করাচির সম্রাট রেহমান ডাকাত - পাকিস্তানের আন্ডারওয়ার্ল্ডের মূর্তিমান আতংক
পাকিস্তানের অপরাধ জগতের ইতিহাস এক বিশাল রহস্যময় গোলকধাঁধা। বিশেষ করে করাচির লিয়ারি নামক এক ঘিঞ্জি জনপদকে ঘিরে গড়ে ওঠা অপরাধের সাম্রাজ্য হার মানায় যেকোনো দুর্ধর্ষ থ্রিলার সিনেমার গল্পকেও। সম্প্রতি বলিউডে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা 'ধুরন্ধর' সেই অন্ধকার জগতেরই এক কুখ্যাত নায়ককে পর্দায় তুলে এনেছে যার নাম রেহমান ডাকাত।
তবে সিনেমার পর্দার চেয়েও রক্তক্ষয়ী এবং রোমহর্ষক ছিল বাস্তব জীবনের সেই রেহমান। আজ আমরা ইতিহাসের পাতা উল্টে পাকিস্তানের রাজনীতির অন্দরমহল, করাচির ড্রাগ ডেন এবং এক অপরাধী থেকে 'গণমানুষের সর্দার' হয়ে ওঠার সেই মহাকাব্যিক উপাখ্যান জানব।
পাকিস্তান এমন এক ভূখণ্ড যেখানে প্রাকৃতিক সম্পদ আর মেধার অভাব নেই, কিন্তু অভাব রয়েছে সুশাসনের। জন্মলগ্ন থেকেই দেশটি সামরিক শাসন, দুর্নীতির জাল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে অহেতুক যুদ্ধে লিপ্ত থেকে নিজের মেরুদণ্ড নিজেই ভেঙেছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের ওপর চালানো নৃশংস গণহত্যা দেশটির নৈতিক ভিত্তিকেও নড়বড়ে করে দেয়।
রাষ্ট্র যখন অকার্যকর হয়ে পড়ে, তখন সেই শূন্যস্থান পূরণ করে অপরাধীরা। করাচির লিয়ারি এলাকাটি ছিল ঠিক তেমনই এক এলাকা। ঘিঞ্জি অলিগলি, নর্দমার দুর্গন্ধ আর চরম দারিদ্র্য এখানকার মানুষের ললাটলিখন। কিন্তু সত্তরের দশকের পর থেকে এই লিয়ারিতে প্রবেশ করতে শুরু করে অত্যাধুনিক অস্ত্র আর মাদক। তৎকালীন আফগান যুদ্ধের প্রভাবে করাচি হয়ে ওঠে অস্ত্রের ট্রানজিট পয়েন্ট। আর এই অন্ধকার পরিবেশেই বেড়ে ওঠে পাকিস্তানের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী গ্যাংস্টার আব্দুল রেহমান বালুচ, যাকে পৃথিবী চেনে 'রেহমান ডাকাত' নামে।
প্রথম অপরাধ - ১৩ বছর বয়সেই খুনি!
রেহমান ডাকাতের জন্মের সঠিক সাল নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ধারণা করা হয় তিনি ১৯৭৫ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে কোনো এক সময়ে জন্মগ্রহণ করেন। অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে, ১৯৭৫ সালই তার জন্মবছর।
রেহমানের বাবা হাজি আবু দাদ মুহাম্মদ (বা দাদ মুহাম্মদ) ছিলেন একজন ইরানি বালুচ বংশোদ্ভূত মানুষ। তিনি নিজে ছিলেন একজন বড় মাপের মাদক চোরাচালানকারী। রেহমান ছিলেন তার বাবার তৃতীয় স্ত্রীর সন্তান। অপরাধ ছিল রেহমানের রক্তে। শৈশব থেকেই তিনি দেখেছেন কীভাবে গায়ের জোরে সব হাসিল করতে হয়। যে পরিবারে বড়দের পেশাই ছিল মাদক পাচার আর অস্ত্র ব্যবসা, সেখানে একটি শিশুর অপরাধ জগতে প্রবেশ করা ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
রেহমানের অপরাধ জীবনের শুরুটা ছিল অনেকটা সিনেমার মতো। রেহমানের অপরাধ জীবনের সূচনা হয় মাত্র ১৩ বছর বয়সে। পাড়ায় পটকা ফুটানো নিয়ে এক বন্ধুর সাথে ঝগড়া বাধে তার। রাগের মাথায় কিশোর রেহমান একটি ছুরি দিয়ে সেই বন্ধুকে আঘাত করে পালিয়ে যায়। সে জানতও না যে তার সেই আঘাতে ছেলেটি মারা গেছে। এটিই ছিল তার জীবনের প্রথম খুন।
‘রেহমান ডাকাত’ নামের নেপথ্যে
রেহমানের জীবনের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৫ সালে। তখন তার বয়স মাত্র ১৯ বছর। তার মা খাদিজা বিবিকে তিনি নিজ হাতে হত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পুলিশি নথিপত্র এবং স্থানীয়দের মতে, রেহমানের সন্দেহ ছিল তার মা অন্য কোনো গ্যাংয়ের ইনফরমার হিসেবে কাজ করছেন অথবা পুলিশের কাছে তার তথ্য পাচার করছেন। ক্ষোভে উন্মত্ত হয়ে রেহমান তার গর্ভধারিণী মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলিয়ে দেন। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তার নামের সাথে 'ডাকাত' শব্দটি স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে যায়। একজন মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হলে নিজের মাকে হত্যা করতে পারে এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো করাচিতে।
হাজি লালুর গ্যাং ও আরশাদ পাপ্পুর সাথে বন্ধুত্ব
নব্বই দশকের শেষের দিকে রেহমান যোগ দেন লিয়ারির তৎকালীন ডন হাজি লালুর গ্যাংয়ে। হাজি লালু রেহমানের মধ্যে এক অদ্ভুত তেজ দেখতে পেয়েছিলেন। তিনি তাকে নিজের ছেলের মতোই লালন-পালন করতে থাকেন।
হাজি লালুর নিজস্ব দুই ছেলে ছিল আরশাদ পাপ্পু এবং ইয়াসির রাফাত। রেহমান, আরশাদ এবং ইয়াসির এই তিনজন মিলে লিয়ারির অলিগলিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। চাঁদাবাজি, অপহরণ, জমি দখল এবং মাদক পাচার ছিল তাদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। সেই সময় লিয়ারিতে সাধারণ মানুষের জীবন ছিল দুর্বিষহ। রেহমান ডাকাতের নাম শুনলে শিশুরা ভয়ে কান্না থামিয়ে দিত। করাচির মানুষ তাদের নাম শুনলে ভয়ে ঘরের কপাট বন্ধ করে দিত।
হাজি লালুর সাথে রেহমানের শত্রুতা
কথায় আছে, অপরাধীদের মধ্যে কোনো নীতি থাকে না। রেহমান আর হাজি লালুর সম্পর্কের অবনতি ঘটে অর্থের লোভে। রেহমান তার আয়ের সমস্ত টাকা তার 'পালক পিতা' হাজি লালুর কাছে আমানত রাখতেন। নব্বই দশকের শেষ দিকে সেই জমানো টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি পাকিস্তানি রুপি। আজকের দিনের হিসাবে যার মূল্য প্রায় ১৫-২০ কোটি রুপির সমান।
রেহমান যখন বিয়ে করে ঘরসংসার শুরু করলেন এবং তার জমানো টাকা ফেরত চাইলেন, তখন হাজি লালুর আসল চেহারা বেরিয়ে আসে। বিপুল পরিমাণ টাকার লোভে লালু রেহমানকে টাকা দিতে অস্বীকার করেন এবং উল্টো তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেন। জেলখানায় বসেই রেহমান শপথ নেন তিনি এই অপমানের বদলা নেবেন। এই বিশ্বাসঘাতকতাই লিয়ারির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গ্যাং ওয়ারের জন্ম দেয়।
লিয়ারি গ্যাং ওয়ার - যখন রাস্তা হয়ে উঠল লাশের মিছিল
জেল থেকে অতি নাটকীয়ভাবে পালিয়ে যান রেহমান। জেল থেকে পালিয়ে রেহমান ডাকাত নিজের আলাদা গ্যাং তৈরি করেন। শুরু হয় হাজি লালু ও আরশাদ পাপ্পুর সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘাত। এটি পাকিস্তানের ইতিহাসে 'লিয়ারি গ্যাং ওয়ার' নামে পরিচিত।
এই যুদ্ধের নৃশংসতা ছিল বর্ণনাতীত। রেহমান প্রথম আঘাত করেন আরশাদ পাপ্পুর স্ত্রীর মামার ওপর। একটি জানাজা থেকে ফেরার পথে তাকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। এরপর আরশাদ পাপ্পুও পালটা আঘাত শুরু করেন।
আরশাদ পাপ্পু ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর প্রকৃতির। সে রেহমানের আপন চাচাকে অপহরণ করে। এরপর রেহমানকে ফোন দিয়ে কলে থাকা অবস্থায় তার চাচার শরীরে একের পর এক গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে। রেহমান ফোনের ওপাশ থেকে কেবল আর্তনাদ শুনেছিলেন।
রেহমানও চুপ ছিলেন না। তিনি আরশাদ পাপ্পুর শ্বশুরবাড়ির লোক এবং ঘনিষ্ঠদের একে একে হত্যা করতে শুরু করেন। এই পারস্পরিক প্রতিহিংসায় লিয়ারির রাস্তায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। করাচির রাজপথ হয়ে ওঠে বধ্যভূমি। এক পর্যায়ে আরশাদ পাপ্পুর আক্রমণে টিকতে না পেরে রেহমান লিয়ারি ছেড়ে বালুচিস্তানে পালিয়ে যান।
ফাইজুকে হত্যা ও উজাইর বালুচের উত্থান
রেহমানের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু ছিল ফাইজু। আরশাদ পাপ্পু ফাইজুকে ধরে ফোনের ওপাশে রেহমানকে রেখে অত্যন্ত বীভৎসভাবে তাকে হত্যা করে। এই শোক রেহমানকে পাথর করে দিয়েছিল। তিনি শপথ করেছিলেন এর প্রতিশোধ নেবেন। পরবর্তীতে ফাইজুর ছেলে উজাইর বালুচকে রেহমান নিজের কাছে নিয়ে আসেন। এই উজাইর বালুচই পরবর্তীতে রেহমানের মৃত্যুর পর করাচির সবচেয়ে বড় ডন হিসেবে আবির্ভূত হন।
ডন থেকে ‘সর্দার’ - রাজনীতিতে রেহমান
২০০৮ সালের দিকে রেহমান তার জীবনে এক বিশাল পরিবর্তন আনেন। বালুচিস্তানে গিয়ে রেহমান বসে থাকেননি। সেখানে তিনি নিজের বাহিনী পুনর্গঠন করেন। এই সময় তিনি বুঝতে পারেন, কেবল অস্ত্র দিয়ে বেশিদিন টিকে থাকা সম্ভব নয়, প্রয়োজন রাজনীতির ঢাল। তিনি নিজের নাম বদলে রাখেন সর্দার আব্দুল রেহমান বালুচ। তিনি গঠন করেন 'পিপলস আমান কমিটি' (PAC)।
এই সংগঠনটি পরোক্ষভাবে তৎকালীন সরকারি দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (PPP)-এর সহযোগী হিসেবে কাজ করতে থাকে। বেনজির ভুট্টোর দল পিপিপি-র কাছে রেহমান হয়ে ওঠেন এক 'ম্যাজিক বুলেট'। ভোট ব্যাংক দখল করা থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষকে দমানো সবকিছুতেই রেহমান ছিলেন অপরিহার্য।
বেনজির ভুট্টোর বডিগার্ড ও ক্ষমতার চূড়ায় রেহমান
২০০৭ সালের ১৮ অক্টোবর। বেনজির ভুট্টো দীর্ঘ নির্বাসন শেষে করাচি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে এক ভয়াবহ বোমা হামলায় কয়েকশ মানুষ মারা যায়। তখন বিমানবন্দরে তাকে যে বিশাল নিরাপত্তা বলয় দেওয়া হয়েছিল, তার মূলে ছিল রেহমান ডাকাতের বাহিনী। বলা হয়, সেদিন রেহমান ডাকাত এবং তার বাহিনী যদি বেনজিরকে ঘিরে না রাখত, তবে তিনি সেদিনই প্রাণ হারাতেন। এই ঘটনার পর রেহমান হয়ে ওঠেন অঘোষিত 'করাচির বাদশা'। পুলিশ বা প্রশাসন কারো সাহস ছিল না তার দিকে আঙুল তোলার।
পিপলস পার্টির ছত্রছায়ায় রেহমান ডাকাত এতই শক্তিশালী হয়ে ওঠেন যে, করাচির পুলিশ তার দিকে তাকানোর সাহস পেত না। কে নির্বাচনে টিকিট পাবে, কোন ঠিকাদার কাজ পাবে সবই নির্ধারিত হতো রেহমানের ডেরায়।
কিন্তু ইতিহাসের চাকা সবসময় এক দিকে ঘোরে না। ক্ষমতার দম্ভে রেহমান যখন নিজেকে অপরাজেয় ভাবতে শুরু করেন, ঠিক তখনই তার পতন ঘনিয়ে আসে। পিপলস পার্টি যখন দেখল রেহমানের জনপ্রিয়তা এবং ক্ষমতা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন তারা তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এনকাউন্টার - চৌধুরী আসলামের মিশন
রেহমান ডাকাতকে নির্মূল করার দায়িত্ব দেওয়া হয় পাকিস্তানের সবচাইতে সাহসী ও বিতর্কিত পুলিশ অফিসার এসএসপি চৌধুরী আসলাম খানকে। চৌধুরী আসলাম ছিলেন একজন এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের যম। তিনি রেহমানকে ধরার জন্য জাল বিছাতে শুরু করেন।
২০০৯ সালের ৯ আগস্ট। করাচির স্টিল টাউন এলাকায় রেহমান তার তিন সহযোগীসহ গাড়িতে যাচ্ছিলেন। একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌধুরী আসলাম তার টিম নিয়ে অভিযান চালান। চৌধুরী আসলামের নেতৃত্বে পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, একটি গাড়ি থামাতে বললে রেহমান ও তার সহযোগীরা গুলি চালায়। পালটা গুলিতে রেহমান ডাকাত এবং তার তিন সহযোগী নিহত হন।
রেহমানের মৃত্যু নিয়ে আজও বিতর্ক আছে। তবে রেহমানের স্ত্রী ফারজানা দাবি করেন, এটি ছিল একটি সাজানো এনকাউন্টার। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা যায়, খুব কাছ থেকে (মাত্র ৩ ফুট দূর থেকে) গুলি করা হয়েছিল, যা কোনো সাধারণ বন্দুকযুদ্ধের লক্ষণ নয়। ধারণা করা হয়, তাকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং পরে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
লিয়ারির রবিনহুড
রেহমান ডাকাত মারা গেলেও লিয়ারির অস্থিরতা থামেনি। তার মৃত্যুর পর তার শিষ্য উজাইর বালুচ লিয়ারির নিয়ন্ত্রণ নেন। রেহমান ডাকাত একজন কুখ্যাত অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও তার জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। কারণ তিনি লিয়ারির গরীব মানুষের জন্য স্কুল নির্মাণ করেছিলেন, অসহায় মেয়েদের বিয়ের খরচ দিতেন এবং স্থানীয় বিচার ব্যবস্থা পরিচালনা করতেন। যদিও সেই অর্থের উৎস ছিল রক্তমাখা। কিন্তু রেহমান যে ত্রাসের রাজত্ব শুরু করেছিলেন, তা করাচিকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিয়েছে।
এক নজরে রেহমান ডাকাতের জীবন
বৈশিষ্ট্য | তথ্য |
আসল নাম | আব্দুল রেহমান বালুচ |
ডাকনাম | রেহমান ডাকাত |
জন্মস্থান | লিয়ারি, করাচি |
মোট মামলার সংখ্যা | ৮০-র বেশি |
রাজনৈতিক সংগঠন | পিপলস আমান কমিটি (PAC) |
মৃত্যু | ৯ আগস্ট ২০০৯ (এনকাউন্টারে) |
রেহমান ডাকাতের গল্প আমাদের শেখায় যে, রাষ্ট্র যেখানে ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ হয়, সেখানে অন্ধকারের নায়কদের জন্ম হয়। অস্ত্রের ক্ষমতায় সাময়িক রাজা হওয়া যায়, কিন্তু তার শেষটা সবসময়ই করুণ হয়। একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র যখন নিজের স্বার্থে অপরাধীদের লালন-পালন করে, তখন সেই অপরাধীরাই এক সময় রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। রেহমান কেবল একজন ডাকাত ছিলেন না, তিনি ছিলেন পাকিস্তান নামক একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের অব্যবস্থাপনার এক জীবন্ত দলিল।
উপসংহার
করাচির লিয়ারি আজও শান্ত হয়নি। অস্ত্র আর মাদকের কারবার এখনো সেখানে চলে। কিন্তু রেহমান ডাকাতের সেই দাপট আর কোনো গ্যাংস্টার দেখাতে পারেনি। ইতিহাস তাকে যেভাবে বিচার করুক না কেন, করাচির অলিগলিতে আজও তার নাম উচ্চারিত হয় এক দীর্ঘশ্বাসের সাথে।
পাকিস্তানের বর্তমান টালমাটাল অর্থনৈতিক অবস্থা আর রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনে এই গ্যাং কালচার আর বিচারহীনতার সংস্কৃতির বড় ভূমিকা রয়েছে। রেহমান ডাকাত আজ নেই, কিন্তু করাচির গলিতে গলিতে আজও তার রেখে যাওয়া ক্ষতগুলো শুকায়নি।
সূত্র ও কৃতজ্ঞতা: পাকিস্তানের ডন (Dawn) পত্রিকা, ট্রিবিউন এবং স্থানীয় অপরাধ বিষয়ক গবেষকদের তথ্য অবলম্বনে।



















