলেন এবং সেথের এই বিদ্রোহকে নিজের সুবিধার্থে ব্যবহার করছিলেন।
এই টুর্নামেন্টকালেই রিউ ও কেনের নিহত ভাবা গুরু গোউকেন দীর্ঘ কোমা থেকে জেগে উঠে ফিরে আসেন এবং আকুমার সত্তা পুরোপুরি অন্ধকার শক্তিতে বিলীন হয়ে ভয়ংকর 'অনি' (Oni) রূপ ধারণ করে।
এই যুগের প্রধান চরিত্রসমূহ
সেথ (Seth): অরিজিন-কৃত্রিম। S.I.N. সংস্থার সিইও এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি অত্যন্ত উন্নত বায়ো-মেকানিক্যাল হিউম্যানয়েড বডি (Body No. 15)। তার শরীরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘টেনডাই এনজিন’ বা ‘ট্যান্ডেন ইঞ্জিন’ (Tanden Engine) যেকোনো ফাইটারের আক্রমণ শৈলী ও মুভমেন্ট ডাটা তাৎক্ষণিকভাবে কপি করতে পারে। রিউয়ের হাদু কেন, ডালসিমের টেলিপোর্ট বা জ্যাঙ্গিফের স্পিনিং পাইলড্রাইভারের মতো মারাত্মক টেকনিকগুলো সে অনায়াসে ব্যবহার করে। মানুষকে দুর্বল ও তুচ্ছ মনে করা সেথ নিজেকে নতুন যুগের ঈশ্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত বাইসনের পুনরুত্থান তার পতন ত্বরান্বিত করে।
জুরি হান (Juri Han): অরিজিন-দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার নিষ্ঠুর, নির্মম ও মানসিকভাবে অস্থিতিশীল তায়েকওয়ান্দো বিশেষজ্ঞ। শৈশবে শ্যাডালুর এক সন্ত্রাসী হামলায় তার বাবা-মা নিহত হন এবং জুরি তার বাম চোখ হারায়। পরবর্তীতে সেথের নির্দেশে তার চোখে ‘ফেনজিন ইঞ্জিন’ (Feng Shui Engine) নামক এক শক্তিশালী সাইবারনেটিক ইমপ্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়, যা তার শরীরে প্রচণ্ড গতি, সাইকি শক্তি এবং অস্বাভাবিক লড়াইয়ের ক্ষমতা জোগায়। চুন-লি ও ক্যামির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী জুরি কেবল সেথের অনুগত ছিল না; সেথ এবং বাইসন উভয়কে ধ্বংস করে নিজের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সে এক ভয়ংকর দ্বিমুখী খেলায় মেতে ওঠে।
অ্যাবেল (Abel): অরিজিন-ফ্রান্স। ফ্রান্সের সামরিক কমব্যাট মার্শাল আর্ট 'স্যাম্বো' (Sambo) এবং গ্র্যাপলিং শৈলীতে পারদর্শী একজন যোদ্ধা। মারাত্মক স্মৃতিভ্রম বা আমনেসিয়া (Amnesia)-য় আক্রান্ত অ্যাবেলের কোনো অতীত মনে নেই। বাস্তবে সে ছিল সেথের মতোই একটি পরীক্ষামূলক জৈব ক্লোন বডি (Spare Vessel)। S.I.N.-এর ল্যাব ধ্বংসের সময় ফরাসি মার্সেনারি কমান্ডার চার্লি ন্যাশের এক সতীর্থ দয়াপরবেশ হয়ে তাকে উদ্ধার করে। নিজের প্রকৃত সত্তা, কুৎসিত অতীত এবং শ্যাডালুর সাথে সংযোগের রহস্য উন্মোচন করাই তার মূল উদ্দেশ্য।
এল ফুয়ের্তে (El Fuerte): অরিজিন-মেক্সিকো। মেক্সিকোর অত্যন্ত চটপটে 'লুচা লিব্রে' (হাই-ফ্লাইয়িং মেক্সিকান রেসলিং) বিশেষজ্ঞ এবং একজন শখের পার্ট-টাইম রাঁধুনি। তার জীবন দর্শন হলো উত্তম লড়াই এবং সুস্বাদু খাবার একই সূত্রে গাঁথা। বিশ্ব ঘুরে নানা দেশের যোদ্ধাদের সাথে ফাইট করে তাদের কাছ থেকে ঐতিহ্যবাহী রান্নার উপাদান ও আইডিয়া সংগ্রহ করা তার মূল লক্ষ্য। সে বিভিন্ন দেশের রেসিপি একসাথে মিশিয়ে নতুন পদ তৈরির অদ্ভুত চেষ্টা করে, যা খেতে চরম বিশ্রী হলেও সে নিজেকে রান্নার বিশ্বসেরা মাস্টার মনে করে।
রুফাস (Rufus): অরিজিন-যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের স্থূলকায়, অত্যন্ত বাচাল কিন্তু বিস্ময়কর গতিসম্পন্ন একজন স্বশিক্ষিত কুংফু যোদ্ধা। তার লড়াইয়ের ধারা 'স্পিড কুংফু'। নিজেকে "আমেরিকার ১ নম্বর শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা" মনে করা রুফাসের একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান হলো কেন মাস্টার্সকে যেকোনো মূল্যে হারিয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা। চরম আত্মঅহংকারী রুফাস এতই অপরিণামদর্শী যে, সোনালী চুলের যেকোনো শক্তিশালী যোদ্ধা (এমনকি গাইল বা অন্যান্যদের)-কে কেন ভেবে ভুল করে আক্রমণ করে বসে।
গোউকেন (Gouken): অরিজিন-জাপান। রিউ এবং কেনের আনসাতসুকেন মার্শাল আর্টের পরম গুরু। আকুমার প্রাণঘাতী কৌশল 'শুন গোকু সাতসু'-র মুখোমুখি হওয়ার সময় গোউকেন তার আত্মিক শক্তির বিশুদ্ধ রূপ ব্যবহার করে এক ধরণের কৃত্রিম মৃত্যু বা গভীর কোমার (State of Suspended Animation) মাধ্যমে নিজের প্রাণ রক্ষা করেন। দীর্ঘ সময় পর সুস্থ হয়ে ফিরে এসে তিনি রিউকে 'সাতসুই নো হাদো'র (Satsui no Hado) ধ্বংসাত্মক অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে এবং আনসাতসুকেনের অহিংস ও বিশুদ্ধ রূপ ‘পাওয়ার অব নথিংনেস’ (Mu no Ken) শিক্ষা দিতে টুর্নামেন্টে যোগ দেন।
হাকান (Hakan): অরিজিন-তুরস্ক। তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী 'ওয়েল রেসলিং' (Yağlı güreş) ধারার অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তেল উৎপাদনকারী এক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট। শরীরে প্রচুর অলিভ অয়েল মেখে পিচ্ছিল হয়ে সে প্রতিপক্ষের সব আক্রমণ নস্যাৎ করে দেয় এবং তাদের ধরে মারাত্মক কায়দায় আছাড় মারে। বিশ্বজুড়ে তুর্কি তেলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার করা এবং নিজের পুরোনো বন্ধু ই. হন্ডাকে (E. Honda) হারিয়ে নিজ কুস্তিশৈলীকে সেরা প্রমাণ করাই তার প্রধান মিশন।
পয়জন (Poison): অরিজিন-যুক্তরাষ্ট্র। মেট্রো সিটির কুখ্যাত 'ম্যাড গিয়ার' (Mad Gear) গ্যাংয়ের সাবেক গ্ল্যামারাস ও চতুর ফিমেল ম্যানেজার। অপরাধের জগত ত্যাগ করে সে রেসলিং প্রমোটার হিসেবে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করে। তার বিশালদেহী বন্ধু হুগোকে (Hugo) প্রমোট করে বিশ্ব রেসলিং সার্কিটে তারকা বানানো এবং বিপুল অর্থ উপার্জন করাই তার মূল লক্ষ্য। চাবুক ব্যবহারে পারদর্শী এবং এক্রোবেটিক লড়াইয়ের কৌশলে পয়েন্ট অর্জন করতে সে টুর্নামেন্টে অংশ নেয়।
অনিয়ম / অনি (Oni): অরিজিন-অজানা। আকুমা যখন তার মানব সত্তা, সংযম ও বিবেকের শেষ আলোটুকু হারিয়ে সম্পূর্ণরূপে ‘সাতসুই নো হাদো’র অশুভ শক্তিতে গ্রাসপ্রাপ্ত হয়, তখন তার এই ভয়াবহ রূপের প্রকাশ ঘটে। 'অনি' কোনো সাধারণ রক্তমাংসের মানুষ বা যোদ্ধা নয়; এটি এক জীবন্ত ধ্বংসাত্মক অভিশাপ। তার চুল নীল অগ্নিশিখার মতো জ্বলে ওঠে এবং শরীর থেকে বিচ্ছুরিত হয় গাঢ় আত্মিক শক্তি। অনি মানব জাতির অস্তিত্ব মুছে ফেলে সমগ্র বিশ্বকে ধ্বংস করার এক অদম্য কামনায় চালিত হয়।
Street Fighter V Series: অপারেশন ব্ল্যাক মুন ও শ্যাডালুর সমাপ্তি
শ্যাডালু তার সামরিক ও বৈজ্ঞানিক শক্তির চূড়ান্তে পৌঁছে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণে "অপারেশন ব্ল্যাক মুন" চালু করে। ড. উসেনোভের মতো বিশ্বমানের প্রযুক্তিবিদদের অপহরণ করে এফ.এ.এন.জি (F.A.N.G)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয় 'ব্ল্যাক মুন' নামের ৭টি বিশাল কৃত্রিম উপগ্রহ। এই উপগ্রহগুলো সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজন ছিল "পিসেস অব ফেইট" (Pieces of Fate) নামক দাবার গুটির আকৃতির বিশেষ অ্যাক্টিভেশন কী। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে স্থাপিত এই স্যাটেলাইটগুলো থেকে তীব্র হাই-অল্টিটিউড ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস (HEMP) নির্গত করে গোটা পৃথিবীর ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সামরিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক মুহূর্তেই অচল করে দেওয়ার ছক আঁকা হয়েছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বজুড়ে চরম নৈরাজ্য ও গণ-আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যা থেকে নির্গত ঘৃণা ও ভয়ের শক্তি সরাসরি এম. বাইসনের 'সাইকো পাওয়ার'কে অসীম উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
এই বৈশ্বিক ধ্বংসযজ্ঞ ঠেকাতে কানজুকি কর্পোরেশনের অঢেল অর্থ ও বৈশ্বিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে কারিন কানজুকি গড়ে তোলেন বিশ্বসেরা যোদ্ধাদের এক অভূতপূর্ব জোট। এতে যুক্ত হন চুন-লি, গাইল, ক্যামি, কেন, রিউ এবং শ্যাডালুর হাতে বন্ধু হারানো রহস্যময় আরব যুবক রশিদ। চুন-লি ও ক্যামি শ্যাডালুর গবেষণাগার থেকে অপহৃত শিশুদের উদ্ধার এবং ডাটাকোর উদ্ধারে নামেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল লি-ফেন নামক এক বালিকা। অন্যদিকে, গাইল তার পুরোনো সহযোদ্ধা চার্লি ন্যাশকে ফিরে পেলেও ন্যাশ ততদিনে কলিনের মাধ্যমে এক অর্ধ-মৃত ক্ষুব্ধ সত্তা হিসেবে পুনরুজ্জীবিত হয়ে বাইসনের ওপর প্রতিশোধ নিতে উন্মাদ।
চূড়ান্ত যুদ্ধের পূর্বে রিউয়ের আধ্যাত্মিক উত্তরণ ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে ভেতরে লালন করা বিনাশকারী 'সাতসুই নো হাদো' বা অন্ধকারের প্রতি লোভ ত্যাগ করে সে যোগী ধালসিমের সান্নিধ্যে গিয়ে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে। রিউ উপলব্ধি করে যে অন্ধকারকে জয় করতে হলে ধ্বংস নয়, আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। সে গ্রহণ করে গুরুর শেখানো 'পাওয়ার অব নথিংনেস' (Mu no Ken) এবং অর্জন করে 'ডেনজিন হাদো' (Denjin Hado)। শ্যাডালু ঘাঁটির চূড়ান্ত লড়াইয়ে চার্লি ন্যাশ আত্মঘাতী আক্রমণের মাধ্যমে বাইসনের সাইকো পাওয়ারের একটি অংশ নিজের দেহে শুষে নিয়ে বিস্ফোরিত হন। এরপর রিউ তার বিশুদ্ধ আলোক শক্তির আঘাতে এম. বাইসনের অবশিষ্টাংশ ধ্বংস করে দেয়। বাইসনের নশ্বর দেহ ছাইয়ে পরিণত হয় এবং এর মাধ্যমে শ্যাডালু সাম্রাজ্যের চিরতরে বিলুপ্তি ঘটে।
এই যুগের প্রধান চরিত্রসমূহ
রশিদ (Rashid): অরিজিন-মধ্যপ্রাচ্য (সংযুক্ত আরব আমিরাত)। 'উইন্ড অব দ্য ডেসার্ট' নামে পরিচিত রশিদ শ্যাডালুর ব্ল্যাক মুন প্রজেক্টে অপহৃত তার এক বিজ্ঞানী বান্ধবীকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে অনুসন্ধানে নামে। সাথে থাকে অনুগত ভৃত্য আজাম। আধুনিক প্রযুক্তি, ড্রাগন স্কুটার ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত রশিদ বায়ুর চাপ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত পারদর্শী। পার্কোর ও উইন্ড-বেসড ফাইটিং স্টাইলের মিশেলে তৈরি তার লড়াকু কৌশল তাকে দ্রুত শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে সাহায্য করে। মূল অভিযানে স্যাটেলাইট নিষ্ক্রিয় করার পাসকোড উন্মোচনে সে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
নেকালি (Necalli): অরিজিন-প্রাচীন মেসোআমেরিকা (আজটেক সংস্কৃতি)। "দ্য এমার্জেন্স অব দ্য সোল এম্বার" নামে পরিচিত নেকালি কোনো সাধারণ মানুষ নয়, বরং প্রাক-কলম্বিয়ান যুগের এক প্রাচীন নরখাদক দৈব সত্তা। শ্যাডালুর সৃষ্ট বৈশ্বিক বিশৃঙ্খলার ফলে শতাব্দীকালের ঘুম ভেঙে সে জাগ্রত হয়। তার একমাত্র উদ্দেশ্য বিশ্বসেরা যোদ্ধাদের (যেমন রিউ, ধালসিম, বাইসন) আত্মা গ্রাস করা (Devour)। চরম শক্তি অর্জনের সময় তার চুল উজ্জ্বল লাল বর্ণ ধারণ করে সম্পূর্ণ হিংস্র প্রাকৃত রূপ লাভ করে।
লরা মাতসুদা (Laura Matsuda): অরিজিন-ব্রাজিল। বিখ্যাত মাতসুদা জিউ-জিৎসু (Matsuda Jiu-Jitsu) স্টাইলের জ্যেষ্ঠ উত্তরাধিকারী এবং শন মাতসুদার বড় বোন। লরা তার প্রথাগত জিউ-জিৎসুর সাথে ব্রাজিলের কাপোয়েরা ও মেটাবলিক বায়ো-ইলেকট্রিক এনার্জির সমন্বয় ঘটিয়ে নিজস্ব "ইলেক্ট্রিক জিউ-জিৎসু" উদ্ভাবন করেছে। তার লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে ঘুরে ঘুরে বড় বড় যোদ্ধাদের পরাজিত করে নিজেদের পারিবারিক মার্শাল আর্টের ঐতিহ্য ছড়িয়ে দেওয়া।
ফ্যাং (F.A.N.G): অরিজিন-চীন। শ্যাডালুর সাবেক দ্বিতীয় প্রধান সাগাত পদত্যাগ করার পর এম. বাইসনের ডানহাত ও 'গ্র্যান্ড মাস্টার ২' হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয় এফ.এ.এন.জি। বিষাক্ত আর্ট ও চীনা মার্শাল আর্টে পারদর্শী এই দীর্ঘকায় ফাইটারটি '২' সংখ্যাটির প্রতি চরম মাত্রায় আচ্ছন্ন। বাইসনকে সে প্রায় ঈশ্বরের আসনে বসিয়েছে এবং অপারেশন ব্ল্যাক মুনের প্রধান স্থপতি ছিল সে-ই। নিজস্ব উদ্ভাবিত বিশেষ 'বিষ' বা পয়জন টেকনিক দিয়ে সে প্রতিপক্ষের জীবনশক্তি ক্ষয় করে ফেলে।
কলিন (Kolin): অরিজিন-পূর্ব ইউরোপ (ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ ক্যানকার্ডিয়া)। ছদ্মনামে শ্যাডালুর আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও কলিন মূলত প্রাচীন গোপন সংস্থা 'ইলুমিনাতি'-এর প্রধান নেতা জিলের (Gill) বিশ্বস্ত অনুসারী। তার নিজ দেশ ক্যানকার্ডিয়ার ধ্বংসাবশেষ তার মনে বিষাদ তৈরি করেছিল। সে চার্লি ন্যাশের মৃতদেহ কুড়িয়ে এনে ইলুমিনাতির প্রযুক্তিতে তাকে জীবিত করে কেবল শ্যাডালু ও বাইসনকে ধ্বংস করার মোহরা হিসেবে ব্যবহার করতে। সে তুষার ও বরফের ক্ষমতা (Ice Manipulation) ব্যবহার করে লড়ে।
মেনাত (Menat): অরিজিন-মিসর। ইতালির বিখ্যাত ফরচুন টেলার ও 'সোউল পাওয়ার' ব্যবহারকারী রোজের তরুণী শিষ্যা। প্রাচীন মিসরীয় জ্যোতির্বিদ্যা ও আধ্যাত্মিক বিদ্যায় পারদর্শী মেনাত একটি ভাসমান ক্রিস্টাল বল ব্যবহার করে ফাইটিং রিংয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে। ভবিষ্যৎ দর্শনে সক্ষম এই তরুণী মূলত শ্যাডালুর পতনের পর বিশ্বে যে নতুন শক্তির ভারসাম্য আসবে, সে সম্পর্কে বিশ্ব যোদ্ধাদের সতর্ক করতে আবির্ভূত হয়।
জেরেক (Zeku): অরিজিন-জাপান। প্রাচীন বুশিনরিউ (Bushinryu) নিনজুতসু ঘরানার ৩৮তম প্রবীণ মাস্টার এবং গাই (Guy)-এর ওস্তাদ। গাইয়ের কাছে বুশিনরিউর দায়িত্ব হস্তান্তর করার পর জেরেক চিরাচরিত নিনজুতসুর সাথে আধুনিক কৌশল মিলিয়ে এক নতুন যুদ্ধরীতি উদ্ভাবনের সিদ্ধান্ত নেয়। লড়াকু অবস্থায় সে নিমিষেই প্রবীণ ও তরুণ রূপে রূপান্তর হতে পারে। পরবর্তীতে তার উদ্ভাবিত এই প্রথাই ভবিষ্যৎ বিশ্বের বিখ্যাত 'স্ট্রাইডার' (Strider) সংস্থায় রূপান্তরিত হয়।
জি (G): অরিজিন-অজানা (রহস্যময়)। সোনালী কোট ও টপ হ্যাট পরিহিত এই অদ্ভুত ব্যক্তি নিজেকে "প্রেসিডেন্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড" হিসেবে পরিচয় দেয়। সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিম করে পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে এক পতাকাতলে আসার আহ্বান জানায়। জি পৃথিবীর ভূ-গর্ভস্থ ম্যাগমা শক্তি সরাসরি তার দেহে আকর্ষণ করতে পারে এবং এর সাহায্যে মারাত্মক গোল্ডেন ফায়ারবল ও আর্থকোয়েক তৈরি করে লড়ে।
কাগে (Kage): অরিজিন-রিউয়ের মন থেকে নির্গত অভিশপ্ত শক্তি। কাগে (যার অর্থ ছায়া বা Shadow) হলো 'সাতসুই নো হাদো' শক্তির এক ভৌত অবয়ব। রিউ যখন মানসিক সাধনার মাধ্যমে তার ভেতরের সমস্ত হিংস্রতা ও অন্ধকার শক্তিকে বর্জন করে ‘পাওয়ার অব নথিংনেস’ অর্জন করে, তখন সেই গৃহহীন হয়ে পরা আসুরিক শক্তি নিজেই একটি জীবন্ত রূপ ধারণ করে। কাগের মাথায় শিং ও লাল চোখ রয়েছে; সে আকুমা বা রিউকে পুনরায় অন্ধকারের দাস বানাতে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিউয়ের অটল শান্ত মন ও আধ্যাত্মিক শক্তির কাছে পরাজিত হয়ে সে নিজের অস্তিত্বহীনতা উপলব্ধি করে বিলীন হয়ে যায়।
Street Fighter III Series (III: 3rd Strike): ইলুমিনাতির ধর্মীয় চক্রান্ত ও নতুন যুগের সূচনা
ক্যাপকমের সময়রেখা অনুযায়ী, ‘স্ট্রিট ফাইটার ৩’ সিরিজটি মূলত স্ট্রিট ফাইটার ৫-এর বেশ অনেক বছর পরের এবং ৬-এর ঠিক আগের গল্প।
শ্যাডালুর পতন ঘটে গেছে, বিশ্ব থেকে বাইসনের নাম প্রায় মুছে গেছে। কিন্তু ক্ষমতার শূন্যতা কখনো খালি থাকে না। এই সুযোগে পৃথিবীর আড়ালে থাকা এক হাজার বছরের পুরনো একটি চরম শক্তিশালী গোপন সমাজ ‘ইলুমিনাতি’ (Illuminati) প্রকাশ্যে আসে। এই সংস্থার নেতা জিল (Gill), যে জিনগত রূপান্তরের মাধ্যমে নিজেকে এক অর্ধ-অগ্নি ও অর্ধ-তুষার মানবে রূপান্তরিত করেছে, সে বিশ্বজুড়ে এক নতুন অলৌকিক ‘উটোপিয়া’ (নতুন বিশ্বব্যবস্থা) গড়ে তুলতে চায়। সে চায় পৃথিবীর সব শক্তিমান মানুষদের নিজের ধর্মীয় পতাকাতলে এনে বিশ্ব পুনর্গঠন করতে।
এই যুগে রিউ ও কেন এখন অভিজ্ঞ প্রবীণ গুরু। নতুন প্রজন্মের নিউ ইয়র্ক রেসলার অ্যালেক্স তার আহত বন্ধু টমের প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ইলুমিনাতির এই হাজার বছরের বৈশ্বিক চক্রান্তের মাঝে জড়িয়ে পড়ে।
এই যুগের প্রধান চরিত্রসমূহ
অ্যালেক্স (Alex): অরিজিন-যুক্তরাষ্ট্র। নিউ ইয়র্কের এই তরুণ প্রো-রেসলারকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন তার পিতৃতুল্য বন্ধু টম, যিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন প্রাক্তন কর্মকর্তা ছিলেন। ইলুমিনাতির প্রধান জিল রহস্যজনক কারণে টমকে নির্মমভাবে আক্রমণ করে গুরুতর আহত করলে, অ্যালেক্স প্রতিশোধের উন্মাদনায় বিশ্ব ভ্রমণে বের হয় এবং ৩য় সিরিজের মূল প্রোটাগনিস্ট হিসেবে আবির্ভূত হয়। যাত্রাপথে সে রিউয়ের সাথে মুখোমুখি হয়ে প্রতিশোধের অন্ধ মোহ ছেড়ে একজন প্রকৃত ফাইটার হওয়ার মানসিকতা উপলব্ধি করে। তার লড়াইয়ের স্টাইল পাওয়ার বোম্ব, ড্রপকিক এবং হাই-ইমপ্যাক্ট গ্র্যাপলিং নির্ভর।
জিল (Gill): অরিজিন-অজানা (ইলুমিনাতির গোপন কেন্দ্র)। গোপন ধর্মীয় সংস্থা ইলুমিনাতির ঈশ্বরতুল্য প্রধান ও সম্রাট। হাজার বছরের জিনগত গবেষণার ফসল হিসেবে জিলের শরীরের ডান পাশ দাহ্য আগুন (Fire) এবং বাম পাশ শীতল বরফের (Ice) উপাদানে গঠিত। সে নিজেকে প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণীর কাঙ্ক্ষিত ‘ত্রাণকর্তা’ বা ঈশ্বর মনে করে এবং বিশ্বের নির্বাচিত সেরা যোদ্ধাদের নিয়ে এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। তার অন্যতম প্রাণঘাতী অলৌকিক ক্ষমতা হলো ‘রিসারেকশন’ (Resurrection), যার মাধ্যমে সে পরাস্ত হওয়ার পরও পুনর্জীবন লাভ করতে পারে।
ইউরিয়ান (Urien): অরিজিন-অজানা। জিলের উদ্ধত, হিংসুটে ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছোট ভাই। ইলুমিনাতির নিয়ম অনুযায়ী জিলকে তাদের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করায় ইউরিয়ান তীব্র ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে। সে নিজের জৈব-রাসায়নিক শরীরকে ধাতব শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারে এবং ক্ষতিকারক তড়িৎ-চৌম্বকীয় শক্তি ব্যবহার করে তৈরি করে ‘ইজিস রিফ্লেক্টর’ (Aegis Reflector)। নিজের গোপন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সে ‘জি-প্রজেক্ট’-এর অধীনস্ত সাইবোর্গ ও বায়ো-ওয়েপন প্রকল্পগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চক্রান্ত করে।
রিউ (Ryu): অরিজিন-জাপান। আনসাতসুকেন মার্শাল আর্টের এই প্রবীণ সাধক এখন 'সাতসুই নো হাডো' বা অন্ধকারের মোহ কাটিয়ে সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক পূর্ণতা অর্জনের পথে। সে কোনো জাগতিক টুর্নামেন্ট বা ক্ষমতার জন্য লড়ে না; বরং বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ায় নিজের ভেতরের শক্তিকে আরও সানিত করতে। ৩য় সিরিজে সে অ্যালেক্সের মতো নতুন প্রজন্মের যোদ্ধাদের কাছে এক অনুকরণীয় আদর্শ ও আধ্যাত্মিক শিক্ষক হিসেবে ধরা দেয়।
কেন মাষ্টার্স (Ken Masters): অরিজিন-যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন মার্শাল আর্টস চ্যাম্পিয়ন এবং মাষ্টার্স কর্পোরেশনের উত্তরাধিকারী। কেন এখন একজন সংসারী বাবা এবং তার ছেলে মেল-কে বড় করছে। সে মার্কিন টুর্নামেন্টে টানা একাধিকবার শিরোপা জেতার পর ব্রাজিলের উদীয়মান তরুণ শোন বাকলেকে (Sean Buckley) তার শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করে অনুশীলন করাচ্ছে।
ইবুকি (Ibuki): অরিজিন-জাপান। জাপানের একটি গোপন নিঞ্জা গ্রামে কঠোর ও রক্তক্ষয়ী অনুশাসনের মাঝে বড় হওয়া তরুণী নিঞ্জা। তার আসল ইচ্ছা নিঞ্জিৎসুর এই দমবন্ধ করা জীবন ছেড়ে আর ১০টা সাধারণ কিশোরীর মতো আধুনিক হাইস্কুল জীবন কাটানো, ফ্যাশনেবল ডেনিম পরা এবং বয়ফ্রেন্ড খুঁজে বের করা। ইলুমিনাতির নথি চুরির এক বিশেষ মিশনে গিয়ে সে আধুনিক জীবনের সন্ধানে লড়াই চালিয়ে যায়।
দুদলি (Dudley): অরিজিন-যুক্তরাজ্য। অত্যন্ত আভিজাত্যপূর্ণ, সুমার্জিত ব্রিটিশ জেন্টলম্যান এবং হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন। তার প্রয়াত বাবার হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান ভিনটেজ রোলেক্স গাড়িটি এক নিলামের মাধ্যমে ইলুমিনাতি সংস্থার কবলে চলে যায়। নিজের পরিবারের ঐতিহ্য ও আত্মমর্যাদা ফেরত পেতে সে টুর্নামেন্টে নাম লেখায়। সে অত্যন্ত নিখুঁত ও দ্রুতগতির পঞ্চিং কৌশলের অনুসারী।
এলেনা (Elena): অরিজিন-কেনিয়া। আফ্রিকার এক ঐতিহ্যবাহী উপজাতি প্রধানের প্রাণবন্ত কন্যা। সে রিদমভিত্তিক নাচ ও যুদ্ধকলার মিশ্রণ ‘ক্যাপোইরা’ (Capoeira) স্টাইলে ফাইট করে, যেখানে হাতের ব্যবহার ছাড়াই কেবল সার্কাসীয় ভঙ্গির চতুর পায়ের আঘাতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা হয়। তার একমাত্র উদ্দেশ্য বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ানো, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে নিজের নতুন বন্ধু বানানো।
ওরো (Oro): অরিজিন-ব্রাজিল (জাপানি বংশোদ্ভূত)। ১৪০ বছর বয়সী এক অমর সেনসেই ও আধ্যাত্মিক সন্ন্যাসী, যিনি আমাজন জঙ্গলে বসবাস করেন। ওরো 'সেনজুতসু' নামক প্রাচীন শক্তিতে সিদ্ধ লাভ করেছেন। তার ক্ষমতা এতোটাই অসীম ও ধ্বংসাত্মক যে প্রতিপক্ষকে টিকে থাকার সমকক্ষ সুযোগ দিতে সে লড়াইয়ের সময় তার এক হাত কাপড়ে বেঁধে রাখে এবং কেবল এক হাত দিয়ে যুদ্ধ করে। সে রিউয়ের ভেতরের বিপুল সম্ভাবনা দেখে তাকে নিজের যোগ্য উত্তরসূরি মনে করে।
মাকোতো (Makoto): অরিজিন-জাপান। অত্যন্ত আগ্রাসী ও ঐতিহ্যবাহী ‘আরিন্দোকান কারাতে’ (Rindokan Karate) স্টাইলের এক টমবয় তরুণী। তার বাবার অকালমৃত্যুর পর তাদের পারিবারিক ঐতিহাসিক ডোজোটি (Dojo) চরম আর্থিক সংকটে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। ডোজোর নাম, ঐতিহ্য ও সম্মান পুনরুজ্জীবিত করতে সে বিশ্বমানের যোদ্ধাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ময়দানে নামেন।
রেমি (Remy): অরিজিন-ফ্রান্স। এক বিষাদগ্রস্ত, রহস্যময় ও আত্মতুষ্ট ফরাসি যোদ্ধা। তার বাবা মার্শাল আর্টের অন্ধ মোহে পড়ে পরিবারকে ত্যাগ করেছিলেন, যার ফলে রেমি ও তার বোন চরম কষ্টে দিন কাটায়। বোনের অকালমৃত্যুর পর রেমি পৃথিবীর সমস্ত মার্শাল আর্ট এবং মার্শাল আর্টিস্টদের তীব্র ঘৃণা করে এবং বিশ্ব থেকে মার্শাল আর্টের অস্তিত্ব মুছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়।
কিউ (Q): অরিজিন-অজানা। একটি সম্পূর্ণ ধাতব মাস্ক, ট্রেন্স কোট ও টুপি পরা নামহীন, পরিচয়হীন এক ছায়াময় ব্যক্তি। বিশ্বের প্রধান প্রধান বিপর্যয় ও লড়াইয়ের স্থানে সে কেন হুট করে আবির্ভূত হয় এবং নিরবে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় তা সিআইএ সহ বিশ্ব গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছেও এক বিরাট রহস্য। সে কোনো কথা বলে না, কেবল রোবোটিক ভঙ্গিতে বিধ্বংসী শক্তির মাধ্যমে আক্রমণ চালায়।
১২ / টুয়েলভ (Twelve): অরিজিন-কৃত্রিম (ইলুমিনাতি ল্যাব)। ইলুমিনাতি সংস্থার জীনকৌশলাগারে 'জি-প্রজেক্ট'-এর আওতায় তৈরি করা এক শেপ-শিফটিং বায়ো-ওয়েপন। এর কোনো নির্দিষ্ট হাড় বা রক্তমাংসের কাঠামো নেই; এটি যেকোনো মুহূর্তে অন্য যেকোনো যোদ্ধার দৈহিক অবয়ব, চেহারা ও লড়াইয়ের ভঙ্গি শতভাগ নকল করতে পারে এবং নিজের হাত-পা ধারালো অস্ত্রে পরিণত করতে পারে।
ইউন ও ইয়াং (Yun & Yang): অরিজিন-চীন (হংকং)। হংকংয়ের ঐতিহ্যবাহী কারাতে ও কুংফু পরিবারে জন্ম নেওয়া দুই জমজ ভাই। ইউন চঞ্চল ও স্কেটবোর্ডিং পছন্দ করে, আর ইয়াং শান্ত ও কৌশল নির্ভর। ইলুমিনাতির আর্থিক আগ্রাসন ও আন্ডারওয়ার্ল্ড চক্রান্ত থেকে নিজেদের শহরকে বাঁচাতে তারা লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়।
নেক্রো (Necro): অরিজিন-রাশিয়া। রাশিয়ার এক সাধারণ যুবক ইলিয়া, যাকে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে ইলুমিনাতি ধরে নিয়ে যায় এবং তাদের বায়ো-ল্যাবরেটরিতে নিষ্ঠুর বায়ো-মেডিকেল পরীক্ষার মুখোমুখি করে। তার শরীরকে রাবারের মতো প্রসারণশীল করা হয় এবং বিদ্যুত তৈরির ক্ষমতা দেওয়া হয়। ইলুমিনাতির হাত থেকে পালিয়ে নিজের প্রেমিকা এফিকাকে নিয়ে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকাই তার মূল উদ্দেশ্য।
চুন-লি (Chun-Li): অরিজিন-চীন। ইন্টারপোলের সাবেক কিংবদন্তি অফিসার। শ্যাডালুর পতনের পর সে লড়াইয়ের জীবন ছেড়ে অনাথ শিশুদের শিক্ষকতা শুরু করেছিল। কিন্তু ইলুমিনাতি সংস্থা কর্তৃক তার এক এতিম ছাত্রীকে অপহরণ করা হলে, চুন-লি বাধ্য হয়ে আবারও ময়দানে ফিরে আসে এবং তার বিখ্যাত কিকিং কৌশলে অপরাধীদের চূর্ণ করে।
Street Fighter 6 Series: মেট্রো সিটিতে নতুন প্রজন্ম ও আধিপত্যের নতুন লড়াই
‘স্ট্রিট ফাইটার ৬’-এর গল্প ফ্র্যাঞ্চাইজির সময়রেখায় সবচেয়ে আধুনিক ও সাম্প্রতিকতম ধাপ (SF3-এরও বেশ কয়েক বছর পর)। শ্যাডালুর পতনের পর যুগ কেটে গেছে, বিশ্বজুড়ে এক ধরণের আপেক্ষিক শান্তি বিরাজ করছে। সাবেক অপরাধের শহর মেট্রো সিটি এখন সুসংগঠিত এবং নতুন প্রজন্মের Fighters-দের জন্য প্রশিক্ষণ ও আত্মপ্রকাশের প্রধান কেন্দ্র।
তবে শান্তির আড়ালে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দানা বাঁধছে। নাইশাল (Nayshall) নামক একটি উদীয়মান এশীয় দেশে মারাত্মক রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। শ্যাডালুর অর্থ আত্মসাৎকারী সাবেক ফিন্যান্সিয়াল ল্যান্ডার জেপি (JP) তার আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এনজিও (NGO)-র আড়ালে সেখান থেকে এক বিশাল সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ‘ডি-ক্যাপচার’ ও সাইকো পাওয়ারের নতুন বীজ ছড়াচ্ছে।
এই যুগে রিউ একজন সম্পূর্ণ মুক্ত, শান্ত ও পরম জ্ঞানপ্রাপ্ত গুরু। কেন মাস্টার্স এক ষড়যন্ত্রে পড়ে তার সুনাম হারিয়ে পলাতক, চুন-লি শিশুদের মার্শাল আর্ট শেখাচ্ছেন। আর লড়াইয়ের সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্কিন সাবেক সেনা লুক (Luke) এবং নতুন প্রজন্মের অকুতোভয় তরুণ যোদ্ধারা।
এই যুগের প্রধান চরিত্রসমূহ
লুক সুলিভান (Luke Sullivan): অরিজিন-যুক্তরাষ্ট্র। ‘বাকলার সিকিউরিটি’-এর প্রধান কন্ট্রাক্টর ও মডার্ন এমএমএ (MMA) ট্রেইনার। শৈশবে সন্ত্রাসী হামলায় বাবার আত্মত্যাগের পর সে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল, তবে পরে নিজের জীবনের আসল অর্থ খুঁজতে সেনাদল ত্যাগ করে। সে ভিডিও গেম ও ফাস্টফুড ভালোবাসে। স্ট্রিট ফাইটার ৬-এর 'ওয়ার্ল্ড ট্যুর' মোডে সে নতুন যোদ্ধাদের প্রধান মেন্টর হিসেবে দিকনির্দেশনা দেয়।
জেমি সিউ (Jamie Siu): অরিজিন-হংকং। ড্রাংকেন ফিস্ট (Drunken Fist) ও আধুনিক ব্রেকড্যান্সের মিশ্রণে গঠিত নিজস্ব 'ড্রাংকেন ড্যান্সার' কমব্যাট স্টাইল। বিখ্যাত মার্সেনারি ভাই 'ইউন' ও 'ইয়াং' (Yun & Yang)-এর তুতো ভাই এবং চুন-লি ও জেন-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত। সে লড়াইয়ের মাঝে বিশেষ এক ভেষজ পানীয় পান করে তার শরীরের 'কী' (Ki) শক্তি ও গতি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। মেট্রো সিটির চায়নাটাউনে ছোটখাটো অপরাধ দমন ও দুর্বলদের রক্ষা করাই তার মূল লক্ষ্য।
কিম্বার্লি জ্যাকসন (Kimberly Jackson): অরিজিন-যুক্তরাষ্ট্র। বুশিনরিউ নিঞ্জুৎসু (Bushinryu Ninjutsu) এবং ৮০-এর দশকের পপ-কালচার। একটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অতি অল্প বয়সে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর সে বিখ্যাত বুশিনরিউ মাস্টার ‘গাই’ (Guy)-এর সান্নিধ্যে এসে নিঞ্জা বিদ্যায় পারদর্শী হয়। সে যুদ্ধে রঙ ছিটানোর স্প্রে ক্যান, টেপ রেকর্ডার এবং দ্রুতগতিময় অ্যাক্রোবেটিক অ্যাথলেটিক মুভ ব্যবহার করে শত্রুকে পরাস্ত করে।
মানন (Manon): অরিজিন-ফ্রান্স। অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী জুডোকা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্যালে ড্যান্সার। ফ্যাশন ও ব্যালে নৃত্যের জগতে এক পরিচিত মুখ। সে জুডোর শক্তিশালী থ্রো ও আছাড়কে ব্যালে নৃত্যের ছন্দের সাথে যুক্ত করে এক অনন্য কমব্যাট আর্ট তৈরি করেছে। বিশ্বমঞ্চে যুদ্ধকে হিংস্রতা হিসেবে নয়, বরং মার্জিত রূপ ও সৌন্দর্যের সর্বোচ্চ প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরাই তার উদ্দেশ্য।
মারিসা (Marisa): অরিজিন-ইতালি। প্যানক্রেশন (Pankration) যোদ্ধা ও বিলাসবহুল গহনা ডিজাইনার। প্রাচীন রোমান গ্ল্যাডিয়েটরদের বংশধর বলে দাবি করা মারিসার বিশাল দৈহিক গঠন ও বর্ম-ভাঙা ঘুষির আক্রমণ অত্যন্ত বিধ্বংসী। তার 'নিয়া' (Nea) নামের একটি পোষা সিংহ রয়েছে। শারীরিক শক্তির সর্বোচ্চ প্রদর্শন এবং নিজের সমকক্ষ কোনো শক্তিশালী জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।
লিলি (Lily): অরিজিন-মেক্সিকো। থান্ডারফুট (Thunderfoot) উপজাতি। 'স্ট্রিট ফাইটার ২'-এর টি. হকের (T. Hawk) উত্তরসূরি। সে প্রাকৃতিক বাতাসের আত্মাদের (Spirits of the Wind) সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে। তার হাতে থাকা দুটি বিশাল পোগামোগান কাঠের ক্লাবের (Pogamoggan Clubs) সাহায্যে সে বাতাসে ঘূর্ণি তৈরি করে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে। চঞ্চল স্বভাবের লিলি মূলত প্রকৃতিকে ভালোবাসে ও বিশ্বভ্রমণে আনন্দ পায়।
জেপি / জোহান পেত্রোভিচ (JP / Johann Petrović): অরিজিন-পূর্ব ইউরোপ। শ্যাডালুর সাবেক অর্থবিষয়ক প্রধান এবং আন্তর্জাতিক এনজিও ‘টেরা সিবিউস’-এর প্রধান। এম. বাইসনের পতনের পর শ্যাডালুর গোপন ট্রিলিয়ন ডলার তহবিল আত্মসাৎ করে সে নিজেকে একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সে তার ওয়াকিং স্টিকের (Walking Stick) মাধ্যমে সরাসরি সাইকো পাওয়ার (Psycho Power) চালনা করে স্থান-সংক্রান্ত পোর্টাল ও দূরবর্তী আঘাত তৈরি করে। নাইশালের তরুণ বোশ (Bosch)-কে বলির পাঁঠা বানিয়ে সে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে।
আকি (A.K.I.): অরিজিন-চীন। ফ্যাং (F.A.N.G)-এর অনুগত শিষ্যা ও মারাত্মক বিষ বিশেষজ্ঞ। শ্যাডালুর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ফ্যাং-এর কাছ থেকে মরণঘাতী সব বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রয়োগ শিখেছে সে। তার আঙুলে থাকা স্টিলের ছুঁচালো নখ এবং সাপের মতো অঙ্গ সঞ্চালনের মাধ্যমে সে প্রতিপক্ষের শরীরে বিষ প্রয়োগ করে। প্রতিপক্ষকে বিষের তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখা তার কাছে পরম তৃপ্তির বিষয়।
সমগ্র স্ট্রিট ফাইটার টাইমলাইন ও ফ্র্যাঞ্চাইজি সারসংক্ষেপ
নিচে সমগ্র স্ট্রিট ফাইটার ফ্র্যাঞ্চাইজির সময়রেখা, প্রধান ভিলেন, মূল থিম এবং বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া ইতিহাসের এক পূর্ণাঙ্গ তথ্য চিত্র উপস্থাপন করা হলো:
গেমের শিরোনাম (টাইটেল) | ঐতিহাসিক সময়রেখা (Chronology) | মূল ভিলেন / হুমকি | মূল কাহিনীর থিম ও কেন্দ্রবিন্দু | প্রধান ঐতিহাসিক মাইলফলক |
Street Fighter (১৯৮৭) | ১ম ধাপ | সাগাত (Sagat) | ১ম বিশ্ব মার্শাল আর্ট টুর্নামেন্ট ও রিউয়ের আত্মপ্রকাশ। | রিউয়ের 'সাতসুই নো হাদো' জাগ্রত হওয়া ও সাগাতের বুকে ক্ষত সৃষ্টি। |
Street Fighter Alpha Series | ২য় ধাপ (SF1 ও SF2-এর মাঝে) | এম. বাইসন & আকুমা | শ্যাডালুর বিকাশ, চার্লি ন্যাশের শহীদ হওয়া ও হাদোর দ্বন্দ্ব। | রিউ-আকুমার প্রথম মুখোমুখি সংঘাত ও সোল পাওয়ারের আত্মপ্রকাশ। |
Street Fighter II Series | ৩য় ধাপ | এম. বাইসন (M. Bison) | ২য় টুর্নামেন্ট, শ্যাডালুর বায়ো-ওয়েপন প্রজেক্ট ও বৈশ্বিক প্রতিরোধ। | গেম শিল্পের বৈপ্লবিক পরিবর্তন, চুন-লি ও গেইলের প্রতিশোধ কাহিনী। |
Street Fighter IV Series | ৪র্থ ধাপ | সেথ (Seth / S.I.N.) | কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফাইটারদের ডাটা চুরি ও গুরুর প্রত্যাবর্তন। | গোউকেনের বেঁচে ফেরা, জুরির ফেনজিন ইঞ্জিন ও অনিয়মের আবির্ভাব। |
Street Fighter V Series | ৫ম ধাপ | এম. বাইসন & ফ্যাং | অপারেশন ব্ল্যাক মুন, বৈশ্বিক আতঙ্ক ও শ্যাডালুর চূড়ান্ত বিনাশ। | রিউয়ের 'পাওয়ার অব নথিংনেস' অর্জন ও বাইসনের চিরতরে সলিলসমাধি। |
Street Fighter III Series | ৬ষ্ঠ ধাপ | জিল (Gill / Illuminati) | ১০০০ বছরের পুরনো ইলুমিনাতি সংস্থার বিশ্ব দখলের উটোপিয়া। | রিউ-কেনের অভিভাবকত্ব, অ্যালেক্সের উত্থান ও ওরো-জিলের উপস্থিতি। |
Street Fighter 6 Series | ৭ম ধাপ (বর্তমান সময়) | জেপি (JP / D-Captyre) | পোস্ট-শ্যাডালু যুগ, মেট্রো সিটি, নাইশালের রাজনীতি ও নতুন প্রজন্ম। | রিউয়ের জ্ঞানপ্রাপ্তি, লুকের নেতৃত্বে আধুনিক মিক্সড মার্শাল আর্টস কালচার। |
মার্শাল আর্ট দর্শন ও রহস্যময় শক্তির আধ্যাত্মিক ইতিহাস
স্ট্রিট ফাইটারের পুরো মহাবিশ্বটি মূলত একাধিক আধ্যাত্মিক ও শারীরিক শক্তির সংঘাতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। গেমের মূল কাহিনী ও চরিত্রগুলোর মানসিক রূপান্তর বুঝতে এই শক্তিগুলোর সঠিক ইতিহাস ও মেকানিক্স জানা অত্যন্ত জরুরি।
আনসাতসুকেন (Ansatsuken) ও মাস্টার গোতেতসুর উত্তরাধিকার
‘আনসাতসুকেন’ (হত্যাকারী হাতের কৌশল) হলো একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও বিপজ্জনক জাপানি মার্শাল আর্ট। মাস্টার গোতেতসু (Goutetsu) ছিলেন এই ঘরানার অন্যতম অভিভাবক। আনসাতসুকেনের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিপক্ষকে এক আঘাতেই হত্যা করা। গোতেতসুর দুই প্রধান শিষ্য ছিলেন গোউকেন এবং গোউকি (আকুমা)।
গোউকেনের পথ: গোউকেন উপলব্ধি করেন যে কোনো বিদ্যাকে কেবল হত্যার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা অনুচিত। তিনি আনসাতসুকেন থেকে প্রাণঘাতী উপাদানগুলো বাদ দিয়ে একে আত্মরক্ষা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের একটি অহিংস মার্শাল আর্টে রূপান্তর করেন। রিউ এবং কেন এই রূপান্তরিত আনসাতসুকেনই শেখেন।
আকুমার পথ: আকুমা বিশ্বাস করতেন মার্শাল আর্টের চূড়ান্ত সাফল্য লুকিয়ে আছে প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার মাঝেই। সে মাস্টার গোতেতসুকে চ্যালেঞ্জ করে এক প্রাণঘাতী যুদ্ধে হত্যা করে এবং গোতেতসুর গলার পুঁতির মালাটি (Beads) ছিনিয়ে নিয়ে ‘সাতসুই নো হাদো’র পথ বেছে নেয়।
সাতসুই নো হাদো বনাম মু নো হাদো (Power of Nothingness)
সাতসুই নো হাদো (Satsui no Hado): এটি এমন এক অন্ধ ও বিধ্বংসী শক্তি যা যোদ্ধার ভেতরের অহংকার, বাঁচার আকুতি এবং জয়ের চাওয়াকে হত্যা করার উন্মাদনায় পরিণত করে। যে এটি গ্রহণ করে, সে তার মানবতা হারিয়ে কেবল এক হিংস্র সত্তায় পরিণত হয়। রিউ বহু বছর ধরে এই শক্তির সাথে সংগ্রাম করেছে।
মু নো হাদো (Mu no Hado / Power of Nothingness): এটি ‘সাতসুই নো হাদো’র ঠিক বিপরীত পরম আত্মিক শক্তি। এটি অর্জন করতে হলে যোদ্ধাকে তার সব ধরণের লোভ, ভয়, রাগ এমন কি জয়ের আকাঙ্ক্ষাও ত্যাগ করে নিজের মনকে সম্পূর্ণ 'শূন্য' করে ফেলতে হয়। রিউ স্ট্রিট ফাইটার ৫-এ এই শক্তি অর্জন করে, যার ফলে সে তার শরীরের কোনো ক্ষতি না করে এবং মানবতা না হারিয়ে পরম পরাক্রমশালী শক্তির মালিক হয়।
সাইকো পাওয়ার (Psycho Power) ও সোল পাওয়ার (Soul Power)
সাইকো পাওয়ার: এম. বাইসনের শক্তির উৎস কোনো মার্শাল আর্ট নয়; এটি একটি কৃত্রিম ও ক্ষতিকারক শক্তি যা মানুষের ভয়, আতঙ্ক ও ঘৃণা থেকে পুষ্টি পায়। বাইসন এই শক্তি অর্জনের জন্য তার হৃদয়ের শেষ ভালো অনুভূতির অংশটুকুও নিজের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন।
সোল পাওয়ার: বাইসনের ছাঁটাই করা সেই ইতিবাচক আবেগ ও ভালো আত্মার অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি হয় রোজ (Rose)। তাই রোজের ব্যবহৃত শক্তিকে বলা হয় ‘সোল পাওয়ার’ (Soul Power)। এই কারণেই রোজ এবং বাইসনের আত্মা অদৃশ্য এক সুতোয় বাঁধা বাইসন ধ্বংস হলে রোজের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে, আবার রোজ জীবিত থাকা পর্যন্ত বাইসনের আত্মার ধ্বংস পুরোপুরি সম্ভব হয় না।
শ্যাডালু, ইলুমিনাতি ও অন্যান্য গোপন সংস্থার ভেতরের কলকারখানা
স্ট্রিট ফাইটার গেমগুলোতে শুধু fighters-দের নিজস্ব গল্পই দেখানো হয়নি, বরং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত একাধিক গোপন অপরাধমূলক ও ধর্মীয় সংস্থার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এতে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
শ্যাডালুর ফোর সেলেস্টিয়াল কিংস ও 'ডল স্কোয়াড'
শ্যাডালু সংস্থাটি পরিচালিত হতো চারজন প্রধান অধিনায়ক বা ‘ফোর সেলেস্টিয়াল কিংস’ (Four Heavenly Kings)-এর মাধ্যমে: ১. এম. বাইসন (সর্বোচ্চ কমান্ডার) ২. সাগাত (পরবর্তীতে সংস্থা ত্যাগ করেন এবং তার স্থলাভিষিক্ত হয় F.A.N.G) ৩. ভেগা (গোপন আততায়ী ও গোয়েন্দা প্রধান) ৪. বালরোগ (প্রধান নিরাপত্তা ও বলপ্রয়োগকারী)
এর বাইরে বাইসনের সুরক্ষার জন্য বিশ্বজুড়ে তরুণীদের অপহরণ করে সাইকো পাওয়ার ও ড্রাগ দিয়ে ব্রেনওয়াশ করে ‘ডল স্কোয়াড’ (Dolls) নামক ১২ জন মারাত্মক নারী ঘাতকের এক বাহিনী গড়ে তোলা হয়। এই ১২ জনের নাম দেওয়া হয়েছিল বছরের ১২টি মাসের নাম অনুসারে (যেমন: Enero, Febreiro, Marz, April, May, Juni, Juli, Santamu, Jiuriyu, Dip Chu, November, Decapre)। ক্যামি (Cammy) ছিলেন এই ডল স্কোয়াডের অন্যতম সদস্য এবং বাইসনের ডিএনএ দিয়ে তৈরি ক্লোন, যাকে বাইসনের নিজস্ব শরীর নষ্ট হয়ে গেলে নতুন ‘হোস্ট বডি’ (Host Body) হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
ইলুমিনাতির বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট
শ্যাডালু যেখানে সাইকো পাওয়ার ও ড্রাগ নিয়ে কাজ করতো, সেখানে ১০০০ বছরের পুরনো গোপন ধর্মীয় সংস্থা ‘ইলুমিনাতি’ (Illuminati) বিশ্বাস করতো ডিএনএ মিউটেশন ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে।
নেক্রো (Necro) ও টুয়েলভ (Twelve): ইলুমিনাতির প্রধান জিল (Gill) এবং তার ভাই ইউরিয়ান সাধারণ মানুষদের অপহণ করে তাদের ওপর নৃশংস রূপান্তর পরীক্ষা চালাতো। সাধারণ রাশিয়ান নাগরিক ইলকা (Ilka)-কে অপহণ করে তার শরীরে রাবার ও বিদ্যুতের শক্তি রূপান্তর করে তৈরি করা হয় ‘নেক্রো’। পরবর্তীতে তারা কোনো রক্তমাংসের মানুষ ছাড়াই সম্পূর্ণ রূপ পরিবর্তনকারী বায়ো-ওয়েপন ‘টুয়েলভ’ (Twelve) ও ‘ইলেভেন’ (Eleven) তৈরি করতে সক্ষম হয়।
যুক্ত মহাবিশ্ব: ফাইনাল ফাইট ও রাইভাল স্কুলস
স্ট্রিট ফাইটারের মহাবিশ্বটি কেবল নিজস্ব গেমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ক্যাফকমের আরও বেশ কয়েকটি বিখ্যাত ফ্র্যাঞ্চাইজি স্ট্রিট ফাইটারের সাথে একই সময়ে এবং একই টাইমলাইনে বিদ্যমান।
মেট্রো সিটি ও ফাইনাল ফাইট (Final Fight) সংযোগ
স্ট্রিট ফাইটারের জগতে অন্যতম বড় একটি শহর হলো মেট্রো সিটি (Metro City)। এটি মূলত ক্যাফকমের বিখ্যাত গেম ‘ফাইনাল ফাইট’-এর মূল প্রেক্ষাপট।
ফাইনাল ফাইটের মূল নায়ক এবং সাবেক পেশাদার রেসলার মাইক হ্যাগার (Mike Haggar), যিনি মেট্রো সিটির মেয়র ছিলেন, তিনি সরাসরি স্ট্রিট ফাইটিং স্পেসের অংশ।
ফাইনাল ফাইট থেকে কোডি (Cody), গাই (Guy), পয়জন (Poison), হুগো (Hugo), রোলেন্টো (Rolento), আবিগেইল (Abigail) এবং লুসিয়া (Lucia) পরবর্তীতে স্ট্রিট ফাইটার সিরিজের মূল ফাইটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। স্ট্রিট ফাইটার ৬-এ দেখানো মেট্রো সিটি হলো এই ফাইনাল ফাইট সিরিজেরই আধুনিক রূপ।
রাইভাল স্কুলস (Rival Schools / Project Justice)
ক্যাফকমের অন্যতম জনপ্রিয় গেম সিরিজ 'রাইভাল স্কুলস'-এর পুরো কাহিনী স্ট্রিট ফাইটারের একই টাইমলাইনে ঘটে।
সাকুরা কাসুগানোর উচ্চবিদ্যালয়ের বন্ধু হিনাতা কানো (Hinata Kano) এবং জাস্টিস হাইস্কুল সরাসরি স্ট্রিট ফাইটার ইউনিভার্সের অংশ।
স্ট্রিট ফাইটার ৫-এ রাইভাল স্কুলসের মূল চরিত্র আকিরা কাজামা (Akira Kazama)-কে অফিসিয়ালplayable ফাইটার হিসেবে যুক্ত করার মাধ্যমে ক্যাফকম নিশ্চিত করে যে রাইভাল স্কুলস এবং স্ট্রিট ফাইটার একই শহরের দুটি আলাদা দিক মাত্র।
কম আলোচিত চরিত্র লোর ও চরিত্রগুলোর মানসিক রূপান্তর
আকুমার নিজস্ব নৈতিক কোড (Honor Code)
প্রথম দর্শনে আকুমাকে সম্পূর্ণ ভিলেন বা শয়তান মনে হলেও, তার লড়াইয়ের নিজস্ব কিছু অদ্ভুত নীতি রয়েছে: ১. আকুমা কখনো দুর্বল, অসুস্থ বা লড়তে অনিচ্ছুক কোনো মানুষের ওপর আক্রমণ করে না। ২. সে কেবল তাদের সাথেই লড়াই করে, যারা মার্শাল আর্টে নিজেদের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে এবং মৃত্যুর মুখোমুখি লড়াই করতে প্রস্তুত। ৩. আকুমা জেন (Gen) এবং ওরো (Oro)-র মতো বৃদ্ধ সন্ন্যাসীদের সম্মান করে, কারণ তারা শক্তিশালী। সে এমনকি ছোট শিশুদের আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকে। সে কোনো বিশ্বজয়ের রাজনৈতিক চক্রান্ত করে না; তার লক্ষ্য কেবল শক্তি পরীক্ষা করা।
সাগাতের আধ্যাত্মিক মুক্তি ও ক্ষমা
রিউয়ের কাছে পরাজিত হওয়া এবং বুকে দাগ পাওয়ার পর সাগাত অন্ধ প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে শ্যাডালুতে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সাগাত অনুধাবন করে যে, প্রতিশোধের এই রাস্তা তাকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যখন ডান হিবিকি (Dan Hibiki) তার বাবার হত্যার প্রতিশোধ নিতে সাগাতকে আক্রমণ করে, সাগাত ইচ্ছে করেই ডানের কাছে নিজেকে পরাজিত হতে দেয়, যাতে ডানের মনের প্রতিশোধের আগুন নিভে যায়। এই ঘটনার পর সাগাত শ্যাডালু ছেড়ে দেয় এবং থাইল্যান্ডের এক প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে সাধনা শুরু করে। সে রিউকে শত্রু ভাবা বন্ধ করে এবং নিজের ভেতরের রাগ জয় করে একজন প্রকৃত শান্ত ও শ্রদ্ধেয় মার্শাল আর্ট মাস্টারে পরিণত হয়।
কেন মাস্টার্সের ট্র্যাজেডি ও নাইশাল ষড়যন্ত্র (SF6 Timeline)
স্ট্রিট ফাইটার ৬-এ কেন মাস্টার্সকে দেখা যায় অত্যন্ত মলিন, দাড়িওয়ালা এবং একজন ভগ্নমানবের রূপে। বহু গেমিং ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগে কেনের মতো ধনকুবেরের এই অবস্থা হলো কেন?
কাহিনী: স্ট্রিট ফাইটার ৫-এর পর শ্যাডালুর সাবেক ফিন্যান্সিয়াল ল্যান্ডার জেপি (JP) নাইশাল (Nayshall) দেশে এক দাতব্য কার্যক্রমের আড়ালে আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী চক্রান্ত শুরু করে।
জেপি মাস্টার্স ফাউন্ডেশনের ফান্ড ব্যবহার করে নাইশালে একটি বোমা হামলা চালায় এবং পুরো দোষটি কেন মাস্টার্সের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। কেনকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হিসেবে ফ্রেম করা হয়।
কেন তার স্ত্রী এলিজা (Eliza) এবং ছেলে মেল (Mel)-কে জেপির ঘাতকদের হাত থেকে বাঁচাতে তাদের নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং ছদ্মবেশে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে নিজের নাম ও নির্দোষ প্রমাণ করার সুযোগ খুঁজতে থাকে।
যুদ্ধের দর্শন ও স্ট্রিট ফাইটারের চিরন্তন উত্তরাধিকার
সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা স্ট্রিট ফাইটার কেবল ভিডিও গেমের বোতাম টেপার কোনো সাধারণ ডিজিটাল মাধ্যম নয়। এর গভীর কাহিনীর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে মানুষের মনের আলো ও অন্ধকারের চিরন্তন সংগ্রাম।
রিউয়ের চরিত্রটি আমাদের শেখায় যে, চরম ক্ষমতা অর্জনই জীবনের শেষ কথা নয়; বরং সেই ক্ষমতাকে কীভাবে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মানবতার কল্যাণে রূপ দেওয়া যায়, সেটাই আসল সাধনা। এম. বাইসন বা সেথের পরিণতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অন্যের ভয় ও ঘৃণাকে পুঁজি করে গড়ে তোলা ক্ষমতার সাম্রাজ্য একদিন ছাই হয়ে যেতে বাধ্য। অন্যদিকে চুন-লি বা গেইলের লড়াই প্রমাণ করে যে ভালোবাসা, পরিবার এবং সত্যের জন্য লড়াই কখনো বৃথা যায় না।
১৯৮৭ সালের সেই পিক্সেল আর্টের ২ডি গেমটি আজ ২০২৬ সালের আধুনিক ৪কে গ্রাফিক্সের প্রযুক্তিতে রূপ নিয়েছে, কিন্তু এর মূল আত্মাটি রয়ে গেছে সেই একই জায়গায় "বিশ্বজুড়ে নিজের সীমানা ছাড়িয়ে শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্ত সন্ধান।" স্ট্রিট ফাইটার ছিল, আছে এবং আগামী গেমারদের হৃদয়ে বিশ্ব মার্শাল আর্টের এই মহাকাব্য চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।






















