গ্যালাকটাস মহাবিশ্বের ক্ষুধার্ত সত্তা ও তার রহস্যময় উদ্দেশ্য

Jul 19, 2025

গ্যালাকটাস (Galactus) মার্ভেল কমিকসের এক অন্যতম শক্তিশালী ও জটিল চরিত্র। কমিকসে তাকে সাধারণত মহাবিশ্বের ক্ষুধার্ত সত্তা হিসেবে জানা হয়। গ্যালাকটাস কোনো সাধারণ ভিলেন নয়, বরং মহাবিশ্বের এক প্রাকৃতিক শক্তি, যার অস্তিত্বই টিকে আছে গ্রহ-নক্ষত্র ভক্ষণের ওপর। তাকে অনেকেই “পৃথিবী ধ্বংসকারী” হিসেবে চেনেন, কিন্তু তার উদ্দেশ্য কেবল ধ্বংস নয়, বরং তা অনেক গভীর ও জটিল। তার জন্ম, উদ্দেশ্য এবং কেন সে পৃথিবী ধ্বংস করতে চায়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদের তার গভীর ও সুদূরপ্রসারী ইতিহাসে ডুব দিতে হবে।

মার্ভেল ইউনিভার্স কেবল সুপারহিরো আর সুপারভিলেনের গল্প নয়, এটি মহাজাগতিক রহস্য, অস্তিত্বের সংকট এবং অবিশ্বাস্য শক্তির আধার। এই বিশাল মহাবিশ্বের এক অন্যতম জটিল চরিত্র হলো গ্যালাকটাস (Galactus)। সে সাধারণ অর্থে কোনো ভিলেন নয়, বরং মহাবিশ্বের এক অনিবার্য প্রাকৃতিক শক্তি, যার অস্তিত্বই টিকে আছে গ্রহ-নক্ষত্রের জীবনীশক্তি শোষণের ওপর। তার এই চিরন্তন ক্ষুধা এবার নজর দিয়েছে মার্ভেল ইউনিভার্সের অন্যতম শক্তিশালী চরিত্র, ফ্রাঙ্কলিন রিচার্ডস (Franklin Richards), ফ্যান্টাস্টিক ফোরের রিড রিচার্ডস ও সু স্টর্মের ছোট ছেলে, যার শক্তি মহাবিশ্বের ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

গ্যালাকটাসের উৎপত্তি ও এক মহাজাগতিক সত্তার জন্ম

গ্যালাকটাসের গল্পের শুরুটা মহাবিশ্ব সৃষ্টির বহু আগেকার তথা বিগ ব্যাংয়েরও অনেক আগে। সে ছিল বর্তমান মহাবিশ্বের পূর্ববর্তী মহাবিশ্বের (Sixth Cosmos) শেষ জীবিত প্রাণ, যার নাম ছিল গ্যালান (Galan)। তখন সে ছিল গ্যালান (Galan) নামের এক সাধারণ মানুষ, টা (Taa) নামক এক উন্নত সভ্যতার বাসিন্দা। যখন তার নিজস্ব মহাবিশ্ব এক মহাজাগতিক ধ্বংসযজ্ঞের মুখে, এক “বিগ ক্রাঞ্চ”-এর মাধ্যমে বিলীন হতে চলেছে, তখন দ্য ওয়ান অ্যাবভ অল (The One Above All) মার্ভেল ইউনিভার্সের সর্বোচ্চ সত্তা গ্যালানকে বাঁচিয়ে রাখে। এই বাঁচার পেছনে ছিল এক সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য, মহাবিশ্বের ভারসাম্য রক্ষা করা।

তারা একটি জ্বলন্ত নক্ষত্রের দিকে যাত্রা করে, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত অবশিষ্ট শক্তি একত্রিত হচ্ছিল। গ্যালানই ছিল একমাত্র ব্যক্তি যে এই শক্তির মূল উৎস, “কসমিক এগ” (Cosmic Egg) এর সাথে মিশে যায়। গ্যালান, ধ্বংসপ্রাপ্ত মহাবিশ্বের সব শক্তি নিজের মধ্যে ধারণ করে। এই অবিশ্বাস্য ঘটনার মধ্য দিয়ে গ্যালান রূপান্তরিত হয় এক নতুন সত্তায় গ্যালাকটাস, “ওয়ার্ল্ড ডিভোরার” (Devourer of Worlds)। সে এক নতুন, সপ্তম মহাবিশ্বে (Seventh Cosmos) আবির্ভূত হয়, সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে, এক অদম্য ক্ষুধা নিয়ে।

এই রূপান্তর তাকে কেবল শারীরিক আকারেই পরিবর্তন করেনি, তার সমগ্র সত্তা, তার অনুভূতি এবং তার অস্তিত্বের উদ্দেশ্যকেও বদলে দিয়েছে। সে এখন একটি জীবিত শক্তির আধার, যার টিকে থাকার জন্য অপরিহার্যভাবে গ্রহের জীবনশক্তি শোষণ করতে হয়। তার এই ক্ষুধা শুধু খাবারের নয়, বরং গ্রহের প্রাণশক্তি, তারার তাপ এবং বিশুদ্ধ মহাজাগতিক এনার্জির। গ্যালাকটাস গ্রহ ধ্বংস করে না, বরং তাদের জীবনীশক্তি শুষে নেয়, যা তাকে বাঁচিয়ে রাখে এবং মহাবিশ্বের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। তার এই কর্মকে মহাবিশ্বের এক অনিবার্য নিয়ম হিসেবে দেখা হয়, এক ধ্বংসাত্মক দায়িত্ব, যা তাকে এক ট্র্যাজিক চরিত্রে (tragic character) পরিণত করেছে। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে মহাবিশ্ব বাঁচানোর জন্য, কিন্তু তার প্রতিটি পদক্ষেপ ধ্বংসের ছায়া ফেলে।

গ্যালাকটাসের উদ্দেশ্য ও মহাজাগতিক ভারসাম্য

প্রথম দর্শনে গ্যালাকটাসকে এক নির্মম ধ্বংসকারী মনে হতে পারে। সে একের পর এক গ্রহকে ধ্বংস করে তাদের শক্তি শুষে নেয়, যার ফলে সেইসব গ্রহে বসবাসকারী কোটি কোটি প্রাণীর জীবনহানি ঘটে। কিন্তু তার এই ক্রিয়ার পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা মন্দ উদ্দেশ্য নেই। বরং, গ্যালাকটাসকে মহাবিশ্বের এক অপরিহার্য প্রাকৃতিক শক্তি হিসেবে দেখা হয়।

তার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মহাবিশ্বের ভারসাম্য রক্ষা করা (maintaining cosmic balance)। গ্যালাকটাস তার গ্রাস করা শক্তি সঞ্চয় করে রাখে। প্রচলিত মতবাদ অনুযায়ী, এই সঞ্চিত শক্তি মহাবিশ্বের পরবর্তী “বিগ ব্যাং” (Big Bang) অর্থাৎ নতুন মহাবিশ্ব সৃষ্টির জন্য অপরিহার্য। অর্থাৎ, গ্যালাকটাস ধ্বংসের মাধ্যমে নতুন সৃষ্টির বীজ বপন করে। সে এই চক্রের একটি অংশ, যেখানে ধ্বংস এবং সৃষ্টি একে অপরের পরিপূরক।

তাকে প্রায়শই “ফোর্স অফ নেচার” (Force of Nature) হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা ঝড়, ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতোই একটি অনিবার্য মহাজাগতিক ঘটনা। তার ক্ষুধা একটি জৈবিক প্রয়োজন, কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ নয়। এই কারণেই অনেক মহাজাগতিক সত্তা, এমনকি যারা গ্যালাকটাসের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তারাও তাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে দ্বিধা বোধ করে, কারণ এর ফলে মহাবিশ্বের সামগ্রিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।

গ্যালাকটাস কি চায়? তার ক্ষুধা এবং হেরাল্ড (Heralds)

গ্যালাকটাস যা চায়, তা হলো ক্ষুধা নিবারণ (satisfying his hunger)। তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তাকে নিয়মিত গ্রহের প্রাণশক্তি শোষণ করতে হয়। এই শক্তি শোষণের জন্য সে তার বিশাল আকারের মহাকাশযান, টিএ II (Taa II) ব্যবহার করে এবং বিশেষ কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে গ্রহের মূল শক্তিকে নিষ্কাশন করে। এই প্রক্রিয়া গ্রহটিকে সম্পূর্ণ শুষ্ক ও প্রাণহীন করে ফেলে।

গ্যালাকটাস নিজে সরাসরি গ্রহ খুঁজে বেড়ায় না। তার এই বিশাল কাজ সহজ করার জন্য সে বিভিন্ন শক্তিশালী সত্তাকে তার হেরাল্ড (Herald) হিসেবে নিযুক্ত করে। এই হেরাল্ডদেরকে সে তার নিজস্ব কসমিক পাওয়ার (Cosmic Power) দান করে, যা তাদের অবিশ্বাস্য ক্ষমতা প্রদান করে। এই হেরাল্ডদের কাজ হলো গ্যালাকটাসের জন্য নতুন গ্রহ খুঁজে বের করা এবং সেগুলোকে তার আগমনের জন্য প্রস্তুত করা। সবচেয়ে বিখ্যাত গ্যালাকটাসের হেরাল্ড হলেন সিলভার সার্ফার (Silver Surfer)।

সিলভার সার্ফার কে?

জেন-লা (Zenn-La) নামক একটি দূরবর্তী ও উন্নত গ্রহের বাসিন্দা নরিন রাড (Norrin Radd) তার নিজের গ্রহকে গ্যালাকটাসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য স্বেচ্ছায় তার হেরাল্ড হতে রাজি হন। নরিন রাড ছিলেন জেন-লা গ্রহের একজন বিজ্ঞানপ্রেমী ও শান্তিকামী যুবক। যখন ভয়ংকর গ্রহ-ভক্ষক গ্যালাকটাস (Galactus) তার গ্রহ ধ্বংস করতে আসে, তখন নরিন নিজের গ্রহ ও প্রেমিকা শ্য্যালা-বাল কে বাঁচাতে এক আত্মত্যাগমূলক প্রস্তাব দেয়। সে নিজেকে গ্যালাকটাসের হেরাল্ড (Herald) হিসেবে নিবেদন করে, যার কাজ হবে গ্যালাকটাসের জন্য নতুন গ্রহ খুঁজে বের করা। এর বিনিময়ে গ্যালাকটাস তাকে মহাজাগতিক শক্তি দিয়ে Silver Surfer বানায় এবং একটি Silver Cosmic Board দেয় যা তাকে আলোর গতিতে মহাবিশ্বে ভ্রমণ করতে দেয়।

Silver Surfer হলো এক বিশাল Cosmic Power-এর ধারক। তার ক্ষমতাগুলো হলো Cosmic Energy তথা মহাজাগতিক শক্তি ব্যবহার করে যেকোনো বস্তু ধ্বংস/সৃষ্টি করতে পারে। তার বোর্ডে সে আলোর চেয়েও বেশি গতিতে চলাফেরা করতে পারে। সে প্রচণ্ড শক্তিশালী ও প্রায় অমর এবং পদার্থের গঠন পরিবর্তন করতে পারে। গ্যালাকটাসের হয়ে পৃথিবী ধ্বংস করতে এসে Silver Surfer মানবজাতির মমতা, সাহস ও নৈতিকতা দেখে প্রভাবিত হয়। সে গ্যালাকটাসের বিরুদ্ধে যায় এবং মানবজাতিকে রক্ষা করে। এরপর গ্যালাকটাস তাকে পৃথিবীতে বন্দী করে ফেলে অনেক বছর। এই সময়েই সে হয়ে ওঠে দার্শনিক, মহাবিশ্ব ও অস্তিত্বের অর্থ নিয়ে ভাবতে থাকে।

তবে সিলভার সার্ফারের মতো অনেক হেরাল্ডই সময়ের সাথে সাথে গ্যালাকটাসের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে অনীহা প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে চলে যায়। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য হেরাল্ডদের মধ্যে রয়েছে নোভা (Nova), ফায়ারলর্ড (Firelord), ট্যারেক্স দ্য টেমার (Terrax the Tamer), এয়ার-ওয়াকার (Air-Walker)।

গ্যালাকটাস কেন পৃথিবী ধ্বংস করতে চায়?

গ্যালাকটাস কোনো বিশেষ গ্রহের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না। তার পৃথিবী ধ্বংস করার উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, বরং তার ক্ষুধা নিবারণ। সে যখন ক্ষুধার্ত হয়, তখন তার হেরাডরা এমন গ্রহ খুঁজে বের করে যার মধ্যে পর্যাপ্ত প্রাণশক্তি রয়েছে এবং যা তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।

পৃথিবী হলো প্রাণশক্তিতে ভরপুর একটি গ্রহ, এবং এর ভূ-তাত্ত্বিক গঠন ও প্রাণের প্রাচুর্য গ্যালাকটাসের জন্য একটি আদর্শ খাদ্য উৎস। তাই, যখন গ্যালাকটাস ক্ষুধার্ত হয় এবং তার হেরাডরা পৃথিবীর সন্ধান পায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই সে পৃথিবী ভক্ষণের জন্য আসে। সে পৃথিবীর জনসংখ্যার ব্যাপারে বা সভ্যতা সম্পর্কে কোনো কিছু পরোয়া করে না, কারণ তার কাছে এসবের কোনো মূল্য নেই; তার কাছে পৃথিবী শুধুই একটি বিশাল শক্তির উৎস।

তবে মার্ভেল ইউনিভার্সে পৃথিবী বারবার বেঁচে গেছে গ্যালাকটাসের হাত থেকে। এর প্রধান কারণ হলো পৃথিবীর শক্তিশালী এবং অটল সুপারহিরো কমিউনিটি (Superhero Community), বিশেষ করে ফ্যান্টাস্টিক ফোর (Fantastic Four)। ফ্যান্টাস্টিক ফোরই প্রথম গ্যালাকটাসের মুখোমুখি হয়েছিল এবং তাদের নেতা, রিড রিচার্ডস (Reed Richards), তার বুদ্ধিমত্তা এবং দূরদর্শিতা দিয়ে গ্যালাকটাসকে পৃথিবী থেকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হন। অনেক সময় সিলভার সার্ফারও তার পুরনো প্রভুর বিরুদ্ধে গিয়ে পৃথিবীর পক্ষ নেয়।

এই প্রতিরোধের কারণে গ্যালাকটাস বারবার পৃথিবীকে তার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়, যদিও সে বারবার ফিরে আসে। এই অবিরাম লড়াই তাকে মার্ভেল ইউনিভার্সের অন্যতম প্রতীকী হুমকি করে তুলেছে।

গ্যালাকটাসের ক্ষমতা ও দুর্বলতা

গ্যালাকটাসের ক্ষমতা প্রায় অসীম, যা “কসমিক পাওয়ার” নামে পরিচিত। এই ক্ষমতা তাকে মহাবিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সত্তায় পরিণত করেছে। তার কিছু প্রধান ক্ষমতা হলো:

  • বস্তু রূপান্তর (Matter Transmutation): সে যেকোনো বস্তুকে তার ইচ্ছামতো পরিবর্তন করতে পারে।

  • শক্তি শোষণ (Energy Absorption): সে গ্রহ থেকে জীবনশক্তি শোষণ করতে পারে, যা তার অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য।

  • শক্তি নিঃসরণ (Energy Blasts): সে তার শরীর থেকে বিশাল পরিমাণ কসমিক শক্তি বিচ্ছুরণ করতে পারে, যা গ্রহের চেয়েও শক্তিশালী।

  • টেলিপ্যাথি (Telepathy): সে মানসিক যোগাযোগের মাধ্যমে অন্যের মন পড়তে ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

  • টেলিকাইনেসিস (Telekinesis): সে মানসিক শক্তির মাধ্যমে বস্তু নাড়াতে পারে।

  • আকার পরিবর্তন (Size Alteration): যদিও সে সাধারণত বিশাল আকারে আবির্ভূত হয়, সে তার আকার ইচ্ছামতো পরিবর্তন করতে পারে।

  • সময় ও স্থানের নিয়ন্ত্রণ (Time and Space Manipulation): সে সময় ও স্থানকে প্রভাবিত করতে পারে, এমনকি আন্তঃ-গ্যালাকটিক দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে নিমেষে।

  • হেরাল্ড সৃষ্টি (Herald Creation): সে অন্য প্রাণীদের কসমিক পাওয়ার দান করে তার হেরাল্ড হিসেবে নিযুক্ত করতে পারে।

দুর্বলতা (Weaknesses)

অসীম ক্ষমতার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও কমিকস অনুসারে গ্যালাকটাসের কিছু নির্দিষ্ট দুর্বলতাও রয়েছে:

  • ক্ষুধা (Hunger): তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো তার অদম্য ক্ষুধা। যখন সে ক্ষুধার্ত থাকে, তখন তার শক্তি হ্রাস পায় এবং সে আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। যদি সে পর্যাপ্ত শক্তি না পায়, তবে সে মারা যেতে পারে বা তার মূল সত্তায় ফিরে যেতে পারে।

  • আল্টিমেট নালিফায়ার (Ultimate Nullifier): এটি মহাবিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র, যা গ্যালাকটাস নিজেও ব্যবহার করতে ভয় পায়। এই যন্ত্রটি যার হাতে থাকে, সে মহাবিশ্বকে বা যেকোনো অস্তিত্বকে সম্পূর্ণ বিলীন করে দিতে পারে। ফ্যান্টাস্টিক ফোর এটি ব্যবহার করে গ্যালাকটাসকে বহুবার পৃথিবী থেকে বিতাড়িত করেছে।

  • ওল্ড পাওয়ার (Old Power): কিছু বিরল ধরনের শক্তি, যেমন “ওল্ড পাওয়ার”, গ্যালাকটাসের জন্য বিষাক্ত হতে পারে। এই শক্তি গ্রহণ করলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

  • সীমিত গ্রহের সংখ্যা (Finite Planets): মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব আছে এমন গ্রহের সংখ্যা সীমিত, যা তার ক্ষুধার্ত অবস্থার জন্য একটি বড় সমস্যা তৈরি করে।

  • ব্যক্তিগত নৈতিকতা (Personal Morality): যদিও তার ক্ষুধা একটি প্রাকৃতিক বিষয়, গ্যালাকটাসের মধ্যে কিছুটা বিবেক এবং নৈতিকতা বিদ্যমান। সিলভার সার্ফার বা অন্যান্য হেরাডরা যখন তাকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে একটি গ্রহে সপ্রাণ অস্তিত্ব রয়েছে, তখন সে সেই গ্রহটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

মহাজাগতিক নাটক ফ্রাঙ্কলিন ও গ্যালাকটাস

ফ্রাঙ্কলিন রিচার্ডস এবং গ্যালাকটাসের সম্পর্ক মহাজাগতিক এক নাটকের মতো, যেখানে মহাবিশ্বের ভাগ্য নির্ধারণ হয় এক শিশু আর এক মহাজাগতিক সত্তার টানাপোড়েনে। গ্যালাকটাস তার ক্ষুধা মেটানোর জন্য এবং মহাবিশ্বের ভারসাম্য রক্ষায় ফ্রাঙ্কলিনের শক্তিকে ব্যবহার করতে চায়, আর ফ্রাঙ্কলিন তার অসীম শক্তি দিয়ে মহাবিশ্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এই গল্প প্রমাণ করে, মার্ভেল ইউনিভার্সের গভীরে কেবল শক্তি আর ক্ষমতার খেলা নয়, বরং গভীর নৈতিক প্রশ্ন এবং মহাজাগতিক অস্তিত্বের লড়াইও বিদ্যমান। গ্যালাকটাস হয়তো ভিলেন নয়, বরং মহাবিশ্বের এক অতৃপ্ত কিন্তু অনিবার্য শক্তি, যার প্রতিটি পদক্ষেপই মহাবিশ্বের টিকে থাকার এক রহস্যময় অংশ।

Related Posts

More Article by Moynamoti

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.