ইনহিউম্যানস – মহাবিশ্বের এক জেনেটিক জাতির ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ

ইনহিউম্যানস – মহাবিশ্বের এক জেনেটিক জাতির ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ

মার্ভেল কমিক্সের সুবিশাল ও জটিল মাল্টিভার্সে যতগুলো কাল্পনিক প্রজাতি বা সুপারহিউম্যান রেস রয়েছে, তাদের মধ্যে 'ইনহিউম্যানস' (Inhumans) বা 'ইনহোমো সুপ্রিমিস' (Inhomo Supremis) সবচেয়ে রহস্যময়, প্রথাভাঙ্গা এবং রূপক অর্থপূর্ণ। লক্ষ লক্ষ বছর আগে, যখন পৃথিবীতে মানুষের আদি পূর্বপুরুষেরা আদিম জীবনযাপন করত, তখন মহাকাশের সুদূর প্রান্ত থেকে নীল চামড়ার অতি-উন্নত এলিয়েন প্রজাতি 'ক্রি' (Kree) পৃথিবীতে আগমন করে। তাদের বৈজ্ঞানিক কৌতুহল এবং মহাজাগতিক যুদ্ধের প্রয়োজনে পরিচালিত এক গোপন জেনেটিক পরীক্ষার ফলস্বরূপ জন্ম নেয় ইনহিউম্যানস প্রজাতি।

ইনহিউম্যানদের গল্প কেবল ডালপালা মেলা সুপারহিরোদের রঙিন লড়াইয়ের কাহিনী নয়; এটি একই সাথে জেনেটিক নির্ধারণবাদ, কঠোর শ্রেণীবৈষম্য, রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ, রাজকীয় ক্ষমতা এবং অস্তিত্ব রক্ষার এক করুণ মহাকাব্য। 'টেরিজেনেসিস' (Terrigenesis) নামক রূপান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুপ্ত ক্ষমতা অর্জন করা এবং 'অ্যাটিলান' (Attilan) নামক গোপন ভাসমান শহরে আত্মগোপন করে থাকা ইনহিউম্যানদের সাধারণ মানুষ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে তুলেছে। এই নিবন্ধে আমরা ইনহিউম্যানদের উৎপত্তি, ক্রি সভ্যতার চক্রান্ত, অ্যাটিলানের কঠোর সামাজিক কাঠামো, রয়াল ফ্যামিলির অভ্যন্তরীণ ট্র্যাজেডি, মার্ভেল কমিক্সে তাদের প্রধান আর্টসমূহ এবং এর গভীর সামাজিক-দার্শনিক রূপক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ক্রি পরীক্ষা ও ইনহিউম্যানসের উৎপত্তি

প্রায় ৫০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ বছর পূর্বে প্যান্থালাসা ও প্রাক-ঐতিহাসিক যুগে পৃথিবী যখন প্রাথমিক মানব বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন মহাবিশ্বে চলছিল ‘ক্রি-স্ক্রুল যুদ্ধ’ (Kree-Skrull War)। এটি ছিল দুটি শক্তিশালী মহাজাগতিক সাম্রাজ্যের মধ্যে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত।

ক্রি সভ্যতার সৈন্য তৈরির পরিকল্পনা: ক্রি জাতি প্রযুক্তিতে চরম উন্নত হলেও তাদের নিজস্ব বিবর্তনীয় জিনগত পক্ষাঘাত বা 'জেনেটিক স্ট্যাগনেশন' (Genetic Stagnation) ঘটেছিল। অর্থাৎ, তাদের প্রজাতি নতুন করে বিবর্তিত হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল। একই সাথে স্ক্রুলদের পরিবর্তনশীল রূপান্তর ক্ষমতার (Shape-shifting) সাথে টেক্কা দিতে তাদের অতিমানবীয় বায়োলজিক্যাল অস্ত্রের প্রয়োজন ছিল।

ক্রি সায়েন্টিস্টরা মহাবিশ্বের বিভিন্ন গ্রহে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখতে পান যে পৃথিবীর আদিম মানবদেহে (Homo sapiens) মহাজাগতিক সত্তা 'সেলেনশিয়ালস' (Celestials)-দের ফেলে যাওয়া সুপ্ত জেনেটিক সম্ভাবনা রয়েছে। ক্রি বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে তাদের একটি গোপন ঘাঁটি স্থাপন করে এবং আদিম মানুষদের ধরে এনে তাদের ডিএনএ (DNA) পরিবর্তন করে। এই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নতুন এক উপ-প্রজাতির জন্ম হয়, যা ইতিহাসে 'ইনহোমো সুপ্রিমিস' বা ইনহিউম্যানস নামে পরিচিতি পায়।

টুক দ্য কেভবয় ও আদি ইনহিউম্যানস: এই পরীক্ষার প্রথম সফল ফলাফলের অন্যতম উদাহরণ ছিল 'টুক দ্য কেভবয়'। সে তাঁর সাধারণ গুহামানব মাতা-পিতার ঘরে জন্ম নিলেও জিনের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কারণে অতিমানবীয় বুদ্ধিমত্তা ও শারীরিক সক্ষমতা লাভ করে। সে-ই ছিল পৃথিবীর মাটিতে প্রথম স্বাধীন ইনহিউম্যানদের প্রতিচ্ছবি।

প্রজেক্ট ত্যাগ ও সুপ্রিম ইন্টেলিজেন্সের ভবিষ্যদ্বাণী: ক্রি সভ্যতার সর্বময় কর্তৃত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত শাসক 'সুপ্রিম ইন্টেলিজেন্স' (Supreme Intelligence) এক মহাজাগতিক ক্যালকুলেশন ও ভবিষ্যদ্বাণীর মাধ্যমে দেখতে পায় যে এই ইনহিউম্যান প্রজাতি একদিন এতটাই শক্তিশালী ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠবে যে তারা তাদের নিজেদের সৃষ্টিকর্তা অর্থাৎ ক্রি সাম্রাজ্যকেই ধ্বংস করে দেবে। এই চরম আশঙ্কায় ক্রি শাসকেরা অবিলম্বে প্রজেক্টটি বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। তারা পৃথিবীর পরীক্ষাগার ধ্বংস করে দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। সৃষ্টিকর্তাদের দ্বারা পরিত্যক্ত হলেও এই রূপান্তরিত মানব প্রজাতি তাদের নতুন ক্ষমতা নিয়ে পৃথিবীতে টিকে থাকে এবং গোপনে একটি নিজস্ব উন্নত সভ্যতা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়।

টেরিজেনেসিস, অ্যাটিলান এবং কঠোর সামাজিক কাঠামো

সৃষ্টিকর্তা ক্রিদের চলে যাওয়ার পর ইনহিউম্যানদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা ও ক্ষমতাকে সুসংগঠিত করা। এই উদ্দেশ্যে তারা টেরিজেন ক্রিস্টাল ও অ্যাটিলান শহরের সূচনা করে।

টেরিজেনেসিস (Terrigenesis) ও র্যান্ডাক

প্রায় ২৫,০০০ বছর আগে ইনহিউম্যান দার্শনিক ও বিজ্ঞানী 'র্যান্ডাক' (Randac) এক বিশেষ রাসায়নিক যৌগ আবিষ্কার করেন, যা 'টেরিজেন ক্রিস্টাল' (Terrigen Crystals) নামে পরিচিত। এই ক্রিস্টাল যখন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পানির সংস্পর্শে আসে, তখন তা থেকে এক বিশেষ ধরনের বাষ্প বা গ্যাস নির্গত হয়, যাকে বলা হয় 'টেরিজেন মিস্ট' (Terrigen Mist)।

প্রক্রিয়া: যখন কোনো ইনহিউম্যান কিশোর বা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এই টেরিজেন মিস্টের স্পর্শে আসে, তখন তাঁর সুপ্ত জেনেটিক পরিবর্তন জাগ্রত হয়। তাঁর চারপাশে একটি কোকুন বা আবরণ তৈরি হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সে নতুন অতিমানবীয় ক্ষমতা ও পরিবর্তিত শারীরিক রূপ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে।

ঝুঁকি ও শারীরিক বিকৃতি: টেরিজেনেসিস প্রক্রিয়া সবার জন্য সুন্দর বা আশীর্বাদপুষ্ট হয় না। অনেক সময় জিনের ভুল মিউটেশনের কারণে ব্যক্তির চেহারা দানবীয় রূপ নেয়, কিংবা সে মারাত্মক শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়।

অ্যাটিলান (Attilan): দ্য আইল্যান্ড অফ গডস

সাধারণ মানুষের হিংসা, আক্রমণ এবং পরিবেশগত দূষণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে ইনহিউম্যানসরা একটি সুরক্ষিত গোপন শহর নির্মাণ করে, যার নাম 'অ্যাটিলান'। সময়ের সাথে সাথে শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে অ্যাটিলানকে বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে:

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর: প্রথম যুগে একটি দ্বীপ হিসেবে এটি অবস্থিত ছিল।

হিমালয় পর্বতমালা: মানুষের আধুনিক প্রযুক্তির হাত থেকে বাঁচতে এটি হিমালয়ের নির্জন উপত্যকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

চাঁদের ব্লু এরিয়া (Blue Area of the Moon): পরবর্তীতে পৃথিবীর মারাত্মক বায়ুদূষণ এবং পরমাণু অস্ত্রের হুমকি থেকে বাঁচতে অ্যাটিলানকে চাঁদের কৃত্রিম বায়ুমণ্ডলযুক্ত 'ব্লু এরিয়া'-তে স্থানান্তরিত করা হয়।

জেনোগ্র্যাসি ও 'আলফা প্রিমিটিভস' বৈষম্য

অ্যাটিলানের সমাজব্যবস্থা পরিচালিত হয় 'জেনোগ্র্যাসি' (Genocracy) বা জেনেটিক শ্রেষ্ঠত্বের নীতির ওপর। জেনেটিক কাউন্সিল (Genetic Council) নির্ধারণ করত কে কার সাথে বিয়ে করবে এবং কার সন্তান টেরিজেনেসিসের মুখোমুখি হতে পারবে।

সোশ্যাল হায়ারার্কি: যাদের টেরিজেনেসিসের পর সুন্দর ও শক্তিশালী ক্ষমতা হতো, তারা সমাজে উচ্চ স্থান পেত। অন্যদিকে যাদের রূপান্তর ব্যর্থ হতো বা বিকলাঙ্গ রূপ নিত, তাদের শহরের নিম্নস্তরে বা 'ডার্কওয়ার্ড এন্ড'-এ নির্বাসিত করা হতো।

আলফা প্রিমিটিভস (Alpha Primitives): ইনহিউম্যান সমাজের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায় হলো 'আলফা প্রিমিটিভস' নামক এক দাস প্রজাতির সৃষ্টি। ইনহিউম্যানদের পরিশ্রমহীন ও বিলাসবহুল জীবন নিশ্চিত করতে জেনেটিক্যালি ক্লোন করে বুদ্ধিহীন একদল শ্রমজীবী দাস তৈরি করা হয়েছিল। দাসত্বের এই বলয় ইনহিউম্যান সমাজের নিষ্ঠুর ও বৈষম্যমূলক রূপটিই উন্মোচিত করে।

রয়াল ফ্যামিলি: ইনহিউম্যানদের হৃদপিণ্ড ও তাদের ক্ষমতা

ইনহিউম্যান সমাজের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘রয়াল ফ্যামিলি’ (Royal Family) বা রাজপরিবার। এরা কেবল অ্যাটিলানের শাসকই নন, বরং মার্ভেল ইউনিভার্সের অন্যতম শক্তিশালী ও জটিল চরিত্রসমূহ।

ব্ল্যাক বোল্ট (Blackagar Boltagon) - নিরবতার সম্রাট

ব্ল্যাক বোল্ট হলেন ইনহিউম্যানদের মহামান্য রাজা। তাঁর প্রধান ক্ষমতা হলো তাঁর 'হাইপার-সনিক ভয়েস' বা অতি-শব্দ তরঙ্গ।

ক্ষমতার ভয়াবহতা: ব্ল্যাক বোল্ট একবিন্দু ফিসফিস করে কথা বললে একটি বিশাল অট্টালিকা গুঁড়িয়ে যেতে পারে; আর যদি তিনি পূর্ণ শক্তিতে চিৎকার করেন, তবে একটি আস্ত গ্রহ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

ট্র্যাজেডি: জন্মের পর টেরিজেনেসিসের মাধ্যমে এই মারাত্মক ক্ষমতা অর্জনের পর তাঁকে বছরের পর বছর শব্দরোধী প্রকোষ্ঠে বন্দি রেখে নিজের কণ্ঠকে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নিজের ক্ষমতার মারাত্মক পরিণতির কারণে তিনি আজীবন নীরব থাকার কঠোর ব্রত পালন করেন। তিনি কেবল ইশারা এবং স্ত্রী মেডুসার টেলিপ্যাথিক মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন।

মেডুসা (Medusalith Amaquelin) - রাজকীয় চুল ও কণ্ঠ

মেডুসা হলেন অ্যাটিলানের সাহসী রাণী এবং ব্ল্যাক বোল্টের সহধর্মিণী।

ক্ষমতা: মেডুসার লাল দীর্ঘ চুল সাধারণ চুল নয়; তিনি তাঁর মনের ইচ্ছায় প্রতিটি চুলের গোছাকে ইস্পাতের মতো শক্ত বা চাবুকের মতো নমনীয় করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এটি দিয়ে তিনি একাধিক শত্রুকে একসাথে পিষে ফেলতে পারেন।

ভূমিকা: ব্ল্যাক বোল্ট যেহেতু কথা বলতে পারেন না, তাই মেডুসাই হলেন রাজার 'মুখপাত্র'। তিনি রাজপরিবারের রাজনৈতিক কূটনীতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন।

কর্নাক (Karnak) - ত্রুটি দেখার ওস্তাদ

কর্নাক রাজপরিবারের সদস্য হলেও তিনি কখনো টেরিজেনেসিসের মুখোমুখি হননি। তিনি কঠোর মানসিক ও শারীরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে অপরাজেয় যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

ক্ষমতা: কর্নাকের মূল শক্তি হলো তিনি যেকোনো বস্তু, দর্শন, যুদ্ধকৌশল বা ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক সর্বপ্রকার 'দুর্বলতা বা ত্রুটি' (Flaw/Weakness) মুহূর্তের মধ্যে চিহ্নিত করতে পারেন। সামান্য স্পর্শেই তিনি কঠিনতম হীরা বা প্রতিপক্ষের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থান ভেঙে চুরমার করে দিতে পারেন।

গর্গন (Gorgon) - ভূকম্পনকারী যোদ্ধা

গর্গন হলেন ব্ল্যাক বোল্টের খুড়তুতো ভাই এবং রাজকীয় রক্ষীবাহিনীর প্রধান।

ক্ষমতা: টেরিজেনেসিসের ফলে গর্গনের নিচের অংশ ষাঁড় বা পশুর ক্ষুরের রূপ ধারণ করেছে। তিনি যখন সজোরে মাটিতে পায়ের ক্ষুর দিয়ে আঘাত করেন, তখন রিখটার স্কেলে ভয়াবহ মাত্রা নিয়ে ভূকম্পন ও শকওয়েভ তৈরি হয়।

ট্রাইটন (Triton) - জলজ যোদ্ধা

ট্রাইটন হলেন কর্নাকের ভাই। টেরিজেনেসিস তাঁর শরীরকে একটি আঁশযুক্ত জলজ প্রাণীর রূপ দিয়েছে।

ক্ষমতা: তিনি পানির নিচে দ্রুতগতিতে সাঁতার কাটতে পারেন এবং পানির বিপুল চাপ সহ্য করতে পারেন। তবে তিনি ডাঙায় স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলে বেশি সময় শ্বাস নিতে পারেন না; তাই স্থলভাগে চলার জন্য তাঁকে বিশেষ কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র ব্যবহার করতে হয়।

ক্রিস্টাল (Crystalia Amaquelin) - উপাদান সমূহের দেবী

মেডুসার ছোট বোন ক্রিস্টাল হলেন রাজপরিবারের অন্যতম শক্তিশালী ও নমনীয় সদস্য।

ক্ষমতা: তিনি প্রকৃতির চারটি মৌলিক উপাদান আগুন, পানি, বাতাস এবং মাটি (Elemental Control) শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তিনি মার্ভেল ইউনিভার্সের অন্যতম সেরা রাজনৈতিক দূত, যিনি অ্যাভেঞ্জার্স এবং ফ্যান্টাস্টিক ফোর-এর সাথে ইনহিউম্যানদের মিত্রতা গড়তে সাহায্য করেছেন।

ম্যাক্সিমাস দ্য ম্যাড (Maximus the Mad) - উন্মাদ ভাই

ম্যাক্সিমাস হলেন ব্ল্যাক বোল্টের ছোট ভাই এবং ইনহিউম্যানদের প্রধান খলনায়ক।

ক্ষমতা: তিনি একজন জিনিয়াস বিজ্ঞানী এবং একই সাথে টেলিপ্যাথিক মাইন্ড-কন্ট্রোল ক্ষমতার অধিকারী। তিনি মানুষের মস্তিষ্ক পরিবর্তন করে নিজের বশে নিয়ে আসতে পারেন।

মানসিকতা: তাঁর ভাই ব্ল্যাক বোল্টের প্রতি গভীর ঈর্ষা এবং অ্যাটিলানের সিংহাসন দখলের মোহে তিনি বারবার চক্রান্ত ও বিদ্রোহ করেছেন। তাঁর চাল চালার দক্ষতার কারণে তাঁকে 'ম্যাক্সিমাস দ্য ম্যাড' বলা হয়।

লকজ (Lockjaw) - টেলিপোর্টিং দানব কুকুর

লকজ হলো রাজপরিবারের পরম বিশ্বস্ত পোষা প্রাণী। এটি দেখতে ২০০ পাউন্ড ওজনের একটি বিশাল বুলডগ হলেও এর কপালে একটি টিউনিং-ফোর্কের মতো অ্যান্টেনা রয়েছে।

ক্ষমতা: লকজ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে, এমনকি পৃথিবী থেকে চাঁদে মহাজাগতিক 'টেলিপোর্টেশন' (Teleportation) করতে পারে। সে রয়াল ফ্যামিলিকে যেকোনো বিপদের হাত থেকে এক নিমিষে উদ্ধার করতে সক্ষম।

মার্ভেল কমিক্সে ইনহিউম্যানদের প্রধান ইভেন্ট ও কমিক আর্টসমূহ

ইনহিউম্যানদের বহু বছরের ইতিহাস একাধিক স্মরণীয় ও যুগান্তকারী আর্কে বিভক্ত। প্রধান প্রধান ঘটনাসমূহ নিচে সারণীবদ্ধ করা হলো:

কমিকস আর্ব / ইভেন্টের নাম

প্রকাশের সাল

মূল খলনায়ক / প্রতিপক্ষ

ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ ও ভূ-রাজনৈতিক ফলাফল

Kree-Skrull War & Secret Invasion

১৯৭০/২০০৮

রোনান দ্য অ্যাকিউজার ও স্ক্রুলস

রোনান অ্যাটিলান দখল করে ইনহিউম্যানদের অস্ত্র বানাতে চায়। পরবর্তীতে স্ক্রুলরা ব্ল্যাক বোল্টের ছদ্মবেশ ধারণ করলে রয়াল ফ্যামিলি স্ক্রুলদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে।

War of Kings

২০০৯

সেলেস্টায়াল/শি'আর সাম্রাজ্য (Vulcan)

ব্ল্যাক বোল্ট সরাসরি ক্রি সাম্রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন এবং শি'আর (Shi'ar) সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে মহাজাগতিক যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।

Infinity (২০১৩)

২০১৩

থানোস (Thanos)

থানোস অ্যাটিলান আক্রমণ করলে ব্ল্যাক বোল্ট 'টেরিজেন বোম' বিস্ফোরণ ঘটান। পুরো পৃথিবীতে টেরিজেন মিস্ট ছড়িয়ে পড়ে এবং 'নু-হিউম্যানস'-এর জন্ম হয়।

Inhumans vs. X-Men

২০১৬–২০১৭

এক্স-মেন (X-Men / Mutants)

টেরিজেন ক্লাউড মিউট্যান্টদের জন্য মারাত্মক 'এম-পক্স' (M-Pox) বিষ তৈরি করে। দুই প্রজাতি যুদ্ধে লিপ্ত হয়। মেডুসা শেষ পর্যন্ত মেঘটি ধ্বংস করেন।

Death of the Inhumans

২০১৮

ভক্স (Vox / Kree Super-Inhuman)

ক্রিদের তৈরি 'ভক্স' নামক মারাত্মক বায়োলজিক্যাল ঘাতক হাজার হাজার ইনহিউম্যানকে হত্যা করে। ট্রাইটন নিহত হন এবং ইনহিউম্যান জাতি প্রায় বিলুপ্তির মুখে পড়ে।

প্রধান ঘটনাবলীর বিস্তারিত বিশ্লেষণ

‘ইনফিনিটি’ (২০১৩) ও টেরিজেন বোমের বিশ্বব্যাপী বিস্ফোরণ

মার্ভেল ইতিহাসকে সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া আর্ট ছিল ২০১৩ সালের Infinity। মহাজাগতিক স্বৈরাচারী থানোস তাঁর অবৈধ সন্তান থেনকে (Thane) হত্যা করার জন্য পৃথিবীতে আক্রমণ করে এবং ইনহিউম্যানদের কাছে কর হিসেবে তাঁদের তরুণের বলিদানের দাবি জানায়।

ব্ল্যাক বোল্ট থানোসের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে অ্যাটিলান যেন থানোসের হাতে না পড়ে। তাই তিনি এবং ম্যাক্সিমাস গোপনে প্রস্তুত করা 'টেরিজেন বোম' (Terrigen Bomb) শহরটির ভেতরেই ফুটিয়ে দেন।

অ্যাটিলানের পতন: পরমাণু বোমার মতো বিস্ফোরণে ভাসমান শহর অ্যাটিলান ধ্বংস হয়ে নিউ ইয়র্কের হাডসন নদীতে ভেঙে পড়ে।

টেরিজেন ক্লাউড ও 'নু-হিউম্যানস' (NuHumans): বিস্ফোরণের ফলে বিশাল আকারের দুটি টেরিজেন বাষ্পের মেঘ বায়ুমণ্ডলে মিশে বায়ুর সাথে পুরো বিশ্বে ঘুরে বেড়াতে শুরু করে। যেসব সাধারণ মানুষের শরীরে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সুপ্ত ইনহিউম্যান ডিএনএ জমা ছিল, সেই বাষ্প তাদের স্পর্শ করা মাত্রই তাদের রূপান্তর ঘটতে শুরু করে।

কামালা খান (Ms. Marvel): এই ঘটনার ফলেই নিউ জার্সির এক সাধারণ পাকিস্তানি-আমেরিকান কিশোরী কামালা খান টেরিজেনেসিসের মুখোমুখি হয় এবং স্ট্রেচিং বা বডি-মরফিং ক্ষমতা পেয়ে নতুন 'মিস মার্ভেল' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়া মুন গার্ল, আইসো, ফ্লেক্সের মতো বহু শক্তিশালী 'নু-হিউম্যান' চরিত্র এই যুগে সৃষ্টি হয়।

‘ইনহিউম্যানস বনাম এক্স-মেন’ (Inhumans vs. X-Men): প্রজাতিগত বেঁচে থাকার যুদ্ধ

বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ানো টেরিজেন ক্লাউড ইনহিউম্যানদের নতুন সদস্য উপহার দিলেও, কমিকসের অপর বিখ্যাত জাতি 'মিউট্যান্ট' (X-Men)-দের জন্য তা অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়।

এম-পক্স (M-Pox): বায়ুমণ্ডলে ঘুরে বেড়ানো টেরিজেন মিস্ট মিউট্যান্টদের জন্য এক ভয়াবহ মরণব্যাধি বিষ তৈরি করে, যার নাম দেওয়া হয় 'এম-পক্স'। এটি মিউট্যান্টদের শরীরে বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি করে এবং তাদের ধীরে ধীরে মেরে ফেলে।

সংঘাত: সাইক্লপস, এমা ফ্রস্ট, ম্যাগনেটো এবং স্টর্মের নেতৃত্বে এক্স-মেন দল সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা অস্তিত্ব রক্ষার জন্য টেরিজেন ক্লাউডকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করবে। অন্যদিকে রাণী মেডুসা এবং ইনহিউম্যানসরা মনে করে টেরিজেন মেঘ ধ্বংস করা মানে তাদের জাতির ভবিষ্যৎ ও পবিত্রতাকে ধ্বংস করা।

মেডুসার চরম ত্যাগ: রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে যখন মেডুসা জানতে পারেন যে এই ক্লাউড সত্যিই কিছুদিনের মধ্যে পৃথিবীর শেষ মিউট্যান্টকেও মেরে ফেলবে, তখন তিনি কোনো দ্বিধা না করে একটি বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে পুরো টেরিজেন ক্লাউড ধ্বংস করে দেন। এর মাধ্যমে মিউট্যান্টরা বেঁচে যায়, তবে ইনহিউম্যানদের নতুন সদস্য তৈরির একমাত্র উৎস চিরতরে হারিয়ে যায়।

‘ডেথ অব দ্য ইনহিউম্যানস’ (২০১৮): বিলুপ্তির শেষ সীমানায়

২০১৮ সালের পাঁচ পর্বের মিনি-সিরিজ Death of the Inhumans-এ ইনহিউম্যান জাতির ওপর সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে।

ক্রিদের প্রত্যাবর্তন: ক্রি সাম্রাজ্যের নতুন নেতৃত্বের অধীনে 'ভক্স' (Vox) নামক এক বায়োলজিক্যাল সুপার-সৈনিক প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়। ক্রিরা ঘোষণা করে—ইনহিউম্যানদের হয় ক্রিদের গোলাম হিসেবে আনুগত্য স্বীকার করতে হবে, না হয় তাদের চিরতরে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা হবে।

গণহত্যা: ভক্স একাই হাজার হাজার ইনহিউম্যানকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ট্রাইটন নিহত হন, গর্গন মারাত্মকভাবে আহত হন এবং ব্ল্যাক বোল্টের গলার ভোকাল কর্ড কেটে তাঁর কণ্ঠ ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

একাকী বেঁচে থাকা: ব্ল্যাক বোল্ট তাঁর শেষ শক্তিতে ভক্সকে ধ্বংস করেন বটে, কিন্তু এই যুদ্ধের পর ইনহিউম্যানদের হাজার বছরের রাজত্ব, অ্যাটিলানের জনসংখ্যা এবং রয়াল ফ্যামিলির গৌরব ধূলিসাৎ হয়ে যায়। তারা মহাবিশ্বে এক ক্ষুদ্র ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিতে পরিণত হয়।

পপ কালচার, মিডিয়া এবং এমসিইউ (MCU)-তে ইনহিউম্যানদের অবস্থান

ইনহিউম্যানদের ইতিহাস কেবল কমিকসের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স (MCU) এবং টেলিভিশন লাইভ-অ্যাকশনেও এদের আনার বহু চেষ্টা করা হয়েছে।

এজেস অব এস.এইচ.আই.ই.এল.ডি. (Agents of S.H.I.E.L.D.)

টেলিভিশন সিরিজ Agents of S.H.I.E.L.D.-এর দ্বিতীয় সিজন থেকে ইনহিউম্যানদের সফলভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ডেজি জনসন (কোয়েক / Quake) চরিত্রটি একজন প্রধান ইনহিউম্যান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই সিরিজে টেরিজেন ক্রিস্টাল, আফটারলাইফ নামক গোপন ইনহিউম্যান গ্রাম এবং হাইভ (Hive) নামক প্রথম ইনহিউম্যানের সাথে মার্ভেল ভক্তদের পরিচয় ঘটানো হয়।

২০১৭ লাইভ-অ্যাকশন সিরিজ 'ইনহিউম্যানস'

মার্ভেল স্টুডিও প্রথমে ইনহিউম্যানদের নিয়ে একটি বিগ-বাজেট সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কৌশলগত কারণে তা এবিসি (ABC) নেটওয়ার্কে আট পর্বের লাইভ-অ্যাকশন টিভি সিরিজে রূপ নেয়। দুর্বল ভিএফএক্স (VFX), বাজে স্ক্রিপ্ট এবং সাধারণ নির্দেশনার কারণে সিরিজটি সমালোচক ও দর্শকদের কাছে চরমভাবে ব্যর্থ হয় এবং প্রথম সিজনের পরেই বাতিল করে দেওয়া হয়।

ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেস (২০২২)

২০২২ সালের Doctor Strange in the Multiverse of Madness চলচ্চিত্রে অভিনেতা অ্যানসন মাউন্টকে (Anson Mount) আবার ব্ল্যাক বোল্ট হিসেবে ফিরিয়ে আনা হয়। অন্য এক মহাবিশ্বের (Earth-838) 'ইলুমিনাটি' (Illuminati) পরিষদের সদস্য হিসেবে তাঁকে দেখা যায়। যদিও ওয়ান্ডা ম্যাক্সিমফ (স্কারলেট উইচ)-এর সাথে লড়াইয়ে তাঁর করুণ পরিণতি ঘটে, তবুও এটি ভবিষ্যতে প্রধান এমসিইউ-তে ইনহিউম্যানদের ফেরার পথ উন্মুক্ত রেখেছে।

আধুনিক কমিকসে রূপান্তর (২০২৪-২০২৬)

বর্তমানে মার্ভেল কমিকসে ইনহিউম্যানদের ভূমিকা সীমিত হলেও কামালা খান (মিস মার্ভেল)-কে কমিক্সে একজন 'ইনহিউম্যান-মিউট্যান্ট হাইব্রিড' হিসেবে পুনরায় উপস্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৪-২০২৫ সালের Ultimate Black Panther সিরিজে বিকল্প মহাবিশ্বের ব্ল্যাক বোল্ট এবং অ্যাটিলানের নাম আবার উচ্চারিত হচ্ছে, যা নির্দেশ করে যে মার্ভেল একদম পুরোপুরি এই প্রজাতিকে ভুলে যায়নি।

ইনহিউম্যানদের সামাজিক ও দার্শনিক রূপক

ইনহিউম্যানদের গল্প বিশ্লেষণ করলে এর ভেতরে আধুনিক বিশ্ব রাজনীতির একাধিক গভীর রূপক ও দর্শন খুঁজে পাওয়া যায়:

অ্যারিস্টোক্রেসি ও জেনোগ্র্যাসি (শ্রেণি বৈষম্যের নগ্ন রূপ)

ইনহিউম্যানদের অ্যাটিলান শহরটি বাইরে থেকে দেখতে স্বর্গীয় হলেও, এর ভেতরে ছিল এক গভীর সামাজিক বৈষম্য। জিনের ওপর ভিত্তি করে কার স্থান রাজপ্রাসাদে হবে আর কার স্থান নির্জন নির্বাসনে হবে তা নির্ধারণ করা হতো। 'আলফা প্রিমিটিভস' নামক কৃত্রিম দাস প্রজাতি সৃষ্টি করে তাদের দিয়ে নোংরা কাজ করানো আমাদের সমাজের দাস প্রথা ও নিম্নবর্ণের ওপর ওপরতলার মানুষের শোষণেরই একটি সুনির্দিষ্ট প্রতীক।

নেচার বনাম নার্চার (Nature vs. Nurture)

টেরিজেনেসিস রূপক হিসেবে মানুষের কৈশোরের বয়ঃসন্ধিকাল (Puberty)-কে প্রকাশ করে। একজন ইনহিউম্যান জানে না টেরিজেনেসিসের পর তাঁর শরীর প্রদীপ্ত দেবদূতের মতো হবে নাকি বিকট দানবের মতো হবে। এটি মানুষের জিনগত অনিশ্চয়তা এবং নিজের রূপকে গ্রহণ করার মনস্তাত্ত্বিক লড়াইকে তুলে ধরে।

নেতৃত্বের নিঃসঙ্গতা ও ব্ল্যাক বোল্টের নীরবতা

ব্ল্যাক বোল্ট চরিত্রটি ক্ষমতার ভারী মূল্য পরিশোধের এক বাস্তব প্রতীক। রাজা হিসেবে তাঁর একটি ভুল শব্দ তাঁর পুরো ভালোবাসার মানুষকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই পুরো বিশ্বকে বাঁচানোর জন্য তাঁকে আজীবন নীরব থাকতে হয়। এটি প্রকাশ করে যে—প্রকৃত মহান নেতাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা একাকী ও নিঃসঙ্গ হতে পারে।

বিলুপ্তির ছায়ায় এক অমর রাজত্ব

ইনহিউম্যানস হলো মার্ভেল মহাবিশ্বের এমন এক ট্র্যাজিক প্রজাতি, যাদের জন্ম হয়েছিল অন্যের দাসত্ব ও মহাজাগতিক যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার জন্য। কিন্তু তারা তাদের ইচ্ছা শক্তি, বুদ্ধিমত্তা এবং ঐতিহ্যের বলে নিজেদেরকে একটি সার্বভৌম ও সম্মানিত রাজত্বে উন্নীত করেছিল।

ক্রিদের নির্মম পরীক্ষা থেকে শুরু করে অ্যাটিলানের স্বর্ণযুগ, টেরিজেন বোমের তাণ্ডব এবং পরবর্তীতে বিলুপ্তির মুখোমুখি হওয়া ইনহিউম্যানদের প্রতিটি অধ্যায় মানব সভ্যতারই এক আয়না। তাদের রাজনীতিতে যেমন রক্তক্ষয়ী ক্ষমতা দখলের যুদ্ধ রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিজেদের প্রজাতিকে বাঁচিয়ে রাখার নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ।

বর্তমানে কমিকস বা সিনেমায় ইনহিউম্যানদের অবস্থান কিছুটা স্তিমিত হলেও, মার্ভেল মাল্টিভার্সের ক্যানভাসে তাদের ফেলে যাওয়া ইতিহাস, ব্ল্যাক বোল্টের ভয়াল নীরবতা এবং অ্যাটিলানের রাজকীয় ঐতিহ্য চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকবে। কারণ জিনের মাধ্যমে যে ক্ষমতার জন্ম হয়, ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েও সেই জিনের সুপ্ত শিখা পুনরায় জ্বলে ওঠার ক্ষমতা রাখে।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.