বলিউডের শেষ ট্রু সুপারস্টার – কেন শাহরুখ খানের মতো সুপারস্টার আর জন্মাবে না?

যে কারণে মেয়েরা বেশি বয়সী পুরুষদের জীবনসঙ্গী হিসেবে পছন্দ করে

বলিউড সাম্রাজ্যের সিংহাসনে গত তিন দশক ধরে একজন মানুষ অবিচল, অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও রাজকীয়ভাবে রাজত্ব করছেন তিনি শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan)। বিশ্বজুড়ে তাঁর ১০০ কোটিরও বেশি ভক্ত, অঢেল সম্পদ, মান্নাতের রাজকীয় প্রাসাদ কিংবা আকাশচুম্বী স্টারডম থাকলেও, মায়ানগরী মুম্বাইয়ের অন্দরমহলে তাঁর এই দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্যের মূল রহস্য কিন্তু কেবল তাঁর বাহ্যিক গ্ল্যামার বা অভিনয় নয়। এর নেপথ্যে কাজ করেছে তাঁর ইস্পাতকঠিন প্রফেশনালিজম, প্রডিউসার-ফ্রেন্ডলি মনস্তত্ত্ব, দূরদর্শী 'প্রফিট-শেয়ারিং' রেমুনারেশন মডেল এবং অসাধারণ রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট।

বর্তমান সময়ের অনেক উঠতি বা প্রতিষ্ঠিত তারকা যখন দু-একটি ১০০ কোটির ব্লকমাস্টারের মুখ দেখলেই অহংবোধের চূড়ায় আরোহণ করেন, অন্যায্য পারিশ্রমিক দাবি করেন কিংবা সেট থেকে ভ্যানিটি ভ্যানের বায়না তুলে নির্মাতাদের বিপাকে ফেলেন, তখন শাহরুখ খান আমাদের দেখান কেন তিনি অনন্য কেন তাঁকে বলা হয় 'দ্য লাস্ট অব দ্য সুপারস্টার্স'। আজ আমরা শাহরুখ খানের সেই প্রফেশনালিজমের ব্যবচ্ছেদ করব, যা তাঁকে কেবল এক তারকা নয়, বরং এক অবিনশ্বর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।

বহিরাগত থেকে বলিউডের বাদশাহ

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে (১৯৯২ সালে 'দিল আসনা হ্যায়' ও 'দিওয়ানা'র মাধ্যমে) শাহরুখ যখন বলিউডে পা রাখেন, তখন হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্প ছিল সুনির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী পরিবার ও আভিজাত্যের নিয়ন্ত্রণে। কাপুর পরিবার, খান খানদান কিংবা চোপড়াদের প্রভাবের মধ্যে দিল্লি থেকে আসা সম্পূর্ণ এক অভিভাবকহীন, সাধারণ চেহারার বহিরাগত যুবকের টিকে থাকাই ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।

প্রারম্ভিক চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনার মুখোমুখি

শাহরুখকে সে যুগে চেহারা, ডায়ালগ ডেলিভারি এবং উচ্চতা নিয়ে তীব্র কটূক্তি শুনতে হয়েছে। কিন্তু তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, একটা-দুটো হিট সিনেমা তাঁকে সাময়িক জনপ্রিয়তা দিলেও, দীর্ঘস্থায়ী রাজত্ব গড়তে হলে চরম পেশাদারিত্ব এবং কাজের প্রতি সততা দিয়েই ইন্ডাস্ট্রির মন জয় করতে হবে।

প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও নৈতিকতা

শাহরুখ যখন 'বাজিগর' বা 'ডর'-এর মতো ব্লকমাস্টার দিয়ে রাতারাতি রাইজিং সুপারস্টারে পরিণত হন, তখন বাজারে তাঁর কদর ছিল আকাশচুম্বী। তিনি চাইলে তাঁর সংগ্রামের দিনে সাইন করা তুলনামূলক ছোট বা মাঝারি বাজেটের প্রজেক্টগুলো অনায়াসে বাতিল করে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। চুক্তিবদ্ধ থাকা প্রতিটি প্রজেক্ট তা ব্যবসায়িকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বা ফ্লপ হবে জেনেও তিনি সময়মতো শুট করেছেন এবং প্রযোজককে আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচিয়েছেন।

সমসাময়িক তারকাদের 'অহং' (Ego) বনাম শাহরুখের 'বিনয়' (Humility)

আজকের বলিউডের সবচেয়ে বড় সংকট হলো ক্ষণস্থায়ী সাফল্য সামলাতে না পারা। একটি সিনেমা হিট হলেই অনেক অভিনেতা নিজেদের পারিশ্রমিক তিনগুণ বাড়িয়ে দেন, শুটিংয়ের শর্ত জটিল করেন বা অতিরিক্ত ট্যানট্রাম শুরু করেন।

অক্ষয় খান্নার সাম্প্রতিক ঘটনা

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অধিকাংশ সময় ফ্লপ বা মাঝারি মানের প্রজেক্টে কাজ করা অভিনেতা অক্ষয় খান্না সম্প্রতি ‘ধুরন্দর’ (Dhurandhar) সিনেমার অভাবনীয় সাফল্যের পর হঠাৎ করে তাঁর পারিশ্রমিক কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে ইন্ডাস্ট্রিতে গুঞ্জন রয়েছে। শুধু তাই নয়, কন্টিনিউটি বা চরিত্রের তোয়াক্কা না করে অন্যায্য উইগ ব্যবহারের দাবি তোলার মতো অপেশাদার আচরণও উঠে এসেছে। সাফল্যের পর নিজের শেকড় ভুলে যাওয়ার এই মানসিকতা ইন্ডাস্ট্রিতে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

রণবীর সিং এবং 'ট্যানট্রাম' সংস্কৃতি

অন্যদিকে, প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেতা হওয়া সত্ত্বেও রণবীর সিং-এর ক্ষেত্রেও প্রফেশনালিজমের অভাব নিয়ে গুঞ্জন শোনা যায়। 'ডন ৩' (Don 3)-এর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কাস্টিং নিশ্চিত করার জন্য লবিং করলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন বাহানায় ডেট পিছানো, দক্ষিণী প্রজেক্ট থেকে খামখেয়ালিভাবে বাদ পড়া এবং সেট থেকে অতিরিক্ত ভ্যানিটি ভ্যানের বায়না করার ঘটনা প্রযোজকদের চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে।

শাহরুখের বৈপরীত্য: 'ডানকি'র শিক্ষা

রাজকুমার হিরানির পডকাস্ট থেকে জানা যায়, ‘ডানকি’ (Dunki) প্রজেক্টটি শুরুর সময়ই শাহরুখ বুঝতে পেরেছিলেন এটি ‘পাঠান’ বা ‘জাওয়ান’-এর মতো ২০০০ কোটির কমার্শিয়াল অ্যাকশন অ্যাকশন ট্র্যাকার হবে না। তবুও তিনি হিরানিকে বলেছিলেন:

"হিরানি সাহেব, ফলাফল যাই হোক না কেন, আমি আপনার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে আছি। সিনেমাটির ব্যবসায়িক ক্ষতি হলে তা আমি বহন করব, কিন্তু এটি শেষ করব।"

শাহরুখ খানের অনন্য রেমুনারেশন মডেল: 'জিরো আপফ্রন্ট ফ্রি' ও প্রফিট-শেয়ারিং

বলিউডে প্রযোজকরা সবচেয়ে বেশি ভয়ে থাকেন তারকাদের 'আপফ্রন্ট চার্জ' বা আগাম পারিশ্রমিক নিয়ে। সিনেমা ফ্লপ করলেও অভিনেতারা তাঁদের ৫০ বা ১০০ কোটি টাকা আগাম পকেটে পুরে নেন, আর প্রযোজক নিঃস্ব হন। এখানেই শাহরুখ খান এক যুগান্তকারী ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছেন।

যশোরাজ ও ধর্মা প্রোডাকশনের সাথে চুক্তি

শাহরুখ যখন যশ চোপড়া, আদিত্য চোপড়া বা করণ জোহরের ধর্মা প্রোডাকশনের সাথে কাজ করেন, তখন তিনি আগাম কোনো নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক বা 'আপফ্রন্ট ফি' দাবি করেন না।

প্রফিট শেয়ারিং: তিনি প্রযোজককে পূর্ণ স্বাধীনতা দেন। সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়ে প্রযোজক যখন তাঁর বিনিয়োগ ও লাভের হিসাব মেটান, তখন লাভ থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ শাহরুখকে দেওয়া হয়।

ঝুঁকি ভাগাভাগি: যদি সিনেমাটি ফ্লপ করে বা লোকসান হয়, তবে শাহরুখ কোনো পারিশ্রমিক নেন না, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে নিজ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

অক্ষয় কুমার বনাম শাহরুখ খান: রেমুনারেশন পলিসির তুলনা

বলিউডে অক্ষয় কুমারের ব্যবসায়িক মডেল সম্পূর্ণ আলাদা। অক্ষয় প্রতি সিনেমায় ১২০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা আগাম চার্জ করেন এবং ৩০-৪০ দিনে তড়িঘড়ি শুটিং শেষ করেন। সিনেমা বক্স অফিসে ১০০ কোটি টাকাও আয় করতে না পারলে প্রযোজক সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে যান, অথচ অক্ষয়ের পকেটে শতকোটি টাকা ঠিকই চলে যায়। এই "কসাই মার্কা" স্ট্র্যাটেজির কারণে অক্ষয় কুমারের সাম্প্রতিক ১০টিরও বেশি সিনেমা পরপর ফ্লপ হওয়ায় প্রযোজকরা তাঁর সাথে কাজ করতে ইতস্তত করছেন। অন্যদিকে, শাহরুখের ব্যবসায়িক নিরাপত্তা প্রযোজককে মানসিক প্রশান্তি দেয়।

অভিনেতার বাইরে এক দূরদর্শী শিল্পোদ্যোক্তা: 'রেড চিলিস' ও 'কেকেআর'

শাহরুখ খান নিজেকে কেবল অভিনয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি ভালো করেই জানতেন যে শরীর ও বয়স একদিন সায় দেবে না, তাই তিনি গড়ে তুলেছেন দুটি বিশ্বমানের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট (Red Chillies Entertainment) এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)।

রেড চিলিস ভিএফএক্স (Red Chillies VFX)

২০০৬ সালে শাহরুখ বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো প্রযুক্তি ও দৃশ্যমান প্রভাব বা VFX। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'রেড চিলিস ভিএফএক্স'। আজ এটি কেবল তাঁর নিজের সিনেমার কাজ করে না, বরং 'ক্রিশ ৩', 'ব্রহ্মাস্ত্র', 'জাওয়ান' থেকে শুরু করে বহু হলিউড ও ভারতীয় প্রজেক্টের ভিএফএক্স সরবরাহ করে শত কোটি টাকা আয় করছে।

আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি (KKR)

২০০৮ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL) শুরুর সময় তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্স কেনেন। ব্র্যান্ড ভ্যালু ও সঠিক রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে কেকেআর আজ আইপিএলের অন্যতম লাভজনক ফ্র্যাঞ্চাইজি, যার বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা।

রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট ও ইন্ডাস্ট্রির ভারসাম্য

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি মূলত সম্পর্কের ওপর টিকে থাকে। আপনি যখন সাফল্যের তুঙ্গে থাকবেন, তখন সবাই আপনার পেছনে ঘুরবে; কিন্তু দুঃসময়ে যারা পাশে থাকে, তারাই প্রকৃত বন্ধু।

সানি দেওল ও আমিরের সাথে ঐতিহাসিক সম্পর্ক পুনর্নির্মাণ

'ডর' (১৯৯৩) সিনেমার পর সানি দেওলের সাথে শাহরুখের দীর্ঘ ১৬ বছর কথা বন্ধ ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে সানি দেওলের 'গদর ২'-এর সাফল্যের পর শাহরুখ নিজ উদ্যোগে সানিকে ফোন করেন এবং এক জমকালো পার্টির আয়োজন করেন। ঠিক একইভাবে, একসময়ের কঠোর সমালোচক আমির খানও স্বীকার করেছেন যে, শাহরুখের মানুষের মন জয় করার এবং সম্পর্কের যত্ন নেওয়ার এক বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে।

টানা ফ্লপ সত্ত্বেও প্রযোজকদের আস্থা

২০১৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত 'ফ্যান', 'জব হ্যারি মেট সেজাল', এবং 'জিরো' পর পর বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ার পর শাহরুখ চার বছরের দীর্ঘ বিরতি নেন। সাধারণ কোনো তারকার এমন খারাপ সময় গেলে ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে ছুঁড়ে ফেলে দিত। কিন্তু আদিত্য চোপড়া এবং সিদ্ধার্থ আনন্দের মতো প্রযোজকরা চার বছর অপেক্ষা করেছিলেন শুধুমাত্র শাহরুখের জন্য, যা পরবর্তীতে ২০২৩ সালে 'পাঠান' (১,০৫০ কোটি) এবং 'জাওয়ান' (১,১৫০ কোটি)-এর মাধ্যমে বলিউডের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা প্রত্যাবর্তন উপহার দেয়।

শাহরুখ খান বনাম সমসাময়িক ও পরবর্তী প্রজন্মের তুলনামূলক সারণী

নিচে শাহরুখ খানের সাথে বলিউডের সমসাময়িক এবং পরবর্তী প্রজন্মের তারকাদের পেশাদারিত্ব, রেমুনারেশন মডেল এবং দৃষ্টিভঙ্গির সার্বিক তথ্যভিত্তিক তুলনামূলক সারণী প্রদান করা হলো:

পরিমাপক / বৈশিষ্ট্য

শাহরুখ খান (King Khan)

অক্ষয় কুমার (Akshay Kumar)

রণবীর সিং (Ranveer Singh)

অক্ষয় খান্না (Akshaye Khanna)

শিল্পে টিকে থাকার সময়

৩৪ বছর (১৯৯২–বর্তমান)

৩৪ বছর (১৯৯১–বর্তমান)

১৫ বছর (২০১০–বর্তমান)

২৭ বছর (১৯৯৭–বর্তমান)

রেমুনারেশন পলিসি

জিরো আপফ্রন্ট ফি / প্রফিট শেয়ারিং

অতিরিক্ত আগাম ফি (১০০–১৫০ কোটি)

উচ্চ আগাম ফি + অন্যান্য সুবিধা

সাফল্যের পর পারিশ্রমিক বৃদ্ধি

প্রযোজকের ঝুঁকি গ্রহণ

প্রযোজকের সাথে ৫০-৫০% ঝুঁকি ভাগাভাগি

সমস্ত ঝুঁকি প্রযোজকের ওপর চাপানো

মাঝারি মানের ঝুঁকি গ্রহণ

ব্যক্তিগত ইগোকে প্রাধান্য দান

প্রজেক্টের প্রতি আনুগত্য

ফ্লপ নিশ্চিত জেনেও শেষ করা ('ডানকি')

দ্রুত গতিতে শুট শেষ করা (৪০ দিন)

চিত্রনাট্য ও ডেট নিয়ে খামখেয়ালিপনা

শর্ত পরিবর্তনের প্রবণতা

অফ-স্ক্রিন সেট এতিকেট

সেটের সবার সাথে সমান বিনয়ী আচরণ

সময়ানুবর্তী তবে অত্যন্ত বাণিজ্যিক

অতি-উৎসাহী এবং ক্ষেত্রবিশেষে ট্যানট্রাম

একাকীত্ব এবং অনমনীয় শর্তাবলী

ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা

রেড চিলিস ভিএফএক্স, আইপিএল, গ্লোবাল ব্র্যান্ড

ব্যক্তিগত বিনিয়োগ ও রিয়েল এস্টেট

ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট

ব্যক্তিগত ব্যক্তিগত জীবন

ব্র্যান্ড ও বৈশ্বিক প্রভাব

'ওয়ার্ল্ডস বিগেস্ট মুভি স্টার' তকমা

জাতীয় স্তরের ব্র্যান্ড

তরুণ প্রজন্মের স্টাইল আইকন

নির্দিষ্ট সীমিত দর্শকশ্রেণি

স্টারডম বনাম প্রফেশনালিজম: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়

বলিউডের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বহু সম্ভাবনাময় অভিনেতা কেবল তাঁদের অহংকার, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অপেশাদার আচরণের জন্য ইতিহাস থেকে মুছে গেছেন।

টাকা সাময়িক, সম্মান চিরস্থায়ী: কোনো সিনেমার সাফল্যের পর হঠাৎ পারিশ্রমিক বাড়ানো বা অন্যায্য দাবি তুলে প্রযোজককে বিপদে ফেলা দীর্ঘমেয়াদে ক্যারিয়ারের ক্ষতি করে।

প্রযোজক বাঁচলে ইন্ডাস্ট্রি বাঁচবে: তারকাদের বোঝা উচিত যে প্রযোজক ব্যাংক খালি করে সিনেমা বানান। তাঁদের রক্ষা করা প্রতিটি অভিনেতার নৈতিক দায়িত্ব।

বিনয়ই আসল অলংকার: যত বড়ই তারকা হন না কেন, সেটের স্পটবয় থেকে শুরু করে পরিচালকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধই একজন শিল্পীকে 'কিংবদন্তি' বানায়।

উপসংহার

শাহরুখ খান কেবল একজন সফল অভিনেতা বা ধনকুবের নন; তিনি আধুনিক ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অনন্য প্রতিষ্ঠান ও এনসাইক্লোপিডিয়া। গত তিন দশকে বলিউডের রূপ বদলেছে, ওটিটি অ্যাগ্রিগেটর এসেছে, দর্শকদের রুচি পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু 'ব্র্যান্ড শাহরুখ' এখনো অটুট ও অক্ষয়।

তাঁর এই দীর্ঘ রাজত্বের মূল ভিত্তি কিন্তু শুধুই তাঁর রোমান্টিক ডায়ালগ বা বাহু প্রসারিত করার সিগনেচার স্টাইল নয়; বরং এর মূলে রয়েছে তাঁর লোহাকঠিন কর্মনিষ্ঠা, প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বস্ততা, এবং বিপদের দিনে প্রযোজকের পাশে দাঁড়ানোর সাহস। পরবর্তী প্রজন্মের উদীয়মান তারকাদের জন্য শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারটি একটি পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যপুস্তক। দু-একটি হিট সিনেমা আপনাকে তারকা বানাতে পারে, কিন্তু তিন দশক ধরে মানুষের হৃদয়ে রাজা হয়ে বেঁচে থাকতে হলে প্রয়োজন শাহরুখ খানের মতো সততা, ধৈর্য এবং ইস্পাতকঠিন প্রফেশনালিজম। এ কারণেই ৩০ বছর পরও মায়ানগরী মুম্বাই উচ্চকণ্ঠে এক বাক্যে স্বীকার করে "কিং খান একজনই!"

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.