বাংলাদেশের শীর্ষ ৭ জন ধনী ব্যক্তি

একটি উন্নয়নশীল দেশ থেকে উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার পথে বাংলাদেশের যে যাত্রা, তার পেছনে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যেকোনো দেশে উদ্যোক্তা হওয়া বা একটি ব্যবসা সফলভাবে দাঁড় করানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা এবং পুঁজির সংকট অতিক্রম করে বাংলাদেশে যারা বিশাল বিশাল শিল্পগোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে অনন্য কৃতিত্বের অধিকারী।

এসব শিল্পপতি কেবল নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধি করেননি, বরং দেশের অর্থনীতিকে একটি মজবুত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। লাখ লাখ মানুষের সরাসরি ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং দেশীয় শিল্পকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করার পেছনে তাঁদের দূরদর্শী নেতৃত্বের বড় অবদান রয়েছে।

আমার এই নিবন্ধে বাংলাদেশের শীর্ষ ৭ জন ধনী ব্যক্তি, তাঁদের গড়ে তোলা শিল্পসাম্রাজ্য, আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাঁদের প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

প্রিন্স মুসা বিন শমসের: জনশক্তি রপ্তানির পথিকৃৎ ও রহস্যময় ধনকুবের

বাংলাদেশের ব্যবসাজগতের সবচেয়ে আলোচিত, রঙচঙে এবং একই সাথে রহস্যময় চরিত্র হলেন মুসা বিন শমসের, যিনি বিশ্বজুড়ে ‘প্রিন্স মুসা’ নামে পরিচিত। তিনি ড্যাটকো গ্রুপের (DATCO Group) কর্ণধার।

আনুমানিক সম্পদ: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সূত্রের তথ্যমতে, তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ব্যবসায়িক পরিচিতি ও খাত: ১৯৭০-এর দশকে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসার সুচনা ও প্রসারে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে তিনি ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানির বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা: আশির ও ৯০-এর দশকে বিশ্ব রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার দাবি তুলে তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হন। বিলাসী জীবনযাপন, হীরাখচিত জুতো, সোনালী কলম এবং নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী পরিবেষ্টিত হয়ে চলাফেরার জন্য তিনি বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন।

অর্থনৈতিক অবদান: বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের মূল ভিত্তি যে জনশক্তি খাত, তার শুরুর দিকের অবকাঠামো নির্মাণে ড্যাটকো গ্রুপের বড় অবদান রয়েছে। লক্ষাধিক মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে তিনি পরিবর্তন আনেন।

মুহাম্মদ আজিজ খান: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের একক পরাশক্তি

বাংলাদেশের শিল্পখাতে অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন বললে যার নাম সবার আগে আসে, তিনি হলেন সামিট গ্রুপের (Summit Group) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান।

আনুমানিক সম্পদ: ফোর্বস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর আনুমানিক নিট সম্পদের পরিমাণ ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: তিনিই প্রথম এবং একমাত্র বাংলাদেশি নাগরিক, যিনি আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ সংবাদমাধ্যম ‘ফোর্বস’-এর বিশ্বসেরা বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় নিয়মিত স্থান করে নিয়েছেন। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ জন ধনীর তালিকাতেও তিনি স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।

ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য: সামিট গ্রুপ বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ও অবকাঠামো উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান। দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে সামিট গ্রুপের বিভিন্ন পাওয়ার প্ল্যান্ট।

অর্থনৈতিক প্রভাব: দেশের শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিরবচ্ছিন্ন সচলতা বজায় রাখতে তাঁর মেগা প্রকল্পগুলো (যেমন বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক) জাতীয় অগ্রযাত্রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

সালমান এফ রহমান: শিল্পায়নের প্রবক্তা ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের নায়ক

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের ক্ষেত্রে বেক্সিমকো গ্রুপের (BEXIMCO Group) সহ-প্রতিষ্ঠাতা সালমান এফ রহমানের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

আনুমানিক সম্পদ: বিভিন্ন আর্থিক বিশ্লেষণ ও প্রকাশনার সূত্র অনুযায়ী, তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।

শিল্পসাম্রাজ্য: তাঁর নেতৃত্বাধীন বেক্সিমকো গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় শিল্পগোষ্ঠী। ওষুধ খাত (বেক্সিমকো ফার্মা), টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংকিং, পেট্রোকেমিক্যাল এবং মিডিয়া খাতে বেক্সিমকোর বিশাল উপস্থিতি রয়েছে।

গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অর্জন: সালমান এফ রহমানের অন্যতম প্রধান কৃতিত্ব হলো দেশীয় পণ্যকে আন্তর্জাতিক মানের সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। বেক্সিমকো ফার্মা প্রথম বাংলাদেশি ওষুধ কোম্পানি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US FDA) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো কঠিন মাননিয়ন্ত্রণকারী বাজারে ওষুধ রপ্তানির অনুমোদন পায়।

কর্মসংস্থান: বেক্সিমকো গ্রুপের অধীনে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন, যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখছে।

আহমেদ আকবর সোবহান: আবাসন খাতের মুকুটহীন সম্রাট

বাংলাদেশের নগরায়ন এবং আবাসন খাতের আধুনিকায়নে বসুন্ধরা গ্রুপের (Bashundhara Group) চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের নাম সর্বাগ্রে গণনীয়।

আনুমানিক সম্পদ: বিভিন্ন আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁর আনুমানিক সম্পদ ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।

ব্যবসায়িক বিস্তার: আহমেদ আকবর সোবহানকে বলা হয় রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ শিল্পের "মুকুটহীন সম্রাট"। তবে কেবল আবাসন খাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের ব্যবসা সম্প্রসারিত করেছে সিমেন্ট, কাগজ ও প্যাকেজিং, এলপিজি গ্যাস, শপিং মল, টিস্যু, মিডিয়া এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে।

নগরায়ণে ভূমিকা: ঢাকা শহরের আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা গঠনে 'বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা' একটি ল্যান্ডমার্ক। এছাড়া দেশের বৃহত্তম শপিং মল ‘বসুন্ধরা সিটি’ নির্মাণ করে তিনি দেশের খুচরা ব্যবসা ও বিনোদন খাতে বিপ্লব ঘটান।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবদান: বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্টের মাধ্যমে দেশীয় বাজারের বিশাল চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করেছে।

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম: ভোগ্যপণ্য ও ব্যাংকিং সাম্রাজ্যের স্থপতি

চট্টগ্রামভিত্তিক দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের (S. Alam Group) কর্ণধার হলেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

আনুমানিক সম্পদ ও পরিসর: গ্রুপের নিজস্ব তথ্য ও আর্থিক মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে এস আলম গ্রুপের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১.৩ লক্ষ কোটি টাকা। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিসরে, বিশেষ করে সিঙ্গাপুরে, তাঁদের আনুমানিক ১.৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও সাম্রাজ্য রয়েছে।

ব্যবসায়িক আধিপত্য: সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সাথে এস আলম গ্রুপ নিবিড়ভাবে যুক্ত। খাদ্যপণ্য, ভোজ্যতেল, গম, চিনি, চাল ও ভোগ্যপণ্যের বাজারে তাঁদের রয়েছে বিশাল আধিপত্য।

বহুমাত্রিক বিনিয়োগ: ভোগ্যপণ্যের পাশাপাশি ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ইস্পাত পুনর্প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিপিং, বন্দর পরিচালনা এবং রিয়েল এস্টেট খাতে এস আলম গ্রুপের বড় মাপের বিনিয়োগ রয়েছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান: দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে এই গ্রুপের বিশাল ভূমিকা রয়েছে।

সাঈদ আহমেদ আসলাম: লজিস্টিকস ও পরিবহন খাতের শীর্ষপতি

সাম্প্রতিক সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও নির্বাচনী তথ্যের ভিত্তিতে ধনীদের তালিকায় উঠে আসা অন্যতম শীর্ষ নাম সাঈদ আহমেদ আসলাম।

আনুমানিক সম্পদ: নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁর আনুমানিক নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২০০ কোটি টাকা। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিত।

সম্পদের ধরন: সাঈদ আহমেদ আসলামের সম্পদের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ঢাকার কৌশলগত এলাকা এবং শরীয়তপুরে বিপুল পরিমাণ অকৃষি জমি, বহুতল বাণিজ্যিক ভবন এবং মূল্যবান আবাসিক সম্পত্তি।

ব্যবসায়িক খাত: তাঁর প্রধান ব্যবসায়িক ক্ষেত্র হলো পরিবহন, কার্গো, শিপিং, লজিস্টিকস, এভিয়েশন এবং ইনস্যুরেন্স।

অর্থনৈতিক ভূমিকা: তাঁর শিপিং ও লজিস্টিকস এজেন্সিগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-পথে বিভিন্ন পণ্য, কাঁচামাল এবং জ্বালানি পরিবহনে শীর্ষস্থান দখল করে আছে। যা দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যকে গতিশীল রাখতে মূল ভূমিকা পালন করে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু: কৃষি বিপ্লব ও বহুমাত্রিক উদ্যোক্তা

মাল্টিমোড গ্রুপের (Multimode Group) কর্ণধার এবং এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু দেশের শিল্প ও কৃষি উভয় খাতেই সমানভাবে সফল এক ব্যক্তিত্ব।

আনুমানিক সম্পদ: নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তাঁর আনুমানিক ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৪৬ কোটি টাকা। তিনি বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা, সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য।

কৃষি খাতে বিপ্লব: আবদুল আউয়াল মিন্টুর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবদান হলো ‘লাল তীর সীড’ (Lal Teer Seed)। উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড বীজের গবেষণা ও বিপণনের মাধ্যমে এটি বাংলাদেশের কৃষি খাতে এক নিরবচ্ছিন্ন বিপ্লব ঘটিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের বীজ বাজারের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এই প্রতিষ্ঠান।

অন্যান্য খাত: কৃষি ছাড়াও মাল্টিমোড গ্রুপের মাধ্যমে শিপিং, এভিয়েশন, ব্যাংকিং, বীমা, গ্যাস ড্রিলিং এবং এফএমসিজি (FMCG) খাতে তাঁর সুদূরপ্রসারী বিনিয়োগ রয়েছে।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব: খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে তাঁর লাল তীর সীড প্রকল্প জাতীয় পর্যায়ে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে।

শীর্ষ ৭ জন ধনী ব্যক্তির একনজরে সংক্ষিপ্ত তথ্য

নিচে উল্লিখিত ৭ জন শীর্ষ শিল্পপতির পরিচিতি, প্রধান প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক খাত এবং আনুমানিক সম্পদের তথ্য একটি সারণীতে তুলে ধরা হলো:

নাম

প্রধান প্রতিষ্ঠান / গ্রুপ

প্রাথমিক ব্যবসায়িক খাতসমূহ

আনুমানিক সম্পদ / অবস্থান

মুসা বিন শমসের (প্রিন্স মুসা)

ড্যাটকো গ্রুপ

জনশক্তি রপ্তানি, আন্তর্জাতিক ব্যবসা

১০ – ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (দাবিকৃত/বিভিন্ন সূত্র)

মুহাম্মদ আজিজ খান

সামিট গ্রুপ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অবকাঠামো

১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ফোর্বস ২০২৫)

সালমান এফ রহমান

বেক্সিমকো গ্রুপ

ওষুধ, টেক্সটাইল, ব্যাংকিং, মিডিয়া, তথ্যপ্রযুক্তি

১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি (বিভিন্ন সূত্র)

আহমেদ আকবর সোবহান

বসুন্ধরা গ্রুপ

আবাসন, সিমেন্ট, পেপার, এলপিজি, মিডিয়া

১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি (বিভিন্ন সূত্র)

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম

এস আলম গ্রুপ

ভোগ্যপণ্য, ব্যাংকিং, জ্বালানি, শিপিং

গ্রুপ সম্পদ ১.৩ লক্ষ কোটি টাকা ($১.৫ বিলিয়ন সিঙ্গাপুরে)

সাঈদ আহমেদ আসলাম

আসলাম লজিস্টিকস / বিভিন্ন

শিপিং, কার্গো, লজিস্টিকস, রিয়েল এস্টেট

১২০০ কোটি টাকা (নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী)

আবদুল আউয়াল মিন্টু

মাল্টিমোড গ্রুপ

কৃষি (লাল তীর সীড), ব্যাংকিং, বীমা, শিপিং

৯৪৬ কোটি টাকা (নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী)

অন্যান্য প্রখ্যাত ও ধনকুবের শিল্পগোষ্ঠী

শীর্ষ ৭ জনের বাইরেও বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী ও বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য রয়েছে, যাদের সম্পদের পরিমাণ হাজার হাজার কোটি টাকা এবং যারা লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান নিয়ন্ত্রণ করছে:

স্কয়ার গ্রুপ (Square Group)

মূল কান্ডারি: প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরী। বর্তমানে তাঁর সন্তান তপন চৌধুরী, অঞ্জন চৌধুরী ও রত্না দত্ত গ্রুপটি পরিচালনা করছেন।

প্রধান খাত: ওষুধ (স্কয়ার ফার্মা), টয়লেট্রিজ, টেক্সটাইল, খাদ্যপণ্য, মিডিয়া (মাছরাঙা টিভি) এবং স্বাস্থ্যসেবা (স্কয়ার হাসপাতাল)।

অবদান: দেশের ওষুধ খাতের একচ্ছত্র বাজারপতি হিসেবে স্কয়ার গ্রুপ বিশ্বমানের মাননিয়ন্ত্রণের জন্য পরিচিত।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ (PRAN-RFL Group)

মূল কান্ডারি: প্রয়াত মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খান চৌধুরী; বর্তমানে নেতৃত্বে রয়েছেন আহসান খান চৌধুরী।

প্রধান খাত: খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ (PRAN) এবং প্লাস্টিক ও মেটাল সামগ্রী (RFL)।

বিশেষত্ব: এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কৃষি-প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, যা বিশ্বের ১৪৫টিরও বেশি দেশে পণ্য পাঠায়।

সিটি গ্রুপ (City Group)

মূল কান্ডারি: প্রয়াত ফজলুর রহমান।

প্রধান খাত: 'তীর' (Teer) ব্র্যান্ডের আওতায় ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা, চিনি, ফিড, পেপার এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল (Economic Zone)।

অবদান: বাংলাদেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজারে সবচেয়ে বড় সরবরাহকারীদের মধ্যে সিটি গ্রুপ অন্যতম।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (MGI)

মূল কান্ডারি: মোস্তফা কামাল।

প্রধান খাত: 'ফ্রেশ' (Fresh) ব্র্যান্ডের অধীনে পানীয়, খনিজ জল, কাগজ, কেমিক্যাল, শিপিং, সিমেন্ট ও শক্তি খাত।

বিশেষত্ব: মেঘনা গ্রুপের নিজস্ব বিশাল বাণিজ্যিক জাহাজের বহর (Ocean-going vessels) রয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহন করে।

ওয়ালটন গ্রুপ (Walton Group)

মূল কান্ডারি: এস এম নজরুল ইসলাম এবং তাঁর পরিবার (কুণ্ডু/নজরুল পরিবার)।

প্রধান খাত: ইলেকট্রনিক্স, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন ও হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস।

অবদান: 'মেড ইন বাংলাদেশ' ট্যাগ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোকে টেক্কা দিয়ে দেশীয় ইলেকট্রনিক্স বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে ওয়ালটন।

ইউনাইটেড গ্রুপ (United Group)

প্রধান খাত: বিদ্যুৎ উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা (ইউনাইটেড হাসপাতাল), শিক্ষা (ইউআইইউ বিশ্ববিদ্যালয়), রিয়েল এস্টেট ও বন্দর পরিচালনা।

বিশেষত্ব: বাংলাদেশের আইপিপি (Independent Power Producer) হিসেবে বিদ্যুৎ খাতে এবং মেগা ইনফ্রাস্ট্রাকচারে এদের বিনিয়োগ অত্যন্ত বিশাল।

তৈরি পোশাক (RMG) খাতের পরাশক্তিরা

বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হলো তৈরি পোশাকশিল্প। এই খাতের শীর্ষ মালিকেরা বিপুল বিত্তের অধিকারী:

হা-মীম গ্রুপ (Ha-Meem Group): এ. কে. আজাদের নেতৃত্বাধীন এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর প্রধান সরবরাহকারী। এখানে প্রায় ৭০,০০০-এর বেশি কর্মী কাজ করেন।

এনভয় গ্রুপ (Envoy Group): কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও আবদুস সালাম মুর্শেদীর প্রতিষ্ঠিত এই গ্রুপ ডেনিম উৎপাদনে বিশ্বমানের পরিবেশবান্ধব (Green Factory) প্রযুক্তির জন্য বিখ্যাত।

ডিবিএল গ্রুপ (DBL Group): আব্দুল জব্বার ও তাঁর ভাইদের পরিচালিত এই গ্রুপটি টেক্সটাইল, ডাইং এবং সিরামিক খাতের অন্যতম বড় জায়ান্ট।

বাংলাদেশে প্রকৃত সম্পদের সঠিক হিসাব না মেলার কারণ

আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ফোর্বস’ বা ‘ব্লুমবার্গ’-এর ধনীদের তালিকায় কেন বাংলাদেশের অনেকের নাম সরাসরি দেখা যায় না, তার পেছনে কিছু কাঠামোগত কারণ রয়েছে:

জমির প্রকৃত বাজারমূল্য বনাম সরকারি মূল্য: ঢাকার গুলশান, বনানী, মতিঝিল, সাভার বা গাজীপুরে অনেক শিল্পপতির শত শত একর জমি রয়েছে। সরকারি দলিলে যে জমির মূল্য ১০ কোটি টাকা দেখানো হয়, বাজারে তার প্রকৃত মূল্য হয়তো ৫০০ কোটি টাকা। এই মূল্যায়ন অফিশিয়াল ট্যাক্স ফাইলে সহজে উঠে আসে না।

প্রাতিষ্ঠানিক অডিটের অভাব ও অতালিকাভুক্ত পারিবারিক কোম্পানি: বাংলাদেশের অধিকাংশ বড় গ্রুপ অব কোম্পানিজ "প্রাইভেট লিমিটেড" বা পারিবারিক মালিকানাধীন। তারা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, ফলে তাদের মূল আর্থিক স্টেটমেন্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক থাকে না।

অফশোর সম্পদ ও ক্যাপিটাল ফ্লাইট: দুবাই, সিঙ্গাপুর, লন্ডন, সুইজারল্যান্ড ও কানাডায় বহু বাংলাদেশি শিল্পপতিদের অগাধ সম্পত্তি ও বিনিয়োগ রয়েছে। এই সম্পদগুলোর বড় একটি অংশ অফিশিয়াল দেশীয় হিসাবের বাইরে থাকে।

অতি-উচ্চ সম্পদশালী (UHNWI) বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের রেকর্ড

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাইট ফ্রাঙ্ক (Knight Frank)-এর 'ওয়েলথ রিপোর্ট' অনুযায়ী গত এক ডজন বছরে বাংলাদেশে ইউএইচএনডব্লিউআই (UHNWI - Ultra High Net Worth Individuals) বা যাদের নিট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা) বা তার বেশি, তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধির হার বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ ছিল।

দ্রুত নগরায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিল্পায়নের ওপর ভর করে বাংলাদেশে কোটিপতির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উদীয়মান টেক ও নিউ-এজ উদ্যোক্তা

ঐতিহ্যবাহী ম্যানুফ্যাকচারিং বা রিয়েল এস্টেটের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তারা প্রযুক্তি খাতে বিশাল সম্পদ সৃষ্টি করছেন:

বিকাশ (bKash): কামাল কাদীরের নেতৃত্বে বিকাশ বাংলাদেশের একমাত্র সফল ফিনটেক 'ইউনিকর্ন' (১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের প্রতিষ্ঠান) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যাতে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মিডিয়া জায়ান্ট সফটব্যাংক এবং অ্যালিবাবার বিনিয়োগ রয়েছে।

রাইড শেয়ারিং ও লজিস্টিকস: পাঠাও, শপআপ বা অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলারের সম্পদ মূল্যায়ন (Valuation) তৈরি করছে।

জাতীয় অর্থনীতিতে শীর্ষ ধনী ও শিল্পগ্রুপগুলোর অবদান

বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের উত্থান শুধু গুটি কতক ব্যক্তির সম্পদ বৃদ্ধির গল্প নয়; এটি পুরো দেশের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের গল্প। এই শীর্ষ উদ্যোক্তারা অর্থনীতিতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন:

বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। বেক্সিমকো, বসুন্ধরা, এস আলম কিংবা সামিটের মতো বিশাল কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো লাখ লাখ তরুণের সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। পাশাপাশি তাঁদের সাপ্লাই চেইন, পরিবহন ও বিপণন ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হয়ে আরও বহুগুণ মানুষ পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

শিল্পায়ন ও স্বাবলম্বিতা: একসময় বাংলাদেশকে অধিকাংশ শিল্পপণ্য আমদানির ওপর নির্ভর করতে হতো। এই শিল্পপতিরা দেশে ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট গড়ে তুলে পেপার, সিমেন্ট, ওষুধ, ইস্পাত, ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতেই শুধু স্বাবলম্বিতা আনেননি, বরং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন।

অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নতি: সামিট গ্রুপের মতো বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো না থাকলে দেশের শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছানো অসম্ভব হতো। অবকাঠামোগত এই উন্নয়ন বাংলাদেশের সার্বিক জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: লাল তীর সীডের মাধ্যমে হাইব্রিড ও প্রতিকূল আবহাওয়া সহনশীল বীজ উদ্ভাবন করায় দেশে খাদ্যশস্য ও সবজির উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। এটি দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি জোরদার করতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মূল ভূমিকা রাখছে।

রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার কর (Tax), ভ্যাট (VAT) এবং শুল্ক প্রদান করে এসব প্রতিষ্ঠান সরকারি কোষাগারকে সমৃদ্ধ করে। তাছাড়া বেক্সিমকো ফার্মার মতো প্রতিষ্ঠান ওষুধ রপ্তানি করে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অবদান রাখছে।

ধনীদের সম্পদের হিসাব ও তথ্যের সীমাবদ্ধতা

বাংলাদেশে ব্যক্তি পর্যায় বা বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠীর প্রকৃত নিট সম্পদের হিসাব বের করা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। এর পেছনে কিছু যৌক্তিক কারণ রয়েছে:

অতালিকাভুক্ত শেয়ার ও পারিবারিক মালিকানা: অধিকাংশ বড় শিল্পগোষ্ঠীর শত শত প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে (Stock Market) তালিকাভুক্ত নয়। ফলে প্রকাশ্য বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে সঠিক নিট সম্পদ বের করা কঠিন।

জমির মূল্যের দ্রুত বৃদ্ধি: বাংলাদেশে বিগত দুই-তিন দশকে জমির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বসুন্ধরা বা সাঈদ আসলামের মতো যাদের বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে, বাজারে সেই জমির বর্তমান মূল্য হিসাব করলে তাঁদের সম্পদ বহুগুণ বেড়ে যায়, যা অফিশিয়াল খাতায় অনেক সময় পুরনো দামে নথিভুক্ত থাকে।

নির্বাচনী হলফনামা বনাম প্রকৃত সম্পদ: বাংলাদেশের নির্বাচনী হলফনামায় কেবল প্রার্থীর নামে থাকা অর্জিত সম্পদের বুক-ভ্যালু বা ট্যাক্স ফাইলে প্রদর্শিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ উল্লেখ থাকে। এর বাইরে পারিবারিক ট্রাস্ট, শেয়ার কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক পুনঃবিনিয়োগের বিশাল অংশ হলফনামায় সরাসরি উঠে আসে না।

আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন মানদণ্ড: ফোর্বস বা ব্লুমবার্গের মতো গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মগুলো প্রধানত প্রকাশ্যে কেনাবেচা হওয়া শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক অডিট রিপোর্ট এবং যাচাইযোগ্য সম্পদের ওপর ভিত্তি করে তালিকা তৈরি করে। তাই বাংলাদেশে অনেক শতকোটি টাকার মালিক থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক তালিকায় সবার নাম উঠে আসে না।

উপসংহার

বাংলাদেশে সফল উদ্যোক্তা হওয়া অত্যন্ত কঠিন এক পরীক্ষা। নীতিমালার পরিবর্তন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং স্থানীয় অর্থায়নের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে যারা শিল্পসাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, তাঁরা দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের জনশক্তি রপ্তানি থেকে শুরু করে আজিজ খানের অবকাঠামো উন্নয়ন, সালমান এফ রহমানের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং, আহমেদ আকবর সোবহানের আধুনিক নগর নির্মাণ, এস আলমের ভোগ্যপণ্য সরবরাহ, সাঈদ আসলামের লজিস্টিকস কিংবা আবদুল আউয়াল মিন্টুর কৃষি বিপ্লব প্রতিটি গল্পই বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের শক্তিমত্তার প্রতীক।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যখন উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশের দিকে এগিয়ে যাবে, তখন এই শিল্পপতিদের গড়ে তোলা শক্ত ভিত্তি এবং নতুন প্রজন্মের উদীয়মান উদ্যোক্তারাই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে যাবে।

তথ্যসূত্র: ফোর্বস, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো এবং বিভিন্ন বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.