দুখু মিয়া কবি কাজী নজরুল ইসলামের দু:খ দারিদ্র্যে ভরা শেষ জীবন

দুখু মিয়া কবি কাজী নজরুল ইসলামের দু:খ দারিদ্র্যে ভরা শেষ জীবন

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও বিস্ময়কর ধ্রুবতারা। তিনি যখন আগমন করেছিলেন, তখন ঝোড়ো হাওয়ার মতো ভাঙতে শুরু করেছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল, গানে ও কবিতায় গর্জে উঠেছিল শোষিত মানুষের হুঙ্কার। তিনি কেবল এক স্বনামধন্য কবি, সুরস্রষ্টা বা রাজসংগ্রামের সিপাহসালার ছিলেন না; তিনি স্বয়ং একটি কালখণ্ড, একটি অগ্নিবিপ্লব এবং একটি অখণ্ড প্রতিষ্ঠান।

অথচ কী করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছিল এই মহানায়কের ভাগ্যে! যে মানুষের একটিমাত্র লেখনী ঝিমিয়ে পড়া পুরো জাতিকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলেছিল, জীবনের সায়াহ্নে এসে সেই মানুষটিকেই শিকার হতে হয়েছিল চরম সামাজিক অবহেলা, পারিবারিক নির্জনতা ও অপরিসীম বঞ্চনার। সম্প্রতি দৈনিক ইত্তেফাক সাময়িকীতে প্রকাশিত নজরুলের পারিবারিক জীবনের ট্র্যাজেডি, দুরারোগ্য অসুস্থতা এবং জীবনের শেষ দিনগুলোর রূঢ় বাস্তবতা সংক্রান্ত নানা তথ্য আমাদের তথাকথিত 'নজরুল-প্রেম' ও জাতীয় চেতনার বিবেককে এক গভীর প্রশ্চের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়।

আমরা সভা-সমিতিতে নজরুলকে নিয়ে যে উচ্ছ্বসিত আবেগের জোয়ার ভাসাই, আর তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের শেষ তিন দশকের যে নির্মম একাকিত্বের ইতিহাস এই দুইয়ের মাঝে রয়েছে এক দুস্তর ব্যবধান। বাল্যকালের চরম অভাব থেকে শুরু করে বার্ধক্যের মৌনতা পর্যন্ত প্রতিটি অধ্যায় যেন কোনো গ্রীক ট্র্যাজেডির একের পর এক করুণ দৃশ্যপট। কবিকে জানার ও বোঝার তাগিদে তাঁর জীবনের এই অন্তর্দাহগুলোর গভীর অনুচ্ছেদভিত্তিক বিশ্লেষণ আজ অত্যন্ত জরুরি।

শৈশবের দুর্গম পথ ও ঘরবাড়িহীন এক বাউন্ডুলে পিকের গড়ে ওঠা

কাজী নজরুল ইসলামের পরিণত বয়সের 'ভোলাভালা' এবং অর্থকড়ি সঞ্চয়ে চরম উদাসীন স্বভাবটি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি; এর বীজ প্রোথিত ছিল তাঁর চরম অনিশ্চিত শৈশবের মধ্যে।

পিতৃহীন 'দুখু মিঞা'

১৮৯৯ সালের২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম। পিতা কাজী ফকির আহমেদ ছিলেন আসানসোলের এক মক্তবের ইমাম ও মাজারের খাদেম। নজরুল ছিলেন তাঁর বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান। কবির বয়স যখন মাত্র আট বছর, তখন তাঁর পিতা মারা যান। পিতার অকালমৃত্যুর পর পরিবারে নেমে আসে তীব্র অভাব-অনটন। ছোট্ট কাজী নজরুলকে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য অল্প বয়সেই মক্তবের শিক্ষকতা ও মাজারের খাদেমগিরির দায়িত্ব নিতে হয়। ডাকনাম হয়ে যায় ‘দুখু মিঞা’।

ভবঘুরে শৈশব ও অর্থকড়ির ধারণা

ছোটবেলা থেকেই নজরুলকে এক জায়গায় আটকে রাখা অসম্ভব ছিল। তিনি কোনো একটি নির্দিষ্ট পারিবারিক ঐতিহ্যের মধ্যে বড় হননি।

লেটো দলের ছোকরা: বাল্যকালেই তিনি গ্রাম্য 'লেটো' দলে যোগ দেন, গান বাঁধেন এবং অভিনয় করেন।

আসানসোলের রুটির দোকান: সামান্য খাদ্যের সংস্থানে আসানসোলের এক রুটির দোকানে চাকরি নেন।

শিক্ষা ও মিলিটারিতে গমন: পরবর্তীতে দারিরারামপুর (ময়মনসিংহ) ও রানীগঞ্জের স্কুলে পড়াশোনা করলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় (১৯১৭) তিনি ৪৯ নম্বর বাঙালি ব্যাটালিয়নে হাবিলদার হিসেবে যোগ দিয়ে করাচি চলে যান।

এই ভবঘুরে জীবনের প্রধান শিক্ষা ছিল আজকের দিনটি বেঁচে থাকাই প্রধান, আগামীকালের জন্য জমানো নিরর্থক। শৈশবে ঘরসংসারের কোনো ধারাবাহিক অভিভাবকত্ব বা আর্থিক ব্যবস্থাপনার শিক্ষা তিনি পাননি। ফলে পরবর্তীতে গ্রামোফোন কোম্পানি, রাজকীয় সাহিত্য সম্মানী ও পত্রিকা থেকে বিপুল অর্থ উপার্জন করলেও বিষয়বুদ্ধির অভাবে তিনি নিঃস্ব থেকে গেছেন।

নার্গিস থেকে প্রমীলা - দাম্পত্য জীবন, আন্তঃধর্মীয় সামাজিক ঝড় ও আত্মসম্মান

কাজী নজরুলের দাম্পত্য ও ব্যক্তিগত জীবনের সূচনালগ্ন থেকেই একের পর এক নাটకీయ ঘটনার জন্ম হয়েছে, যেখানে তাঁর প্রবল আত্মসম্মানবোধ এবং সামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে সাহসিকতার প্রমাণ মেলে।

দৌলতপুরের সেই ঝোড়ো বাসর রাত

১৯২১ সালে পুস্তক প্রকাশক আলী আকবর খানের আমন্ত্রণে নজরুল কুমিল্লার দৌলতপুরে যান। সেখানে আলী আকবর খানের ভাগ্নি সৈয়দা খাতুন (যাঁকে নজরুল 'নার্গিস' নাম দিয়েছিলেন)-এর সঙ্গে কবির পরিচয় হয় এবং বিয়ে ঠিক হয়। কিন্তু ১৯২১ সালের ১৮ জুন বিয়ের বাসর রাতেই সৃষ্টি হয় এক ঐতিহাসিক ও রহস্যময় নাটকের।

ঘরজামাইয়ের শর্ত ও বিবাদ: কনেপক্ষের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয় যে নজরুলকে দৌলতপুরেই 'ঘরজামাই' হিসেবে থেকে যেতে হবে। চরম আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন কবির পক্ষে এই পরাধীনতার চুক্তি মেনে নেওয়া অসম্ভব ছিল।

বৃষ্টিভেজা রাতে প্রস্থান: বাসর রাতেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে কবির তীব্র তর্কযুদ্ধ হয়। কবি এতটাই ক্ষুব্ধ হন যে, সেই ঘোর অমাবস্যার রাতে মুষলধারে বৃষ্টির তোয়াক্কা না করে পায়ে হেঁটে দৌলতপুর থেকে প্রায় আট-নয় মাইল পথ পাড়ি দিয়ে কুমিল্লা শহরে চলে যান। নার্গিসের সঙ্গে সেই যে বিচ্ছেদ ঘটেছিল, তা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আইনি ও মানসিকভাবে অমীমাংসিত থেকে যায়।

প্রমীলা দেবী ও আন্তঃধর্মীয় সামাজিক চ্যালেঞ্জ

নার্গিস অধ্যায়ের অবসান ঘটে ১৯২৪ সালে, যখন নজরুল বিয়ে করেন প্রমীলা দেবীকে (আসল নাম আশালতা সেনগুপ্ত)।

সামাজিক প্রতিক্রিয়া: হিন্দু-মুসলিম উভয় রক্ষণশীল সমাজই এই আন্তঃধর্মীয় বিয়েকে সহজভাবে গ্রহণ করেনি। উগ্রবাদীদের গালিগালাজ, পত্রিকাগুলোর কটু মন্তব্য এবং সামাজিক একঘরে করে রাখার হুমকি সত্ত্বেও নজরুল ও প্রমীলা দমে যাননি।

অভাব ও মমতার জীবন: প্রমীলা দেবী কেবল কবির স্ত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন কবিসংসারের কান্ডারী। কবি যখন নিজের অর্জিত অর্থ বন্ধু-বান্ধব ও সাহায্যপ্রার্থীদের অকাতরে বিলিয়ে দিতেন, তখন প্রমীলা দেবী চরম দারিদ্র্যকে টেনেটুনে সংসার চালাতেন।

সন্তানশোকের তীব্র যন্ত্রণা ও 'শূন্য এ বুকে পাখি মোর'

নজরুল ও প্রমীলার দাম্পত্য জীবন ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হলেও সেখানে ছিল একের পর এক মর্মান্তিক মৃত্যুশোকের ছায়া। তাঁদের প্রথম দুই সন্তানের অকালমৃত্যু কবিকে মানসিকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছিল।

বুলবুলের মৃত্যু ও নজরুলের মানসিক রূপান্তর

নজরুলের প্রথম সন্তান 'আজাদ কামাল' (কৃষ্ণ মুহাম্মদ) শৈশবেই মারা যায়। কিন্তু ১৯৩০ সালে তাঁদের দ্বিতীয় সন্তান কাজী বুলবুল-এর মৃত্যু কবিকে এক গভীর মানসিক অন্ধকারে ঠেলে দেয়। মাত্র চার বছর বয়সী বুলবুল ছিল অসাধারণ বুদ্ধিমান এবং সুরের প্রতি অসম্ভব অনুরাগী। গুটিবসন্তে (Smallpox) আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়কভাবে বুলবুল যখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে, তখন কবি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

বুলবুলের মৃতদেহের পাশে বসেই কবি সৃষ্টি করেছিলেন হৃদয়নোড়ানো সেই গান:

"শূন্য এ বুকে পাখি মোর আর ফিরে আয় ফিরে আয়..."

সুরের মোড় পরিবর্তন

সন্তান হারানোর এই ভয়াবহ যন্ত্রণা নজরুলকে জাগতিক রাজনীতি ও বৈষয়িক বিষয়াদি থেকে সরিয়ে আধ্যাত্মিকতার দিকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাঁদের ঘরে দুই সন্তান কাজী সব্যসাচী ও কাজী অনিরুদ্ধ জন্মগ্রহণ করলেও, বুলবুল হারানোর ক্ষত কবির হৃদয়ে আমৃত্যু তাজা ছিল। এই শোকের পর থেকেই তিনি প্রচুর শ্যামাসংগীত, ইসলামী গান এবং সুফি ভাবধারার সঙ্গীত রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।

১৯৪১-১৯৪২ সুরের জাদুকরের মৌনতা ও 'সুসময়ের বন্ধুদের' প্রস্থান

১৯৪০-এর দশকের শুরুতে যখন নজরুল তাঁর সৃষ্টির শীর্ষবিন্দুতে অবস্থান করছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর জীবনে ঘনিয়ে আসে এক অভিশপ্ত ঝড়।

অসুস্থতার প্রথম আঘাত

১৯৪১ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুতে নজরুল গভীরভাবে শোকাহত হন এবং বেতারের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ‘রবি-হারা’ কবিতা ও গান রচনা করেন। কিন্তু ১৯৪২ সালের জুলাই মাসে 'অল ইন্ডিয়া রেডিও'তে একটি সরাসরি অনুষ্ঠান চলাকালীন কবি হঠাৎ কথা বলতে অসচ্ছলতা বোধ করেন। দেখতে দেখতে তিনি পুরোপুরি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং তাঁর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা লোপ পেতে শুরু করে।

সুসময়ের বন্ধুদের সুযোগসন্ধানী মনোভাব

সুস্থ থাকাকালে কলকাতার ৯ নম্বর অ্যান্থনি বাগান লেন কিংবা তালতলা এলাকার নজরুলের বাড়িটি ছিল সাহিত্যিক, গীতিকার, রাজনীতিবিদ এবং ভক্তদের কোলাহলে মুখরিত। নজরুলের উপার্জিত অর্থে হাজারো আড্ডা জমে উঠত। কিন্তু ১৯৪২ সালে কবি যখন বাকরুদ্ধ ও সহায়হীন হয়ে পড়লেন, তখন সেই তথাকথিত সুসময়ের বন্ধুবৃত্তের প্রায় সবাই একে একে অদৃশ্য হয়ে গেল।

দীর্ঘ এক দশক (১৯৪২ থেকে ১৯৫২) কবি কলকাতার এক ছোট কামরায় প্রায় বিনা চিকিৎসায় পড়ে রইলেন। কবিপত্নী প্রমীলা দেবী নিজেও ততদিনে (১৯৩৯ সাল থেকে) পক্ষাঘাতগ্রস্ত (Paralyzed) হয়ে শয্যাশায়ী। এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত নারী এবং এক মূক-উন্মাদ কবি এই দুই অসহায় প্রাণীর পাশে তখন রাজকীয় কোনো বন্ধুকে দেখা যায়নি।

চিকিৎসার নামে বিলম্বিত প্রহসন, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর উদ্যোগ ও 'পিকস ডিজিজ'

দীর্ঘ দশ বছর কবিকে এক প্রকার অমানবিক অবহেলায় ফেলে রাখার পর ১৯৫২-৫৩ সালে অবশেষে সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক মহলের চেতনা জাগে।

নজরুল চিকিৎসা কমিটি ও শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী

ভারতের অন্যতম শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা এবং পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাবিদ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী নজরুলের করুণ দশার কথা জানতে পেরে অত্যন্ত ব্যথিত হন। তাঁরই ব্যক্তিগত ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘নজরুল চিকিৎসা কমিটি’। এই কমিটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয় এবং ১৯৫৩ সালের মে মাসে নজরুল ও প্রমীলা দেবীকে চিকিৎসার জন্য আকাশপথে লন্ডন ও ভিয়েনায় পাঠানো হয়।

ভিয়েনার নিউরোলজিস্টদের ভয়াবহ ডায়াগনোসিস

ভিয়েনার বিখ্যাত মস্তিষ্ক বিশেষজ্ঞ ড. হ্যান্স আসপারগার (Dr. Hans Asperger) এবং লন্ডনের চিকিৎসকরা যৌথভাবে কবির মস্তিষ্ক পরীক্ষা (Cerebral Angiography) করেন। তাঁদের রিপোর্টে যে ভয়াবহ তথ্য উঠে আসে, তা হলো:

রোগের নাম: কবি ‘পিকস ডিজিজ’ (Pick's Disease) এবং 'সেরিব্রাল আর্টারিওস্ক্লেরোসিস' (Cerebral Arteriosclerosis)-এ ভুগছেন। এটি মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল ও টেম্পোরাল লোবের এক চরম ক্ষয়জনিত রোগ, যার ফলে মানুষের স্মৃতিশক্তি, ভাষা ও বোধশক্তি চিরতরে ধ্বংস হয়ে যায়।

চিকিৎসকদের মতামত: ইউরোপীয় চিকিৎসকরা আক্ষেপ করে জানান, ১৯৪২ সালে রোগটি ধরা পড়ার সাথে সাথে সঠিক যত্ন ও নিউরো-চিকিৎসা হলে কবিকে হয়ত আংশিক সুস্থ করা যেত। কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছরের মারাত্মক অবহেলার কারণে মস্তিষ্কের টিস্যুগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে ও পচে গেছে। এবার কোনো অলৌকিক শক্তিও কবিকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না।

ব্যর্থ মনোরথ ও ভগ্নহৃদয়ে নজরুল চিকিৎসা কমিটিকে কবিকে নিয়ে আবার ভারতে ফিরে আসতে হয়।

উত্তরাধিকারের বিতর্ক, রাজনৈতিক রহস্য ও এক অলৌকিক অটোগ্রাফ

কাজী নজরুলের অসুস্থতার পরবর্তী অধ্যায়ে তাঁর দুই সন্তান কাজী সব্যসাচী ও কাজী অনিরুদ্ধর ভূমিকা এবং পাকিস্তান সরকারের দেওয়া গোপন ভাতা নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক বিদ্যমান।

উত্তরাধিকারদের ভূমিকা ও অর্থকড়ি

কলকাতার সাহিত্য অঙ্গনে একটি চরম অপ্রিয় অভিযোগ প্রায়ই উচ্চারিত হতো যে, অসুস্থ নজরুলের বইয়ের রয়্যালটি ও গ্রামোফোন রেকর্ড থেকে যে মোটা অঙ্কের অর্থ আসতে শুরু করেছিল, তার একটি বড় অংশ কবির বিশেষ চিকিৎসার পেছনে ব্যয়ের বদলে তাঁর পুত্রদের ব্যক্তিগত আমোদ-প্রমোদ ও বিলাসিতায় ব্যবহৃত হতো। অটোগ্রাফ শিকারী বা দর্শকদের সামনে বাকরুদ্ধ বাবাকে তুলে ধরে টাকা বা সামাজিক পরিচিতি অর্জনের চেষ্টাও সমালোচিত হয়েছে।

পাকিস্তান সরকারের গোপন ভাতার রহস্য

ঐতিহাসিক অনুসন্ধানে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায় ১৯৪২ সালে বাকশক্তি হারানোর পর থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার নিয়মিতভাবে নজরুলের নামে একটি মোটা অঙ্কের মাসিক ভাতা বা পেনশন পাঠিয়ে আসত।

কেন এই ভাতা? যে কবি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে গিয়েছিলেন এবং পাকিস্তানের উগ্র ধর্মভিত্তিক ভাবাদর্শের বিরুদ্ধে ছিলেন, সেই কবিকে পাকিস্তান সরকার কেন বছরের পর বছর নিয়মিত টাকা দিল?

ভারতের নিরবতা: ভারত সরকারই বা কেন বিদেশি সরকারের থেকে এই টাকা কবির পরিবারকে গ্রহণের অনুমতি দিল? ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে কবির পুত্ররা এই ভাতা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লেনদেনের আসল কারণ নিয়ে কোনো গভীর গবেষণা হয়নি।

"প্রমীলা দেবী ইসলাম" - এক অমর প্রেমগাথা

নজরুলের মস্তিষ্ক যখন প্রায় অচল, তখন সব্যসাচী মাঝে মাঝে দর্শকদের নিয়ে এসে বাবাকে বিরক্ত করতেন। একবার একজন অটোগ্রাফ শিকারীর জোরাজুরিতে সব্যসাচী নজরুলের হাতে কাগজ-কলম গুঁজে দিয়ে চিৎকার করে সই করতে বলেন। কাজী সব্যসাচী বললেন
- বাবা একটা সই করে দাও।
নজরুল ফ্যাল ফ্যাল করে তাঁর দিকে তাকালেন। কিছুই বুঝতে পারছেন না তাকে কি করতে বলা হচ্ছে। সব্যসাচী বললেন
- কি হল সই করো।
তাতেও কোন কাজ হল না। সব্যসাচী তাঁর হাতে জোর করে কাগজ কলম গুঁজে দিয়ে চিৎকার করে বললেন
- বাবা সই বাবা সই

নজরুল কাঁপা কাঁপা হাতে কাগজ কলম নিয়ে অনেক ক্ষণ ধরে লিখলেন। কাগজ হাতে নিয়ে অটোগ্রাফ শিকারী হতভম্ব। আঁকাবাঁকা অক্ষরে এইভাবে লেখা আছে।
প্রমীলা
দে
বী


লা

এর থেকে বোঝা যায় স্ত্রীর জন্য তাঁর মনে কত বড় জায়গা ছিল। তিনি নিজের নাম লেখেননি; বরং লিখেছেন “প্রমীলা দেবী ইসলাম”। নিজের অস্তিত্ব ভুলে গেলেও প্রিয়তমা স্ত্রীর নাম তিনি ভোলেননি। ১৯৬২ সালে প্রমীলা দেবীর মৃত্যুর পর নজরুল নির্বাক থাকলেও তাঁর অস্থিরতা ছিল অবর্ণনীয়। তিনি তাঁর স্ত্রীর বিছানার শূন্য জায়গায় হাত চাপড়াতেন আর নিঃশব্দে কাঁদতেন। প্রমীলার প্রতি নজরুলের এই ভালোবাসা পৃথিবীর যেকোনো প্রেমের উপাখ্যানকে হার মানায়।

স্বাধীন বাংলাদেশে কবি - জাতীয় সম্মাননা নাকি রাজনৈতিক প্রদর্শন?

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

ঢাকায় রাজকীয় পদার্পণ

১৯৭২ সালের ২৪ মে বঙ্গবন্ধুর বিশেষ আমন্ত্রণে ও ভারত সরকারের সম্মতিতে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। তাঁকে বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ধানমন্ডির ২৮ নম্বর সড়কের একটি সুসজ্জিত দোতলা বাড়িতে (বর্তমান নজরুল ইনস্টিটিউট) থাকতে দেওয়া হয়। তাঁকে দেওয়া হয় নাগরিকত্ব ও সরকারি ভাতা।

প্রদর্শনী বস্তু বা 'শোপিস' হিসেবে ব্যবহার

কাজের শুরুতে সারা বাংলাদেশে নজরুলকে নিয়ে যে আবেগ তৈরি হয়েছিল, তা ছিল অভূতপূর্ব। প্রতিদিন শত শত মানুষ কবির ধানমন্ডির বাড়িতে ভিড় জমাত। কিন্তু এটিই হয়ে উঠেছিল কবির জন্য চরম অস্বস্তির। বাকরুদ্ধ, অসহায় এক বৃদ্ধকে সাধারণ মানুষের সামনে এনে দাঁড় করানো হতো একপ্রকার প্রদর্শনী বস্তু বা 'শোপিস' হিসেবে।

কিছুদিনের মধ্যেই মানুষের প্রাথমিক উন্মাদনা ঝিমিয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ বুঝতে শুরু করে এই নজরুল তো আর সেই অগ্নিবর্ষী কবি নন; ইনি এক বাকরুদ্ধ, চলচ্ছক্তিহীন জরাগ্রস্ত বৃদ্ধ।

বড় বাড়ি থেকে স্থানান্তর ও নীরব প্রতিবাদ

মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ার পর সরকারি পর্যায়েও কবিকে নিয়ে উদাসীনতা শুরু হয়। ধানমন্ডির সেই বিশাল দোতলা বাড়িটি থেকে কবিকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট ও কম সুবিধাজনক একটি বাড়িতে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, নজরুল সেই বিশাল বাড়িটি ছেড়ে যেতে চাননি। বাড়ি বদলের দিন তিনি সিঁড়ির লৌহনির্মিত রেলিং আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন এবং সেখান থেকে তাঁকে সরানো যাচ্ছিল না। কোনো কথা না বলতে পারা কবির সেই রেলিং আঁকড়ে ধরা ছিল তাঁর দ্বিতীয় প্রবাস এবং অবহেলার বিরুদ্ধে জীবনের শেষ নীরব প্রতিবাদ।

কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও ট্র্যাজেডির পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সারণী

পাঠকদের সুবিধার্থে কাজী নজরুল ইসলামের জীবনকাল, প্রধান সৃষ্টিসমূহ, চিকিৎসা এবং পারিবারিক সংবাদের বিশদ তথ্য সারণী নিচে উপস্থাপন করা হলো:

পরামিতি/ঘটনা

বিস্তারিত ঐতিহাসিক বিবরণ

পুরা নাম

কাজী নজরুল ইসলাম

জন্ম ও স্থান

২৪ মে, ১৮৯৯ (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ); চুরুলিয়া, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ

ডাকনাম

দুখু মিঞা

পিতা ও মাতা

কাজী ফকির আহমেদ ও জাহেদা খাতুন

প্রথম বিয়ে (বিচ্ছিন্ন)

১৯২১ সাল; কনে: সৈয়দা খাতুন (নার্গিস), স্থান: দৌলতপুর, কুমিল্লা

দ্বিতীয় বিয়ে (আজীবন)

১৯২৪ সাল; কনে: প্রমীলা দেবী (আশালতা সেনগুপ্ত)

সন্তানসমূহ

আজাদ কামাল (মৃত), কাজী বুলবুল (মৃত), কাজী সব্যসাচী ও কাজী অনিরুদ্ধ

অসুস্থতার সূচনা

১৯৪২ সাল (অল ইন্ডিয়া রেডিওতে অনুষ্ঠান চলাকালে বাকশক্তি হারান)

চিকিৎসার স্থান ও ডায়াগনোসিস

১৯৫৩ (লন্ডন ও ভিয়েনা); শনাক্তকৃত রোগ: ‘পিকস ডিজিজ’ (Pick's Disease)

বাংলাদেশে আগমন

২৪ মে, ১৯৭২ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ উদ্যোগে)

জাতীয় স্বীকৃতি

বাংলাদেশের 'জাতীয় কবি' মর্যাদা; একুশে পদক (১৯৭৬); 'ডি-লিট' ডিগ্রি (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

মহাপ্রয়াণ

২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ); বয়স: ৭৭ বছর

সমাধিস্থল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ, ঢাকা, বাংলাদেশ

মহাপ্রয়াণ ও দুই প্রান্তরের চিরন্তন বিচ্ছেদ

১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসে জাতীয় কবির স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটে। তাঁকে ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি করা হয়।

'মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই'

১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট (১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সারা দেশে নেমে আসে শোকের ছায়া। কবি তাঁর বিখ্যাত গানে লিখে গিয়েছিলেন:

"মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই / যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই..."

কবির এই ধর্মীয় ও মানসিক আকুতিকে সম্মান জানিয়ে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে পূর্ণ সামরিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করে।

রাজনীতির কাঁটাতার ও অপূর্ণ শেষ ইচ্ছা

কবির এই ইচ্ছাটি পূরণ হলেও, তাঁর আরেকটি পরম আকুতি রাজনীতির বলি হয়ে চিরতরে অপূর্ণ থেকে যায়। কবি ও প্রমীলা দেবী দুজনেই চেয়েছিলেন মৃত্যুর পর তাঁদের যেন একই স্থানে, পাশাপাশি সমাহিত করা হয়।

কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক সীমান্ত এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রমীলা দেবীর সমাধি রয়ে গেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামে, আর কাজী নজরুলের সমাধি বাংলাদেশের ঢাকায়। মৃত্যুর পরও দুই চিরন্তন প্রেমিককে আলাদা করে রেখেছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিদারুণ কাঁটাতারের বেড়া।

আমাদের জাতীয় ঋণ, মানসিক সংকীর্ণতা ও ঐতিহাসিক শিক্ষা

কাজী নজরুল ইসলামের শেষ জীবনের ট্র্যাজেডি কেবল একজন ব্যক্তির করুণ পরিণতি নয়; এটি বাঙালি জাতির তথাকথিত 'সংস্কৃতিপ্রেমের' মুখোশ খুলে দেওয়ার মতো এক নির্মম দর্পণ।

জীবদ্দশায় অবহেলা, মরণোত্তর উচ্ছ্বাস

বাঙালি হিসেবে আমাদের এক মারাত্মক রোগ রয়েছে আমরা জীবিত অবস্থায় গুণীজনদের প্রাপ্য সম্মান বা চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হই, আর তারা মারা গেলে শোক প্রকাশ আর উৎসবের জোয়ারে ভেসে যাই। ১৯৪২ থেকে ১৯৫২ এই দশটি বছর যদি নজরুলকে ফেলে না রেখে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হতো, তবে হয়তো আমরা এই কবির থেকে আরও বহু অমর কবিতা ও গান পেতাম।

ইতিহাস বিস্মৃতি ও রাজনৈতিক গবেষণাহীনতা

কাজী নজরুলের শেষ জীবনের রাজনীতি, পাকিস্তান সরকারের দেওয়া মাসিক ভাতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর পরিবারের অবস্থান নিয়ে আমাদের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কখনো কোনো নিরপেক্ষ বা গভীর ঐতিহাসিক গবেষণা পরিচালনা করেনি। আমরা আমাদের সুবিধাজনক ইতিহাসটুকু মনে রাখি, আর অপ্রিয় বাস্তবতাকে অবহেলার চাদরে ঢেকে দিই।

কবিকে আমরা কী দিতে পারলাম?

কাজী নজরুলের মহাকাব্যিক জীবন পর্যালোচনা করলে আমাদের সামনে কিছু চিরন্তন সামাজিক শিক্ষা স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

প্রতিভা বনাম মানুষের কদর: আমরা প্রতিভার প্রশংসা করতে পারি, কিন্তু প্রতিভার পেছনের রক্ত-মাংসের মানুষটার খোঁজ রাখতে বারবার ভুল করি।

মানবিক দায়বদ্ধতা: নজরুল তাঁর জীবনের প্রতিটি ফোঁটা রক্ত দিয়ে বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন, কিন্তু আমরা বদলে তাঁকে দিয়েছি একাকিত্ব ও চিকিৎসার নামে দীর্ঘসূত্রতা।

সামাজিক সমবেদনা: নজরুলকে মনে রাখা মানে কেবল বছরে দুই দিন গান গাওয়া নয়; তাঁর অসাম্প্রদায়িক ও শোষণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দর্শনকে ধারণ করা।

অবহেলার বিষে নীল এক মহাকাব্যের শেষ পাতা

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন ধুমকেতুর মতো যা হঠাৎ এসে আকাশকে আলোকিত করে আবার হারিয়ে যায়। তিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন কীভাবে অবিচারের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়, কীভাবে রাজদণ্ডকে তোয়াক্কা না করে সত্য উচ্চারণ করতে হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যে কবি পুরো জাতিকে বিদ্রোহের মন্ত্র শিখিয়েছিলেন, শেষ জীবনে সেই কবিকেই নিভৃতে সহ্য করতে হয়েছিল চরম অবহেলা ও একাকিত্বের বিষ।

ইত্তেফাক সাময়িকীতে প্রকাশিত তথ্যাবলী আমাদের চোখ খুলে দেয় যে কবিকে আমরা ভালোবাসার পুষ্পবৃষ্টিতে ভিজিয়ে দিতে চাই, সেই কবির শেষ দিনগুলো কেটেছিল পরম যন্ত্রণায়। তবুও নজরুল হেরে যাননি। চুরুলিয়া থেকে ঢাকা, দৌলতপুর থেকে ভিয়েনা যে পথ কবি হেঁটেছেন, তা কেবল কাঁটা বিছানো ছিল না, তা ছিল এক অমর প্রেমের মহাকাব্য।

আজকের এই আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে নজরুলের শেষ জীবনের বেদনাবিধুর দৃশ্যপটগুলো আমাদের জাতীয় বিবেকের কাছে এক একটি জ্বলন্ত প্রশ্ন হিসেবে চিরকাল ঝুলতে থাকবে। তবে সমস্ত অবহেলা, রাজনীতি ও কাঁটাতারের উর্ধ্বে উঠে নজরুল আজ জীবন্ত তাঁর দ্রোহে, তাঁর গানে, তাঁর সাম্যবাদে এবং প্রমীলা দেবীর প্রতি তাঁর অলৌকিক ভালোবাসার অক্ষয় স্মারকে।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.