ইতিহাসের শীর্ষ ১০ ধনকুবের - যাঁদের সম্পদের কাছে বর্তমানের বিলিয়নিয়াররাও তুচ্ছ
মানব সভ্যতার ইতিহাসে সম্পদের সংজ্ঞা সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে। প্রাচীনকালে সম্পদ মানে ছিল জমি, সোনা এবং দাস। শিল্প বিপ্লবের যুগে তা রূপান্তরিত হয় কলকারখানা ও খনিজ সম্পদে। আর বর্তমান যুগে তা শেয়ার বাজার ও প্রযুক্তিনির্ভর। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি এবং বর্তমান ক্রয়ক্ষমতার সাথে সমন্বয় করলে যে তালিকাটি উঠে আসে, তা সত্যিই বিস্ময়কর।
ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু মানুষের নাম খোদাই করা আছে, যাঁদের অর্জিত সম্পদের পরিমাণ কল্পনাকেও হার মানায়। আজকের যুগে আমরা ইলন মাস্ক বা জেফ বেজোসের বিলিয়ন ডলারের সম্পদ দেখে অবাক হই, কিন্তু ইতিহাসের ধূলিমলিন রেকর্ড ঘাঁটলে দেখা যায়, এমন কিছু শাসক ও শিল্পপতি ছিলেন যাঁদের সম্পদের কাছে বর্তমানের বিলিয়নিয়াররা কার্যত নগণ্য।
এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব ইতিহাসের সেরা ১০ জন ধনকুবেরকে নিয়ে, যাঁদের কেউ নিয়ন্ত্রণ করেছেন গোটা সাম্রাজ্যের জিডিপি, আবার কেউ ব্যক্তিগত দক্ষতায় গড়ে তুলেছেন বিশ্বের বৃহত্তম একচেটিয়া ব্যবসা। আসুন দেখে নিই, ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী ১০ জন ব্যক্তির তালিকা।
১০. মীর ওসমান আলী খান (Mir Osman Ali Khan)
সম্পদের পরিমাণ: ২৩০ বিলিয়ন ডলার (অ্যাডজাস্টেড)
ব্রিটিশ ভারতের হায়দ্রাবাদ দেশীয় রাজ্যের শেষ নিজাম ছিলেন মীর ওসমান আলী খান। ১৯৩৭ সালে যখন সারা বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কবলে, তখন বিখ্যাত 'টাইম ম্যাগাজিন' তাঁকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনকুবের হিসেবে প্রচ্ছদে স্থান দিয়েছিল।
হায়দ্রাবাদ ছিল তখন বিশ্বের একমাত্র অঞ্চল, যেখান থেকে বিশ্ববিখ্যাত 'গোলকুন্ডা হীরা' সরবরাহ করা হতো। বর্তমানের কোহিনূর হীরাও একসময় তাঁরই রাজত্বের অংশ ছিল। খনি থেকে আহরিত হীরা এবং মুক্তার একচেটিয়া ব্যবসা তাঁর রাজকোষকে কানায় কানায় পূর্ণ করে দিয়েছিল। তৎকালীন সময়ে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল কয়েক কোটি পাউন্ড।
অবিশ্বাস্য জীবনযাত্রা, মিতব্যয়িতা ও জনকল্যাণ
মীর ওসমান আলী খানের সম্পদ নিয়ে অনেক চমকপ্রদ গল্প প্রচলিত আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো 'জ্যাকব ডায়মন্ড'-এর গল্প। ১৮৫ ক্যারেটের এই হীরাটির বর্তমান বাজার মূল্য কয়েকশ কোটি টাকা। কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন, নিজাম এই বহুমূল্য হীরাটিকে কোনো সিন্দুকে আটকে না রেখে স্রেফ তাঁর টেবিলের পেপারওয়েট হিসেবে ব্যবহার করতেন! তাঁর মুক্তার সংগ্রহ এতই বিশাল ছিল যে, বলা হতো সেগুলো দিয়ে লন্ডনের পিকাডিলি সার্কাস চত্বরকে কয়েকবার ঢেকে দেওয়া সম্ভব।
সম্পদ থাকলেও নিজাম ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ। তিনি অনেক সময় নিজের ছেঁড়া টুপি সেলাই করে পরতেন এবং সস্তা সিগারেট খেতেন। কিন্তু যখন জনকল্যাণের প্রশ্ন আসত, তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
শিক্ষা: বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় সবখানে তাঁর অনুদান ছিল আকাশচুম্বী।
প্রতিরক্ষা: ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের সময় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর অনুরোধে তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা তহবিলে ৫০০০ কেজি সোনা দান করেছিলেন, যা ভারতের ইতিহাসে একক ব্যক্তি হিসেবে বৃহত্তম দান।
আজকের হিসাবে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলার। তিনি কেবল একজন ধনী ব্যক্তিই ছিলেন না, বরং এক বিশাল ঐতিহ্যের রক্ষক ছিলেন।
৯. জন ডি রকফেলার (John D. Rockefeller)
সম্পদের পরিমাণ: ৩৪০ বিলিয়ন ডলার
আমেরিকার ইতিহাসের প্রথম বিলিয়নিয়ার বলা হয় জন ডি রকফেলারকে। যদি প্রশ্ন করা হয়, আধুনিক বিশ্বের জ্বালানি তেলের ব্যবসার ভিত্তি কে স্থাপন করেছিলেন? তবে উত্তর হবে রকফেলার।
স্ট্যান্ডার্ড অয়েল এবং একচেটিয়া আধিপত্য
১৮৭০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'স্ট্যান্ডার্ড অয়েল' (Standard Oil)। সেই সময় আমেরিকায় রেলগাড়ি এবং কারখানার জয়জয়কার শুরু হচ্ছে। তেলের চাহিদা বাড়ছে হু হু করে। রকফেলার অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে একে একে সব ছোট তেল কোম্পানি কিনে নেন। ১৮৮০ সালের মধ্যে তাঁর কোম্পানি আমেরিকার ৯০ শতাংশ তেল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।
রকফেলারের সম্পদ এত দ্রুত বাড়ছিল যে মার্কিন সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। কোনো একটি একক কোম্পানি যাতে পুরো বাজার দখল করে না রাখতে পারে, সেজন্য মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ১৯১১ সালে 'অ্যান্টি-ট্রাস্ট' আইনের মাধ্যমে তাঁর কোম্পানিকে ৩৪টি আলাদা ছোট কোম্পানিতে ভেঙে দেয়। মজার ব্যাপার হলো, এই ভাঙনের ফলে তাঁর সম্পদের পরিমাণ কমার বদলে উল্টো বেড়ে যায়, কারণ প্রতিটি ছোট কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়তে থাকে।
আজকের দিনে আমরা ৩৪০ বিলিয়ন বা ৪০০ বিলিয়ন ডলারের কথা শুনি, কিন্তু রকফেলারের সম্পদের গুরুত্ব ভিন্ন ছিল। তাঁর সম্পদ ছিল সে সময়ের মার্কিন জিডিপির প্রায় ২ শতাংশের সমান। বর্তমান মার্কিন অর্থনীতির তুলনায় সেই সম্পদের মান হিসাব করলে তিনি আজও বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় শক্ত অবস্থানে থাকবেন।
৮. ইলন মাস্ক (Elon Musk)
সম্পদের পরিমাণ: ৩৬৬ বিলিয়ন ডলার (সর্বোচ্চ চূড়া অনুযায়ী)
তালিকায় একমাত্র জীবিত ব্যক্তি হিসেবে ইলন মাস্ক একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। টেসলা, স্পেসএক্স এবং এক্স (সাবেক টুইটার)-এর কর্ণধার মাস্কের সম্পদ ইতিহাসের অন্য সব ধনীদের চেয়ে কিছুটা আলাদা।
রকফেলার বা নিজামের সম্পদ ছিল মূলত সোনা, জমি বা তেলের খনি যা দৃশ্যমান। কিন্তু মাস্কের সম্পদ মূলত তাঁর কোম্পানির শেয়ার ভ্যালু। তাঁর সম্পদের গ্রাফ রোলার কোস্টারের মতো ওঠানামা করে। তাঁর সম্পদের সর্বোচ্চ চূড়া ছিল প্রায় ৩৬৬ বিলিয়ন ডলার। মাস্ক প্রমাণ করেছেন যে, একবিংশ শতাব্দীতে আইডিয়া এবং ভবিষ্যৎমুখী চিন্তাভাবনা থেকেও বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।
মহাকাশ জয় এবং ভবিষ্যৎ
মাস্ক কেবল টাকা জমানোর জন্য ব্যবসা করেন না। তাঁর লক্ষ্য মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসতি স্থাপন করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সাথে মানুষের মেলবন্ধন ঘটানো।
স্পেসএক্স: বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র ব্যক্তিগত রকেট কোম্পানি যা মহাকাশে মানুষ পাঠাচ্ছে।
টেসলা: বৈদ্যুতিক গাড়ির বিপ্লব ঘটিয়ে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, আজ থেকে ৫০০ বছর পর যখন ইতিহাসের মূল্যায়ন হবে, তখন মাস্ককে হয়তো একজন সাধারণ ধনী হিসেবে নয়, বরং মানবসভ্যতার গতিপথ পরিবর্তনকারী একজন দূরদর্শী হিসেবে দেখা হবে। তবে তাঁর সম্পদের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়, কারণ তা মূলত ডিজিটাল এবং স্টক মার্কেট ভিত্তিক।
৭. মানসা মুসা (Mansa Musa)
সম্পদের পরিমাণ: ৪০০ বিলিয়ন ডলার
এবার আসি সেই ব্যক্তির কথায়, যাকে বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি হলেন পশ্চিম আফ্রিকার মালির সম্রাট মানসা মুসা। ১৪শ শতাব্দীতে তাঁর সম্পদের যে হিসাব পাওয়া যায়, তা বর্তমানের যেকোনো অর্থনীতিবিদের মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
মানসা মুসার সময় মালি সাম্রাজ্য ছিল বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণ এবং লবণ উৎপাদনকারী অঞ্চল। সেই যুগে ইউরোপ যখন অন্ধকার যুগে আচ্ছন্ন এবং মহামারীতে বিপর্যস্ত, তখন আফ্রিকার এই অঞ্চলে সোনার বন্যা বইছিল। পৃথিবীর মোট সরবরাহের প্রায় অর্ধেক সোনা আসত তাঁর অধীনে থাকা খনিগুলো থেকে।
কিংবদন্তি মক্কা যাত্রা (১৩২৪ সাল)
মানসা মুসার সম্পদের পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর বিখ্যাত হজের সফরে। তিনি যখন মালি থেকে মক্কায় রওনা দেন, তখন তাঁর কাফেলায় ছিল প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। ১২ হাজার দাস, যাদের প্রত্যেকের হাতে ছিল একটি করে সোনার লাঠি। ৮০টি উট, যাদের প্রতিটি বহন করছিল ৩০০ পাউন্ড (১৩৬ কেজি) বিশুদ্ধ সোনা।
পথে তিনি কায়রো, মদিনা এবং মক্কায় এত বেশি সোনা দান করেছিলেন যে, সেখানে সোনার জোগান অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ফলে সোনার দাম তলানিতে ঠেকে এবং স্থানীয় বাজারে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। বলা হয়, মানসা মুসার ওই এক সফরের কারণে পরবর্তী ১০ বছর মিশরের অর্থনীতি অচল হয়ে ছিল। ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি স্রেফ দান করে একটি বিশাল অঞ্চলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন।
টিম্বাকটু - শিক্ষা ও সংস্কৃতির রাজধানী
মানসা মুসা কেবল সোনা ছড়াননি, তিনি তাঁর সাম্রাজ্যকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চেয়েছিলেন। তিনি মক্কা থেকে স্থপতি এবং পন্ডিতদের নিয়ে আসেন। তাঁর সময়ে 'টিম্বাকটু' শহরটি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা ও ইসলামি সংস্কৃতি কেন্দ্রে পরিণত হয়। সেখানকার সানকোর বিশ্ববিদ্যালয় ছিল তৎকালীন বিশ্বের জ্ঞানতৃষ্ণার কেন্দ্রবিন্দু।
৬. অগাস্টাস সিজার (Augustus Caesar)
সম্পদের পরিমাণ: ৫ ট্রিলিয়ন ডলার (বর্তমান বাজারমূল্যে)
রোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম সম্রাট অগাস্টাস সিজার ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। খ্রিস্টপূর্ব ৬৩ অব্দে জন্ম নেওয়া এই মহানায়ক রোমকে একটি অরাজক প্রজাতন্ত্র থেকে একটি সুশৃঙ্খল সাম্রাজ্যে রূপান্তর করেছিলেন।
অগাস্টাস সিজারের শাসনামলে রোমান সাম্রাজ্য উত্তর আফ্রিকা থেকে শুরু করে ইউরোপের বিশাল অংশ এবং মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, তৎকালীন বিশ্বের মোট জিডিপির (Gross Domestic Product) প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ নিয়ন্ত্রিত হতো তাঁর নির্দেশে। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত কর্তৃত্বে পৃথিবীর এক-চতুর্থাংশ অর্থনৈতিক শক্তি থাকা বর্তমান বিশ্বে কল্পনারও বাইরে।
মিশর - একটি যখন ব্যক্তিগত সম্পত্তি
অগাস্টাস সিজারের সম্পদের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো 'মিশর'। তৎকালীন সময়ে মিশর ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উর্বর এবং সম্পদশালী দেশগুলোর একটি। মজার ব্যাপার হলো, রোমান সাম্রাজ্যের অন্যান্য প্রদেশ সেনেটের অধীনে থাকলেও মিশর ছিল সরাসরি অগাস্টাস সিজারের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। অর্থাৎ, মিশরের নীল নদের অববাহিকার শস্য, সোনা এবং ব্যবসা থেকে আসা প্রতিটি মুদ্রা সরাসরি তাঁর ব্যক্তিগত কোষাগারে জমা হতো।
"অগাস্টাস সিজার যখন মিশর জয় করেন, তখন তিনি কেবল একটি দেশ জয় করেননি, বরং তিনি পৃথিবীর তৎকালীন একক বৃহত্তম সম্পদের ভাণ্ডার নিজের পকেটে পুরেছিলেন।" - ঐতিহাসিকদের অভিমত।
অগাস্টাস নিজে গর্ব করে বলতেন, "আমি রোমকে পেয়েছিলাম ইটের শহর হিসেবে, কিন্তু আমি যখন যাচ্ছি তখন একে মার্বেলের শহর বানিয়ে দিয়ে যাচ্ছি।" তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ কেবল বিলাসিতায় ব্যয় হয়নি, বরং তিনি তৈরি করেছিলেন বিশাল সব রাস্তা, জলপথ (Aqueducts) এবং স্থাপত্য। তাঁর সময়েই 'প্যাক্স রোমানা' বা রোমান শান্তির সূচনা হয়, যা দীর্ঘ ২০০ বছর বজায় ছিল এবং বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে তাঁর সম্পদকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
৫. সম্রাজ্ঞী উ জেতিয়ান (Empress Wu Zetian)
সম্পদের পরিমাণ: ১৬ ট্রিলিয়ন ডলার (বর্তমান বাজারমূল্যে)
চীনের দীর্ঘ কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসে অনেক প্রভাবশালী পুরুষ সম্রাট থাকলেও, নারী হিসেবে একমাত্র 'উ জেতিয়ান' (Empress Wu Zetian) নিজেকে সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর শাসনকাল ছিল ট্যাং রাজবংশের (Tang Dynasty) স্বর্ণযুগ।
উ জেতিয়ানের সময়ে চীন ছিল বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি। তাঁর সম্পদের অন্যতম উৎস ছিল বিখ্যাত 'সিল্ক রোড' বা রেশম পথ। মধ্য এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত এই বাণিজ্য পথটি তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে দামি পণ্য রেশম (Silk), চা এবং চীনামাটির বাসন (Porcelain) রপ্তানি করে তিনি তাঁর রাজকোষকে এক অবিশ্বাস্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।
উ জেতিয়ান কেবল সম্পদের পাহাড় গড়েননি, বরং তিনি ছিলেন একজন প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন শাসক। তিনি চীনের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। তাঁর সময়েই 'সিভিল সার্ভিস' পরীক্ষা পদ্ধতি আরও শক্তিশালী হয়, যার ফলে যোগ্য ব্যক্তিরা প্রশাসনের দায়িত্ব পেত। এটি চীনের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর সংগ্রহ ব্যবস্থাকে নিখুঁত করে তোলে। কৃষি উৎপাদনে আধুনিক সেচ ব্যবস্থার প্রয়োগ তাঁর শাসনামলে চীনের অর্থনীতিকে ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারের সমতুল্য মূল্যে নিয়ে যায়।
তিনি বৌদ্ধধর্মের একজন মহান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। চীনের 'লংমেন গ্রোটোস' (Longmen Grottoes)-এর মতো বিশালাকার বুদ্ধ মূর্তি এবং মন্দিরগুলো তাঁর অঢেল সম্পদের সাক্ষ্য বহন করে। উ জেতিয়ানের শাসনকালে চীনের সাধারণ মানুষও অর্থনৈতিকভাবে বেশ সচ্ছল ছিল, যা তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির পথকে সুগম করেছিল।
৪. সম্রাট আকবর (Akbar The Great)
সম্পদের পরিমাণ: ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার (বর্তমান বাজারমূল্যে)
ভারতের মুঘল রাজবংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর। তাঁর কথা উঠলেই চোখে ভাসে মণি-মুক্তা খচিত মুকুট আর সুবিশাল তাজমহলের নির্মাতাদের পূর্বসূরির ছবি। আকবরের সময়ে ভারত কেবল একটি দেশ ছিল না, বরং এটি ছিল বিশ্বের ম্যানুফ্যাকচারিং হাব।
ঐতিহাসিক অ্যাঙ্গাস ম্যাডিসনের গবেষণা অনুযায়ী, আকবরের শাসনামলে মুঘল ভারতের জিডিপি ছিল তৎকালীন সমগ্র ইউরোপের সম্মিলিত জিডিপির চেয়েও বেশি। বিশ্বের মোট সম্পদের ২৫ শতাংশ তখন ভারত উৎপন্ন করত। আকবরের ব্যক্তিগত কোষাগারে যে পরিমাণ সোনা ও রুপার মজুত ছিল, তা দেখে বিদেশি পর্যটকরা হতবাক হয়ে যেতেন।
আকবরের সম্পদের মূল ভিত্তি ছিল তাঁর প্রবর্তিত 'মনসবদারি প্রথা' এবং অর্থমন্ত্রী রাজা টোডরমলের উদ্ভাবিত ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা। অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জমি জরিপ করে খাজনা আদায় করা হতো, যা সরাসরি রাজকোষকে সমৃদ্ধ করত।
মশলা ও টেক্সটাইল: ভারতের মসলিন কাপড় এবং মসলা তখন সারা বিশ্বে সোনার দামে বিক্রি হতো।
হীরা ও রত্ন: গোলকুন্ডার হীরা খনি থেকে পাওয়া বিশ্বের সেরা হীরাগুলো আকবরের রত্নভাণ্ডারের শোভা বাড়াত।
আকবর তাঁর সম্পদের বড় একটি অংশ ব্যয় করেছেন স্থাপত্য ও শিল্পকলায়। তাঁর নির্মিত 'ফতেহপুর সিক্রি' শহরটি তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম আধুনিক এবং ব্যয়বহুল শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। শিল্প, সাহিত্য ও সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের কারণে তাঁর রাজদরবার 'নবরত্ন' দ্বারা অলঙ্কৃত ছিল।
৩. সম্রাট শেনজং (Emperor Shenzong of Song)
সম্পদের পরিমাণ: ৩০ ট্রিলিয়ন ডলার (বর্তমান বাজারমূল্যে)
চীনের সং রাজবংশের (Song Dynasty) ষষ্ঠ সম্রাট ছিলেন শেনজং। ১০৬৭ থেকে ১০৮৫ সাল পর্যন্ত তাঁর শাসনকালকে বলা হয় চীনের অর্থনীতির স্বর্ণযুগ। তিনি এমন এক সময়ে শাসন করতেন যখন চীন প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের অন্য যেকোনো প্রান্তের চেয়ে কয়েকশ বছর এগিয়ে ছিল।
কেন তিনি এত সম্পদশালী ছিলেন?
সম্রাট শেনজংয়ের সম্পদের মূল উৎস ছিল তৎকালীন চীনের অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। তাঁর শাসনামলে চীনের জিডিপি (GDP) ছিল তৎকালীন বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ২৫% থেকে ৩০%। ভাবুন তো, আজকের পৃথিবীতে কোনো একটি দেশ যদি একাই বিশ্বের ৩০ শতাংশ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে, তবে তার অধিপতির ক্ষমতা কতটুকু হতে পারে!
শেনজংয়ের আমলেই চীন উদ্ভাবনের শিখরে পৌঁছায়। তাঁর শাসনামলে তিনটি প্রধান উদ্ভাবন বিশ্বকে বদলে দিয়েছিল:
কাগজের মুদ্রা (Jiaozi): বিশ্ব যখন সোনা বা রুপার মুদ্রার বিনিময়ে পণ্য কেনাবেচা করছে, তখন শেনজংয়ের চীন প্রথম কার্যকরভাবে কাগজের মুদ্রা চালু করে। এটি বাণিজ্যকে অবিশ্বাস্যভাবে দ্রুত করে তোলে।
গানপাউডার ও কম্পাস: যুদ্ধের সরঞ্জাম এবং সমুদ্রযাত্রার কম্পাস তৈরির ফলে চীনের বাণিজ্য বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
চায়ের বাণিজ্য: সিল্ক রোডের মাধ্যমে চীনের চা এবং সিল্ক সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, যার বিনিময়ে রাজকোষে জমা হতো বিপুল পরিমাণ সোনা ও রুপা।
শেনজং তাঁর বিখ্যাত অর্থমন্ত্রী ওয়াং আনশিকে নিয়ে 'নিউ পলিসি' বা নতুন অর্থনৈতিক নীতি চালু করেন। তিনি কৃষকদের কম সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং রাষ্ট্রের একচেটিয়া বাণিজ্যিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের হাতে যেমন অর্থ আসে, তেমনি রাষ্ট্রের কোষাগারও হয়ে ওঠে উপচে পড়া। ঐতিহাসিকদের মতে, সম্রাটের হাতে এত বেশি সম্পদ ছিল যে, তিনি চাইলে কয়েক ডজন যুদ্ধ এবং বড় কোনো দুর্ভিক্ষ অনায়াসেই বছরের পর বছর সামাল দিতে পারতেন।
২. চেঙ্গিস খান (Genghis Khan)
সম্পদের পরিমাণ: ১০০ ট্রিলিয়ন ডলার (তাত্ত্বিক মূল্যায়ন)
চেঙ্গিস খান এমন এক নাম যা শুনলে আজও ইতিহাস শিহরিত হয়। মঙ্গোল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা এই বীর ইতিহাসের বৃহত্তম অবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডের (Largest Contiguous Empire) মালিক ছিলেন। তাঁর সম্পদের হিসাব করা কঠিন, কারণ তিনি সোনা জমিয়ে রাখার চেয়ে ক্ষমতা বিস্তারে বেশি বিশ্বাসী ছিলেন।
চেঙ্গিস খানের সাম্রাজ্য প্রশান্ত মহাসাগর থেকে শুরু করে কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বর্তমান সময়ের চীন, কোরিয়া, মধ্য এশিয়া, পারস্য এবং রাশিয়ার বড় একটি অংশ তাঁর পায়ের নিচে ছিল। আজকের দিনে এই বিশাল ভূখণ্ডের যে প্রাকৃতিক সম্পদ (তেল, গ্যাস, খনিজ), অবকাঠামো এবং কৃষিজমি আছে, তার মোট মূল্যমান ১০০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
লুটতরাজ নাকি সুশৃঙ্খল অর্থনীতি?
অনেকে মনে করেন চেঙ্গিস খান শুধু লুটতরাজ করতেন। কিন্তু ইতিহাসের আধুনিক পাঠ বলে অন্য কথা। তিনি তাঁর বিজিত অঞ্চলগুলোতে 'প্যাক্স মঙ্গোলিকা' (Pax Mongolica) বা মঙ্গোল শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর ফলে সিল্ক রোড আবার সচল হয় এবং পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে বাণিজ্য শুরু হয়।
সম্পদ বণ্টন: চেঙ্গিস খানের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিলাসিতা পছন্দ করতেন না। যুদ্ধলব্ধ সম্পদ তিনি তাঁর জেনারেল এবং সাধারণ সৈন্যদের মধ্যে সুষমভাবে বিলিয়ে দিতেন।
ট্যাক্স ও টোল: সিল্ক রোডের ওপর তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকায় বাণিজ্যের প্রতিটি ট্রানজ্যাকশন থেকে তিনি টোল আদায় করতেন, যা তাঁকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থবিত্তের মালিকে পরিণত করেছিল।
চেঙ্গিস খানের তৈরি করা এই অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই তাঁর নাতি কুবলাই খান পরবর্তীতে চীনের অধিপতি হন এবং মার্কো পোলোর বর্ণনায় সেই সাম্রাজ্যের যে ঐশ্বর্যের কথা জানা যায়, তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।
১. সম্রাট অশোক (Ashoka the Great)
সম্পদের পরিমাণ: ৯০০০ ট্রিলিয়ন ডলার (সামগ্রিক মূল্যায়ন)
তালিকার শীর্ষে থাকা এই নামটি অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, ৯০০০ ট্রিলিয়ন ডলার তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের টাকা নয়, বরং এটি তাঁর শাসনাধীন মৌর্য সাম্রাজ্যের খনিজ সম্পদ, প্রাকৃতিক উর্বরতা এবং মানবসম্পদের একীভূত বর্তমান আর্থিক মূল্য।
অখণ্ড ভারতের স্বর্ণযুগ
খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে সম্রাট অশোক এমন এক বিশাল ভারত শাসন করতেন যার মধ্যে আজকের ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশের সিংহভাগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তৎকালীন বিশ্বে ভারত ছিল 'সোনার পাখি' (Golden Bird)।
মগধের খনি: মৌর্য সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল মগধ (বর্তমান বিহার অঞ্চল)। এই অঞ্চলটি ছিল লোহা এবং তামার বিশাল খনি সমৃদ্ধ। যুদ্ধের অস্ত্র থেকে শুরু করে কৃষিকাজের সরঞ্জাম সবকিছুর উৎস ছিল এই খনিগুলো।
হীরা ও সোনা: দক্ষিণ ভারতের গোলকুণ্ডা থেকে হীরা এবং বিভিন্ন নদী থেকে সংগৃহীত সোনা মৌর্য রাজকোষকে সমৃদ্ধ করেছিল।
কৃষি বিপ্লব: সিন্ধু এবং গঙ্গা অববাহিকার উর্বর পলিমাটি মৌর্য সাম্রাজ্যকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত করেছিল। সেই যুগে খাদ্যই ছিল সবচেয়ে বড় কারেন্সি।
৯০০০ ট্রিলিয়ন ডলারের যুক্তি
অর্থনীতিবিদ অ্যাঙ্গাস ম্যাডিসনের গবেষণা অনুযায়ী, প্রাচীনকালে ভারতের একাংশের জিডিপি ছিল বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ৩৫ শতাংশ। অশোক যখন বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন, তখন তিনি এই বিপুল সম্পদকে জনকল্যাণে ব্যয় করতে শুরু করেন। তিনি হাজার হাজার স্তূপ, বিশ্ববিদ্যালয় (যেমন তক্ষশীলা ও নালন্দার ভিত্তি), হাসপাতাল এবং রাজপথ নির্মাণ করেন। তাঁর শাসনামলে ভারতের যে সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মূল্য ছিল, আধুনিক মুদ্রার হিসেবে তা অবিশ্বাস্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
এক নজরে শীর্ষ ১০ প্রভাবশালী ও ধনকুবের
নাম (ব্যক্তিত্ব) | সম্পদের পরিমাণ (বর্তমান মূল্যে) | সম্পদের মূল উৎস | বিশেষ চমকপ্রদ তথ্য |
সম্রাট অশোক | $৯০০০ ট্রিলিয়ন | খনিজ সম্পদ, কৃষি ও অখণ্ড ভারত | তৎকালীন বিশ্বের জিডিপির প্রায় ৩৫% তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল। |
চেঙ্গিস খান | $১০০ ট্রিলিয়ন | বিশাল ভূখণ্ড ও সিল্ক রোডের নিয়ন্ত্রণ | ইতিহাসের বৃহত্তম অবিচ্ছিন্ন মঙ্গোল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। |
সম্রাট শেনজং | $৩০ ট্রিলিয়ন | উদ্ভাবন, চা ও রেশম বাণিজ্য | তিনি বিশ্বে প্রথম কার্যকর কাগজের মুদ্রা প্রবর্তন করেন। |
সম্রাট আকবর | $২৫ ট্রিলিয়ন | ভূমি রাজস্ব ও ম্যানুফ্যাকচারিং | ইউরোপের সম্মিলিত জিডিপির চেয়েও তাঁর সম্পদ বেশি ছিল। |
সম্রাজ্ঞী উ জেতিয়ান | $১৬ ট্রিলিয়ন | রেশম পথ (Silk Road) ও বৈদেশিক বাণিজ্য | চীনের ইতিহাসের একমাত্র নারী সম্রাট এবং রেশম বাণিজ্যের রাণী। |
অগাস্টাস সিজার | $৫ ট্রিলিয়ন | রোমান সাম্রাজ্য ও ব্যক্তিগত মিশর | তৎকালীন বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ অর্থনৈতিক শক্তি তাঁর হাতে ছিল। |
মানসা মুসা | $৪০০ বিলিয়ন | স্বর্ণ ও লবণের খনি | তাঁর হজের সময় এত সোনা দান করেছিলেন যে মিশরে মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছিল। |
ইলন মাস্ক | $৩৬৬ বিলিয়ন | টেসলা, স্পেসএক্স (শেয়ার ভ্যালু) | তালিকায় একমাত্র জীবিত ব্যক্তি; যার সম্পদ মূলত ভবিষ্যৎ আইডিয়ার ওপর নির্ভরশীল। |
জন ডি রকফেলার | $৩৪০ বিলিয়ন | জ্বালানি তেল (স্ট্যান্ডার্ড অয়েল) | আমেরিকার ইতিহাসের প্রথম বিলিয়নিয়ার এবং আধুনিক তেল ব্যবসার জনক। |
মীর ওসমান আলী খান | $২৩০ বিলিয়ন | গোলকুন্ডা হীরা ও রাজকীয় কর | ১৮৫ ক্যারেটের 'জ্যাকব ডায়মন্ড' তিনি পেপারওয়েট হিসেবে ব্যবহার করতেন। |
কেন ঐতিহাসিক সম্পদ পরিমাপ করা কঠিন?
ঐতিহাসিকদের মতে, প্রাচীন শাসকদের সম্পদের হিসাব করা একটি জটিল প্রক্রিয়া। কারণ:
জিডিপি শেয়ার: প্রাচীনকালে রাজার সম্পদ এবং রাষ্ট্রের সম্পদের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না।
ক্রয়ক্ষমতা: আজকের ১ ডলার আর ৫০০ বছর আগের ১ ডলারের ক্রয়ক্ষমতা এক নয়।
প্রাকৃতিক সম্পদ: বর্তমানের খনিজ তেল বা লিথিয়ামের চেয়ে তখন মশলা বা রেশমের মূল্য ছিল অনেক বেশি।
সম্পদ বনাম উত্তরাধিকার
ইতিহাসের এই ১০ জন ব্যক্তি কেবল তাঁদের সম্পদের জন্য নয়, বরং তাঁদের প্রভাবের জন্য অমর হয়ে আছেন। কেউ তাঁর সম্পদ ব্যবহার করেছেন রাজ্য বিস্তারে, কেউ শিল্প-সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতায়, আবার কেউ ধর্মের প্রসারে। আজকের বিলিয়নিয়াররা প্রযুক্তি দিয়ে বিশ্ব পরিবর্তন করছেন, কিন্তু ইতিহাসের এই মহানায়করা তাঁদের সম্পদ দিয়ে আস্ত এক একটি সভ্যতা তৈরি করেছিলেন।
দিনশেষে, সম্পদ আসে এবং যায়; কিন্তু সেই সম্পদ দিয়ে মানবতার জন্য কী করা হলো, ইতিহাস কেবল সেটাই মনে রাখে।




















