ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড ও বিয়ার গ্রিলসের অজানা কিছু তথ্য
বিশ্ব টেলিভিশনের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত রিয়েলিটি শো “ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড”। এ টিভি শো আমরা সবাই কখনো না কখনো দেখেছি। ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড টেলিভিশনের ইতিহাসে একটি সাংস্কৃতিক বিস্ময়। এই শো সাধারণ টিভি শো-এর ধারণাকে ভেঙে দিয়ে পাঁচ বছর ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বিয়ার গ্রিলস তার দুঃসাহসিক অভিযান, বিপজ্জনক পরিবেশে বেঁচে থাকার কৌশল এবং অদ্ভুত খাবার খাওয়ার দৃশ্য দিয়ে সব বয়সের দর্শকদের মন জয় করেছেন। সাপ, ব্যাঙ, পোকামাকড় খাওয়া থেকে শুরু করে মরুভূমির চোরাবালি বা সমুদ্রের ঢেউ পেরিয়ে বেঁচে ফিরে আসার কৌশল এই শো দর্শকদের দেখিয়েছে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াইয়ের অসাধারণ গল্প। ডিসকভারি চ্যানেলের এই জনপ্রিয় শো ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড ও বিয়ার গ্রিলসের অজানা কিছু তথ্য আমরা তুলে ধরবো যা আপনাকে অবাক করবে!
১. বিয়ার গ্রিলসের আসল পরিচয়
বিয়ার গ্রিলসের আসল নাম এডওয়ার্ড মাইকেল গ্রিলস। তিনি ১৯৭৪ সালের ৭ জুন উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডোনাঘাডিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতামহ নেভিল ফোর্ড এবং প্র-পিতামহ উইলিয়াম অগাস্টাস ফোর্ড ছিলেন ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত ক্রিকেটার। তার পিতা স্যার মাইকেল গ্রিলস ছিলেন রয়্যাল ইয়ট স্কোয়াড্রনের একজন নৌবাহিনীর সদস্য, যিনি তাকে ছোটবেলা থেকেই অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি আগ্রহী করে তোলেন। বিয়ার নামটি তার বড় বোন লারা ফসেট তাকে জন্মের এক সপ্তাহের মধ্যে দিয়েছিলেন। এই ডাকনামটি তার সারা জীবনের পরিচয় হয়ে ওঠে। বিয়ার গ্রিলস দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। ইউনিভার্সিটি অফ দ্য ওয়েস্ট অফ ইংল্যান্ড ও Birkbeck College-এ স্প্যানিশ ও জার্মান ভাষা নিয়ে পড়েছেন এবং ২০০২ সালে ২:২ ডিগ্রি নিয়ে স্নাতক হয়েছেন।
২. সামরিক জীবন
বিয়ার গ্রিলস ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ২১ এসএএস রেজিমেন্টে প্যারাট্রুপার হিসেবে কাজ করেন। জাম্বিয়ায় একটি প্যারাসুট প্রশিক্ষণের সময় তার প্যারাসুট ১৬,০০০ ফুট উচ্চতায় ছিঁড়ে যায়, ফলে তার মেরুদণ্ডের তিনটি হাড় ভেঙে যায়। চিকিৎসকরা বলেছিলেন, তিনি আর কখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। বিয়ার গ্রিলসের ঝুলিতে রয়েছে বেশ কিছু ভারী সামরিক পদক। ২০১৩ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল অব রয়্যাল মেরিন রিজার্ভ এবং ২০২১ সালের জুন মাসে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক কর্নেল উপাধি পান।
৩. এভারেস্ট জয়
চিকিৎসকদের ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণ করে আঘাত থেকে সেরে ওঠার মাত্র ১৮ মাস পর, ১৯৯৮ সালে ২৩ বছর বয়সে বিয়ার গ্রিলস এভারেস্ট জয় করেন, যিনি তখন সর্বকনিষ্ঠ ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। এই অভিযানে তিনি প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন যখন প্রথম ধাপে তার পায়ের নিচের মাটি ধসে যায়।
৪. ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ডের শুরু
ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড শো’টির পাইলট এপিসোড ‘দ্য রকিজ’ ২০০৬ সালের ১০ মার্চ প্রচারিত হয়। এরপর ৮ মাস পর, ২০০৬ সালের ১০ নভেম্বর থেকে ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড শো’টি পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত সাতটি সিজন এবং মোট ৭৩টি এপিসোড প্রচারিত হয়, যা বিশ্বব্যাপী ১.২ বিলিয়ন দর্শকের কাছে পৌঁছায়।
৫. ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড -এর বিভিন্ন নাম
ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড শো’টি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় এটি ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ নামে পরিচিত। যুক্তরাজ্যে এটি ‘Born Survivor: Bear Grylls’ এবং ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার কিছু অংশে ‘Ultimate Survival’ নামে প্রচারিত হয়।
৬. জঘন্য খাবার
বিয়ার গ্রিলস ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড শো-এ বিভিন্ন অদ্ভুত খাবার খেয়েছেন, যেমন পোকামাকড়, বিষাক্ত সাপ, পচা মাংস, ভালুকের মল এবং নিজের মূত্র। তবে তার মতে, তার খাওয়া সবচেয়ে জঘন্য খাবার ছিল ছাগলের অণ্ডকোষ, যা খেয়ে তার বমি পর্যন্ত হয়েছিল। যদিও আরব বিশ্বের অনেক যাযাবর জাতি এই খাবার নিয়মিত খায়।
৭. উচ্চতার ভয়
দুঃসাহসী বেয়ার গ্রিলসকে অনেকেই সাহসী মানেন। তিনি নিজেও বহুবার তার সাহসিকতার প্রমাণ দিয়েছেন। বিয়ার গ্রিলস সাহসী হলেও তিনি উচ্চতাকে ভয় পান। তবু ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড শো-এ তাকে বারবার খাড়া পাহাড়ে উঠতে বা দড়ি দিয়ে নামতে দেখা গেছে, যা তার মানসিক শক্তির প্রমাণ।
৮. নকল দৃশ্যের অভিযোগ
ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড শো-এর কিছু দৃশ্য নকল বলে সমালোচিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, হাওয়াইয়ের একটি পর্বে বিয়ার গ্রিলসকে একটি নির্জন দ্বীপে দেখানো হলেও তিনি মোটেলে রাত কাটিয়েছিলেন। একটি আগ্নেয়গিরির পর্বে ধোঁয়া তৈরির জন্য স্মোক মেশিন ব্যবহার করা হয়। এমনকি একটি পর্বে ‘ভালুক’ হিসেবে ক্রু সদস্যের পরিহিত স্যুট ব্যবহার করা হয়।
৯. টিমওয়ার্কের আসল চিত্র
ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড শোতে দেখানো হয় যে বিয়ার গ্রিলসকে একটি অপরিচিত স্থানে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তিনি তার নিজস্ব কৌশল ব্যবহার করে সেই স্থান থেকে বের হয়ে আসেন। কিন্তু এটি পুরো সত্য নয়। প্রতিটি এপিসোড বানাতে প্রায় ১০-১২ দিন সময় লাগে এবং এর পেছনে একটি বিশাল টিম কাজ করে। এই দলে ছিলেন ক্যামেরাম্যান, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, সারভাইভাল এক্সপার্ট এবং নিরাপত্তা কর্মী। জায়গা খোঁজা, সেফটি রেগুলেশন মেনে চলা এবং বিয়ার গ্রিলসের জন্য পরিবেশকে সাজানোর কাজগুলো পুরো দল মিলে করে।
১০. ডিসক্লেমার যুক্ত
সমালোচনার মুখে ডিসকভারি চ্যানেল ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড শো-এর শুরুতে একটি ডিসক্লেমার যুক্ত করে, যেখানে বলা হয় যে বিয়ার গ্রিলস একা নন, তার সঙ্গে একটি বিশেষজ্ঞ দল থাকে এবং কিছু দৃশ্য নিরাপত্তার জন্য সাজানো। ২০০৮ সালে বিয়ার এই বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে বলেন, “সত্যিটা অনেক কম রোমাঞ্চকর।” পরবর্তীতে চতুর্থ সিজনে তারা ‘বিহাইন্ড দ্য সিনস’ নামে অনেক ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে ক্রু এবং কাস্টদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।
১১. নির্বাচিত স্থান
ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড শো-এর স্থানগুলো মানবসভ্যতা থেকে খুব দূরে নির্বাচন করা হতো না। এটি নিরাপত্তা এবং লজিস্টিক সুবিধার জন্য করা হতো। কিছু ক্ষেত্রে, বিয়ার হোটেলে রাত কাটিয়েছেন বলে জানা গেছে।
১২. সেলিব্রিটি অতিথি
ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড শো-এর বিশেষ পর্বে বিয়ারের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। ২০০৯ সালে উইল ফেরেল সুইডেনের উত্তরাঞ্চলে, ২০১১ সালে জেক জিলেনহল আইসল্যান্ডে এবং ২০১৯ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জিম করবেট ন্যাশনাল পার্কে তার সঙ্গে অভিযানে যান। এছাড়া বারাক ওবামা, রজার ফেদেরার এবং অক্ষয় কুমারের মতো তারকারাও ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড শো-এ অংশ নিয়েছেন।
১৩. চিফ স্কাউট পদ
২০০৯ সালে ৩৫ বছর বয়সে বিয়ার গ্রিলস যুক্তরাজ্যের স্কাউট অ্যাসোসিয়েশনের সর্বকনিষ্ঠ চিফ স্কাউট নিযুক্ত হন। তিনি ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন, যা তাকে রবার্ট ব্যাডেন-পাওয়েলের পর দ্বিতীয় দীর্ঘমেয়াদি চিফ স্কাউট করে।
১৪. নিজস্ব দ্বীপ
অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী বিয়ার গ্রিলস অবসরের জন্যও বেছে নিয়েছেন অদ্ভুত এক জায়গা। ২০০১ সালে ৯৫,০০০ ইউরো দিয়ে ওয়েলসের সেন্ট টুডওয়াল’স ওয়েস্ট দ্বীপের ২০ একর জমি কিনে নেন। এই দ্বীপে কোনো বিদ্যুৎ বা পানির ব্যবস্থা নেই, শুধু একটি বাতিঘর এবং বাড়ি আছে। তিনি পরিবারের সঙ্গে এখানে অবকাশ যাপন করেন।
১৫. ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড শো-এর সমাপ্তি
২০১২ সালে চুক্তিগত বিরোধের কারণে ডিসকভারি চ্যানেল বিয়ার গ্রিলসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, ফলে ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ শেষ হয়। তবে বিয়ার গ্রিলস পরে ‘Running Wild with Bear Grylls’, ‘The Island with Bear Grylls’ এবং নেটফ্লিক্সের ‘You vs Wild’ শো নিয়ে ফিরে আসেন।
১৬. ক্যামেরাম্যানের দুঃসাহস
ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড শো-এর ক্যামেরাম্যানরা বিয়ার গ্রিলসের সমস্ত কাজ একইভাবে করতেন, এমনকি কখনো কখনো একাধিকবার বিভিন্ন কোণ থেকে শট নিতে হতো। তারা ৪০ পাউন্ড ওজনের ক্যামেরা বহন করে এই কাজ করতেন।
১৭. বই ও লেখালেখি
বিয়ার গ্রিলস ৮৫টিরও বেশি বই লিখেছেন, যার মধ্যে ‘Mud, Sweat and Tears: The Autobiography’, ‘Facing Up’ এবং ‘Man vs. Wild: Survival Techniques from the Most Dangerous Places on Earth’ উল্লেখযোগ্য। তার বই বিশ্বব্যাপী ২০ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে।
১৮. দাতব্য কাজ
বিয়ার গ্রিলস ২০১০ সালে ‘The Bear Grylls Foundation’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাহায্য করে। তিনি ইউনিসেফ, ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের মতো সংস্থার সঙ্গে জড়িত।
১৯. ইন্টারেক্টিভ শো
২০১৯ সালে বেয়ার গ্রিলস নেটফ্লিক্সের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন এবং ‘ইউ ভার্সেস ওয়াইল্ড’ (You vs. Wild) নামে একটি নতুন ইন্টারেক্টিভ শো নিয়ে আসেন। যেখানে দর্শকরা বিয়ারের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এই শো-এর কিছু দৃশ্যে বিয়ার সত্যিই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, যেমন বিষাক্ত মাশরুম খাওয়ার পর। এই সিরিজটি ব্যাপক সাফল্য পায় এবং দর্শকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে।
২০. নেটফ্লিক্স রিয়েলিটি শো
২০২৫ সালে ব্রিটিশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ Netflix-এ ‘Celebrity Bear Hunt’ নামে একটি নতুন রিয়্যালিটি শো রিলিজ হয়। এ শো’র হোস্ট হলি উইলংবি ও বিয়ার গ্রিলস জঙ্গলে ১২ জন সেলিব্রিটিকে বিয়ার গ্রিলস নিজেই “হান্ট” করেন। প্রথম এপিসোডে সেলিব্রিটি বোরিস বেকার হাঁটু আঘাতে শো থেকে বেরিয়ে যান, লোরেন্স লিয়েনের মনে হয়েছিল হার্ট অ্যাটাক, পরে জানা যায় এটি প্যানিক এটাক ছিলো।
২১. অ্যানাফিল্যাকটিক শক ও বিপদ
বিয়ার গ্রিলস বেশ কয়েকবার শক পেয়েছেন যেমন Bee sting allergy বা anaphylactic shock; মোটামুটি ২১টি মৃত্যুর কাছাকাছি যাওয়ার ঘটনা এক শো-তে উল্লেখ করেন।
২২. ভারত সম্পর্কিত ভুল সংবাদ
২০১৫ সালে হিন্দুস্তান টাইমসের এক ভুল সংবাদে অনেকে ভেবেছিল বেয়ার গ্রিলস ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে ইচ্ছুক। কিন্তু এই খবরটি সত্য ছিল না। তিনি তার দার্জিলিং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখেছিলেন, যেখানে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সহায়তার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে উল্লেখ করেছিলেন।
পরিশেষে
‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ শুধু একটি টিভি শো নয়, এটি মানুষের সীমাহীন সম্ভাবনা এবং প্রকৃতির সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প। বিয়ার গ্রিলস তার দুঃসাহসিকতা, সাহস এবং বেঁচে থাকার কৌশল দিয়ে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড শো’র মাধ্যমে বিয়ার গ্রিলস আমাদের শুধু সারভাইভাল কৌশলই শেখাননি, বরং জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে অদম্য মনোবল এবং সাহস নিয়ে টিকে থাকতে হয়, তারও এক দারুণ শিক্ষা দিয়েছেন। যদিও শো-এর কিছু দৃশ্য নকল বা সাজানো ছিল, তবু এটি বিনোদন এবং শিক্ষার এক অনন্য মিশ্রণ। বিয়ার গ্রিলসের জীবনের এই অজানা তথ্যগুলো তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং শো-এর পেছনের পরিশ্রমকে তুলে ধরে।





















