আত্মসমর্পণ অথবা মৃত্যু, একটি বেছে নাও – যখন বিজয় অনিবার্য

Dec 5, 2025

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরুতেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এক চূড়ান্ত ধাপে উপনীত হয়। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে রণাঙ্গনের পরিস্থিতি আমূল পাল্টে যায়। ৫ই ডিসেম্বর ছিল সেই ঐতিহাসিক দিন, যখন পাকিস্তান বাহিনীর কাছে দুটি মাত্র পথ খোলা ছিল: 'আত্মসমর্পণ অথবা মৃত্যু'। সামরিক দিক থেকে পাকিস্তানিরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিল, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনেও তারা ছিল সম্পূর্ণ কোণঠাসা। দর্শনার জনমানবহীন স্টেশন থেকে শুরু করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ - সর্বত্রই যেন বাজছিল বাংলাদেশের বিজয়ের দামামা। এই প্রবন্ধে আমরা সেই ৫ই ডিসেম্বরের রণাঙ্গন, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং বাঙালির অদম্য চেতনার চিত্র তুলে ধরব, যা স্বাধীনতার পথে এক অনিবার্য মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

ডিসেম্বরের শুরুতে বিজয়ের পূর্বাভাস

১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র এগারো দিন আগে, ৫ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের পরিস্থিতি ছিল পাকিস্তানি সামরিক জান্তার জন্য এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন। ভারতীয় বিমান বাহিনীর আকাশসীমায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং স্থলপথে মুক্তিবাহিনীর সাথে যৌথ বাহিনীর দ্রুত অগ্রগতির কারণে তাদের পতন তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই দিনে দর্শনা, আখাউড়া ও লাকসামের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার পতন, এবং যশোর সেনানিবাসকে ঘিরে ফেলা - এই সবই ছিল আসন্ন আত্মসমর্পণের পূর্বাভাস।

এই প্রবন্ধে আমরা দেখব, সামরিক কৌশল, জনমানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং আন্তর্জাতিক চাপ—এই তিনটি ধারায় কীভাবে ৫ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ মসৃণ করে তুলেছিল।

রণাঙ্গনের দৃশ্য – মুক্তির উল্লাস ও শত্রুর পলায়ন

৫ই ডিসেম্বরের সকালে রণাঙ্গনের চিত্র ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর পলায়ন এবং সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত মুক্তি উল্লাসের এক মিশ্র চিত্র। বিদেশি সাংবাদিক সিডনি শনবর্গের প্রতিবেদন সেই মুহূর্তের এক দুর্লভ চিত্র তুলে ধরে।

জনমানবহীন দর্শনা এবং শেষ ট্রেন

সাংবাদিক সিডনি শনবর্গ ৫ই ডিসেম্বর যখন দর্শনা রেলস্টেশন (বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার শহর) পরিদর্শন করেন, তখন জনপরিত্যক্ত স্টেশনে স্টেশন মাস্টারের খাতায় লেখা ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: শেষ ট্রেনটি ছেড়ে যায় ২৬ মার্চ সকালে

৪ ডিসেম্বর রাতে দর্শনা থেকে পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে যায়। এই খবর পেয়ে লুকিয়ে থাকা বাঙালিরা কেউ কেউ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেন। শনবার্গের 'ডেটলাইন বাংলাদেশ: নাইন্টিন সেভেনটিওয়ান' বই এবং নিউইয়র্ক টাইমসের সেই সময়কার প্রতিবেদনে দর্শনার এই চিত্র পাওয়া যায়।

প্রকৃতির মাঝে মুক্তি – আখের ক্ষেত ও সরিষা

দর্শনার মুক্ত ভূমিতে সেদিন সাংবাদিকরা দেখেন এক অদ্ভুত চিত্র: একরের পর একর আখের ক্ষেত আগাছায় ঢেকে আছে, অবহেলিত অবস্থায় হলুদ ফুলে ভরা বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেত। প্রকৃতির এই নীরবতা যেন গণহত্যার সাক্ষী।

প্রকাশ্যে লোকজনের আনাগোনা কম থাকলেও, ভিনদেশিরা নজরে পড়ামাত্র স্থানীয় বাসিন্দারা 'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। এটি ছিল ভয়ের জাল ছিন্ন করে মুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম প্রকাশ।

সাংবাদিক দলের সঙ্গে থাকা আনন্দবাজার পত্রিকার সুখরঞ্জন দাসগুপ্ত লিখেন, শীতের পড়ন্ত বিকেলে পাকিস্তানি বাহিনীর পালানোর খবর এরই মধ্যে শরণার্থী শিবিরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই ফিরতে শুরু করেছেন। দর্শনা থেকে চার মাইল পূর্বের চুয়াডাঙ্গা সড়কে পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত গাড়ি ও অস্ত্র দেখা যায়। সঙ্গে থাকা ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ব্রিফ করেন, চীন ও আমেরিকার দেওয়া এমন আরও অস্ত্র জব্দ করেছে সেনারা।

যশোর ক্যান্টনমেন্টে আত্মসমর্পণের আহ্বান

৫ই ডিসেম্বর ভারতীয় বাহিনীর সহযোগিতায় মুক্তিবাহিনী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর মধ্যে ছিল লাকসাম, আখাউড়া, ময়মনসিংহের বকশিগঞ্জ, কুমিল্লার মিয়াবাজার, পারিকোট, লালবাগ ও যশোরের কোটচাঁদপুর (বর্তমানে ঝিনাইদহের উপজেলা)।

যুগান্তরের প্রতিবেদনে লেখা হয়, যশোরকে সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করার পর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর উদ্দেশে মাইকে এক চরম ঘোষণা দেওয়া হয়, ‘আত্মসমর্পণ অথবা মৃত্যু, এর একটি বেছে নাও’। এদিন বিভিন্ন রণাঙ্গনেও এমন ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঘোষণা দেওয়া হয়, আত্মসমর্পণ করলে জেনেভা রীতি অনুযায়ী শত্রুপক্ষের সৈন্যদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হবে। এই ঘোষণা ছিল পাকিস্তানি সেনাদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার এক কার্যকরী মনস্তাত্ত্বিক কৌশল।

সামরিক কৌশল – রোড ব্লক ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা

৫ই ডিসেম্বর যৌথ বাহিনী কেবল এলাকা দখলই করেনি, বরং সুচিন্তিত সামরিক কৌশলের মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনাদের মূল ঘাঁটিগুলোর মধ্যে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

ঝিনাইদহ দখলের কৌশল

লেফটেন্যান্ট জেনারেল জে এফ আর জেকবের বই ‘স্যারেন্ডার অ্যাট ঢাকা’-তে এই দিনের সামরিক কৌশলের একটি বর্ণনা পাওয়া যায়:

গতিপথ পরিবর্তন: দর্শনা, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ দখলের পর ৪ মাউন্টেন ডিভিশন মূল সড়ক ধরে ঝিনাইদহের দিকে অগ্রসর হওয়ার বদলে মাঠের মধ্য দিয়ে উত্তর দিকে আক্রমণ চালায়।

রোড ব্লক: চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহের মাঝে এক ব্যাটালিয়ন স্কোয়াড্রনের একটি রোড ব্লক স্থাপন করা হয়। পাকিস্তানি সেনারা এই অবরোধ ভাঙার চেষ্টায় ব্যর্থ হলে ঝিনাইদহে নতুন করে শক্তি বৃদ্ধির পরিবর্তে কুষ্টিয়ার দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়।

ঝিনাইদহ পতন: এক সময় ৪১ মাউন্টেন ব্রিগেড ঝিনাইদহে প্রবেশ করে। এই কৌশল পাকিস্তানি বাহিনীর ডিফেন্সকে এলোমেলো করে দেয়।

রেল সংযোগ বিচ্ছিন্নতা

আখাউড়া ও লাকসামের পতন ছিল আরও একটি কৌশলগত বিজয়। যুগান্তরের ৬ ডিসেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পতনের ফলে চট্টগ্রাম, ফেনী, চাঁদপুর, কুমিল্লা, সিলেট ও ঢাকার মধ্যে রেল সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়। রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় রসদ ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

আকাশপথের আধিপত্য – পাকিস্তানিরা বিচ্ছিন্ন

স্থলভাগের পাশাপাশি ৫ ডিসেম্বর আকাশপথেও সম্পূর্ণ প্রতিরোধহীন হয়ে পড়ে পাকিস্তানের বাহিনী। ৪ ডিসেম্বর ঢাকায় ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে তাদের লড়াই শুরু হয়েছিল।

৩৬ ঘণ্টার মধ্যে আকাশ জয়

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে লেখা হয়, ৪ ডিসেম্বর লড়াই শুরু হওয়ার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মাথায় বাংলাদেশের আকাশে পাকিস্তানিরা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

এদিন ভারতীয় জঙ্গি বিমান বিনা বাধায় গোটা বাংলাদেশের আকাশে উড়ে বেড়ায়। ঢাকার কুর্মিটোলাসহ বিভিন্ন ঘাঁটিতে বোমা ফেলে। এতে পাকিস্তানি বাহিনীর অসংখ্য গাড়ি ও বাঙ্কার ধ্বংস হয়।

যোগাযোগের বিপর্যয়: বড় বড় ঘাঁটির মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঢাকার সঙ্গে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের, নাটোরের সঙ্গে ঢাকা ও রংপুরের এবং যশোরের সঙ্গে নাটোর ও রাজশাহীর যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অবস্থা শোচনীয় করে তোলে।

পাকিস্তান প্রচারযন্ত্রের মিথ্যাচার

যদিও সেদিন এপিপির বরাত দিয়ে ইত্তেফাকে প্রকাশ হয়, আকাশ যুদ্ধে পাকিস্তানিরা আধিপত্য বজায় রেখেছে এবং ৬১টি ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। দর্শনা ও ঠাকুরগাঁওয়ে ভারতীয় বাহিনীর চাপ বৃদ্ধি ছাড়া পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধ পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে। এই মিথ্যাচার ছিল মূলত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে তাদের ভাবমূর্তি রক্ষার শেষ চেষ্টা।

উত্তপ্ত নিরাপত্তা পরিষদ – আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যুদ্ধ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য ৫ই ডিসেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশন ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সামরিক বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক বিজয় অর্জনও জরুরি ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ও রাশিয়ার ভেটো

মার্কিন প্রস্তাব: পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব ভোটের জন্য তোলা হয়। সেটি ছিল পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও উভয়পক্ষের সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত।

রুশ সমর্থন: বাংলাদেশ ও ভারতের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রাশিয়া ভেটো দিলে প্রস্তাবটি বাতিল হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের এই ভেটো বাংলাদেশের জন্য ছিল এক কূটনৈতিক আশীর্বাদ।

রাশিয়ার প্রস্তাব ও চীনের ভেটো

সোভিয়েতের কৌশল: পরিষদকে রাজনৈতিক সমাধানের দিকে নিতে রাশিয়াও একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। তাতে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আগে পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।

চীনের অবস্থান: এই প্রস্তাবে চীন ভেটো দেয়। চীন ভেটো দেওয়ার ব্যাখ্যার সময় তাদের প্রতিনিধি হুয়াং হুয়া অভিযোগ করেন, রাশিয়ার খসড়া প্রস্তাবটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল।

দর্শক সারিতে বাংলাদেশ: নিরাপত্তা পরিষদে এই বিতর্ক চলার সময় দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের প্রতিনিধি দলের প্রধান আবু সাঈদ চৌধুরী, যা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের উপস্থিতিকে নিশ্চিত করে।

স্বীকৃতির অপেক্ষা – চূড়ান্ত কূটনৈতিক বিজয়

৫ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার চূড়ান্ত স্বীকৃতির জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করে।

খন্দকার মোশতাকের ঘোষণা

মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ (যিনি পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেন) যুগান্তরের ৬ ডিসেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ ডিসেম্বর সাংবাদিকদের কাছে ঘোষণা দেন:

‘ভারত যে কোনো মুহূর্তে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা স্বীকৃতি পেতে পারি।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ভৌগোলিক কারণেই ভারতের কাছ থেকে প্রথমে স্বীকৃতি প্রয়োজন।

ভারতের আনুষ্ঠানিক মনোভাব

একই দিন নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব কে বি লাল। আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কে বি লাল একটি পৃথক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীন সত্তা স্বীকার করে নেন। অস্থায়ী সরকারের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরাও তখন চূড়ান্ত স্বীকৃতির জন্য নয়াদিল্লির সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছিলেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা সচিবের এই মন্তব্য ছিল সামরিক বিজয়ের পাশাপাশি কূটনৈতিক বিজয়ের এক স্পষ্ট ইঙ্গিত।

অনিবার্য বিজয়ের পথরেখা

১৯৭১ সালের ৫ই ডিসেম্বর ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক টার্নিং পয়েন্ট। এই দিনে সামরিক রণাঙ্গনে পাকিস্তানি বাহিনীর পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর - সর্বত্রই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তাদের কাছে অস্ত্র ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

এই দিনটি প্রমাণ করেছিল, বাঙালি জাতি এবং তাদের মিত্ররা কেবল সামরিক শক্তিতে নয়, বরং নৈতিক দৃঢ়তা, মানবিক সংহতি এবং অদম্য চেতনার জোরে অজেয়। দর্শনার জনশূন্য স্টেশন থেকে শুরু করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উত্তপ্ত বিতর্ক পর্যন্ত - সবকিছুই নিশ্চিত করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিল এক অনিবার্য ঐতিহাসিক সত্য, যা কোনো শক্তিই রুখতে পারেনি।

৫ই ডিসেম্বরের সামরিক ও কূটনৈতিক সাফল্যের পথ ধরেই ১৬ ডিসেম্বরে চূড়ান্ত আত্মসমর্পণ ঘটেছিল, যার মাধ্যমে 'আত্মসমর্পণ অথবা মৃত্যু' - এই ঘোষণা শেষ পর্যন্ত 'আত্মসমর্পণ' রূপেই বাস্তবায়িত হয়েছিল।

Feature Image: Facebook

More Article by Moynamoti

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

আমাদের সাথে থাকুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের ফলো করুন।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.