ইরানে কেন দুইটা সেনাবাহিনী? ইরানের রাজকীয় নিরাপত্তা ও জিওপলিটিক্স

বিশ্বের যেকোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের দিকে তাকালে একটি সাধারণ চিত্র চোখে পড়ে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমিকতা, সীমান্ত রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি নির্দিষ্ট জাতীয় সামরিক বাহিনী বা সেনাবাহিনী থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া কিংবা ভারত সব দেশেরই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত হয় একক সামরিক কমান্ডের অধীনে।

কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী দেশ ইরানের চিত্রটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ও জটিল

ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, দেশটির ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমানা রক্ষার জন্য একটি নয়, বরং দুটি আলাদা ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী সমান্তরালভাবে কাজ করে যাচ্ছে

১. আরতেশ (Artesh): ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আর্মি বা ঐতিহ্যবাহী প্রথাগত জাতীয় সামরিক বাহিনী।

২. আইআরজিসি (IRGC): ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guard Corps) বা 'সিপাহ-এ-পাসদারান'।

প্রতিটি সামরিক বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিকের মনেই স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে: কেন একটি দেশের ভেতর এমন দুটি সমান্তরাল সামরিক বাহিনী পাশাপাশি অবস্থান করছে? তাদের কাজের পরিধিই বা কেমন এবং কেনই বা বিপ্লব-পরবর্তী ইরান এমন একটি দ্বৈত কাঠামোর পথ বেছে নিয়েছিল?

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মোট সক্রিয় সেনাসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার। এই বিশালাকার শক্তিমত্তা দুটি প্রধান শাখায় বিভক্ত থেকে কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে এটি ইরানের রাজনীতি, অর্থনীতি ও ভূরাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে তা অনুধাবন করতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক পটভূমিতে।

ঐতিহাসিক পটভূমি: ১৯৭৯ সালের বিপ্লব ও অনুগত বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা

ইরানে কেন দুটি সেনাবাহিনী গঠন করা হলো, তা বুঝতে হলে ১৯৭৯ সালের 'ইসলামী বিপ্লব' (Islamic Revolution) এবং তৎকালীন বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করা আবশ্যক।

শাহ্-এর আমলের সেনাবাহিনী ও গভীর অবিশ্বাস

১৯৭৯ সালের পূর্বে ইরান শাসন করতেন পশ্চিমাঘেঁষা রাজতন্ত্রের প্রতীক শাহ্ মোহাম্মদ রেজা পাহলভী। সে সময় দেশটির নিয়মিত সামরিক বাহিনী (যা পরবর্তীতে 'আরতেশ' নামে পুনর্গঠিত হয়) সম্পূর্ণ পশ্চিমা প্রশিক্ষণ, মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি ও রাজতান্ত্রিক চিন্তাধারায় পরিচালিত হতো। বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা ছিলেন শাহ্-এর অত্যন্ত অনুগত।

১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে 'কমব্যাট্যান্ট ক্লার্জি অ্যাসোসিয়েশন' ও সাধারণ জনগণের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন বিপ্লবে রূপ নেয় এবং শাহ্ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। খোমেনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করে নিজেকে ইরানের 'সুপ্রিম লিডার' বা সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেন।

সামরিক অভ্যুত্থানের ভয় ও 'ক্যু-প্রুফিং' (Coup-proofing)

ক্ষমতায় আসার পর আয়াতুল্লাহ খোমেনি ও নতুন বিপ্লবী সরকারের মনে একটি গভীর আশঙ্কা বাসা বাঁধে। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যেকোনো বিপ্লব বা সরকার পরিবর্তনের পর পুরোনো রাজতান্ত্রিক সেনাবাহিনী প্রায়শই পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থান (Military Coup) ঘটিয়ে নতুন সরকারকে উৎখাত করে।

যেহেতু আরতেশের অধিকাংশ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষিত ছিলেন, তাই বিপ্লবী সরকার প্রথাগত বাহিনীর ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারেনি। তারা মনে করেছিল, সুযোগ পেলেই আরতেশ পশ্চিমা শক্তির উসকানিতে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারে।

১৯৭৯ সালের মে মাসে আইআরজিসি গঠন

এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও নিরাপত্তার অভাব থেকে ১৯৭৯ সালের ৫ই মে আয়াতুল্লাহ খোমেনি একটি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে 'ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস' (IRGC) গঠন করেন। এই বাহিনীর মূল দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়: প্রথাগত শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা নয়, বরং ইসলামী বিপ্লবের চেতনা, থিওক্রেটিক (ধর্মীয়) শাসনব্যবস্থা এবং সুপ্রিম লিডারের অস্তিত্ব রক্ষা করা।

পরবর্তীতে সংবিধানের ১৪৩ ও ১৫০ অনুচ্ছেদে দুই বাহিনীর দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়, যাতে তারা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, কিন্তু ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকে।

প্রথাগত জাতীয় বাহিনী: আরতেশ (Artesh)-এর ভূমিকা ও গঠন

ইরানের সংবিধানে 'আরতেশ' (Islamic Republic of Iran Army)-কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে দেশটির মূল জাতীয় প্রতিরক্ষা নিশ্চিতকারী দল হিসেবে। ইরানি সংবিধানে আরতেশের মূল লক্ষ্য:

"ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা, স্বাধীনতা এবং দেশের সীমান্তকে যেকোনো বৈদেশিয় আক্রমণ থেকে রক্ষা করা।"

আরতেশের প্রধান চারটি শাখা

১. আরতেশ গ্রাউন্ড ফোর্সেস (স্থলবাহিনী): এটি প্রধানত ভারী সাঁজোয়া যান, পদাতিক বাহিনী ও সীমান্ত চৌকি পাহারা দেওয়ার কাজ করে।

২. ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এয়ার ফোর্স (বিমানবাহিনী): ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান ও আকাশসীমা টহল নিশ্চিত করে।

৩. ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান নেভি (নৌবাহিনী): ভারত মহাসাগর, ওমান উপসাগর এবং আন্তর্জাতিক গভীর সমুদ্রে ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নিয়ে মোতায়েন থাকে।

৪. এয়ার ডিফেন্স ফোর্সেস (আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী): দেশের কৌশলগত আকাশসীমা রেডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করে।

আরতেশের বৈশিষ্ট্য

পেশাদার ও প্রথাগত: এটি অন্যান্য দেশের সাধারণ জাতীয় সেনাবাহিনীর মতোই একটি নির্দিষ্ট সামরিক শৃঙ্খলায় চলে।

সীমাবদ্ধ রাজনৈতিক প্রভাব: আরতেশকে সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা অভ্যন্তরীণ দমনে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। তাদের মূল মনোযোগ বহিশত্রুর আগ্রাসনের দিকে।

প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা: আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে আরতেশ এখনো শাহ্-এর আমলের কিছু পুরোনো পশ্চিমা প্রযুক্তি এবং সোভিয়েত আমলের যন্ত্রপাতির ওপর আংশিক নির্ভর করে, যদিও তারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে আধুনিকায়নের চেষ্টা চালাচ্ছে।

ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC): সমান্তরাল পরাশক্তি

'আরতেশ' যেখানে একটি ঐতিহ্যবাহী সামরিক বাহিনী, সেখানে 'আইআরজিসি' (Islamic Revolutionary Guard Corps) হলো একটি বিশাল সামরিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সমাহার। সময়ের পরিক্রমায় এটি আরতেশকেও ছাড়িয়ে গিয়ে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

সংবিধানে আইআরজিসির দায়িত্ব

ইরানের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে, আইআরজিসির মূল উদ্দেশ্য হলো "ইসলামী বিপ্লব ও এর অর্জনগুলোকে রক্ষা করা।" এর অর্থ হলো, কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত নয়, বিপ্লব বিরোধী কোনো অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আন্দোলন, মতাদর্শিক হুমকি কিংবা দেশের ভেতরের বিদ্রোহ দমন করাও আইআরজিসির আইনি ক্ষমতার আওতাভুক্ত।

আইআরজিসির নিজস্ব শাখা

বিপ্লবী গার্ড কর্পস কেবল একটি পদাতিক দল নয়; এর নিজস্ব স্থল, নৌ এবং বিমান শাখা রয়েছে, যা আরতেশের থেকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে পরিচালিত হয়:

আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্স: ইরানের পুরো বিশ্বের আলোড়ন সৃষ্টিকারী ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন (UAV) প্রোগ্রাম এককভাবে পরিচালনা করে এই বাহিনী।

আইআরজিসি নেভি: আরতেশের নৌবাহিনী যেখানে গভীর সমুদ্রে কাজ করে, আইআরজিসির নৌবাহিনী সেখানে অতিসংবেদনশীল পারস্য উপসাগর এবং প্রণালী (Strait of Hormuz) পাহারা দেয়। তারা দ্রুতগামী 'স্পিডবোট', মাইন এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে অসম যুদ্ধ (Asymmetric warfare) পরিচালনায় পারদর্শী।

আইআরজিসি গ্রাউন্ড ফোর্সেস: অভ্যন্তরীণ গোলযোগ মোকাবেলা ও বিশেষ সামরিক অপারেশনে নিয়োজিত।

আইআরজিসির দুটি বিশেষ ডানা: কুদস ফোর্স ও বাসিজ

আইআরজিসিকে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর সংস্থায় রূপান্তর করার পেছনে দুটি শাখা সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে কুদস ফোর্স (Quds Force) এবং বাসিজ (Basij)

কুদস ফোর্স (Quds Force): বিদেশের মাটিতে ভূরাজনৈতিক প্রভাব

কুদস ফোর্স হলো আইআরজিসির একটি অত্যন্ত গোপনীয় ও দক্ষ বৈদেশিক গোয়েন্দা ও সামরিক শাখা।

মূল দায়িত্ব: ইরানের সীমানার বাইরে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছায়াযুদ্ধ (Proxy Warfare) পরিচালনা করা, বন্ধুভাবাপন্ন অরাষ্ট্রীয় শক্তিগুলোকে (Non-state actors) প্রশিক্ষণ, অর্থ ও অস্ত্র দেওয়া।

কৌশলগত উপস্থিতি: লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী, ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (PMF) এবং সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ সরকারের সামরিক সক্ষমতার নেপথ্যে কুদস ফোর্সের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

প্রখ্যাত অধিনায়ক: এই ফোর্সের সবচেয়ে প্রভাবশালী কমান্ডার ছিলেন জেনারেল কাসেম সোলেইমানি, যিনি ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভূরাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।

বাসিজ (Basij Militia): কোটি মানুষের স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়া

বাসিজ হলো আইআরজিসির অধীনে পরিচালিত একটি আধা-সামরিক স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়া বাহিনী।

সদস্য সংখ্যা: ইরানের লাখ লাখ সাধারণ নাগরিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও স্থানীয় যুবকেরা বাসিজের সদস্য।

ভূমিকা: এরা দেশে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যেমন উদ্ধারকাজ চালায়, তেমনি কোনো সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, রাজনৈতিক ধর্মঘট বা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দেখা দিলে চরম কঠোরতার সাথে তা দমন করে। বাসিজের অস্তিত্বের কারণে ইরানে যেকোনো অভ্যন্তরীণ আন্দোলন দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

সামরিক পোশাকের আড়ালে আইআরজিসির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য

আইআরজিসির ক্ষমতা কেবল বন্দুক ও ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর দেশটির পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে আইআরজিসিকে অর্থনীতিতে যুক্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে তারা ইরানের সর্ববৃহৎ করপোরেট ও অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

প্রধান অর্থনৈতিক খাতসমূহ

খাতাম আল-আনবিয়া (Khatam al-Anbiya): এটি আইআরজিসির মালিকানাধীন একটি বিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। তেল ও গ্যাসের পাইপলাইন, ড্যাম, হাইওয়ে, টেলিকম নেটওয়ার্ক ও মেগা প্রজেক্টের প্রায় সব বড় কন্ট্রাক্ট তারা পেয়ে থাকে।

জ্বালানি ও বন্দর নিয়ন্ত্রণ: ইরানের মোট তেল ও গ্যাস উত্তোলনের বড় একটি অংশ এবং দেশের বিভিন্ন কৌশলগত সমুদ্রবন্দরের শুল্ক ও মালামাল পরিবহন আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স: নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাদের নিজস্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড রয়েছে।

এই বিপুল অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার কারণে আইআরজিসি যেকোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখেও নিজস্ব অর্থায়নে সামরিক ও গোয়েন্দা গবেষণা চালিয়ে যেতে পারে।

সুপ্রিম লিডারের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ও কমান্ড স্ট্রাকচার

ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে প্রেসিডেন্ট থাকলেও সামরিক ক্ষেত্রে তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। দেশটির সংবিধানে 'সুপ্রিম লিডার' বা সর্বোচ্চ নেতা (বর্তমানে আয়াতুল্লাহ আল-খামেনি)-কে সমস্ত সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার-ইন-চিফ বা সর্বাধিনায়ক করা হয়েছে।

কমান্ডের মূল দিকসমূহ

সুপ্রিম লিডারের ভূমিকা: আরতেশ ও আইআরজিসির প্রধান সেনাপতিদের সরাসরি নিয়োগ দেন সুপ্রিম লিডার। তাঁর সম্মতি ছাড়া কোনো বড় যুদ্ধ বা কৌশলগত সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় না।

প্রেসিডেন্টের ভূমিকা: ইরানের সাধারণ জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট প্রধানত বাজেট বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের কাজ করেন। যুদ্ধের নির্দেশ বা সেনাপ্রধান পরিবর্তনের কোনো সাংবিধানিক এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই।

জেনারেল স্টাফের সমন্বয়: দুটি ভিন্ন বাহিনী হলেও সংঘাতের সময় 'সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ' (General Staff of the Armed Forces)-এর মাধ্যমে তাদের অপারেশনাল কাজগুলোর নিখুঁত সমন্বয় ঘটানো হয়।

আরতেশ বনাম আইআরজিসি: তুলনামূলক তথ্যচিত্র

নিচে ইরানের এই দুটি বিখ্যাত সামরিক বাহিনীর গঠন, কাজ, প্রযুক্তি এবং কাঠামোগত পার্থক্যের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র সারণীর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র

আরতেশ (Artesh)

ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC)

প্রতিষ্ঠাকাল

১৯২৫ (পুনর্গঠন: ১৯৭৯ বিপ্লবোত্তর)

মে ১৯৭৯ (আয়াতুল্লাহ খোমেনির অধ্যাদেশে)

মূল দায়িত্ব

দেশের সীমান্ত, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষা।

ইসলামী বিপ্লব, ধর্মীয় শাসন ও সুপ্রিম লিডারকে রক্ষা করা।

প্রাথমিক দৃষ্টিবিন্দু

প্রথাগত বহিরাগত সামরিক আক্রমণ প্রতিরোধ।

অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন, প্রক্সি যুদ্ধ ও ব্যালিস্টিক মিসাইল।

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি

সাধারণ ও ঐতিহ্যবাহী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।

ইরানের মূল ব্যালিস্টিক, হাইপারসনিক ও ড্রোন প্রোগ্রাম।

বিশেষ শাখা বা ইউনিট

৪টি বিভাগ (স্থল, বিমান, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা)।

কুদস ফোর্স (বিদেশি অভিযান), বাসিজ মিলিশিয়া (অভ্যন্তরীণ)।

নৌ সামর্থ্যের বিন্যাস

ভারত মহাসাগর ও গভীর সমুদ্রে ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধজাহাজ।

পারস্য উপসাগরে দ্রুতগামী স্পিডবোট ও মাইন যুদ্ধ।

অর্থনৈতিক প্রভাব

সীমিত, বাজেট মূলত রাষ্ট্রীয় বরাদ্দনির্ভর।

বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য (জ্বালানি, খাতাম আল-আনবিয়া, নির্মাণ)।

রাজনৈতিক প্রভাব

সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও পেশাদার সেনা ব্যবস্থা।

ইরানের রাজনীতি, আইনসভা ও প্রশাসনে অত্যন্ত গভীর প্রভাব।

বাজেট বরাদ্দ

আইআরজিসির তুলনায় সংগত ও সীমিত।

তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি এবং স্বায়ত্তশাসিত আয়ের উৎসযুক্ত।

সামরিক দর্শন

প্রথাগত প্রতিরোধ ব্যবস্থা (Conventional Defense)।

আসিমেট্রিক বা অসম যুদ্ধ এবং প্রতিরোধ অক্ষ (Axis of Resistance)।

দ্বৈত গোয়েন্দা ব্যবস্থা: ভাজা (VAJA) বনাম আইআরজিসি-আইও (IRGC-IO)

সামরিক বাহিনীর মতো ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাও প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত এবং তাদের মধ্যেও নির্দিষ্ট প্রতিযোগিতা রয়েছে:

মিনিস্ট্রি অব ইন্টেলিজেন্স (VAJA / MOIS): এটি সরকারি বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, যা প্রেসিডেন্টের মন্ত্রিপরিষদের অধীনে কাজ করে। এটি প্রধানত অভ্যন্তরীণ কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স, সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি এবং প্রথাগত বিদেশী গোয়েন্দা নজরদারির কাজ করে।

আইআরজিসি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন (IRGC-IO): এটি ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের নিজস্ব গোয়েন্দা শাখা। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রভাবশালী। রাজসংক্রান্ত বা রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন, বিদেশী নাগরিক আটক, সাইবার গোয়েন্দাগিরি এবং সুপ্রিম লিডারের ক্ষমতার বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্ত হচ্ছে কি না তা কঠোরভাবে মনিটর করে আইআরজিসি-আইও। বহু ক্ষেত্রে এটি সরকারি গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের চেয়েও বেশি ক্ষমতাবান।

ইরানের মূল সামরিক ডকট্রিন (Strategic Military Doctrines)

নিষেধাজ্ঞা ও প্রথাগত যুদ্ধবিমানের স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও ইরান তিনটি প্রধান ডকট্রিনের ওপর ভিত্তি করে তাদের কৌশল সাজিয়েছে:

অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষা কৌশল (Forward Defense)

ইরানের মূল সামরিক দর্শন হলো "নিজের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে হলে যুদ্ধকে নিজের মাটিতে নয়, শত্রুর সীমানার কাছাকাছি বা বাইরের দেশে রাখতে হবে।" এই কারণেই আইআরজিসি কুদস ফোর্সের মাধ্যমে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে তাদের সামরিক উপস্থিতি ও প্রক্সি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে।

মোজাইক ডিফেন্স (Mosaic Defense)

যদি কোনো পরাশক্তি (যেমন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল) ইরানে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ চালায় এবং কেন্দ্রীয় কমান্ড বা রাজধানী তেহরানের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, তবে ইরানের ৩১টি প্রদেশ স্বায়ত্তশাসিতভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। প্রতিটি প্রদেশে আইআরজিসি ও আরতেশের আঞ্চলিক ইউনিটগুলোকে এমনভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যেন তারা কোনো কেন্দ্রীয় নির্দেশ ছাড়াই স্থানীয়ভাবে বছরের পর বছর গেরিলা ও অসম যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে।

স্ট্র্যাটেজিক ডেটারেন্স বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা

ইরান জানে যে তারা প্রথাগত ফাইটার জেটের যুদ্ধে উন্নত পশ্চিমা শক্তির সাথে এঁটে উঠতে পারবে না। তাই তারা হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং আক্রমণাত্মক ড্রোন (যেমন: Shahed-136, Mohajer-6)-এর বিশালাকার অস্ত্রাগার তৈরি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যে কোনো বিদেশী সামরিক ঘাঁটি বা প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সুনির্দিষ্ট আঘাত হানতে সক্ষম।

সাইবার যুদ্ধ ও ইলেকট্রনিক সামর্থ্য (Cyber Warfare)

বিগত এক দশকে ইরান বিশ্বমঞ্চে অন্যতম শীর্ষ সাইবার শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ২০০৯ সালে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সাইবার হামলা 'স্টাক্সনেট' (Stuxnet)-এর পর ইরান নিজস্ব সাইবার কমান্ড গড়ে তোলে।

আইআরজিসি সাইবার ইলেকট্রনিক ডিফেন্স কমান্ড: এটি সরাসরি আইআরজিসির অধীনে কাজ করে।

কৌশলগত অবদান: মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, আর্থিক খাত, এনার্জি গ্রিড এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ওপর বড় ধরনের সাইবার অপারেশন পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে এই কমান্ডের বিরুদ্ধে।

পারমাণবিক কর্মসূচি ও 'এসপিএনডি' (SPND)

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সরাসরি কোনো একক সামরিক বাহিনীর অধীনে নয়, তবে এর নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্বে রয়েছে আইআরজিসি।

SPND (Organization of Defensive Innovation and Research): এটি ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষ গবেষণা সংস্থা, যা পূর্বে পারমাণবিক বিজ্ঞানী মহসেন ফখরিজাদেহ (২০২০ সালে নিহত) পরিচালনা করতেন। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এটি পারমাণবিক প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহারের সম্ভাব্য গবেষণা পরিচালনা করে।

ফোরদো ও নাতানজ সুরক্ষা: ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর চারপাশে আরতেশের 'এস-৩০০' (S-300) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আইআরজিসির বিশেষ বিমান বিরোধী ইউনিট ২৪ ঘণ্টা পাহারা দেয়।

রাজনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আইআরজিসির প্রভাব

ইরানের সংসদ (মাজলিস) এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে সাবেক আইআরজিসি কর্মকর্তাদের বিপুল উপস্থিতি দেখা যায়। অনেক সাবেক শীর্ষ আইআরজিসি কমান্ডার পরবর্তীতে পার্লামেন্টের স্পিকার (যেমন: মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ), বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রধান প্রধান প্রাদেশিক গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর ফলে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায়, বিশেষ করে পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সিদ্ধান্তে আইআরজিসির মতামত অত্যন্ত গুরুত্ব পায়।

ইরানের এই সামগ্রিক সিস্টেমটিকে বলা যায় একটি 'মাল্টি-লেয়ার্ড সিকিউরিটি স্টেট', যেখানে সামরিক শক্তি, ধর্মীয় ভাবাদর্শ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অর্থনীতি একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত।

'ক্যু-প্রুফিং' ও অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল

ইরান কেন দীর্ঘ ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে বড় ধরনের কোনো সামরিক অভ্যুত্থান বা গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি হয়নি? উত্তর লুকিয়ে আছে এই দ্বৈত সামরিক ব্যবস্থার অনন্য নকশায়।

অভ্যুত্থান প্রতিরোধে দ্বৈত চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স

বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশে একক সামরিক বাহিনী শক্তিশালী হয়ে উঠলে তারা সুযোগ বুঝে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নেয় (যেমনটি দেখা গেছে পাকিস্তান, মিসর বা মিয়ানমারে)।

কিন্তু ইরানে যদি 'আরতেশ' কখনো সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে, তবে তুলনামূলক শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক মিসাইল সমৃদ্ধ 'আইআরজিসি' মুহূর্তের মধ্যে তা নস্যাৎ করে দেবে। আবার অন্যদিকে, আইআরজিসি যদি কখনো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে যেতে চায়, তবে পেশাদার 'আরতেশ' তাদের মুখোমুখি দাঁড়াতে সক্ষম।

প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবন

দুটি বাহিনীর মধ্যে এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা অনেক সময় উদ্ভাবনে সহায়তা করে। যেমন সামরিক ড্রোন বা অ্যান্টি-শিপ মিসাইল তৈরির ক্ষেত্রে দুই বাহিনীই নিজস্ব প্রযুক্তিগত গবেষণায় প্রতিযোগিতা করে, যা সামগ্রিকভাবে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, কৌশলগত প্রতিরোধ ও বর্তমান বাস্তবতা

বিগত চার দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা বিশ্বের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে ইরান। কিন্তু এই দ্বৈত সামরিক ব্যবস্থার কারণে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শীর্ষ সামরিক শক্তিতে টিকে থাকতে পেরেছে।

আসিমেট্রিক বা অসম যুদ্ধনীতি (Asymmetric Warfare)

ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধজাহাজ বা অত্যাধুনিক ফাইটার জেটের দিক থেকে ইরান হয়তো যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। কিন্তু আইআরজিসির হাত ধরে ইরান 'অসম যুদ্ধনীতি' প্রয়োগ করেছে। হাজার হাজার সস্তা কিন্তু নিখুঁত ড্রোন এবং বিভিন্ন পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার গড়ে তুলে তারা প্রতিপক্ষের বিমানঘাঁটি ও নৌবহরকে হুমকির মুখে রাখার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

অঞ্চলজুড়ে 'প্রতিরোধের অক্ষ' (Axis of Resistance)

কুদস ফোর্সের মাধ্যমে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে নিজস্ব কৌশলগত গভীরতা (Strategic Depth) তৈরি করেছে। লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে অনুগত শক্তি গড়ে তোলার কারণে যেকোনো প্রতিপক্ষ ইরান আক্রমণ করার আগে বেশ কয়েকবার চিন্তা করতে বাধ্য হয়, কারণ যুদ্ধ কেবল ইরানের সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

ইরানের টিকে থাকার মূল প্রতিরক্ষা দেয়াল

সবশেষে বলা যায়, ইরানে দুটি সেনাবাহিনী থাকা কোনো ঐতিহাসিক ভুল বা বিশৃঙ্খলার ফল নয়; এটি অত্যন্ত সুচিন্তিত, রাজনৈতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ফসল।

আরতেশ নিশ্চিত করে দেশটির প্রথাগত ভৌগোলিক নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষা।আইআরজিসি নিশ্চিত করে ১৯৭১ পরবর্তী ইসলামী শাসনব্যবস্থার স্থায়িত্ব, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক সামরিক দাপট।

যদিও এই দুই বাহিনীর মধ্যে বাজেট, ক্ষমতা ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে অভ্যন্তরীণ সূক্ষ্ম দ্বন্দ রয়েছে, কিন্তু জাতীয় সংকট ও বাইরের শত্রুর মুখোমুখি হলে তারা একই সুপ্রিম লিডারের অধীনে ইস্পাতকঠিন ঐক্য প্রদর্শন করে।

ইরানের এই দ্বৈত সামরিক ব্যবস্থার সুনিপুণ ভারসাম্যের কারণেই বিশ্ব রাজনীতির প্রবল চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক বৈরিতার ঝড় সামলেও কয়েক দশক ধরে দেশটি নিজের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.