১০টি সিনেমায় অভিনেতারা সত্যিই সহবাস করেছেন - সেলুলয়েডে সত্যের মুখোমুখি

যে কারণে মেয়েরা বেশি বয়সী পুরুষদের জীবনসঙ্গী হিসেবে পছন্দ করে

চলচ্চিত্রের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, পর্দায় মানুষের আবেগ, হিংসা, ক্ষোভ কিংবা ভালোবাসাকে ফুটিয়ে তুলতে পরিচালকরা নানাবিধ কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু যখন বিষয়বস্তু হিসেবে আসে মানবদেহের সবচেয়ে আদিম ও তীব্র প্রকাশ অর্থাৎ ‘যৌনতা’, তখন অধিকাংশ মূলধারার সিনেমা আশ্রয় নেয় সিমুলেশন বা অভিনয়ের। ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের কারসাজি, বডি ডাবলের ব্যবহার কিংবা কাট-অ্যাওয়ে শটের মাধ্যমে শারীরিক মিলনের আভাস তৈরি করাই আবহমানকালের স্বাভাবিক নিয়ম।

তবে বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু দুঃসাহসী ও বিতর্কিত পরিচালক এসেছেন, যারা সিমুলেশনের এই চেনা খোলসটিকে এক ঝটকায় ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল: “গল্পের চরিত্রগুলো যদি তীব্র মানসিক ও শারীরিক কামনায় নিমজ্জিত হয়, তবে তাকে ক্যামেরার সামনে কৃত্রিমভাবে দেখানোটা শিল্পের সাথে প্রতারণা।” এই ভাবনার ফলশ্রুতিতে তৈরি হয়েছে এমন কিছু চলচ্চিত্র, যেখানে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা পর্দায় কোনো কৃত্রিমতার আশ্রয় না নিয়ে বাস্তবেই সহবাসে লিপ্ত হয়েছেন।

এই সিনেমাগুলো মুক্তির পর বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি হয়েছিল প্রকাণ্ড আলোড়ন। কোথাও সেন্সর বোর্ডের কাঁচি একে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, কোথাও আবার কান, ভেনিস বা বার্লিনের মতো বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র উৎসবে সমালোচকরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছেন। নগ্নতা এখানে সস্তা আবেদন তৈরির হাতিয়ার নয়, বরং কোথাও তা মানব মনের একাকীত্বের প্রকাশ, কোথাও রাজনীতির অস্ত্র, কোথাও বা মনস্তাত্ত্বিক অবক্ষয়ের রূপক। আজকের এই বিশদ নিবন্ধে আমরা পর্যালোচনা করব এমন ১০টি ঐতিহাসিক ও কালজয়ী সিনেমা, যেখানে শিল্পের প্রয়োজনে নগ্নতা ও যৌনতাকে দেখানো হয়েছে একেবারেই অবিকৃত ও বাস্তব রূপে।

১. ক্যালিগুলা (Caligula, ১৯৭৯) - রাজক্ষমতার পচন ও কামের তাণ্ডব

ইতিহাস এবং কামনার এমন বীভৎস ও নান্দনিক মিশ্রণ বিশ্ব চলচ্চিত্রে বিরল। ইতালীয় ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবিটি মূলত রোমান সম্রাট ক্যালিগুলার উন্মাদনা, নৃশংসতা এবং অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার অবক্ষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। বিখ্যাত পরিচালক টিনটো ব্রাস (Tinto Brass) এই ছবিটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন এবং মূল চিত্রনাট্য লিখেছিলেন গোর ভিদাল। ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন ম্যালকম ম্যাকডোয়েল, পিটার ও'টুল এবং হেলেন মিরেনের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তারকারা।

ছবিটি নির্মাণের প্রেক্ষাপটটি বেশ নাটকীয়। ছবির অর্থায়ন করেছিল বিখ্যাত অ্যাডাল্ট ম্যাগাজিন 'পেন্টহাউস' (Penthouse)-এর প্রযোজক বব গুচ্চিওনে। পরিচালক টিনটো ব্রাসের শুটিং শেষ হওয়ার পর গুচ্চিওনে মূল ফুটেজের সাথে গোপনে অতিরিক্ত কিছু রিয়েল হার্ডকোর ওরিজি (Group Sex), সমকামিতা এবং অনভিপ্রেত যৌন দৃশ্য ধারণ করে যোগ করেন। এর ফলে মূল ধারার ঐতিহাসিক নাটকটি একটি বাস্তব যৌনতাভিত্তিক চলচ্চিত্রের রূপ নেয়।

ছবিটিতে রোমান সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত নৈতিক অবক্ষয় বোঝাতে কোনো সিমুলেশন ছাড়া সরাসরি অন-ক্যামেরা পেনিট্রেশন ও গ্রুপ সেক্সের দৃশ্য রাখা হয়। মুক্তির পরপরই বিশ্বজুড়ে তোড়জোড় শুরু হয় এবং ক্যালিগুলা ৩০টিরও বেশি দেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে ছবিটির '১৫৬ মিনিটের রিস্টোরড আনকাট ভার্সন'। আজকের দিনের সিনেমা সমালোচকরা মনে করেন, অতিরিক্ত যৌনতা সত্ত্বেও ছবিটিতে ক্ষমতার অন্ধ অহংকার ও সামাজিক পচনের যে চিত্র আঁকা হয়েছে, তা অত্যন্ত সত্য ও সাহসী।

২. সুইট সুইটব্যাকস ব্যাডঅ্যাস সং (Sweet Sweetback’s Baadasssss Song, ১৯৭১) - ব্ল্যাক পাওয়ার ও সিনেমাটিক বিপ্লব

আমেরিকান স্বাধীন চলচ্চিত্রের (Indie Cinema) ইতিহাসে 'সুইট সুইটব্যাকস ব্যাডঅ্যাস সং' এক মহাকাব্যিক সংযোজন। মেলভিন ভ্যান পিবলস (Melvin Van Peebles) একাধারে এই ছবির পরিচালক, লেখক, প্রযোজক, সুরকার এবং মূল অভিনেতা ছিলেন। ৭১-এর দশকে বর্ণবাদ ও শ্বেতাঙ্গ পুলিশের অত্যাচার যখন চরমে, তখন একজন কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের প্রতিরোধের গল্প নিয়ে নির্মিত হয় এই সিনেমা।

কম বাজেটের এই ছবিতে রিয়েলিজম ধরে রাখতে এবং প্রথাগত স্টুডিও ইউনিয়নের নিয়মকানুন এড়িয়ে যেতে মেলভিন ভ্যান পিবলস চলচ্চিত্রে বাস্তব যৌনতার আশ্রয় নেন। ছবিটিতে মূল চরিত্রের সাথে নারীদের যে শারীরিক যোগাযোগের দৃশ্যগুলো রয়েছে, সেগুলো কোনো অভিনয় ছিল না; বরং বাস্তব সহবাস ছিল। মেলভিন নিজে পরবর্তীতে স্বীকার করেছিলেন যে, শুটিংয়ের সময় বাস্তব যৌন দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে তিনি শারীরিক ঝুঁকিতেও পড়েছিলেন।

তবে কেবল নগ্নতার কারণে নয়, আফ্রো-আমেরিকানদের 'ব্ল্যাক পাওয়ার' আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে ছবিটি কালজয়ী রূপ নেয়। মাত্র পাঁচ লক্ষ ডলারে তৈরি ছবিটি তৎকালীন সময়ে আমেরিকায় ১৫ মিলিয়ন ডলার ব্যবসা করে ইতিহাস সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে আমেরিকার 'লাইব্রেরি অফ কংগ্রেস' (Library of Congress) এই চলচ্চিত্রটিকে "সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও নান্দনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ" হিসেবে ঘোষণা করে জাতীয় ফিল্ম রেজিস্ট্রিতে সংরক্ষণ করে।

৩. বেস-মোয়া (Baise-Moi, ২০০০) - ফরাসি নারীবাদ, ট্রমা ও রুদ্র প্রতিশোধ

ফরাসি লেখিকা ও পরিচালক ভার্জিনি দেপ্যঁত (Virginie Despentes) এবং কোরালি ট্রিন থি (Coralie Trinh Thi) নির্মিত 'বেস-মোয়া' (ইংরেজি অর্থ: Rape Me) বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম সহিংস ও বিতর্কিত এক্সপ্লয়েটেশন ড্রামা। এটি দুজন নারীর গল্প, যারা জীবনের তীব্র ট্রমা ও গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পর সমাজ ও পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী ও উন্মাদ প্রতিশোধের খেলায় মেতে ওঠে।

পরিচালকরা চেয়েছিলেন ছবির যৌন সহিংসতা ও প্রতিশোধের প্রকাশ যেন বিন্দুমাত্র কৃত্রিম না মনে হয়। তাই এই ছবিতে অভিনয় করার জন্য মূলধারার সাধারণ অভিনেত্রীদের বদলে আহ্বান জানানো হয় বাস্তব পর্নো অভিনেত্রী কারেন ল্যানকম ও রাফায়েলা অ্যান্ডারসনকে। ছবিতে ধর্ষণ, পথচলতি পুরুষদের সাথে অনিয়ন্ত্রিত যৌনতা এবং পরবর্তী সময়ে পয়েন্ট-ব্লাঙ্ক রেঞ্জে তাদের হত্যার দৃশ্যগুলোতে বিন্দুমাত্র সিমুলেশন ব্যবহার করা হয়নি।

ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর ফ্রান্সে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। ফরাসি সেন্সর বোর্ড একে 'এক্স-রেটেড' তকমা দিয়ে সিনেমা হলে প্রদর্শন নিষিদ্ধ করে দেয়। তবে ফরাসি আদালতের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ছবিটি মুক্তি পায়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নারীবাদী চলচ্চিত্র বোদ্ধারা এই ছবিটিকে 'এক্সট্রিম সিনেমা'-র একটি অন্যতম নারীবাদী ক্লাসিক (Feminist Classic) হিসেবে গণ্য করেন, যেখানে নারীর ক্ষোভ ও ট্রমাকে নগ্ন বাস্তবতায় তুলে ধরা হয়েছে।

৪. দ্য ব্রাউন বানি (The Brown Bunny, ২০০৩) - বিষাদ, একাকীত্ব ও আত্মত্যাগের চূড়ান্ত প্রকাশ

স্বাধীন মার্কিন পরিচালক ভিনসেন্ট গ্যালাে (Vincent Gallo) লিখিত, পরিচালিত ও অভিনীত ‘দ্য ব্রাউন বানি’ ছবিটিকে বলা হয় একাকীত্বের বিষন্ন সুর। ছবির গল্প গড়ে উঠেছে এক মোটরসাইকেল রেসার বাক্সটারকে কেন্দ্র করে, যে তার অতীত ভালোবাসার স্মৃতি ও অপরাধবোধে দগ্ধ হয়ে পুরো আমেরিকা জুড়ে গাড়ি চালিয়ে ঘুরে বেড়ায়।

এই ছবির শেষ ২০ মিনিটে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। বাক্সটার যখন তার প্রাক্তন প্রেমিকা ডেইসির (অভিনয়ে বিখ্যাত অভিনেত্রী ক্লোই সেভিনি) মুখোমুখি হয়, তখন তাদের আবেগঘন পুনর্বাসনের দৃশ্যটি গড়ায় এক দীর্ঘ অকৃত্রিম ওরাল সেক্সের (Unsimulated Oral Sex) দৃশ্যে। ক্লোই সেভিনি (Chloë Sevigny) ক্যামেরার সামনে বাস্তবেই ভিনসেন্ট গ্যালােকে ওরাল সেক্স প্রদান করেন।

২০০৩ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রদর্শনের পর চরম বিতর্ক দেখা দেয়। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র সমালোচক রজার ইবার্ট ছবিটিকে "কানের ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ছবি" বলে আখ্যা দেন। ক্লোই সেভিনির ক্যারিয়ার ধ্বংসের মুখে পড়ে বলে গুঞ্জন ওঠে। কিন্তু ক্লোই সাহসের সাথে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, "এটি কোনো সস্তা প্রদর্শনী নয়, এটি আমার চরিত্র ডেইসির ভালোবাসার চূড়ান্ত আত্মসমর্পণ।" পরবর্তীতে গ্যালাে ছবিটি পুনরায় সম্পাদনা করেন এবং রজার ইবার্টও তাঁর রিভিউ বদলে ছবিটির প্রশংসা করেন। বর্তমানে এটি 'ক্রাইটেরিয়ান কালেকশন' (Criterion Collection) কর্তৃক সংরক্ষিত এক কালজয়ী ইন্ডিপেন্ডেন্ট ক্লাসিক।

৫. নাইন সংস (9 Songs, ২০০৪) - রক মিউজিক, যৌনতা ও মেমোরির ব্যাকড্রপ

ব্রিটিশ পরিচালক মাইকেল উইন্টারবটম (Michael Winterbottom) নির্মিত 'নাইন সংস' চলচ্চিত্রটি মূলত গান এবং যৌনতার এক অভিনব ক্যানভাস। লণ্ডনের এক শীতকালীন কনসার্টে আমেরিকান ছাত্রী অ্যানাটামি (মার্গো স্টিলি) এবং ইংরেজ জলবায়ুবিদ ম্যাটের (কিরন ও'ব্রায়েন) পরিচয় হয়। এরপর তাদের স্বল্পমেয়াদী, তীব্র ও শারীরিক সম্পর্কের গল্প এগিয়ে চলে।

ছবিটির গঠনপ্রণালী বেশ চমৎকার। ছবিতে ৯টি বিখ্যাত রক ব্যান্ডের (যেমন: Black Rebel Motorcycle Club, Primal Scream, Franz Ferdinand) আসল কনসার্ট প্রদর্শিত হয় এবং প্রতি দুটি কনসার্টের মাঝখানে দেখানো হয় ম্যাট ও অ্যানাটামির মধ্যকার আবেগঘন শারীরিক মিলন। ছবিতে ওরাল সেক্স, এজাকুলেশন এবং ইন্টারকোর্সের প্রতিটি দৃশ্য ছিল সম্পূর্ণ বাস্তব ও অকৃত্রিম।

যুক্তরাজ্যের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এটি অন্যতম মূলধারার ছবি যা সেন্সর বোর্ডের কাঁচি ছাড়াই '১৮' রেটিং নিয়ে আনকাট মুক্তি পেয়েছিল। পরিচালক মাইকেল উইন্টারবটম দেখাতে চেয়েছিলেন যে, একটি সম্পর্কের সমস্ত গল্প কেবল সংলাপ দিয়ে নয়, সম্পর্কের উঠানামা এবং শারীরিক মিলনের ভাষার মাধ্যমেও প্রকাশ করা সম্ভব। ছবিটির ২০ বছর পূর্তিতে ২০২৫ সালে এর ডিজিটাল Remastered ভার্সন এবং নতুন সাউন্ডট্র্যাক উন্মোচিত হয়ে পুনরায় আলোচনায় এসেছে।

৬. অল অ্যাবাউট আনা (All About Anna, ২০০৫) - ফিমেল গেজ ও ডেনিশ সিনেমাটিক ক্রান্তি

ডেনমার্কের জেনট্রোপা (Zentropia) প্রডাকশন হাউজ যা বিশ্ববিখ্যাত পরিচালক লার্স ভন ত্রিয়ের কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত তারা নারীদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যৌনতা ফুটিয়ে তোলার জন্য 'পুসি পাওয়ার' (Pussy Power) নামে একটি মেনিফেস্টো তৈরি করেছিল। সেই মেনিফেস্টোর অধীনে নির্মিত প্রথম মূলধারার রোমান্টিক কমেডি-ড্রামা হলো 'অল অ্যাবাউট আনা'। পরিচালনা করেছিলেন ডেনিশ পরিচালক জেসিকা নিলসন (Jessica Nilsson)।

ছবিটিতে আনা নামের এক তরুণী ফ্যাশন ডিজাইনারের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা এবং তার প্রাক্তন প্রেমিকের ফিরে আসার গল্প বলা হয়েছে। অভিনয়শিল্পী গ্রাইমি লি (Gry Bay) এবং মার্ক উইল্টন (Mark Wilton) ক্যামেরার সামনে সম্পূর্ণ অকৃত্রিমভাবে সহবাস করেছিলেন। পরিচালক জেসিকা নিলসন বলেছিলেন, "পুরুষদের পর্নোগ্রাফিতে নারীদের যেভাবে কেবল ভোগের বস্তু হিসেবে দেখানো হয়, আমি তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে নারীর আনন্দ ও আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবের পর্দায় দেখাতে চেয়েছি।"

ছবিটিতে কোনো নোংরামির অনুভূতি নেই; বরং রয়েছে এক ধরণের সহজাত সৌন্দর্য ও রোমান্টিকতা। ছবিটির ২০২৪ সালে প্রকাশিত ৪কে রিমাস্টার সংস্করণের পর এটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ‘যৌনতার সিনেমাটিক ভাষা’ শেখানোর অন্যতম উপাদান হিসেবে পড়ানো হচ্ছে।

৭. লাই উইথ মি (Lie with Me, ২০০৫) - অনিয়ন্ত্রিত আবেগ, শরীর ও আধুনিক প্রেম

কানাডিয়ান পরিচালক ক্লিমেন্ট ভার্গো (Clement Virgo) পরিচালিত 'লাই উইথ মি' ছবিটি আধুনিক শহুরে তরুণ-তরুণীদের সম্পর্কের জটিলতা, একাকীত্ব এবং দৈহিক আসক্তির এক অনবদ্য দলিল। তামারা বার্জারের একই নামের বিতর্কিত উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন লরেন লি স্মিথ (Lauren Lee Smith) এবং এরিক বালফোর (Eric Balfour)।

গল্পে দেখা যায়, লিলা (লরেন) এমন এক নারী যে আবেগহীন শারীরিক সম্পর্কে বিশ্বাসী। কিন্তু ডেভিড (এরিক)-এর সাথে সাক্ষাতের পর তাদের অনিয়ন্ত্রিত যৌন আকর্ষণ কীভাবে গভীর মানসিক ও আবেগাচ্ছন্ন সম্পর্কে রূপ নেয়, তা-ই ছবির মূল উপজীব্য। ছবিতে লরেন ও এরিকের মধ্যকার অন-ক্যামেরা শারীরিক মিলনের দৃশ্যগুলো এতটাই জীবন্ত ও বাস্তব ছিল যে তৎকালীন দর্শকরা স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিলেন।

ছবিটির যৌন দৃশ্যগুলোতে ক্যামেরা মুভমেন্ট এবং অভিনেতাদের শারীরিক প্রতিক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ বাস্তব। পরিচালক ক্লিমেন্ট ভার্গো প্রকাশ করেছিলেন যে, অভিনেতারা চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেদের বাস্তব আবেগ ও শরীরকে উজাড় করে দিয়েছিলেন। ছবিটির ২০তম বর্ষপূর্তিতে নতুন কাট এবং পরিচালক সংস্করণ প্রকাশিত হলে এটি নতুন করে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।

৮. গান্ডু (Gandu, ২০১০) - কলকাতার আন্ডারগ্রাউন্ড ও বিদ্রোহের নগ্ন সত্য

ভারতীয় ও বিশেষ করে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসকে এক ধাক্কায় নাড়িয়ে দিয়েছিল পরিচালক কৌশিক মুখোপাধ্যায় (যাকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র দুনিয়ায় 'Q' বা কিউ নামে চেনা হয়)-এর ছবি 'গান্ডু'। কলকাতার শহুরে নিম্নবিত্ত জীবনের হতাশা, মাদকাসক্তি, র‍্যাপ সঙ্গীত এবং এক যুবকের অলীক ফ্যান্টাসি নিয়ে তৈরি এই অলটারনেটিভ কাল্ট ছবি।

ছবিটিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অনির্বাণ গুহ (গান্ডু) এবং রিমি সেন (রিয়া)। ছবির দৃশ্যগুলোতে অনির্বাণ ও রিমির মধ্যে বাস্তব ওরাল সেক্স এবং ইরেকশন ও পেনিস পেনিট্রেশনের ক্লোজ-আপ শট দেখানো হয়, যা কোনো ভারতীয় মূলধারার বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ছবিতে পূর্বে কখনো ঘটেনি। পরিচালক 'কিউ' চেয়েছিলেন কলকাতার তথাকথিত সুশীল ও ভদ্রলোকী সিনেমার ভন্ডামী ভেঙে খাঁটি বাস্তবতাকে বের করে আনতে।

প্রত্যাশিতভাবেই ভারতের সেন্সর বোর্ড ছবিটি ভারতে প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছবিটি ঝড় তোলে। বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এবং রটারড্যাম উৎসবে ছবিটি প্রদর্শিত হয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। ছবিটির ১৫ বছর পূর্তিতে সম্প্রতি বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এর এক বিশেষ রেট্রোস্পেক্টিভ দেখানো হয়, যেখানে একে দক্ষিণ এশিয়ার 'সবচেয়ে সাহসী কাউন্টার-কালচারাল সিনেমা' হিসেবে সম্মান জানানো হয়।

৯. নিম্ফোম্যানিয়াক (Nymphomaniac, ২০১৩) - লার্স ভন ত্রিয়েরের মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক মহাকাব্য

বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা এবং বিতর্কিত ডেনিশ মাস্টারমাইন্ড লার্স ভন ত্রিয়ের (Lars von Trier)-এর দুই পর্বের দীর্ঘ সিনেমাটিক মাস্টারপিস 'নিম্ফোম্যানিয়াক'। জো নামক এক নারীর জন্ম থেকে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত তার অনিয়ন্ত্রিত কামাসক্তি (Nymphomania) এবং তার মনস্তাত্ত্বিক যন্ত্রণার গল্প উঠে এসেছে এই ছবিতে। শার্লট গেইনসবার্গ, স্টেলান স্কার্সগার্ড, শিয়া লাবুফ, উমা থারম্যান ও স্টেসি মার্টিনের মতো একঝাঁক বিশ্বখ্যাত তারকা এতে অভিনয় করেন।

এই ছবিটির নির্মাণশৈলী ছিল প্রযুক্তি ও বাস্তবতার এক অভিনব মিশ্রণ। লার্স ভন ত্রিয়ের বাস্তব পর্নো অভিনেতা-অভিনেত্রীদের দিয়ে যৌন দৃশ্যগুলো শুট করিয়েছিলেন এবং পরে ভিএফএক্স (VFX) প্রযুক্তির সাহায্যে মূল মূলধারার অভিনেতাদের মুখমণ্ডল সেই পর্নো অভিনেতাদের বডির সাথে জোড়া দিয়েছিলেন। তবে শিয়া লাবুফ (Shia LaBeouf) সহ কিছু অভিনয়শিল্পী সরাসরি স্বীকার করেছিলেন যে তারা নির্দিষ্ট কিছু দৃশ্যে বাস্তবে সহবাসে লিপ্ত হয়েছিলেন।

ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির আনকাট সাড়ে চার ঘণ্টার সম্পূর্ণ সংস্করণ প্রদর্শিত হয়। ছবিটিতে কামপ্রবৃত্তি, বিষণ্নতা, গণিত, ধর্ম এবং শিল্পের সাথে মানব শরীরের সম্পর্ককে অত্যন্ত গভীর দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বর্তমানে ইউরোপের অনেক ইউনিভার্সিটিতে ফিল্ম অ্যান্ড সাইকোলজি ক্লাসে ছবিটি পাঠ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

১০. লাভ (Love, ২০১৫) - গ্যাসপার নোয়ের ত্রিমাত্রিক নগ্নতা ও মেমোরি

ফরাসি-আর্জেন্টিনীয় পরিচালক গ্যাসপার নোয়ে (Gaspar Noé) মানেই সিনেমাটিক নিয়মের বাইরে গিয়ে দর্শককে চমকে দেওয়া। তাঁর ২০১৫ সালের থ্রিডি (3D) রোমান্টিক ড্রামা 'লাভ' প্রথাগত মেলোড্রামার এক সম্পূর্ণ নতুন রূপ। ছবির গল্প প্যারিসে বসবাসকারী তরুণ সিনেমা শিক্ষার্থী মারফি, তার প্রাক্তন প্রেমিকা ইলেকট্রা এবং প্রতিবেশী তরুণী ওমির ত্রিভুজ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।

গ্যাসপার নোয়ে ৩ডি প্রযুক্তির মতো বাণিজ্যিক মাধ্যমকে ব্যবহার করেছিলেন নগ্নতা ও বাস্তব যৌনতাকে চরম সত্যতায় ফুটিয়ে তুলতে। ছবিতে কার্ল গ্লাসম্যান (Karl Glusman) এবং আইমি ডুভাল (Aomi Muyock)-এর মধ্যে একাধিক দীর্ঘ ও অকৃত্রিম শারীরিক মিলনের দৃশ্য ছিল। কানের স্ক্রিনিংয়ে ছবির একটি দৃশ্য যেখানে থ্রিডি প্রযুক্তিতে ইজাকুলেশন (Ejaculation) সরাসরি দর্শকের দিকে ধেয়ে আসে তা বিশ্বজুড়ে ঐতিহাসিক তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল।

নোয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন, স্মৃতি যেমন রঙিন ও নগ্ন হয়, ভালোবাসার প্রকাশও তেমনই হওয়া উচিত। এখানে যৌনতা কোনো গোপন পাপ নয়, বরং স্মৃতির কোলাজ। ছবিটির ১০ম বর্ষপূর্তিতে সম্প্রতি এর নতুন ৪কে ৩ডি রিস্টোরড এডিশন মুক্তি পেয়ে পুনরায় থিয়েটারে ঝড় তুলেছে।

এক নজরে ১০টি বাস্তব যৌনতার কালজয়ী চলচ্চিত্র

ছবির নাম

মুক্তির বছর

পরিচালক

প্রধান অভিনয়শিল্পী

মূল বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহাসিক বিতর্ক

ক্যালিগুলা (Caligula)

১৯৭৯

টিনটো ব্রাস

ম্যালকম ম্যাকডোয়েল, হেলেন মিরেন

ঐতিহাসিক ড্রামায় পেন্টহাউস কর্তৃক সংযুক্ত বাস্তব ওরিজি ও সমকামী দৃশ্য; ৩০+ দেশে নিষিদ্ধ।

সুইট সুইটব্যাকস...

১৯৭১

মেলভিন ভ্যান পিবলস

মেলভিন ভ্যান পিবলস, সাইমন চ্যাচলিন

বাজেট বাঁচাতে বাস্তব যৌন দৃশ্য; ব্ল্যাক পাওয়ার আন্দোলনের প্রতীক ও লাইব্রেরি অফ কংগ্রেস প্রাপ্ত।

বেস-মোয়া (Baise-Moi)

২০০০

ভার্জিনি দেপ্যঁত, কোরালি ট্রিন থি

কারেন ল্যানকম, রাফায়েলা অ্যান্ডারসন

বাস্তব পর্নো তারকাদের অভিনয়; ফ্রান্সে প্রথমে নিষিদ্ধ হলেও পরে 'নারীবাদী ক্লাসিক' সম্মান।

দ্য ব্রাউন বানি

২০০৩

ভিনসেন্ট গ্যালাে

ভিনসেন্ট গ্যালাে, ক্লোই সেভিনি

ক্লোই সেভিনির অন-ক্যামেরা অকৃত্রিম ওরাল সেক্স; কানে বিতর্ক ও ক্রাইটেরিয়ান কালেকশন ভলিউম।

নাইন সংস (9 Songs)

২০০৪

মাইকেল উইন্টারবটম

কিরন ও'ব্রায়েন, মার্গো স্টিলি

৯টি লাইভ রক কনসার্টের সাথে ৯টি বাস্তব সেক্স দৃশ্য; যুক্তরাজ্যে আনকাট সেন্সর ছাড়পত্র।

অল অ্যাবাউট আনা

২০০৫

জেসিকা নিলসন

গ্রাইমি লি, মার্ক উইল্টন

জেনট্রোপার 'পুসি পাওয়ার' মেনিফেস্টোর অধীনে নির্মিত; ফিমেল গেজে বাস্তব রোমান্টিক নগ্নতা।

লাই উইথ মি

২০০৫

ক্লিমেন্ট ভার্গো

লরেন লি স্মিথ, এরিক বালফোর

শারীরিক আকর্ষণের মাধ্যমে আবেগের রূপায়ন; অভিনেতাদের সম্পূর্ণ বাস্তব ও অকৃত্রিম সহবাস।

গান্ডু (Gandu)

২০১০

কৌশিক মুখোপাধ্যায় (Q)

অনির্বাণ গুহ, রিমি সেন

কলকাতায় আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রামা; ভারতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কিন্তু বার্লিন ও রটারড্যামে নন্দিত।

নিম্ফোম্যানিয়াক

২০১৩

লার্স ভন ত্রিয়ের

শার্লট গেইনসবার্গ, শিয়া লাবুফ

ভিএফএক্স ও বাস্তব পর্নো ডাবলের মিশ্রণ; শিয়া লাবুফের বাস্তব অন-ক্যামেরা ইন্টারকোর্স।

লাভ (Love)

২০১৫

গ্যাসপার নোয়ে

কার্ল গ্লাসম্যান, আইমি ডুভাল

কানের ইতিহাসে প্রথম ৩ডি (3D) প্রযুক্তিতে আনকাট বাস্তব সহবাস ও ইজাকুলেশন প্রদর্শন।

শিল্প বনাম শোষণ: নীতিশাস্ত্র, অভিনেতাদের মনস্তত্ত্ব ও 'ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর' যুগ

পর্দায় বাস্তব যৌন দৃশ্য প্রদর্শন কেবল নান্দনিকতার বিষয় নয়, এর পেছনে জড়িয়ে রয়েছে গভীর নীতিশাস্ত্র ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা। ক্যামেরার সামনে বাস্তবেই কাপল বা সহ-অভিনেতার সাথে যৌনতায় লিপ্ত হওয়া একজন অভিনেতার জন্য কেবল শারীরিক কাজ নয়, এটি তাদের ব্যক্তিগত জীবনেও প্রচণ্ড মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলে।

অতীতের অনেক ছবিতে দেখা গেছে, পরিচালকের একচ্ছত্র ক্ষমতার কাছে নতি স্বীকার করে বা ক্যারিয়ারের চাপে পড়ে অনেক অভিনেত্রী এমন দৃশ্য করতে বাধ্য হতেন, যা পরবর্তীতে তাদের বিষণ্নতায় ঠেলে দিয়েছিল। ক্লোই সেভিনি যেমন 'দ্য ব্রাউন বানি' মুক্তির পর বছরজুড়ে যে ট্রোল ও অপমানের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা তাকে অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার দোড়গোড়ায় নিয়ে গিয়েছিল।

এই ধরণের শোষণ এবং মানসিক ট্রমা প্রতিরোধ করতেই সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব চলচ্চিত্রে বিপ্লব ঘটেছে। বর্তমানে হলিউড থেকে শুরু করে ইউরোপ ও এশিয়ার মূলধারার সিনেমায় 'ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর' (Intimacy Coordinator) পদটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন সেটে যেকোনো নগ্ন বা সংবেদনশীল দৃশ্যের শুটিংয়ের আগে অভিনেতাদের লিখিত সম্মতি, সীমানা নির্ধারণ এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা আইনি দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। এর ফলে, শিল্পের নামে কোনো প্রকার যৌন শোষণ রুখে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

সত্যের মুখোমুখি সেলুলয়েড

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের অবচেতন মন ও সমাজের প্রতিচ্ছবি। উপরে উল্লেখিত ১০টি সিনেমা কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক বিনোদন চিত্র নয়; এগুলো হলো সিনেমাটিক মাধ্যমের চরম সীমানা পরীক্ষার দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা।

যেখানে পর্নোগ্রাফির মূল উদ্দেশ্য থাকে দর্শককে সস্তা শারীরিক উদ্দীপনা দেওয়া, সেখানে এই কালজয়ী শিল্পকর্মগুলোতে অকৃত্রিম যৌনতাকে ব্যবহার করা হয়েছে প্রেম, ট্রমা, রাজনীতি, ঘৃণা কিংবা একাকীত্ব ফুটিয়ে তোলার ধারালো অস্ত্র হিসেবে। সিমুলেশন ছেড়ে সরাসরি সত্যের মুখোমুখি হওয়ার এই প্রচেষ্টা কতখানি শৈল্পিক আর কতখানি বৈপ্লবিক তা নির্ভর করে দর্শকের দেখার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে, বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই ছবিগুলো তাদের দুঃসাহসিকতা এবং সততার কারণে চিরকাল এক বিশেষ স্থানে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.